ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৫১ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেফতার


৫১ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেফতার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান জালিয়াতি করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল বর্তমান ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। অপর দুইজন হলেন বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল ফুলগাজীর ফতেহপুর গ্রামে, নূর ইসলাম উত্তর বরইয়া গ্রামে ও মো. ফিরোজ পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে বাড়ি করেন।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম। তিনি বিদায়ের আগে উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি অংশ) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল ও অসঙ্গতি দেখতে পান।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ লোপাট করে আসছিল বলে জানা গেছে। সাধারণত ইউএনওর কাছ থেকে চেকে বৈধ স্বাক্ষর নেওয়ার পরে মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিত তারা। চেকে টাকার বানানের অংশেও নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করানো হতো। তবে চেকবইয়ের ভেতরের মুড়ি অংশে আসল হিসাবটি লেখা থাকত যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও সন্দেহ না হয়। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এভাবে টাকা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মার্চ মাসেই মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে গেলে এই জালিয়াতি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আজ তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম ও বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'চেক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে, ও অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জালিয়াতি সংক্রান্ত ব্যাংকের নথিপত্র ও চেকগুলো আমরা নিবিড়ভাবে যাচাই করছি।'

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির জানাজার মধ্যেই হরমুজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


খামেনির জানাজার মধ্যেই হরমুজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে, যখন দেশটির লাখ লাখ মানুষ গভীর শোকের মধ্যে ডুবে ছিল, ঠিক তখনই ইরান পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হামলাটি করে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, আকস্মিকভাবে সংঘটিত এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানায়, ওমানের লিমা থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী যাত্রার সময় একটি ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটিতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লেগে যায়। তবে এতে কোনও হতাহত বা পরিবেশগত বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের জাহাজগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, ‘নির্দেশনা অমান্য করলে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে প্রস্তুত।’

আক্রমণের শিকার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো কাতার গ্যাসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’। অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে সরাসরি আঘাত হানে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, হামলার ফলে ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায় এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থানকালে জাহাজটি এই হামলার শিকার হয়। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয় করার কাজ চলছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে জাহাজের ডান পাশে একত্রিত হতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকের আবহের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরান বিশ্বকে তার রণপ্রস্তুতির বার্তা প্রদান করল। তেহরান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে, অভ্যন্তরীণ শোক অথবা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হারানোর পরও তাদের সামরিক কমান্ড এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেইন অব কন্ট্রোল একটিও বিন্দু দুর্বল হয়নি। হরমুজ প্রণালির মত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জন্য একটি সরাসরি মনস্তাত্ত্বিক হুঁশিয়ারি প্রদান করে। ইরান দৃঢ়ভাবে তার চিরশত্রুদের জন্য বার্তা দিতে চাইল, যে চরম সংকটের মুহূর্তেও তারা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় যেকোনো সময় বড় আঘাত হানতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের সম্মানীসহ ৯ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের সম্মানীসহ ৯ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে মন্ত্রণালয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও সম্মানীসহ ৯টি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সোমবার (৬ জুলাই) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ যে ৯টি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে, সেগুলো হলো, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী ভাতা, ইউপি সচিব/প্রশাসনিক কর্মকর্তার বেতন-ভাতা, হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশের পোশাক ও রেশন ভাতা, উৎসব ভাতা, আন্তরিকীকরণ ভাতা এবং বিদ্যালয় বিল।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী ভাতা, ইউপি সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের বেতন-ভাতা এবং গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা, আন্তরিকীকরণ ভাতা, পোশাক ও রেশনসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য একই ধরনের বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ যে ৯টি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে, সেগুলো হলো- চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী ভাতা, ইউপি সচিব বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার বেতন-ভাতা, হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, গ্রাম পুলিশের পোশাক ও রেশন ভাতা, উৎসব ভাতা, আন্তরিকীকরণ ভাতা এবং বিদ্যালয় বিল।

চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বরাদ্দের প্রস্তাব আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে [email protected] ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ছকে উপজেলা-ভিত্তিক ইউনিয়নের সংখ্যা এবং প্রতিটি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের বিস্তারিত হিসাব সংযুক্ত করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিটির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বার্তা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে ইউরোপের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমনের আশায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনে, প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরবে।

তুরস্কের বিশাল প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ঠিক এক বছর আগে ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো জিডিপির ৫ শতাংশ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

আঙ্কারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক বাজেট বাড়িয়ে এবং রাশিয়ার হুমকির মুখে নিজেদের মহাদেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নিয়ে আসার মাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।

সম্মেলনের আগের দিন তিনি আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাত্র এক বছরের মধ্যেই আমরা রূপান্তরমূলক অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।’

ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে ন্যাটো বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন পরিসংখ্যান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউরোপীয় একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ‘এখনই নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর সময়।’

মূল সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক এক ফোরামে নেতারা কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পকে দেখাতে চান, তারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন না, তা বাস্তবায়নও করছেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার কানাডা ঘোষণা দিয়েছে, তারা নতুন সাবমেরিন বহর নির্মাণের জন্য জার্মানির থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসকে বেছে নিয়েছে। বহু বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচিকে অটোয়া ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর আক্রমণের জন্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সম্মেলনের আগে থেকেই মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো খুব ধীরগতির।

গত সপ্তাহে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘পারস্পরিক সহযোগিতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এভাবে একতরফাভাবে এগিয়ে চলা হাস্যকর। আমাদের প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে ছিল না!’

'মানসিকতায় প্রকৃত পরিবর্তন'-

ইউরোপীয় নেতারা অন্তত এমন কোনো বিরোধ এড়াতে চান, যা অনিশ্চিত প্রকৃতির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে। কারণ, ট্রাম্প আগেও একাধিকবার মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এতে ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কূটনীতিকরা আশা করছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্ক এবং ন্যাটো মহাসচিব রুটের অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা ট্রাম্পকে শান্ত রাখতে সহায়ক হবে।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ একাধিক নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিরোধের কারণে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখাতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য একটি নৌ-অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি তাদের যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে।

তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নৌবাহিনী পাঠানোর আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভঙ্গুর চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চায়।

ইউরোপীয় নেতারা আশা করছেন, ট্রাম্প সমঝোতার সুরে কথা বলবেন। তবে তারা ধীরে ধীরে এ বাস্তবতাও মেনে নিচ্ছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই তাদের এই জোট থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনছে।

ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানায়, ইউরোপীয় মিত্রদেরই মহাদেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষার নেতৃত্ব নিতে হবে। সম্প্রতি তারা ন্যাটো কমান্ডারদের জন্য বরাদ্দ সামরিক সক্ষমতাও কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো প্রমাণ করতে চায়, তারা আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক শক্তিকে যতটা সম্ভব ন্যাটোর সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখারও চেষ্টা চালাবে।

'জোরালো সিদ্ধান্ত'-

নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও প্রায় পুরো দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। কারণ, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার নেতাদের নৈশভোজে অংশ নেওয়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পাবেন।

আঙ্কারা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে জেলেনস্কির। রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় প্রায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ন্যাটোকে ‘জোরালো সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলেছেন। এরপর জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, যুদ্ধে কিয়েভ পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোকে আবারও অর্থবহ শান্তি আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প যেন চাপ প্রয়োগ করেন, সে আহ্বানও জানাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে এলপি গ্যাসের দাম কমার কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


দেশে এলপি গ্যাসের দাম কমার কারণ

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রধান মূল্যসূচক সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জুলাই মাসের জন্য দেশের বেসরকারি খাতের এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিইআরসির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমায় সেই প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বিইআরসির প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) প্রতি মেট্রিক টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাত বিবেচনায় গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৫৯১ মার্কিন ডলার। আগের মাসে এই গড় মূল্য ছিল ৬৮০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে গড় দাম ৮৯ মার্কিন ডলার কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যহ্রাসের প্রভাবেই দেশে এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ব্যবস্থায় তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার ৭২ পয়সা ৪৮ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ৭২৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। ফলে জুলাইতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমেছে। এর আগে গত মাসেও ৫৫ টাকা কমানো হয়েছিল। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারেও। দেশের ইতিহাসে গত এপ্রিলে এলপিজির সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে একই মাসের ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পৌঁছে যায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। এরপরের মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় জুন মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সবশেষ জুলাই মাসে আরও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে গত দুই মাসে দুই দফায় মোট ৪১২ টাকা কমেছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম।

অন্যদিকে, অটোগ্যাসের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের মাসের তুলনায় কম। নতুন এ দাম ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%