বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪১ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে, "নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। দিবসটি উপলক্ষে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) ভৈরব শাখার উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সংগঠনের সম্মানে ভূষিত হওয়ার জন্য বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র্যালিটি সকালে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের সামনে অবস্থিত নিসচা কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভাটি নিসচা ভৈরব শাখার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি পরিচালনা করেন নিসচা ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলাল উদ্দিন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।
এ সময় নিসচা ভৈরব শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইমরান হোসাইন, সাবিনা ইয়াসমিন, দপ্তর সম্পাদক রাকিব হোসাইন, প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান, যুববিষয়ক সম্পাদক হাজী জামান, কার্যকরী সদস্য শফিকুল ইসলাম, জামাল মিয়া, এনামুল হক, হাজী কুদ্দুস, লোকমান মিয়া, সদস্য জুয়েল মিয়া, খালেদা বেগম, আঁখি নূর আক্তার, মোশাদ মিয়া ও ইমরান হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালক, পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দক্ষ চালক তৈরি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নিসচা ভৈরব শাখা ১ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, রোড ক্যাম্পেইন, রচনা, বিতর্ক, সাধারণ জ্ঞান ও কুইজ প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ, পরিবহন চালকদের প্রশিক্ষণ এবং পুরস্কার বিতরণ।
সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এসব কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। নিসচা ভৈরব শাখা ইতিমধ্যে পরপর চারবার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সংগঠনের পুরস্কার অর্জন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘পিএম-দক্ষ’ প্রকল্পের কার্যকরী বাস্তবায়নে গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তীব্র সমালোচনা করেছে।
বুধবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পটি চালু করা হলেও এটি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুতর ত্রুটি বিদ্যমান এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, ঝোলা গোছানোর সময় হয়ে গিয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবে একটি মাদক মামলায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে দিল্লি এই বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। মোদি সরকারের প্রতিবেশীদের নিয়ে দাদাগিরির কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সউদী আরবের দাম্মাম কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় কেরালার মাহের পেরিংগাদির বাসিন্দা আবৃত্তি ভাল্লিয়িরের (৪১)। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রথমে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সউদী রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সউদী রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর বিচারিক আদালত তার সাজা পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় প্রবাসীর পরিবারের অভিযোগ সত্ত্বেও, সউদী আরবের কঠোর সার্বভৌম আইন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি এবং ভারতের কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করা হয়নি। রাষ্ট্রদূতকে তলব করা বা কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে কর্মরত আবৃত্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সউদী আরবে নতুন কাজের সন্ধানে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর, যেদিন তার দেশে ফেরার কথা ছিল, কান্নুরের ওই ব্যক্তি তাকে তার গাড়িটি সউদী আরবে নিয়ে গিয়ে সেখানে একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। তাকে রিটার্ন টিকিটের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। কিন্তু তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত ও বন্ধ করে রাখা হয়, ফলে পরিবারের কাছে তার খবর পৌঁছায়নি। কয়েকদিন পর পরিবার তার গ্রেপ্তারের খবর জানতে পারে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, কান্নুরের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে সউদী-ওমান সীমান্ত দিয়ে একটি গাড়ি সউদী আরবে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ভিসা ও যাতায়াতের টিকিটের লোভ দেখায়। ওই ব্যক্তি আবৃত্তিকে জানান যে গাড়ির দুটি ট্যাংকের মধ্যে একটি লিক আছে, তাই যেন সেখানে পেট্রোল না ভরা হয়। কিন্তু আসলে সেই ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরেই ৪৩ কেজি মেথঅ্যামফিটামিন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সীমান্ত পার হওয়ার সময় গাড়ি তল্লাশি করে মাদক উদ্ধার করা হয় এবং আবৃত্তি সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার হন।
আবৃত্তি ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী, দুই সন্তান ও তিন বোনকে রেখে গেছেন। তার বাবা আগেই মারা যান। অর্থসংকটের কারণে তার পরিবার সউদী আরবে উপযুক্ত আইনি সহায়তা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবৃত্তির বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই সন্তান এবং তিন বোন তাকে বাঁচানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। পরিবার সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে এসেছে যে তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
পরিবারের অভিযোগ, যে ব্যক্তি আবৃত্তিকে গাড়িটি দিয়ে পাঠিয়েছিলেন তিনি তাকে প্রতারিত করার কথা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি মিটমাট করার জন্য টাকার প্রস্তাবও দেন। তবুও, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। দিল্লির কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় ভারতীয়দের।
পরিবার আরও অভিযোগ করে যে, আবৃত্তির মুক্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্য এক ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে আড়াই লাখ (২.৫ লাখ) রুপি হাতিয়ে নিয়েছে।
এদিকে, আবৃত্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর এবং এর আগে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ বা হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরেও রিয়াদের বিরুদ্ধে দিল্লি কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা কঠোর মন্তব্য করেনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগকে আমলে নিয়ে ভারতের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সোচ্চার হতে দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকরা দিল্লির নীরবতার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, সউদী আরবে তাজির আইনে মাদক পাচার বা চোরাচালানের মতো অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সউদী সরকার সাধারণত অন্য কোনো দেশের কূটনৈতিক চাপে রায় শিথিল করে না। দ্বিতীয়ত, ভারত ও সউদী আরবের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তেল বাণিজ্য ও কোটি কোটি ভারতীয় প্রবাসী শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় দিল্লি সাধারণত এমন সংবেদনশীল বিচারিক বিষয়গুলোতে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকে। ফলে ভারত সরকার এ ধরনের মামলায় সাধারণত অভিযুক্তকে আইনি সহায়তা প্রদান ও কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রেখেছে, একে রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদে রূপ দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। তিনি এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এটি দুই দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
এরদোয়ান বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সংসদীয় দলের বৈঠকে এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, "লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদ তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক অনুমোদন করেছে।" তিনি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "এটি দুই দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।"
মঙ্গলবার, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধি পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৯ সালের সমঝোতা স্মারকটি অনুমোদন করে। উল্লেখ্য, তুরস্ক ও লিবিয়ার তৎকালীন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের মধ্যে ওই বছরের নভেম্বরে চুক্তিটি সই হয়েছিল। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ভূমধ্যসাগরে দুই দেশের সামুদ্রিক এখতিয়ারভুক্ত এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা।
চুক্তিটি অনুমোদনের পাশাপাশি, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্ট ২০২০ সালে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তও বাতিল করেছে, যা তুরস্কের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর ফলে, চুক্তিটি নিয়ে তাদের আগের বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ভূমধ্যসাগরে সামুদ্রিক অধিকার ও জ্বালানি অনুসন্ধানের সুযোগ নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে লিবিয়ার এ চুক্তি গ্রিস ও সাইপ্রাসের আপত্তির মুখে পড়েছে। গ্রিসের দাবি, চুক্তিটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং গ্রিক দ্বীপগুলোর সামুদ্রিক অধিকার উপেক্ষা করে। ফলে, চুক্তিটির অনুমোদন পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, এরদোয়ান তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছে।
তুরস্ক ও লিবিয়ার সমুদ্রসীমা চুক্তি একদিকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সামুদ্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে চলমান বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ঘাটতির প্রতিবাদে সম্প্রতি লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল।
ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ঋণসংকট ও সরকারের আর্থিক চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ঋণ নেওয়ার ফলে অনেক দেশের সরকার এখন গভীর ঋণের জালে আটকা পড়েছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে।
সরকার কীভাবে ঋণ নেয়
যেভাবে সাধারণ মানুষ ঋণ নেয়, সরকারও অনেকটা একইভাবে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।
বন্ড কেনার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের সুদ দেয় সরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এই বন্ডের ‘ইল্ড’ বা বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত মুনাফা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা থেকে বোঝা যায়—কোনো দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাজারের কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।
যেভাবে কাজ করে সরকারি বন্ড
১. সরকার ঋণ নেয়—একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কেনার জন্য ১০০ ইউরো প্রদান করেন।
২. সরকার সুদ প্রদান করে—১০ বছর ধরে প্রতি বছর বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ২ দশমিক ৫০ ইউরো (মোট ২৫ ইউরো) পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ৫ ইউরো (মোট ৫০ ইউরো) পাবেন।
৩. সরকার ঋণ পরিশোধ করে – ১০ বছর পর, বিনিয়োগকারী তার মূল বিনিয়োগ করা ১০০ ইউরো ফেরত পান।
ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়
বন্ডের দাম কমে গেলে সাধারণত এর ইল্ড বা সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
যেমন একটি পরিবার উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ধকী ঋণের চাপে পড়ে, তেমনি কোনো সরকারকেও তখন ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো জরুরি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।
ইউরো অঞ্চল চালুর ঠিক পরপর, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ১০ বছর মেয়াদী ঋণের ব্যয় কখনোই ৫ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোন ঋণ সংকটের সময় গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটাপন্ন দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।
বর্তমানে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। বিপরীতে, জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
দুই দেশের সুদের হারের এই ব্যবধান বাড়ার অর্থ হলো, ফ্রান্সকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা জার্মানির তুলনায় বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে বাজারের উদ্বেগও প্রতিফলিত হচ্ছে।
ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের সুদের হারের তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। ইউরোর বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদের হারই কেবল ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।
কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ঋণী
বিশ্বের সরকারি ঋণের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এরপর চীনের ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপির অনুপাতে জাপানের ঋণ ১৯৯ শতাংশ।
ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ঋণগ্রস্ত দেশ ফ্রান্স। ইতালির ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও জিডিপির অনুপাতে তা ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
সুদ পরিশোধেই বছরে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এটি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের সমান। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান বাজারের দেশগুলো থেকে।
বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
ব্যয়ের এই পরিমাণ বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হয়। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে। ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে কর বাড়ানোর পথেও হাঁটতে হতে পারে।
এর প্রভাব শুধুমাত্র সরকারি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে আবাসনঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে।
ফলে একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরকারি সেবায় অর্থসংকট—দুই চাপই সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে এই অর্থনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বজায় রাখা।
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ