ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে কেন ইরানের নিশানা, এখানে কী রয়েছে?


জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে কেন ইরানের নিশানা, এখানে কী রয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন অধ্যায়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি জর্ডানও ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব লাভ করছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

ইরান দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে নিক্ষেপ করা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস বা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

হামলার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

আল-আজরাক ঘাঁটিতে কী রয়েছে?

জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, দেশটির জনবিরল পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত।

ঘাঁটিটির নামকরণ জর্ডানের যুদ্ধবিমান চালক লেফটেন্যান্ট মুওয়াফফাক সালতির নামে করা হয়েছে।

আল-আজরাক, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এখানে দুটি রানওয়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক বিমান ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।

আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাষক তাহানি মুস্তাফা মন্তব্য করেছেন যে, আল-আজরাক এমন কয়েকটি ঘাঁটির মধ্যে একটি যেখানে এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান রাখা যায়।

তার মতে, ইরানের হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এসব হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ।

কেন আল-আজরাককে লক্ষ্য করছে ইরান?

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও মোতায়েন কেন্দ্র এবং বিমান রাখার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা ও মানবিক বিভাগে পড়েও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন ইবি শিক্ষার্থী জাহিদ

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।

ইরানের দৃষ্টিতে আল-আজরাকের গুরুত্বের মূল কারণ হলো, এখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানের কৌশলগত ভূমিকা।

জর্ডান কেন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ?

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কামরুলের ১০ বছরের কারাদণ্ড

জর্ডানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে বলে ২০২৬ সালের মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির আরও কয়েকটি স্থানে মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ জর্ডানের কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত টাওয়ার ২২ নামের একটি সামরিক লজিস্টিক ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় মার্কিন বাহিনী ও তাদের ঠিকাদারদের জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।

ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের সময় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ‘১৬ বছর রাজপথে ছিলেন না, এখন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন’: খালিদুজ্জামানকে রাশেদ

যুদ্ধের আগে থেকেই মার্কিন উপস্থিতি

মার্কিন সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের চুক্তির আগে আল-আজরাক ঘাঁটিতে তাদের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, অন্তত ২০১৬ সাল থেকেই ঘাঁটিটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ড্রোন ও দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।

২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) অভিযানে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে জর্ডান।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক ঢাকতেই নিজেদের দ্বন্দ্ব: রিজভী

সংঘাত শুরুর পর আল-আজরাকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের আগে থেকেই আল-আজরাক ঘাঁটির গুরুত্ব বাড়ছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ ও সামরিক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ডেভিড শেনকার।

তার মতে, ঘাঁটিটিতে প্রায় ৬০টি যুদ্ধবিমান এবং সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ব্যবহারের সুযোগ ছিল।

জর্ডানের ভৌগোলিক অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর তুলনায় জর্ডান ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে কিছুটা বেশি কৌশলগত গভীরতা বা নিরাপদ দূরত্বে রাখার সুযোগ দেয় জর্ডান।

শেনকারের ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে জর্ডানের অবস্থান ‘অপরিহার্য’ হয়ে উঠেছে।

এর আগেও বহুবার হামলার দাবি ইরানের

চলমান যুদ্ধে ইরান মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০ বারের বেশি আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। মার্চের শুরুতেই প্রথমবার ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।

এরপর ১০ জুন ইরান দাবি করে, আল-আজরাকসহ কুয়েত ও বাহরাইনের আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

সে সময় আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আল-আজরাক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও ইরান একাধিকবার আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায়।

জুলাইয়ের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

১৭ জুলাই ইরান দাবি করে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি ছিল, এতে কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।

এর ফলে আল-আজরাক শুধু ইরানের ঘোষিত হামলার লক্ষ্য নয়, বাস্তব সামরিক সংঘাতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আসে।

২০১৭ সালেই ঘাঁটির সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

আল-আজরাক ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব বোঝাতে এর অবকাঠামোগত সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে মার্কিন কংগ্রেস বিমানবাহিনীর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঘাঁটিটির সম্প্রসারণে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করে।

তৎকালীন সময়ে এটি ছিল ঘাঁটির জন্য সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। মূলত বিমান ওঠানামা ও অবস্থানের জন্য রানওয়ের পাশের জায়গা বা র‌্যাম্প সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

এছাড়া চলমান যুদ্ধের শুরুতে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকেও জর্ডানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ইরানের হামলায় জর্ডান কতটা ঝুঁকিতে?

ইরান সরাসরি জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তেহরানের দাবি, তাদের লক্ষ্য জর্ডান নয়; বরং দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সম্পদ।

তবে জর্ডানের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশটিকে ক্রমেই সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে জর্ডানের নিজস্ব নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত না হলেও আল-আজরাককে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই জর্ডানের মতো তুলনামূলকভাবে সরাসরি যুদ্ধে না থাকা দেশগুলোর ভূখণ্ডও বড় শক্তিগুলোর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে ইরানের সেই ছোট্ট দ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে ইরানের সেই ছোট্ট দ্বীপ

পেরিম, একটি ছোট দ্বীপ, ইয়েমেনের উপকূলের নিকটে অবস্থিত। দ্বীপটির শুষ্ক বালু, পাথুরে ভূখণ্ড এবং ধ্বংসপ্রায় স্থাপনা একে একটি প্রাচীন সময়ের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান বর্তমানে এটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপটি এখন ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা পেরিম দখলের চেষ্টা করলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

আঞ্চলিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হুতিরা পেরিমের উত্তরে প্রায় ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত মোকা দখলের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। মোকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে বাব আল-মান্দাবের ওপর হুতিদের চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

হরমুজের বিকল্প নৌপথ বাব আল-মান্দাব

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব তার তেল রফতানির কিছু অংশ হরমুজ থেকে সরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব এখন বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাব আল-মান্দাব হলো লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার। এর এক পাশে আরব উপদ্বীপ এবং অন্য পাশে আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল অবস্থিত। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে ইয়েমেন ও আফ্রিকার উপকূলের দূরত্ব প্রায় ১২ মাইল। এই সংকীর্ণ জলপথের কারণে শতাব্দী ধরে দ্বীপটি সাম্রাজ্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় পেরিম দ্বীপ ভারতগামী জাহাজের কয়লা সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এখনও দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে সেই ঔপনিবেশিক অতীতের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

তবে ইতিহাসের সেই কৌশলগত গুরুত্ব এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত সেনারা দ্বীপটি পাহারা দিচ্ছে। তাদের কাছে পেরিম রক্ষা করা শুধুমাত্র একটি দ্বীপ রক্ষার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ নিরাপদ রাখার প্রশ্ন।

ইয়েমেনের সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, "পরিস্থিতি এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন ভূরাজনৈতিক বিষয়"।

পেরিম দখল করলে কী হবে?

ইয়েমেনের রাজধানী সানা, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ এবং পেরিমের উত্তরে লোহিত সাগরের বিস্তৃত উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেরিম দ্বীপ যদি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে বাব আল-মান্দাব দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা অর্জন করবে তারা।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, পেরিম দখলের পর হুতিরা প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে। এতে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।

ইয়েমেন সরকারের একজন সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, "হুতিরা যদি পেরিমে ঘাঁটি গেড়ে বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়, তাহলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করাও তাদের জন্য সব সময় প্রয়োজন হবে না। তারা চাইলে হরমুজ প্রণালির মতো এই জলপথেও মাইন পেতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে।"

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন একটি সামরিক ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরান-হুতি সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে সময় হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ওপর তেহরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের সব কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ইরানের নির্দেশে পরিচালিত বলে দেখাও ঠিক হবে না।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ও ইয়েমেন সরকারের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, "তেহরান ও হুতিদের সম্পর্ক অধীনস্থ প্রভু-অনুচরের মতো নয়; বরং উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে।"

বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছে, অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানো এবং সৌদি আরবকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনার জন্যও হুতিরা নতুন যুদ্ধকে ব্যবহার করতে চাইছে।

চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, "হুতিদের জন্য যুদ্ধের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রয়োজনও রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তা করার সুযোগ এলে তারা সেটিও কাজে লাগাতে পারে।"

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর বদলে যায় হুতিদের ভূমিকা।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের হুতিরা সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হুতিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় ইয়েমেনও সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব ও পেরিমের মতো কৌশলগত অবস্থান এই সংঘাতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সৌদি-হুতি সমঝোতাও ভেঙে পড়ছে

হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযান গত চার বছর ধরে চলা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। জুলাইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।

এর মধ্যে দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল। বিমানটি তেহরান থেকে সানায় যাওয়ার পর হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে নিয়ে যায়। খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরুর দিকের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু ১০ দিন পর বিমানটি সানায় ফেরার সময় সৌদি আরব সেটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। আশঙ্কা করা হয়েছিল, বিমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম থাকতে পারে। পরে সৌদি বিমান হামলায় সানার বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করে।

এই ঘটনার পর সৌদি-হুতি সম্পর্কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি পণ্য বহনকারী জাহাজকে হুমকি দিতে শুরু করে। পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

জাহাজ চলাচল কমেছে অর্ধেকে

হুতিদের হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে বাব আল-মান্দাব দিয়ে তেল পরিবহনে পড়েছে। তিন বছর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও কমে যেতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইয়েমেনের সাধারণ মানুষও এর সরাসরি শিকার হচ্ছে। হুতিদের ড্রোন হামলায় পেরিমের উত্তরের একটি দ্বীপ থেকে কয়েক ডজন জেলেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে মাছ ধরার ব্যবসা প্রায় ধ্বংসের মুখে।

একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, "স্বাভাবিক সময়ে সমুদ্রপথে অসংখ্য জাহাজ দেখা যেত। কিন্তু হুতিদের হামলার কারণে এখন সেখানে প্রায় কোনও জাহাজই নেই।"

মোকা বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পেরিমের কয়েক মাইল উত্তরে অবস্থিত মোকা বন্দরও হুতিদের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি।

বন্দরটির পরিচালক আবদেল মালেক আল-শারাবির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠানামার সময় বন্দরে ২৫টিরও বেশি হুতি রকেট আঘাত হানে।

হামলায় ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যায় এবং প্রায় ১৪ হাজার মোটরসাইকেল ধ্বংস হয় বলে তিনি জানান।

বন্দরের বিভিন্ন স্থানে এখনো হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। পানিতে অর্ধডোবা জাহাজ পড়ে আছে। বন্দরের কংক্রিটের দেয়ালে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পোড়া মোটরসাইকেলের কাঠামো এবং গলে যাওয়া ইঞ্জিনের স্তূপ পড়ে আছে।

আল-শারাবি বলেন, "বন্দরটি ইয়েমেনের উন্নয়ন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধ্বংস করা এবং বন্দরটির সেবা বন্ধ করে দেওয়া।"

হুতিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও উদ্বেগ

গত এক বছরে হুতিরা ইসরায়েল পর্যন্ত দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তাদের হাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ড্রোনও রয়েছে।

ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী একটি গোপন অস্ত্রের চালান আটক করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সেখানে প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা, ড্রোনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ধরনের অপটিক্যাল সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ত্রগুলো বাণিজ্যিক সরঞ্জাম হিসেবে লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল বলেও তাদের দাবি।

ইয়েমেন সরকারের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আটক করা চালানটি ইরান থেকে হুতিদের কাছে পাঠানো মোট অস্ত্রের খুবই সামান্য অংশ। পাচারকারীরা এর আগে একই ধরনের আরও ১১টি চালান পাঠানোর কথা স্বীকার করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের গোপন বাঙ্কারে হামলা চালাতে নতুন ধরনের ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ বা এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করছে।

ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তি পাওয়ার কারণে সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে। তবে একই সময়ে ইরানের সহায়তায় হুতিরাও তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি।

ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মান্দাবকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই যথেষ্ট সহায়তা না দেয় এবং হুতিরা পেরিম ও বাব আল-মান্দাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে পরে তাদের উৎখাত করতে আরও বড় আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী ও নৌবহরের প্রয়োজন হবে।

ইয়েমেনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলেও হুতিদের মোকাবিলা করতে হবে। তবে তখন এর মূল্য দিতে হবে আরও বেশি—শুধু ইয়েমেনকে নয়, শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও।" সূত্র: সিএনএন

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শি জিনপিংয়ের সফর আসছে, তবুও ভারতের হিসাব মিলছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


শি জিনপিংয়ের সফর আসছে, তবুও ভারতের হিসাব মিলছে না

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে তার এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বরফগলা পদক্ষেপ সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক স্তরে কিছু অগ্রগতি হলেও, দুই প্রতিবেশী দেশের ব্যবসায়িক স্তরে যে গভীর অবিশ্বাস ও বৈরী মনোভাব বিদ্যমান, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর থেকেই বজায় রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই দূরত্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই ঘটনায় দুই দেশের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের অবক্ষয় ঘটে এবং ভারত সরকার চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসার ওপর বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর নীতির প্রেক্ষিতে দুই দেশই নিজেদের বরফ গলাতে আগ্রহী হয়েছে, তবে পুরোনো সংশয় এখনও কাটেনি।

বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করার কিছু উদ্যোগ সম্প্রতি দৃশ্যমান হলেও, তা যথেষ্ট নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত ইলেকট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগের নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে। এমনকি ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিসের সঙ্গে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভোর যৌথ উদ্যোগের মতো কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদনও করা হয়েছে।

একই সময়ে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার অজুহাতে ভারতীয় প্রশাসন চীনা সংস্থাগুলোর ওপর তাদের কড়াকড়ি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আলিপে-কে ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। তাছাড়া, চীনা মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালানোর প্রস্তাবও খতিয়ে দেখছে ভারতের একটি তদন্তকারী সংস্থা।

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের কঠোরতা এবং পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুর মিলিয়ে চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে একে অপরের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও, পর্দার আড়ালে কঠোর বার্তা প্রদান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চীনের বেইজিং সরকারও ভারতের কাছে উচ্চপ্রযুক্তি, সৌর প্যানেল, বন্দর তৈরির সরঞ্জাম এবং বিশেষ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল যন্ত্রপাতি বিক্রির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীন সফরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ভারতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা বিশাল বোরিং মেশিন মাসের পর মাস চীনা কাস্টমসে আটকে রাখার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রশাসনিক জটিলতা কেবল আকস্মিক নয় বরং ভারতের বাণিজ্য নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান হুতিদের থামাতে ইরানকে কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


পাকিস্তান হুতিদের থামাতে ইরানকে কঠোর বার্তা

পাকিস্তান ইরানকে সতর্ক করেছে, যাতে সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা বন্ধে তারা নিজেদের প্রভাব খাটায়।

সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো যায়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানকে এই বার্তা দেওয়ার পেছনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপট রয়েছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসলামাবাদ কূটনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ না নেয়।

মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকার একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের কয়েকটি শহরের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালায়, যার ফলে ৭৩ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় হুতি হামলাগুলোর একটি।

হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে এর পাল্টা জবাবে।

হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বুধবার জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এসব হামলার ‘জবাব ও শাস্তি দেওয়া হবে’।

বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা

হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন দ্বিতীয় একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়ানোর ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সতর্কবার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। তুরস্কও এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। ফলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপরও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, সৌদি আরবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি দেশের ওপর আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”

আসিফ আরও বলেন, “এ বিষয়ে কোনও অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসন কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এই চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে।”

তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি।

ইরানকে হুতিদের থামানোর আহ্বান

পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের নীতি অনুসরণ করেও ইসলামাবাদ যে পরিস্থিতিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

এক আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ইরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এতে তেহরানকে হুতিদের ওপর নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মঙ্গলবার পাকিস্তান তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়। তবে তেহরানের জবাব ছিল—‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’

তবে দুই ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহেই তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। হামলা চালানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইরান দিয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার ইয়েমেনে গিয়ে হামলা সমন্বয়ে সহায়তা করেছেন বলেও তাদের দাবি।

তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিকের ভাষ্য, পাকিস্তান এখনও কূটনৈতিক উপায়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। কারণ, সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাক—যেখানে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়—ইসলামাবাদ তা চায় না।

তিনি বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি রয়েছে। তবে আমি আশা করছি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে না, যেখানে পাকিস্তানকে বাস্তবে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আপাতত তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোবে।”

সৌদি আরবকে সহায়তায় পাকিস্তানের প্রস্তুতি

এরই মধ্যে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা রিয়াদে পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্রটির দাবি, তিন দেশ একমত হয়েছে যে তাদের সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না। বরং যেকোনও প্রতিক্রিয়া সৌদি ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হবে।

আরেক পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় পাকিস্তান সরাসরি যোগ দেবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

ওই সূত্র স্পষ্ট করে বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং সৌদি ভূখণ্ড সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রয়োজনে পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক, কারিগরি, স্থল বা আকাশ সহায়তা দিতে পারে। তবে অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনায় তারা অংশ নেবে না।

ইরানের চাপ উল্টো ফল দিতে পারে

আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, সৌদি আরবের ওপর ইরান ও হুতিদের চাপ প্রয়োগের কৌশল উল্টো তেহরানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অবরোধ ও চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করাই যদি তেহরানের লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় হামলা চালানোর ফলে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ দেশগুলো আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরির বদলে এই হামলা তাদের পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিগগিরই তুলে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সময়ে কাতার নীরবে নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরেক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামরিক প্রতিক্রিয়া আপাতত হুতিদের লক্ষ্য করেই সীমাবদ্ধ থাকবে; সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই।

রিয়াদের কর্মকর্তারাও মনে করছেন না যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা তেহরানের মূল লক্ষ্য—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার—অর্জনে সফল হবে।

ওই সূত্রের দাবি, সৌদি আরব ওয়াশিংটনের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেবে—এমন সম্ভাবনাও কম। কারণ ট্রাম্প মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাই ইরানকে আলোচনায় বসানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্রটি বলেছে, “প্রশ্ন হলো, ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কতদিন তা সহ্য করতে পারবে। ট্রাম্প সামরিক সমাধান চান না। তিনি অবরোধের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ বাড়াতে চান।”

এদিকে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা এবং ইয়েমেনে সৌদি পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলতে থাকায় নতুন এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন

লামীণ ইয়ামাল যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সে সর্বাধিক গোল অবদানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনা ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে।

এই ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন।

ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা জো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান এখন ২১টি, যার মধ্যে ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।

এর আগে, টুর্নামেন্টে টিনএজার হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০টি অবদান নিয়ে রেকর্ডটি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে ছিল। এবার ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।

এছাড়া এই ম্যাচে ইয়ামাল আরও একটি রেকর্ড গড়েন। তবে রাতটি ইয়ামালের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে। ৭১তম মিনিটে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার পর তার হাতে ওঠে বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।

সূত্র : গোল ডট কম

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%