০২:০৮ পি.এম
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান জালিয়াতি করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল বর্তমান ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। অপর দুইজন হলেন বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল ফুলগাজীর ফতেহপুর গ্রামে, নূর ইসলাম উত্তর বরইয়া গ্রামে ও মো. ফিরোজ পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে বাড়ি করেন।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম। তিনি বিদায়ের আগে উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি অংশ) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল ও অসঙ্গতি দেখতে পান।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল
গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ লোপাট করে আসছিল বলে জানা গেছে। সাধারণত ইউএনওর কাছ থেকে চেকে বৈধ স্বাক্ষর নেওয়ার পরে মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিত তারা। চেকে টাকার বানানের অংশেও নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করানো হতো। তবে চেকবইয়ের ভেতরের মুড়ি অংশে আসল হিসাবটি লেখা থাকত যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও সন্দেহ না হয়। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এভাবে টাকা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মার্চ মাসেই মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে গেলে এই জালিয়াতি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আজ তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম ও বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'চেক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে, ও অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জালিয়াতি সংক্রান্ত ব্যাংকের নথিপত্র ও চেকগুলো আমরা নিবিড়ভাবে যাচাই করছি।'
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন