মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ এম
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে, যা ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে ঘটবে।
এই তথ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। ছয় মাস আগে সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে যুদ্ধের প্রভাবে এবার সেই পূর্বাভাস পরিবর্তিত হয়ে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন, জাহাজ চলাচল ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়েছে।
চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হতে পারে। তবে তেল উৎপাদন ও বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে দেশগুলোতে জোরালো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর ইরানের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এ বছর একমাত্র ওমানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশটির অর্থনীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
তবে চলতি বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৭ সালে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়া জরুরি বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকা আবিষ্কারের প্রসঙ্গে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নাম সবার আগে মনে আসে। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর তিনি বাহামা দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান। তবে, তার আগেই প্রায় ৫০০ বছর আগে ইউরোপের একদল নাবিক উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন। তারা ছিলেন ভাইকিং, যাদের নরস নামেও অভিহিত করা হয়।
ভাইকিং নামটি অনেকের কাছে পরিচিত হলেও, তারা আসলে কারা? অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের নাবিক ও যোদ্ধারা, যাদের ভাইকিং বলা হয়।
জীবিকার সন্ধানে এবং সম্পদ অর্জনের আশায় তারা সমুদ্রপথে বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে অভিযান চালাতেন। উন্নত জাহাজ নির্মাণ ও সমুদ্রযাত্রায় দক্ষতার কারণে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা ও লুটপাট চালাত তারা। তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ল্যাংস্কিপ’ ছিল দ্রুতগতির এবং অভিযানের জন্য উপযোগী।
তবে ভাইকিংরা শুধুমাত্র যোদ্ধা বা লুটেরাই ছিলেন না, তারা নতুন ভূখণ্ডও অনুসন্ধান করেছিলেন। প্রায় এক হাজার বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তারা বর্তমান কানাডায় পৌঁছান। সেখানে তারা নিউফাউন্ডল্যান্ডে অস্থায়ী বসতি গড়ে আশপাশের অঞ্চল অনুসন্ধান করেন। তাদের এই অভিযানের কথা বহু বছর ধরে লোককাহিনি ও গাথায় টিকে ছিল। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয়দের আমেরিকায় পৌঁছানোর সেই বিস্মৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬০ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে ‘ল’আঁস ও মেদো’ নামক স্থানে ভাইকিংদের পুরোনো শিবিরের সন্ধান পান গবেষকেরা। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, প্রায় এক হাজার বছর আগে সেখানে তাদের অবস্থান ছিল। ধারণা করা হয়, উত্তর আমেরিকার আরও ভেতরের অঞ্চল অনুসন্ধানের জন্য জায়গাটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন ভাইকিংরা।
২০২১ সালে নতুন পদ্ধতিতে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা তাদের সেখানে থাকার সময় সম্পর্কে আরো নির্দিষ্ট তথ্য পান। এতে ভাইকিংদের আমেরিকা অভিযানের ইতিহাস নতুন করে গুরুত্ব পায়। ভাইকিংদের আমেরিকা যাত্রা একবারে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে হয়নি। তারা পথে কয়েকটি অঞ্চলে থেমে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যান।
প্রায় ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তারা আইসল্যান্ডে পৌঁছান। এর প্রায় এক শতাব্দী পর গ্রিনল্যান্ডে বসতি গড়ে তোলেন। এরপর সেখান থেকে তারা বর্তমান কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার পথ খুঁজে পান। প্রথমে তারা বাফিন দ্বীপে পৌঁছান, যার নাম তারা দিয়েছিলেন ‘হেলুল্যান্ড’, অর্থাৎ পাথুরে সমতল ভূমি। এরপর দক্ষিণে ল্যাব্রাডর অঞ্চলে গিয়ে নাম দেন ‘মার্কল্যান্ড’, অর্থাৎ বনের দেশ।
পরে আরো দক্ষিণে পৌঁছে একটি অঞ্চলের নাম রাখেন ‘ভিনল্যান্ড’। এর অর্থ আঙুরলতার দেশ। ভাইকিংদের এসব অভিযানের বিবরণ পাওয়া যায় নরস গাথায়। তাদের বংশধরেরা এসব কাহিনি লিখে রেখেছিলেন। একসময় এগুলোকে মহাকাব্যিক গল্প বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে এসব গাথার অনেক তথ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের মিল পাওয়া গেছে।
ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে এরিক দ্য রেডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গাথা অনুযায়ী, তিনি নরওয়ে থেকে আইসল্যান্ডে এসেছিলেন। পরে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে এক প্রতিবেশী কৃষকের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাকে আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত করা হয়। এই নির্বাসনই তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তিনি গ্রিনল্যান্ডে যান এবং সেখানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। তার প্রতিষ্ঠিত বসতি প্রায় ৫০০ বছর টিকে ছিল।
পরবর্তী সময়ে গ্রিনল্যান্ড হয়ে ওঠে উত্তর আমেরিকা অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এরিক দ্য রেডের ছেলে লেইফ এরিকসনের নেতৃত্বে ভাইকিংরা সেখান থেকে উত্তর আমেরিকার দিকে সমুদ্রযাত্রা করেন বলে ঐতিহাসিক গাথায় উল্লেখ রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ভাইকিংরা শুধুমাত্র একবারই সেখানে যাননি। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, পরবর্তী দুই থেকে তিন শতাব্দী ধরেও তারা মাঝে মাঝে উত্তর আমেরিকায় যাতায়াত করতেন।
ভাইকিংদের আমেরিকা অভিযানের কাহিনি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আইসল্যান্ডের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। এর নাম ‘ফ্ল্যাটেইয়ারবোক’, অর্থাৎ ‘ফ্ল্যাটেই দ্বীপের বই’। চতুর্দশ শতকে লেখা এই বইয়ে গ্রিনল্যান্ডে ভাইকিংদের বসতি স্থাপন এবং উত্তর আমেরিকা অভিযানের বিবরণ রয়েছে। ১৯৬৬ সালে বিবিসির উপস্থাপক ম্যাগনাস ম্যাগনুসন বইটিকে আইসল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছিলেন।
বইটির গুরুত্ব বোঝা যায় ১৮৯৩ সালের একটি ঘটনা থেকে। শিকাগো বিশ্বমেলার আয়োজকরা কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রার ৪০০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য বইটি ধার নিতে চেয়েছিলেন। এটি আনার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, সাঁজোয়া ট্রেনে পরিবহন এবং ১০ লাখ ডলারের বিমা করার মতো পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ বইটি পাঠাতে রাজি হয়নি। বইটির প্রতি এত আগ্রহের কারণ ছিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এতে কলম্বাসের বহু শতাব্দী আগে ইউরোপীয়দের উত্তর আমেরিকায় পৌঁছানোর বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
কলম্বাসের আমেরিকা যাত্রার আগেও ইউরোপীয় নাবিকদের উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগের বিভিন্ন সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার উপকূলে সমুদ্রযাত্রা চলেছিল।
গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, কলম্বাসও উত্তর আমেরিকায় ইউরোপীয়দের আগের অভিযানের বিষয়ে জানতেন। এ ক্ষেত্রে জন ডে নামে এক ইংরেজের লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়। ১৪৯৭-৯৮ সালের শীতকালে লেখা ওই চিঠিতে জন ক্যাবটের উত্তর আমেরিকা অভিযানের কথা ছিল। চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল থেকে আসা নাবিকেরা বহু বছর ধরেই উত্তরাঞ্চলে সমুদ্রযাত্রা করতেন। তবে কলম্বাস ভাইকিংদের ‘ভিনল্যান্ড’ সম্পর্কে কতটা জানতেন, তা নিশ্চিত নয়।
প্রত্নতত্ত্ববিদ রবার্ট ম্যাকগির ধারণা, কলম্বাসের লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পৌঁছানো নয়, বরং এশিয়ার সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা। এ কারণে তিনি উত্তর দিকের পরিচিত পথ এড়িয়ে পশ্চিমে দীর্ঘ সমুদ্রপথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে কলম্বাসের ১৪৯২ সালের অভিযানকে ইউরোপীয়দের আমেরিকায় পৌঁছানোর প্রধান ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ভাইকিংদের গাথা, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ইতিহাসের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।
এসব প্রমাণ বলছে, কলম্বাসের প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগেই ইউরোপীয় নাবিকেরা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন। তারা সেখানে শিবির গড়েছিলেন, নতুন অঞ্চল অনুসন্ধান করেছিলেন এবং কয়েক শতাব্দী ধরে মাঝেমধ্যে যাতায়াতও করেছিলেন।
অতএব, আমেরিকায় ইউরোপীয়দের আগমনের ইতিহাস শুধুমাত্র কলম্বাসের অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও পুরোনো এক সমুদ্রযাত্রার কাহিনি, যা বহু শতাব্দী ধরে প্রায় বিস্মৃত ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর একটি সড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার মোল্লা কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফালু মিয়া (৪২), যিনি কুমিল্লা সদর এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ পূর্ব কদমতলীর জুরাইন এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের ভাই রতন জানিয়েছেন, ফালু মিয়া গ্যারেজে কর্মরত ছিলেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সজিব উর রহমান জানিয়েছেন, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে যে, রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি ফালু মিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া পার্কে, যা আটলান্টা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার রাইডটির নাম পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, পার্কের ‘গোলিয়াথ’ নামের বিশাল রোলার কোস্টারটি মাঝপথে আটকে আছে। আটকে পড়া যাত্রীদের নামিয়ে আনতে কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা এক ব্যক্তিকে চলন্ত রাইড থেকে ছিটকে পড়তে দেখেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে একটি ভূতুড়ে বাড়ির ছাদের ওপর গিয়ে পড়েন। তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। কর্মকর্তারা কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
দুর্ঘটনার পর সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ম্যাবলটনের মেয়রের কার্যালয়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে।
পার্কের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে চালু হওয়া ‘গোলিয়াথ’ রোলার কোস্টারটির উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট এবং এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১২ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। পার্কটির রাইড তালিকায় এটিকে উচ্চমাত্রার রোমাঞ্চকর রাইড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগসের আরেকটি পার্কে ‘এক্স২’ রোলার কোস্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, এর কয়েক সপ্তাহ আগে। ওই রাইডে চড়ার পর কয়েকজনের মস্তিষ্কে আঘাত লাগার অভিযোগ ওঠে। তবে জর্জিয়ার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় আমেরিকান ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ মাদক সম্রাট ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করা অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। এই অভিনেতার বয়স ছিল ৩৪ বছর এবং তিনি টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিনেতার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ এবং ক্যামেরন কাউন্টির শান্তি বিচারক সিন্ডি হিনোজোসা জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর তাকে তার বাসভবনে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।
আরজে মিটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার প্রতিনিধি শন রেইলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "গভীর দুঃখের সাথে আমরা প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবী এবং প্রতিবন্ধী অধিকারের একনিষ্ঠ প্রবক্তা আরজে মিটির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি জানাচ্ছি।"
নিজে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ায় মিটি ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র’ চরিত্রে অভিনয় করার সময় নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। এই অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। অভিনয় ছাড়াও তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে আজীবন কাজ করে গেছেন।
তার আকস্মিক প্রয়াণে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে তার সহশিল্পী অ্যারন পল (যিনি জেসি পিঙ্কম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) ও ডিন নরিসসহ (যিনি হ্যাঙ্ক শ্র্যাডারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ