শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৬ পি.এম
সৌদি আরবে বিমানবন্দর অবকাঠামোয় হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেখানে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান সংস্থা ও সফর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে। এই তথ্যটি ভারতীয় গণমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে, সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় প্রায় চার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী আটকা পড়েছেন।
এক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েসি একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে যাওয়া প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী মক্কা ও মদিনায় আটকে আছেন। এসব বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করায় তারা ফিরতে পারছেন না।’ আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় আকারের বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অথবা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-এ প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওয়েসির উদ্বেগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে উপলব্ধ বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার ওমরাহ যাত্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া স্বাভাবিক শিডিউল ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি সহায়তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুমের নম্বরও চালু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত ভোলা দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিশাল মোহনায় পলি জমে গঠিত এই দ্বীপটি প্রকৃতির এক অপার সুষমামণ্ডিত ক্যানভাসের মতো। চারপাশে পানির খেলা, অন্তহীন আকাশ এবং সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের মিতালি ভোলা উপকূলকে রূপের এক অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল মানেই পানি ও স্থলের অন্তহীন মিতালি। উত্তাল মেঘনা এবং প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদী এই জেলাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, কিন্তু এর বুক চিরে বয়ে চলা ছোট-বড় শাখা নদী ও জালের মতো ছড়িয়ে থাকা আঁকা বাঁকা খালের সৌন্দর্য একে জাদুকরী রূপে রূপান্তরিত করেছে। এখানকার জোয়ার-ভাটার, নদী পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা এবং লবণাক্ত বাতাসের গন্ধ এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
উপকূলীয় ভোলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সবুজ বনায়ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দ্বীপটিকে রক্ষা করতে গড়ে ওঠা এই বনাঞ্চল আজ নিজেই একটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। চর কুকরি-মুকরি, ভোলার মুকুটহীন রত্ন বলা চলে এই চরটিকে। এখানকার বালিয়াচ্ছাদিত সৈকত এবং বনের ছায়ায় গড়ে উঠেছে বিশাল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, যেখানে জীববৈচিত্র্য, হরিণ, বানর, উদবিড়াল এবং নাম না জানা শত প্রজাতির পাখির কলকাকলীতে মুখরিত থাকে চারপাশ। শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া ও অন্যান্য শীতল অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানার ঝাপটায় উপকূলের আকাশ মুখরিত হয়।
বালুর চরে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ার দল ঘুরে বেড়ানো এবং বালুর ওপর চমৎকার আলপনা তৈরি করা প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্য, কেওড়া ও গেওয়া বন, সবুজ পাতার অরণ্য এবং গাছের শ্বাসমূলের অদ্ভুত গঠন প্রকৃতির রূপকে আরো রহস্যময় করে তোলে। মনপুরা দ্বীপ, যা মূল ভোলা থেকে আরো গভীরে অবস্থিত, যেন রূপকথার কোনো দ্বীপ। এখানকার সবুজ মাঠ, নদীর চরে ছুটে চলা মহিষের পাল এবং গোধূলি বেলার আকাশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।
তজুমদ্দিন ও চর নিজাম, এখানকার নিরিবিল সৈকত এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম। জেলেরা নদীর বুকে রঙবেরঙের পালতোলা নৌকা নিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য উপকূলীয় সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এখানকার মানুষের নিরন্তর জীবনসংগ্রাম। নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিত্যদিনের সঙ্গী করেই ভোলা উপকূলের মানুষ বেঁচে থাকে। তবুও তাদের মন বড় উদার। অতিথিপরায়ণতা, সুস্বাদু ইলিশ মাছের ঘ্রাণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সরলতা এই অঞ্চলের সামাজিক রূপকে সমৃদ্ধ করেছে।
ভোলার উপকূল কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড নয়, এটি বাংলা মায়ের এমন এক রূপ, যা একাধারে স্নিগ্ধ ও রুদ্র, শান্ত ও উত্তাল। প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষাবলয় তৈরি করা এই উপকূলীয় অরণ্য আমাদের জাতীয় সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই রূপের অভয়ারণ্য টিকে থাকুক যুগ যুগ ধরে— এটাই উপকূলবাসীর প্রাণের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিউনিসিয়ায় পুলিশের হাতে কয়েকজনের মৃত্যুর পর রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। দেশটির চলমান গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
রাজধানীর উপকণ্ঠ ইততাদামেনে মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ওই ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাদক গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ওই এলাকার একটি জাতীয় রক্ষীবাহিনীর স্থাপনা নিরাপদ রাখতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এদিকে, দেশটির স্ফাক্স প্রদেশের জেবিনিয়ানা শহরেও এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং টায়ার পোড়ান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় শহর স্ফাক্সে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্ফাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, তিউনিসিয়ায় জীবনযাত্রার অবনতি ও সরকারি সেবার দুরবস্থা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) সংঘর্ষের ঘটনাগুলো দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হাজারো মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র দুর্বল করা এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির একটি সামরিক আদালত বিরোধী রাজনীতিক ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসলে এবার কলারের পরিচয় জানা যাবে। নতুন কলার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি) আগামী ১ নভেম্বর থেকে ভারতে চালু হতে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে ফোনের স্ক্রীনে অপরিচিত নম্বরের পাশাপাশি সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া নামও প্রদর্শিত হবে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) দেশের সকল টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে এই সেবা চালুর নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে নতুন প্রযুক্তি
ভারতে তৈরি সিএনএপি প্রযুক্তি প্রাথমিকভাবে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইন ফোনের জন্যও এই সেবা চালুর আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ফোনে যদি কোনো নম্বর আগে থেকে সংরক্ষিত থাকে, তবে সেই নাম দেখা যাবে। অন্যদিকে, যদি নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া নাম প্রদর্শিত হবে। বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে কলারের নামের পরিবর্তে ‘আন্তর্জাতিক কল’ লেখা দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ জন্য টেলিকম অপারেটরদের গ্রাহকদের নাম ও নম্বরের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করে একটি সুরক্ষিত তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে। কল আসার সময় সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে কলারের পরিচয় প্রদর্শিত হবে।
গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা
নতুন প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কল শেষ হওয়ার পর কলারের ব্যক্তিগত তথ্য ডেটাবেসে সংরক্ষণ না রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বজায় থাকবে। ফলে এই সুবিধা গ্রহণকারী গ্রাহকদের নাম অন্যের ফোনের স্ক্রীনে প্রদর্শিত হবে না।
ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা জিএসটি পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসার নাম প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। তবে এসব তথ্য যাচাই করে অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটর।
প্রতারণা ঠেকানোর লক্ষ্য
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, কলারের পরিচয় সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সন্দেহজনক ফোনকল চেনা সহজ হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে নতুন এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
তবে প্রযুক্তিটি চালু হলেও অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রতিটি কল যে নিরাপদ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই কলারের নাম প্রদর্শিত হলেও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য কিংবা ওটিপি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির পাপোশ তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি পাপোশ তৈরির মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, দুই শতাধিক নারীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তার প্রচেষ্টার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
২০১৯ সালে চাকরির খোঁজে না গিয়ে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ছোট পরিসরে পাপোশ তৈরি শুরু করেন হুমায়ুন কবির। প্রথমদিকে তার পাপোশ তৈরির কারখানা অনেক ঝড়ের সম্মুখীন হয়। করোনার সময় ব্যবসা প্রায় থমকে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখা থামাননি। তার নিজ জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। এরপর তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন।
জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে পাপোশ তৈরি ও বিপণন ব্যবসা বেছে নেন তিনি। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় জানান, ঋণ সহায়তা পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ান হুমায়ুন কবির। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সেনুয়া নদীর তীরঘেঁষে বরুনাগাঁও গ্রামে তার ছোট্ট এই কারখানা অবস্থিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেলাই মেশিনের নানা শব্দ চলে। সরেজমিনে দেখা যায়, নারীরা কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ পাপোশ তৈরি করছেন, কেউ রশি তৈরি করছেন, আবার কেউ রঙ ও ফিনিশিংয়ের কাজে ব্যস্ত।
কারখানায় কর্মরত নারী শাম্মী আক্তার বলেন, "আগে বাড়িতে বসে থাকতাম। এখানে কাজ করে নিজের আয় করতে পারছি। সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি।"
নুরবান, যিনি এখানে কাজ করছেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খণ্ডকালীন পাপোশ তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন। আরেক নারী ফাতেমা বেগম বলেন, "পাপোশ তৈরি করা, সেলাই করা, ফিনিশিং দেওয়া সবকিছুই আমি করি। এখানকার নারীরা কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। মাসে আমরা প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা উপার্জন করি।" রেইজ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে মানুষকে যুক্ত করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।
হুমায়ুন কবির জানান, ২০১৯ সালে পল্লি কর্মসংস্থান ও ইএসডিওর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তা পাওয়ার পর নতুন উদ্যমে পাপোশ তৈরির কাজ শুরু করেন।
"আজ আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। বর্তমানে এই কারখানায় ৪৮ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ১৫০ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করছেন।"
হস্তশিল্প ও কারুপণ্য সংস্থার পরিচালক চন্দনা ঘোষ বলেন, "নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থাকলে যেকোনো শিল্পকর্ম মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।"
বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং নিজের চেষ্টা থাকলে হুমায়ুন কবিরের মতো উদ্যোক্তা হয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। হুমায়ুন কবির এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ