ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের কবলে, বাড়ছে সুদের বোঝা


বিশ্বে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের কবলে, বাড়ছে সুদের বোঝা

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ঘাটতির প্রতিবাদে সম্প্রতি লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল।

ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ঋণসংকট ও সরকারের আর্থিক চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ঋণ নেওয়ার ফলে অনেক দেশের সরকার এখন গভীর ঋণের জালে আটকা পড়েছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী

সরকার কীভাবে ঋণ নেয়

যেভাবে সাধারণ মানুষ ঋণ নেয়, সরকারও অনেকটা একইভাবে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।

বন্ড কেনার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের সুদ দেয় সরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এই বন্ডের ‘ইল্ড’ বা বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত মুনাফা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা থেকে বোঝা যায়—কোনো দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাজারের কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

যেভাবে কাজ করে সরকারি বন্ড

১. সরকার ঋণ নেয়—একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কেনার জন্য ১০০ ইউরো প্রদান করেন।

২. সরকার সুদ প্রদান করে—১০ বছর ধরে প্রতি বছর বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ২ দশমিক ৫০ ইউরো (মোট ২৫ ইউরো) পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ৫ ইউরো (মোট ৫০ ইউরো) পাবেন।

৩. সরকার ঋণ পরিশোধ করে – ১০ বছর পর, বিনিয়োগকারী তার মূল বিনিয়োগ করা ১০০ ইউরো ফেরত পান।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়

বন্ডের দাম কমে গেলে সাধারণত এর ইল্ড বা সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

যেমন একটি পরিবার উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ধকী ঋণের চাপে পড়ে, তেমনি কোনো সরকারকেও তখন ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো জরুরি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।

ইউরো অঞ্চল চালুর ঠিক পরপর, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ১০ বছর মেয়াদী ঋণের ব্যয় কখনোই ৫ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরিদের রক্ষাকর্তা পাকিস্তান! সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ভারতে তোলপাড়

২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোন ঋণ সংকটের সময় গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটাপন্ন দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।

বর্তমানে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। বিপরীতে, জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।

দুই দেশের সুদের হারের এই ব্যবধান বাড়ার অর্থ হলো, ফ্রান্সকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা জার্মানির তুলনায় বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে বাজারের উদ্বেগও প্রতিফলিত হচ্ছে।

ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের সুদের হারের তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। ইউরোর বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদের হারই কেবল ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সাগরে পেলেই ডুবিয়ে দেওয়া হবে : ইরান

কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ঋণী

বিশ্বের সরকারি ঋণের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এরপর চীনের ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপির অনুপাতে জাপানের ঋণ ১৯৯ শতাংশ।

ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ঋণগ্রস্ত দেশ ফ্রান্স। ইতালির ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও জিডিপির অনুপাতে তা ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন: কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

সুদ পরিশোধেই বছরে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

এটি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের সমান। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান বাজারের দেশগুলো থেকে।

বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

ব্যয়ের এই পরিমাণ বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হয়। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে। ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে কর বাড়ানোর পথেও হাঁটতে হতে পারে।

এর প্রভাব শুধুমাত্র সরকারি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে আবাসনঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে।

ফলে একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরকারি সেবায় অর্থসংকট—দুই চাপই সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে এই অর্থনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সরকারগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বজায় রাখা।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোমোর কাছে হতাশাজনক হারের পরও চাকরি নিয়ে চিন্তিত নন ক্যারিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


কোমোর কাছে হতাশাজনক হারের পরও চাকরি নিয়ে চিন্তিত নন ক্যারিক

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সকল সদস্য হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কোচ মাইকেল ক্যারিক। তবে তিনি কোচের দায়িত্ব হারানোর বিষয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন।

ইতালির ক্লাব কোমোর কাছে স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগালিয়ায় তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পাত্তাই পায়নি। এই লজ্জাজনক হারের ফলে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়হীন হয়ে পড়েছে দলটি।

ইউনাইটেডের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্যে ক্যারিকের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মৌসুমে লিগে ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড গড়েছে দলটি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিক বলেন, চাকরি হারানোর ভয় তিনি করছেন না।

ক্যারিক বলেন, “নিজের অবস্থান নিয়ে আমি একবারও ভাবিনি।”

ম্যাচ শেষে সফরকারী সমর্থকদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তার ওপর বাড়তে থাকা চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত, এমন ধারণাও নাকচ করেছেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের কোচ।

ক্যারিক বলেন, “আমি সব সময়ই সমর্থকদের কাছে যাই। কেন গিয়েছি, তার পেছনে বিশেষ কোনো ভিন্ন কারণ ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, বিশেষ করে আজ রাতে, তাদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও স্বীকৃতি জানাতেই গিয়েছিলাম।”

ম্যাচের দুই মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই নিকো পাজের গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। এর মধ্য দিয়ে বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা দুই ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটের মধ্যেই গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ দল হয়ে তারা পরিচিতি লাভ করেছে। গত সপ্তাহে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচেও এক মিনিটের মাথায় গোল হজম করেছিল ইউনাইটেড।

সেস ফাব্রেগাসের দল উত্তর ইতালিতে দুর্দান্ত খেলতে খেলতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরে বদলি হিসেবে নামা জশুয়া জির্কজির যোগ করা সময়ে করা গোলে ব্যবধান কিছুটা কমে। তবে ইউনাইটেড যেভাবে প্রতিপক্ষের কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ক্যারিক।

তিনি বলেন, “আমাদের এভাবে খেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পারফরম্যান্স মোটেও ভালো ছিল না। লিডসের বিপক্ষে (১-১ গোলে ড্র) আমরা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলাম, সেটির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।”

“সেখানে আমাদের মধ্যে যে তীব্রতা, মানসিকতা, আগ্রাসন এবং সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার প্রকৃত মানসিকতা ছিল, আজকের পারফরম্যান্স ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সত্যি বলতে, খেলাটি দেখা ছিল কষ্টকর।”

ক্যারিক আরও বলেন, “খেলা দেখার সময় আমার মাথায় অনেক কিছু ঘুরছিল। লিডসের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের সঙ্গে আজকের পারফরম্যান্স এতটা আলাদা কীভাবে হতে পারে, তা সত্যিই বোঝা কঠিন।”

“এমনটা হওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই ভালো খেলতে পারি, আবার খারাপও খেলতে পারি। কিন্তু এভাবে খেলা একেবারেই ঠিক নয়।”

ক্যারিকের দলের পরবর্তী ম্যাচ রোববার, নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

ক্যারিক বলেন, “আমি হতাশ, শুধু হতাশই নই, সত্যি বলতে ভীষণ রাগান্বিত।”

“এখন সামনে এগোতে হবে, পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে হবে এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা দেখতে হবে। পরবর্তী ম্যাচের আগে দলকে প্রস্তুত করতে অনেক কিছু করতে হবে।

আজকের রাতটি সবার জন্যই কঠিন ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেম ও বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা ও বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


প্রেম ও বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা ও বিজয়

দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজয় সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাশমিকার প্রতি তার গভীর নির্ভরশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা ভালোবাসা নিয়ে তার সংশয়ের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে বিজয় ও রাশমিকা একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা এবং বিয়ে সম্পর্কে তাদের মতামত শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক করণ জোহরের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিজয় জানান, একসময় তার জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল ক্যারিয়ার, অর্থ এবং সাফল্য অর্জন। তিনি তখন মনে করতেন, কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয়গুলো তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বাধা।

বিজয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সুন্দর ভালোবাসা পাওয়ার পরেও তিনি একসময় ভালোবাসার ধারণাকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু রাশমিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়।

অভিনেতা জানান, প্রথমদিকে রাশমিকার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হলেও তা ধীরে ধীরে গভীর নির্ভরতায় রূপ নেয়। রাশমিকা পাশে থাকলে তার দিনগুলো ভালো কাটত, একসঙ্গে খাবার খেলে খাবার আরও সুস্বাদু মনে হতো এবং ঘুমও ভালো হতো। এসব অনুভূতি থেকে বিজয় উপলব্ধি করেন, তিনি রাশমিকাকে শুধু ভালোবাসেন না, বরং জীবনসঙ্গী হিসেবেও পেতে চান।

তবে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চাননি। বিজয়ের মতে, আবেগের বশে বিয়ে করা উচিত নয়। সুখ-দুঃখ, ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে দুজনের সম্পর্কের দৃঢ়তা বোঝা জরুরি।

বিজয় জানান, রাশমিকা প্রায় এক বছর ধরে তাকে বিয়ের বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, তিনিও বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সম্পর্কটি বুঝতে চেয়েছেন। সব পরিস্থিতিতে একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা অটুট থাকলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

২০১৮ সালে ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। পরবর্তী সময়ে ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায়ও তারা জুটি বাঁধেন। পর্দার এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে তেলুগু ও কোডাভা ঐতিহ্য মেনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় ও রাশমিকা। প্রেম থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার এই গল্পে তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে এখন ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্ভেলের পর্দায় আবারও ফিরছে স্টার-লর্ড: ক্রিস প্র্যাটের নিশ্চিতকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


মার্ভেলের পর্দায় আবারও ফিরছে স্টার-লর্ড: ক্রিস প্র্যাটের নিশ্চিতকরণ

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্র ‘স্টার-লর্ড’ সম্পর্কে ভক্তদের জন্য একটি সুখবর প্রদান করেছেন অভিনেতা ক্রিস প্র্যাট। এই তারকা নিশ্চিত করেছেন যে, মার্ভেল চলচ্চিত্রে স্টার-লর্ড চরিত্রটি আবারও পর্দায় ফিরে আসবে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য মার্ভেল স্টুডিওস ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি দ্য প্লেলিস্টের ‘বিংওয়ার্দি’ পডকাস্টে অংশগ্রহণের সময় ক্রিস প্র্যাট তার এই জনপ্রিয় চরিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্ভেল স্টুডিওসের প্রধান কেভিন ফাইজ এবং প্রযোজক লু ডি’এসপোসিতোর সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। চরিত্রটির প্রত্যাবর্তন নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে স্টুডিও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, “আপনারা স্টার-লর্ডকে আবারও দেখতে পাবেন, যা অত্যন্ত আনন্দের। তবে ঠিক কখন বা কোন প্রজেক্টের মাধ্যমে সে ফিরছে, তা এখনই জানানোর অনুমতি আমার নেই।”

এর আগে ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টে প্র্যাট উল্লেখ করেছিলেন যে, স্টার-লর্ড চরিত্রটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে তার নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা তিনি কেভিন ফাইজের কাছে জানিয়েছেন।

ক্রিস প্র্যাট এ পর্যন্ত মার্ভেলের মোট ছয়টি চলচ্চিত্রে স্টার-লর্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি’র তিনটি কিস্তি, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এবং ‘থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার’। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম ৩’-এর শেষ অংশেও চরিত্রটির ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ার বিজয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


সিরিয়ার বিজয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় হবে

সিরিয়ার জনগণ ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছে, যা আগামী বহু বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। বুধবার, তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এরদোয়ান উল্লেখ করেন, সিরিয়ায় প্রায় ১৪ বছরের দমন-পীড়নের পর শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে দেশটির জনগণ ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে নিজেদের অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উত্তর সিরিয়ায় একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশটিতে সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এ সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সিরিয়ার প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

এরদোয়ান সিরিয়ায় সাবেক শাসনামলে রক্তপাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি আলি কায়ালি নামে পরিচিত মিহরাজ উরালকে উল্লেখ করেন। এরদোয়ান বলেন, সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে, যা বিশেষ করে স্বৈরশাসক ও হত্যাকারীদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, “নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ কখনোই উপেক্ষিত থাকে না।”

গত সপ্তাহে সিরিয়ার সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থা মিহরাজ উরালকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৩ সালে বেনিয়াসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত। সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়।

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসানের পর দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। বর্তমানে আঙ্কারা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং দেশটির স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তথ্যসূত্র: সানা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%