ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিবচরে রাতের আঁধারে জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকাবাসী; সাবেক সেনাসদস্য ও আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি


শিবচরে রাতের আঁধারে জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকাবাসী; সাবেক সেনাসদস্য ও আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি

মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে পৈতৃক জমি দখল, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো কাঁঠালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা এবং জমিতে তারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য মাহাবুব খান, তাঁর ভাই আদম ব্যবসায়ী সোহেল খান এবং তাঁদের বোন সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী সরদার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে কয়েক শ এলাকাবাসীও অংশ নেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় বক্তারা জমির মালিকানা যাচাই, গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রাতের আঁধারে গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে তাঁদের পৈতৃক প্রায় ২৫ শতাংশ জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে ওই জমিতে তারের বেড়া দিয়ে সীমানা তৈরি করা হয়। কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পরিবারটির অভিযোগ, জমিটি তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে রয়েছে। সেখানে পূর্বপুরুষদের হাতে লাগানো পুরোনো গাছও ছিল। রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে জমিতে বেড়া দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা নিজেদের সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
চার বোনের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ
সরদার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় দুই শত বছর ধরে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বসবাস করে আসছেন। পরিবারের প্রয়াত দবির উদ্দিন সরদারের মৃত্যুর পর তাঁর চার মেয়ে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একই এলাকার প্রয়াত ফজলুল খানের ছেলে মাহাবুব খান ও সোহেল খান এবং মেয়ে সোমা আক্তারের সঙ্গে ওই জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না করে রাতের আঁধারে গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ
জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি মাহাবুব খান, সোহেল খান ও সোমা আক্তারকে ঘিরে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, মাহাবুব ও সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মানবপাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সোমা আক্তারের বিরুদ্ধেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, এলাকার কিছু তরুণকে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফজলুল খান আর্থিক সংকট ও দেনার দায়ে মারা যান। তাঁদের দাবি, সে সময় তাঁর ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল এবং লাশ দাফনেও পাওনাদারদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। অথচ বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন ও জমি দখলের অভিযোগ উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
পরিবারটির সদস্যরা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস এবং এলাকায় মাদক ও মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদন তৈরির সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাধা দিলে হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, গাছ কাটা ও জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
পরিবারটির সদস্যদের দাবি, জমির কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। তারপরও জমিতে বেড়া দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পৈতৃক সম্পত্তির দখল হারানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিরোধ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
থানায় অভিযোগ, সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পরদিন সকালে তাঁরা শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ করার পরও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি তাঁদের।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালত বা সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁরা অভিযোগের ভিত্তিতে জমির কাগজপত্র যাচাই, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান।
‘দেশে কি আইন-আদালত নেই?’
ভুক্তভোগী রুজিয়া আক্তার খুকু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে কি আইন-আদালত নেই? রাতের আঁধারে আমাদের পূর্বপুরুষদের লাগানো গাছ কেটে জমি দখল করা হবে কেন? আমাদের কাছে জমির কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও আমাদের জমিতে বেড়া দেওয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেও আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমরা সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
দবির সরদারের আরেক মেয়ে রুবিয়া খানম রাইতি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা চার বোন বাবার সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। এলাকার মানুষও জানেন, এই সম্পত্তি আমাদের। অথচ আমাদের গাছ কেটে জমি দখল করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহাবুব খান ও সোহেল খানের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে মাহাবুব খান, সোহেল খান ও সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “কোনো জায়গার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা অমান্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জায়গা-জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার বিষয়ও থাকতে পারে। বিষয়টি সে রকম কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সরদার পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, চালক আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কন্যাশিশুর শিক্ষা-নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


কন্যাশিশুর শিক্ষা-নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, "কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।" বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার হলো, প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়।

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রবিবার প্রদান করা এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল দিবসটি উদযাপিত হবে। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মেয়ের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া গেলে তারা আরও জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আরও দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কন্যাশিশুদের স্বাধীন ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা এবং তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও নারীদের জন্য বিনা বেতনে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ অবারিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছে, যেখানে একটি মেয়ের জন্ম পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে এবং কোনো কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হবে না। প্রতিটি মেয়ে যেন নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আজকের একটি শিশুকন্যাকে উপযুক্ত শিক্ষা, স্নেহ, অধিকার ও সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমেই আগামী দিনের সুস্থ, শিক্ষিত ও উন্নত সমাজ নির্মাণ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার পথ সুগম করবে। সরকার এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে। বাস্তব ও ডিজিটাল-উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, কন্যাশিশুর স্বপ্নকে শক্তিতে, শিক্ষাকে সক্ষমতায় এবং সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, সমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হোক সবার অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবক ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার হীরা-সোনা ও প্লাটিনাম জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


ঢাকা বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার হীরা-সোনা ও প্লাটিনাম জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হীরা, সোনা, প্লাটিনাম এবং বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পাথর জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে জনি রহমান নামের একজন যাত্রীকে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এনবিআর জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নজরদারি কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম এবং দায়িত্ব পালনরত সি-শিফটের কর্মকর্তারা। কলকাতা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়।

নজরদারির এক পর্যায়ে জনি রহমান নামের ওই যাত্রী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তার ব্যাগ স্ক্যান করে আচারের বয়ামের মধ্যে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার, হীরা, প্লাটিনাম এবং অন্যান্য মূল্যবান পাথর জব্দ করা হয়।

এনবিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো ১৮ ক্যারেটের ৩৮৯টি সোনার আংটি, যার মোট ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এছাড়া ৯৫০ ক্যারেটের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি পাওয়া গেছে, যার মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম। হীরা বসানো সাদা সোনার তিনটি অলংকার, দুটি হীরা বসানো রুপার আংটি, পাঁচটি সোনার লকেট, একটি সোনার চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুলও জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ৪৫ ক্যারেটের হীরা, ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পোখরাজ, রুবি এবং অন্যান্য পাথরসহ মোট ৭২০টি মূল্যবান পাথর জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের সঙ্গে ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ডও পাওয়া গেছে।

এনবিআর জানিয়েছে, ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই এসব পণ্য আনার কারণে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম। স্বর্ণালংকারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় জনি রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে এনবিআরের পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছর পর খুলছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ১৯ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


১০ বছর পর খুলছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ১৯ অক্টোবর

প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আগামী ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে একই দিন উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে নগরবাসী আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। জুলাই শহীদ ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের স্মরণে উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এটি দর্শনার্থীদের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার সুযোগ করে দেবে।

শাহে আলম জানান, নতুনভাবে সাজানো উদ্যানে রয়েছে হাঁটার পথ, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুবিধা, রেস্তোরাঁ, আধুনিক লাইব্রেরি, শিশুদের খেলার নির্ধারিত স্থান, কৃত্রিম পানির ফোয়ারা ও মনোরম জলধারা।

তিনি আরও জানান, সচিবালয়সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশ মনোরম রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।

প্রস্তুতি সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাঃ আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ অক্টোবর থেকে ৮ দিন বন্ধ থাকবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ অক্টোবর থেকে ৮ দিন বন্ধ থাকবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর

দুর্গাপূজা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আট দিন বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে, পাসপোর্টধারী যাত্রীরা সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে দুই দেশে যাতায়াত করতে পারবেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে ভারতের মহদীপুর আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর থেকে কোনো আমদানি পণ্যবাহী গাড়ি সোনামসজিদ বন্দরে প্রবেশ করবে না। একইভাবে, সোনামসজিদ বন্দর থেকেও ভারতে কোনো রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করবে না। তবে, দুই দেশের খালি গাড়িগুলো নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি থাকবে। বন্ধের পর, আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন জানিয়েছেন, মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এক চিঠির মাধ্যমে ১৬ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা আট দিন বন্দর বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৪ অক্টোবর থেকে বন্দর পুনরায় সচল হবে।

সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান জানিয়েছেন, পূজা উপলক্ষে বন্ধের সময় বন্দরে সীমিত পরিসরে পণ্য লোড-আনলোড, পরিবহন ও গুদামজাতকরণসহ কিছু কার্যক্রম চালু থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%