বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ পি.এম
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক তানিউল করিম জীম। গত ১ মার্চ ভারতের ট্রেনযাত্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর দীর্ঘ সাত মাস ধরে তাঁর সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে বর্তমানে কথা বলা, মুখ দিয়ে খাবার খাওয়া ও দাঁড়ানোর মতো সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় তাঁর সুস্থতার অগ্রগতিতে স্বস্তি ফিরেছে স্বজনদের মধ্যে। বর্তমানে নাটোরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাই তাঁর দেখাশোনা করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি চাচার চিকিৎসার জন্য তাঁর সঙ্গে মেডিকেল ভিসায় ভারতে যান জীম। চিকিৎসা শেষে ১ মার্চ ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফেরার পথে ট্রেনের ভেতর নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের টয়লেট থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে তাঁকে প্রথমে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর প্রথমে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় তাঁর সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি জানিয়ে জীম বলেন, ‘এখন আমি কথা বলতে পারি। কিন্তু কথায় জড়তা আছে। আমি এখন মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারি। নাক-মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারি। একজন ধরলে দাঁড়াতে পারি। সবই নাড়াতে পারি। কিন্তু শক্তি কম। ডান দিকের চেয়ে বাম দিকে শক্তি কিছুটা বেশি। ডান দিক কিছুটা দুর্বল।’
আগের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে গলায় ট্র্যাকিওস্টমি ছিল। ট্র্যাকিওস্টমি দিয়ে নিঃশ্বাস নিতাম। নাকে নল দিয়ে খাবার খেতাম। কিছুই নাড়াতে পারতাম না। দাঁড়াতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না। শক্তি ছিল না বললেই চলে।’
জীমের সুস্থতার জন্য শুরু থেকেই দোয়া ও সহযোগিতা করে আসছেন তাঁর বন্ধু, সহপাঠী, সাংবাদিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পরিস্থিতি শোনার পর সবাই দোয়া করেছেন। বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আবারও সবার মাঝে ফিরে যেতে পারি, এজন্য দোয়া চাই।’
তানিউল করিম জীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জীম বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর থিসিসের শিক্ষার্থী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় আলোচনা ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে ছিল। তবে একটি বিষয় ছিল অভিন্ন—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও মর্যাদাপূর্ণ একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য হোয়াইট হাউসকে আন্তরিকতা এবং স্থায়ীভাবে আগ্রাসন বন্ধ করার প্রকৃত সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।
ইরান সংঘাতের মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নিজেদের রক্ষার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে মৌলিকভাবে ভুল ধারণার ভিত্তিতে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। মনে হচ্ছে, এখনো তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে—বলা হচ্ছে, মাতৃভূমি রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত নয়। অথচ এর বিপরীত প্রমাণ রয়েছে। বরং ২০২৫ সাল থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আগ্রাসন থেকে আমাদের নির্ভীক সামরিক বাহিনী মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছে।
স্পষ্ট করে বললে, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যে আন্তরিকতার কথা বলে, তার ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। এর প্রমাণ সবার সামনে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমরা যখন সক্রিয়ভাবে আলোচনায় যুক্ত ছিলাম, তখন তারা আমাদের ওপর বোমা হামলা চালায়। এ বছরের জুনেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো আমাদের ওপর হামলা করা হয়। তাহলে আমরা আবার কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করব?
ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর কোনো আগ্রহ হোয়াইট হাউস দেখায়নি। উল্টো তারা আরো সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এখন অগ্রগতি হবে বলে আশা করার কারণ খুব কম। সাম্প্রতিক সময়ে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি দেখিয়ে দিয়েছে, এই সংঘাত কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর পরিণতি কত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকির প্রমাণ। এত কিছুর পরও একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা আমার দায়িত্ব—সাফল্যের আশা ক্ষীণ হলেও।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে উভয় পক্ষকে কী করতে হবে, তা এই পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছু করতে হবে না, যা করতে তারা আগে সম্মত হয়নি। কাঠামোগত চুক্তিতে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট, একইভাবে স্পষ্ট এর পরিণতিও: ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে।
এদিকে হোয়াইট হাউস সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রভাব স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। আমার কথার ওপর বিশ্বাস রাখার প্রয়োজন নেই। বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি পছন্দের যুদ্ধের আট মাস পেরিয়ে গেছে। এমনকি মুডিসও বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের কারণে চলতি বছর মার্কিন ভোক্তাদের আনুমানিক ২৬৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রায় ২ হাজার ডলারের সমান।
এই ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম। তবে এই হিসাবের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আরো বড় ক্ষতির পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হারানোর ব্যয় যোগ করলে, মার্কিন স্বার্থের জন্য এই যুদ্ধ কতটা বিপর্যয়কর, তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাস্তবতা হলো, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সামুদ্রিক যানবাহনের ওপর ইরানের প্রভাব বিস্তারের অতুলনীয় সুযোগ সব সময় থাকবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিকল্প নৌপথ নিয়ে যত প্রচারই থাকুক না কেন, এই জলপথের বিকল্প নেই—আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতি, উভয়ের জন্যই। সুখবর হলো, হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে ইরান তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে চায় এবং আইনসম্মতভাবে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার করে।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়িত হতে পারে কেবল তখনই, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আন্তরিকভাবে মেনে নেবে যে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের আর কোনো সমাধানের পথ নেই। প্রায় আট মাসের যুদ্ধের পর বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট হওয়ার কথা। কারণ, ইরানে হামলা চালানোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে যেসব লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল, তার কোনোটিই অর্জিত হয়নি।
আমরা আবারও একটি বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এ অবস্থায় আমাকে সতর্ক করতে হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি কিংবা এ অঞ্চলের অন্য কোথাও উত্তেজনা আরো বাড়লে বেসামরিক মানুষের জীবন, আঞ্চলিক সব দেশের কল্যাণ এবং বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের এ কথাই বলে, ভবিষ্যতেও এর ব্যতিক্রম হবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার কূটনীতির পরিবর্তে সামরিক পদক্ষেপ বেছে নেয়, তাহলে আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, এর ফল হবে আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতা। ইরান একটি প্রাচীন ও গর্বিত সভ্যতা; কোনো শক্তির কাছেই এই সভ্যতা মাথা নত করে না।
তবু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে ন্যায়সংগত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আন্তরিক ইচ্ছার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। এই যুদ্ধে জড়ানোর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। এখন সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে তার পরিণতি হবে অসীমভাবে আরো বেদনাদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : চাঁদপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, যা দ্বীনের দাওয়াত, ঈমানি চেতনার জাগরণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে শহরের পুরানবাজার দোকানঘর এলাকার মেঘনাপাড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ ধর্মীয় আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।
এ ইজতেমায় চাঁদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা অংশগ্রহণ করছেন।
তাবলীগ জামাতের আয়োজনে ২২, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ ইজতেমা চলবে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে পাঁচবার জেলা পর্যায়ে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুসল্লিদের অবস্থান ও ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্যান্ডেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসা শুরু করেছেন।
ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের আশা, তিন দিনের এ ধর্মীয় আয়োজনে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমায় কোরআন-হাদিসের আলোকে দ্বীনি আলোচনা, ঈমান ও আমলের ওপর বয়ান, জিকির-আযকারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
তাবলীগ জামাতের চাঁদপুর জেলার জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ বাসসকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জেলা ইজতেমা আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা, আত্মশুদ্ধি এবং দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এবং দেশটির মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে। প্রতিপক্ষকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে চাপের মধ্যে রাখার কৌশলটিকে ‘গ্রে জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে চীন প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ফলে সফরটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মে মাসে এসওয়াতিনির রাজার উড়োজাহাজে করে সফরটি সম্পন্ন হয়।
তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা এসব জাহাজের নজরদারি ও পরিদর্শনকে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
চীন দাবি করে, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তাইওয়ানের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করা নয়; বরং দেশটির মিত্রদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা যে, তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ালে তাদেরও কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
তবে এই চাপের মধ্যেও জাপান ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী দেশগুলোর উচিত চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে আরো স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’, যা দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব উপলক্ষে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, ম্যারাথন, ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব, ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা কুয়াকাটা সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমের আশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, টানা ছুটি এবং কার্নিভালের কারণে এবার পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৈকতজুড়ে নানা প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, এবারের আয়োজনে নতুন আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে যা গতানুগতিকতার বাইরে। বিনোদন, খেলাধুলা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্নিভালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করবে, যেখানে নান্দনিক স্টল এবং ফটো বুথ থাকবে। বিউটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে রিমার্ক-হারল্যান, যা তাদের বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে উৎসবের বিনোদন এবং লাইফস্টাইলভিত্তিক আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও এবারের কার্নিভালের অন্যতম লক্ষ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এই সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি এবং বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীরা স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
কার্নিভালে বিচ ফুটবল ও বিচ ক্রিকেটের মতো ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব এবং পিঠা উৎসবও থাকবে। ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে এবং দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ