ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলতে হুথিদের সহায়তা করছে চীন


যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলতে হুথিদের সহায়তা করছে চীন

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে চীন ইরান-সমর্থিত হুথিদের সহায়তা প্রদান করছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নির্মিত হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনুসন্ধানমূলক সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ’—যারা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্রের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে—তাদের তথ্যমতে, হুথিরা ইরানের ‘খাইবার শেকান’ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত কিছু অংশ তৈরির চেষ্টা করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ১ হাজার কিলোমিটারের (৬২০ মাইল) বেশি।

গবেষণা সংস্থাটি হুথিদের উদ্দেশ্যে পাঠানো সাম্প্রতিক চালানগুলোতে বিশেষভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, সরঞ্জাম এবং পরীক্ষার যন্ত্রপাতি শনাক্ত করেছে। এছাড়া, এসব যন্ত্রাংশের সাথে পাওয়া নথিপত্রে একজন চীনা সরবরাহকারীর নামও উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন তথ্যগুলো তাদের সক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, কারণ বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশেরই এত দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। এটি তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর থেকে তাদের ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতারও ইঙ্গিত দেয়।

ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক করা চালানগুলো থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ইয়েমেনেই হুথিদের মূল ঘাঁটি এবং তারা দেশটির বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অনুযায়ী, হুথিদের উদ্দেশ্যে পাঠানো যেসব চালান জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য এসেছে চীনা কোম্পানিগুলো থেকে।

চীন প্রকাশ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি তারা ইরানকে অনুরোধ করেছে যেন হুথিদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে তারা লোহিত সাগরে- যা হরমুজ প্রণালীর মতোই বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ- হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

কিন্তু একই সময়ে, চীন হুথিদের এমন সব পণ্য সরবরাহ করছে যা সামরিক ও বেসামরিক- উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময়ও বেইজিং একইভাবে অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করেছিল।

এই কৌশলের ফলে বেইজিং চাইলে সহজেই দায় অস্বীকার করতে পারে; কারণ তারা দাবি করতে পারে যে, এসব পণ্য কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক লেনদেনের অংশ। হুথিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের পাশাপাশি চীনও তাদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইরানের সহায়তা মূলত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, কৌশল নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরাসরি অস্ত্র পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে, চীন ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ও রকেট জ্বালানির উপাদান সরবরাহ করে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল কিনে ইরানকে সহায়তা করেছে।

এসব সহায়তা ইরানকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে এবং তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন জোগানোর সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। এর ফলে একটি চক্র পূর্ণ হয়েছে, যেখানে চীন সরাসরি ইরানের মদতপুষ্ট বিভিন্ন অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীকে- যেমন হুথিদের- সহায়তা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, “হুথিদের প্রতি চীনের সমর্থনকে কূটনৈতিক সুরক্ষা, বাছাইকৃত প্রয়োগ (নিয়মকানুন শিথিল রাখা) এবং কৌশলগত সুযোগ সন্ধানের একটি সংমিশ্রণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।”

আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ

তিনি আরও বলেন, “মনে হচ্ছে, হুথিরা যে চীনের বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, চীনা সরকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোম্পানির স্যাটেলাইট পরিষেবা এবং ইয়েমেনে ক্রমাগত ‘দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী’ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে এমন) সরঞ্জাম নিয়ে আসছে- এসব বিষয়ে চীন চোখ বন্ধ করে আছে।”

আল-বাশা জানান, এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র তৈরির জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ, প্রচুর পরিমাণে সার (যা ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে), ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের জন্য বিশেষ ধাতু এবং ড্রোন তৈরির কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের সাথে চীনে যে সম্পর্ক রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুথিরা চীনের সাথে নিজেদের সম্পর্ক জোরদার করেছে। এমনকি সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের কিছু সদস্যকে ম্যান্ডারিন ভাষা শেখার জন্যও পাঠিয়েছে।

এর বিনিময়ে, চীন হুথিদের কাছ থেকে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা আদায় করে নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে চীনের অর্থনীতির ধারাবাহিক সচলতার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এছাড়া, হুথিদের সাথে এই সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বেইজিং এমন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ ধরে রাখছে, যা ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে, চীন যদি কখনো তাইওয়ান—যে দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে—আক্রমণ করে, তবে এই গোষ্ঠীটি তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, হুথিরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং মার্কিন নৌ-সম্পদ ও রসদকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে পারে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামরিক সহায়তা পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে হুথিদের বিষয়ে চীন যেন আগুনের সঙ্গে খেলছে। যদিও হুথিদের সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে বেইজিং আপাতত লোহিত সাগরে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু এ পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নাও হতে পারে।

তবুও, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা বজায় রাখা। চীন এমন কোনো ধারণা তৈরি হতে দিতে চায় না যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে। তাই, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বেইজিংকে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।

মি. বাশা বলেন, চীনের কর্মকাণ্ডকে ‘মহাশক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে’।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে নিয়ে উদ্বেগ-হতাশায় ৭১% মার্কিন নাগরিক: জরিপ

‘বেইজিংয়ের কাছে হুথিরা এমন একটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হতে পারে, যার সাহায্যে তারা সরাসরি নিজেদের সামরিক বাহিনীকে জড়ানো বা ওয়াশিংটনের সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে না জড়িয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে’। ‘ইরানের সাথে সম্পর্কের মতোই, চীন এক্ষেত্রেও সরাসরি সম্পৃক্ততা ও ব্যয় সীমিত রেখে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে’।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩

কুড়িগ্রামের ৫৬৬ মন্দির-মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের সার্বজনীন কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ অন্যান্য কিছু মন্দির পরিদর্শন করে সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য প্রদান করেন এসআরবি-১৩ রংপুরের উপঅধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রামে ৫৬৬টি মন্দির-মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-১৩ এর পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া, এসআরবি-১৩, রংপুরের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

এ সময় তিনি গুজব এবং যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে তা যাচাই না করে শেয়ার না করার অনুরোধ করেন।

তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হয়।

এ সময় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খান, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ পি.এম


জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার সন্ধ্যায়, রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত রয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন জেডআরএফ-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা.এজেডএম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিবেদক বরিশাল

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি

মান্তা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সুবিচারে অবদানের স্বীকৃতি

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সুবিচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন ঝালকাঠির তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান। এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ ও সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বর্তমানে ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুর রহমান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দুর্যোগকালীন সহায়তা, পরিবেশ শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং তরুণদের সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।

২০১৬ সালে বরিশালের মান্তা জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আরিফুর রহমানের জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাব, চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং সন্তানদের শিক্ষার অনিশ্চয়তা তাঁকে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক পথচলা।

বরিশাল অঞ্চলের মান্তা জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম নৌকায় বসবাস করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এসব পরিবারের অনেক সদস্যের জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ গ্রহণেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

মান্তা জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আরিফুর রহমান প্রথমে সাক্ষরতা, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের নাগরিক অধিকার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কাজ শুরু করেন।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের ‘মান্তাকানেক্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে। এ উদ্যোগে মান্তা জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সাক্ষরতা ও সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি। কর্মশালা পরিচালনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের পাশাপাশি আরিফুর রহমানের উদ্যোগে ৩০০ মান্তা সদস্যকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় আনা হয়েছে বলে সংগঠনটির তথ্য থেকে জানা যায়।

এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য কবরস্থানের জমির ব্যবস্থা করতে অধিকারভিত্তিক প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছে। স্থায়ী বসতি না থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল।

প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আরিফুর রহমান। যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সময় ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কাজ করেন তিনি। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে সংকটে থাকা পরিবারগুলোর কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও পরবর্তী বিভিন্ন বন্যায় ফেনী, সিলেট, কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রংপুরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি উপকরণ বিতরণেও অংশ নেন তিনি।

জরুরি সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিতেও গুরুত্ব দিয়েছেন আরিফুর রহমান। ২০২২ সাল থেকে কুড়িগ্রামে ইয়ুথনেট গ্লোবালের ‘চর ইয়ুথনেট কমিউনিটি’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের আশ্রয়, জীবিকা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কাজ চলছে।

শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা তৈরি আরিফুর রহমানের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইকো অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের আয়োজন ও সমন্বয়ে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে।

ঝালকাঠির ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠা ইয়ুথ ক্লাইমেট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৩০০ শিক্ষার্থী ও ২০ জন শিক্ষক। ক্লাবগুলোর সদস্যরা বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিকদূষণ প্রতিরোধে কাজ করছে।

বরিশাল অঞ্চলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং কীর্তনখোলা নদীর দূষণ রোধেও কাজ করছেন আরিফুর রহমান। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক ও পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সুবিচার ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ইয়ুথনেট গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির এসব কার্যক্রমে দেশের ৫০টি জেলার প্রায় ১৫ হাজার তরুণ-তরুণী যুক্ত হয়েছেন।

আরিফুর রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, তরুণরাই পারে সমাজ বদলাতে।” পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তরুণেরা যেন নিজেদের এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায় থেকেই সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে, সেটিই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি জলাভূমি পুনরুদ্ধার, জলবায়ু সহনশীল জীবিকা, নারীর অধিকার ও পরিবেশদূষণ প্রতিরোধের বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন আরিফুর রহমান।

২০২৪ সাল থেকে ঢাকার নগর জলাভূমি পুনরুদ্ধারবিষয়ক ‘রি-ওয়েট’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন তিনি। এ প্রকল্পে জলাভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি কড়াইলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের পরিবেশবান্ধব জীবিকার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরতে ইয়ুথনেট গ্লোবালের ‘টাইগার উইডো’ উদ্যোগেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘ইকো-মেন’ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ক্ষতিকর সামাজিক ধারণা পরিবর্তন, পরিবারের যত্নের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং নারীর নেতৃত্বকে সমর্থন করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন।

শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিসাদূষণ প্রতিরোধেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ ও পিওর আর্থ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইয়ুথনেট গ্লোবাল দেশের ৬৪ জেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ এবং প্রশিক্ষণ পান তিন শতাধিক তরুণ সংগঠক।


স্থানীয় পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন আরিফুর রহমান। জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করেছেন তিনি।

২০২৪ সালে ‘গ্লোবাল ডায়ালগ ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ উদ্যোগে বাংলাদেশসহ আট দেশের তরুণদের যুক্ত করার কাজে অংশ নেন তিনি। ঢাকায় জাতীয় যুব জলবায়ু সংলাপ আয়োজনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও দাবিকে বৃহত্তর জলবায়ু নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন আরিফুর রহমান।

জাতীয় পর্যায়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জনের আগে ২০২৫ সালে ঝালকাঠি জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন আরিফুর রহমান।

বিবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে এলএলবি পড়ছেন তিনি। আইনের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তাঁর। ভবিষ্যতে তরুণদের সবুজ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান তিনি।

তরুণেরা যেন নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগ গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী তিনি।

জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি অর্জনের পরও আরিফুর রহমানের ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে বরিশালের সেই মান্তা পরিবারগুলো। এক দশক আগে যাঁদের জীবনসংগ্রাম তাঁকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল, তাঁদের শিক্ষা, চিকিৎসা, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক কাজ বাকি।

সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও তরুণকে সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে যুক্ত করতে চান তিনি। জাতীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতিকে দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন আরিফুর রহমান। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “আরিফুর রহমান মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে কখনো দয়া বা দান হিসেবে দেখেননি। তিনি কাজ করেছেন মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। তাঁর এই অর্জন তরুণদের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।”

তিনি আরও বলেন, আরিফুর রহমানের এই স্বীকৃতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সুবিচারের জন্য কাজ করা তরুণদের উৎসাহিত করবে। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন: মির্জা আব্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


দুর্গাপূজায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন: মির্জা আব্বাস

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা সহযোগিতা প্রদান করছেন এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহজাহানপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি উল্লেখ করেন, পূজার আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দলীয় নির্দেশনা রয়েছে।

এরপর তিনি মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় পূজার সার্বিক আয়োজন ও নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%