ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাশিয়াকে সমর্থন করে যেভাবে লাভবান হয়েছে উত্তর কোরিয়া


রাশিয়াকে সমর্থন করে যেভাবে লাভবান হয়েছে উত্তর কোরিয়া

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধকালীন সহযোগিতা থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

দেশটির অর্থনীতিতে কিছুটা সমৃদ্ধির চিত্র দেখা গেলেও, এর সুফল পাচ্ছে অল্পসংখ্যক মানুষ। বরং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বছরের পর বছর রাতে উত্তর কোরিয়ার স্যাটেলাইট চিত্রে মাত্র কয়েকটি ছোট আলোর ছোপ দেখা যেত। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশটির শহরগুলোও অনেকটা অন্ধকারে পরে থাকত। তবে ২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত ছয় বছরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলের আলোকিত এলাকার আয়তন তিনগুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান পরমাণু চুক্তি বজায় রেখেছে: উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি

এনকে নিউজের মতে, শহরাঞ্চলের এই বাড়তি আলোকসজ্জা দেখাচ্ছে যে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের নতুন রাস্তা ও ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

২০২১ সালের সর্বশেষ পার্টি কংগ্রেসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাজধানীতে ৫০ হাজার নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নও শুরু হয়। এর উদাহরণ হিসেবে হোয়াসংয়ের নতুন এলাকায় হোয়াসং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আকৃতিতে দুটি ৪০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।

নতুন উঁচু ভবন নির্মাণই উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তনের একমাত্র চিত্র নয়। দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ং যাতায়াত করা ব্যক্তিরাও বলছেন, শহরটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক মনে হয়।

শহরে চীন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। অর্থ পরিশোধ বা ট্যাক্সি ডাকতে কিউআর কোড ব্যবহার করা স্মার্টফোন অ্যাপও রয়েছে। পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে পশ্চিমা ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও প্রসাধনী সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি

শাসকগোষ্ঠী পিয়ংইয়ংয়ে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এবং নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের সমান আকারের একটি গ্রিনহাউস নির্মাণ শেষ করেছে। ২০২৫ সালের জুনে কিম পূর্ব উপকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট উদ্বোধন করেন। সেখানে ২০ হাজার অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

জুনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উত্তর কোরিয়াকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থেই এই উন্নয়নের বড় অংশের অর্থায়ন হচ্ছে। মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের (আইএনএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর কাছে অস্ত্র বিক্রি ও সৈন্য মোতায়েন করে উত্তর কোরিয়া ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের সাম্প্রতিক এক হিসাব বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিয়ে উত্তর কোরিয়া ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এর বাইরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক পাঠানো, রফতানি ব্যবসা এবং অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও দেশটি আরও ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবরোধ, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমষ্টিগত শাস্তির আতঙ্ক

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট প্ল্যাটফর্ম হ্যাকের ঘটনা ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি ডাকাতি। সন্দেহভাজন উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইথেরিয়াম হাতিয়ে নেয়। তুলনা করলে, আগের বছর উত্তর কোরিয়ার মোট জিডিপি ছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহারের ধারণাটি রাশিয়া নাকি উত্তর কোরিয়া প্রথম দিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিয়েভের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাশিয়ার রণাঙ্গনে ব্যবহৃত গোলাবারুদের অর্ধেকের পাশাপাশি স্বচালিত কামান, মাল্টিপল রকেট লঞ্চার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া।

ইউক্রেনের দাবি, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে রাশিয়ার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এতে থাকবে ৯০ জন সৈন্য, ছয়টি লঞ্চ প্যাড এবং সর্বোচ্চ ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র।

এরই মধ্যে ১৬ হাজার থেকে ২২ হাজার উত্তর কোরীয় সৈন্য রাশিয়াকে সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরিয়ে দিতে এবং পরে ওই এলাকা মাইনমুক্ত করতে সহায়তা করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, কিম এখন রাশিয়ায় আরও ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন।

আরও পড়ুন: শীতকালীন সময়ে ইউরোপ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে

এই সহযোগিতা বেশ লাভজনক। আইএনএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম প্রতি মাসে একজন উত্তর কোরীয় সৈন্যের জন্য ২ হাজার ৮০০ ডলার, একজন কর্মকর্তার জন্য ৩ হাজার ডলার এবং যুদ্ধে নিহত প্রত্যেক সৈন্যের জন্য ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পান।

সোভিয়েত আমলের মতোই এই পারস্পরিক ব্যবস্থা মূলত বিনিময় লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সৈন্যের বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য, শস্য এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন তৈরির প্রযুক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে।

রাশিয়ার সমর্থক হিসেবে কিমের নতুন ভূমিকা তাকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সামরিক শক্তি দিয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে দুটি ৫ হাজার টন ওজনের ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে এই স্বৈরাচারী নেতার হাতে এত প্রভাব বা অর্থ আগে কখনো ছিল না। এটি কিমের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি স্বীকার করেছিলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল ‘প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে’।

আরও পড়ুন: রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

পাঁচ বছর পর পরবর্তী দলীয় কংগ্রেসে ভবনের বাইরে সাত সারি কামান সাজিয়ে কিম বলেন, ‘সবকিছু মৌলিকভাবে বদলে গেছে।’

রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব উত্তর কোরিয়াকে বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতেও সহায়তা করেছে। ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে দেখা করেন। এর তিন মাস পর বেলারুশের স্বৈরশাসক আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সেখানে সফর করেন।

চলতি বছরের জুনে চীনের নেতা শি জিনপিংও পিয়ংইয়ং সফর করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বেইজিংয়ের আয়োজনে কিম, শি ও পুতিন একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এরই মধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান না থাকা অনেক পরিবার খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জাতীয় মুদ্রা ওনের অবমূল্যায়নে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে অনেক পরিবারে নারীদেরও বাইরে কাজ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জর্ডানে গির্জায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৭

২০২৪ সালের বসন্তে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বাইরের অঞ্চলগুলোর জন্য ‘২০x১০’ উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেন কিম। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পাওয়া অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়ে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় প্রতি বছর ২০টি শহর বা অঞ্চলে আধুনিক কারখানা নির্মাণের কথা রয়েছে। ১০ বছরে এর মাধ্যমে মোট ২০০টি আঞ্চলিক শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ল্যাঙ্কভের মতে, অধিকাংশ ২০x১০ প্রকল্পই ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, এর কারণ শুধু কারখানার অবকাঠামোর অভাব নয়; বিদ্যুৎ, সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবস্থাও এসব প্রকল্পে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

কারখানাগুলো পরিকল্পিত অর্থনীতির নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য উপযোগী নয়। ল্যাঙ্কভ বলেন, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়ায় যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তার বিপরীতে বর্তমান প্রবৃদ্ধি কোনো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল নয়। বরং এটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে পাওয়া সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে তারেক রহমানের ভারতযাত্রা অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ এম


হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে তারেক রহমানের ভারতযাত্রা অনিশ্চিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিভাবে নতুন করে নিরূপণ হবে, এই প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না।

একটি অনুষ্ঠানে বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকার শাহবাগে নিহত শরীফ ওসমান হাদীর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ অগাস্ট ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই ওই প্রেস কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার সেই (শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সের) দায় নিচ্ছে না। সেটিকে অস্বীকার করছে। চিন্তা করেন, সেভেন সিস্টার্সের কোন একটি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ঢাকায় একটি প্রেস কনফারেন্স করলো এবং বাংলাদেশ সরকার বললো, এটার দায় আমাদের না, আমরা জানি না এটা কীভাবে হয়েছে, আমরা এটাকে সমর্থন করি না- এটা কি কেউ বিশ্বাস করবে?

‘সুতরাং, দিল্লিতে যে প্রেস কনফারেন্স হয়েছে, সেটি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে হয়েছে। দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা যা কিছু বলছে, সেগুলোকে শেখ হাসিনার ভাষ্য হিসেবে না নিয়ে দিল্লির ভাষ্য হিসেবে নিতে হবে। ভারত এই বার্তা বাংলাদেশকে দিয়ে যাচ্ছে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘পাঁচই অগাস্টের প্রেস কনফারেন্স নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের বক্তব্য কী, সেই বার্তা এখনো আসেনি। তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল, ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের শুধু প্রেস বিজ্ঞপ্তি না, তাদেরকে ডেকে এনে কঠোরভাবে শাসানো উচিত ছিল, জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত ছিল।’

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ওই প্রেস কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারে একটা রায় হয়েছে, সেই আসামিকে যখন প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়েছে একটি সরকার; তার মানে এ দেশের গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভারত সরকার অবস্থান নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ ঘোষণা করার মতো।

ভারতকে উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদী আসামিকে ফেরত পাঠিয়ে, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়ে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মীমাংসা করে—বন্ধুত্বের কথা বলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে নিষিদ্ধ আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


রাজধানীতে নিষিদ্ধ আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে নিষিদ্ধ আ.লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রাজধানীর ভাটারা থানার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার সময় ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ব্লক-এম, রোড-২৮-এর একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।ভাটারা থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা এবং ঝটিকা মিছিল সফল করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হন। তখন তারা প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। ভাটারা থানা পুলিশের অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মোট ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফতাবনগরে ডাকাত দলের সদস্য গুলিবিদ্ধ, দাবি ডিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩০ এম


আফতাবনগরে ডাকাত দলের সদস্য গুলিবিদ্ধ, দাবি ডিবির

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলিতে মো. এস এম আরিফুল ইসলাম পাভেল (৩০) নামের একজন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাভেল ডাকাতদলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত।

তাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার সময় আফতাবনগরের এম-ব্লকের ৫ নম্বর সেক্টরের ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী গুলশান ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার জানান, ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন খবর আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান পরিচালনা করি। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্য পাভেল নিজের পিস্তল বের করে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করে।

আমাদের আত্মরক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য আমরা পাল্টা একটি শর্টগানের গুলি ছুড়লে পাভেলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে আমরা তাকে আটক করি এবং তার কাছ থেকে একটি পিস্তল এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করি।

তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল্লামা সাঈদী নেই, রয়ে গেছে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কর্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ এম


আল্লামা সাঈদী নেই, রয়ে গেছে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কর্ম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা সাঈদী আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কাজ রয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষের ভালোবাসাও রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যান, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন অনাদিকাল ধরে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ তিনি তেমন একজন মানুষ।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তাঁর চেয়ে উত্তম কথা আর কার, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা ফুসসিলাত: ৩৩)

‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি এই জনপদের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, শহরের মঞ্চ থেকে গ্রামের ধুলোমাখা ময়দানে, একটিমাত্র আহ্বান বুকে নিয়ে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান নিয়ে, কুরআনের দিকে ডেকে ফিরেছেন। সেটি দেশের গন্ডি অতিক্রম করে বিশ্বেও তাঁর বিচরণ ছিল সমান তালে। শীতের রাতে খোলা মাঠে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকা লাখো মানুষ তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তাফসির শুনেছেন। বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনকে শুদ্ধ করার মোড় ঘুরে গেছে সেই আলোচনার মধ্য দিয়ে।’

‘রাসুলুল্লাহ  বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি)

‘আল্লামা সাঈদীর জীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে এই কাজে, কুরআন শেখা, কুরআন শেখানো এবং কুরআনের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কুরআনের শিক্ষা ও প্রসারের জন্য তিনি নানা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওয়াজের ময়দান হয়ে উঠেছিল অসংখ্য মানুষের ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালা।

মানুষের ভালোবাসা তাঁকে তাফসীরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কথা বলেছেন ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে, আলিয়া ও ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে, সাধারণ মানুষের নানা দাবির কথা বলেছেন। সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার যে শিরকি রীতি ছিল, তা আল্লামা সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়েছিল। যদিও তাঁর রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু তাঁর বিপুল অনুসারী এবং জনসমর্থন এ দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

‘যুগে-যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ওপর যেমন জুলুমের খড়গ নেমে আসে, তেমনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপরও নেমে এসেছিল নির্মম জুলুম-নির্যাতন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে যাকে হাজির করা হয়েছিল, সেই সুখরঞ্জন বালি বরং আল্লামার পক্ষেই সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। আর সেই সাক্ষ্যের কারণেই ফ্যাসিস্টরা তাঁকে গুম করে ফেলেছিল।’

‘আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের দিন দেশজুড়ে নেমে এসেছিল মানুষের ঢল। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা আর তাঁর ওপর জুলুমের প্রতিবাদে অগণিত মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেই প্রতিবাদে শহীদ হন দেড় শতাধিক মানুষ। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আল্লামা সাঈদীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মুছে ফেলা যায়নি। একদিন বাংলাদেশে আল্লামা সাঈদীর রায়-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’

‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষের শরীরকে আটকে রাখতে পারে কিন্তু মানুষের ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারে কোন কারাগার?’

‘বছরের পর বছর তিনি কারাবন্দি থেকেছেন। কিন্তু এ দেশের অসংখ্য ঘরে সন্ধ্যাবেলা বেজেছে তাঁর কণ্ঠের ধারণ করে তৈরি তাফসিরের রেকর্ডিং; মানুষ শুনেছে, কেঁদেছে, তাঁর জন্য হাত তুলে দোয়া করেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তাঁর পরিচয় থেকে গেছে কুরআনের একজন আলোচক ও দাঈ হিসেবে।’

‘আজ আল্লামা সাঈদী আমাদের মাঝে নেই। সময়ের পালাবদলে তাঁকে বন্দি রাখা সেই ফ্যাসিস্ট শাসনেরও অবসান ঘটেছে। রয়ে গেছে শুধু তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, তাঁর তাফসির, তাঁর কাজ, আর অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

মানুষ চলে যায়, দাওয়াত থেকে যায়। কণ্ঠ থেমে যায়, রেখে যাওয়া আহ্বান থামে না।’

‘কারাগারের দরজা একজন মানুষকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তাঁর জায়গাকে বন্দি করতে পারে না।

কবি আল মাহমুদ লিখেছেন—

‘পৌঁছুতে চাই প্রভু তোমার সান্নিধ্যে

তোমার সিংহাসনের নীচে একটি ফুরফুরে প্রজাপতি হয়ে,

যার পাখায় আঁকা অনাদিকালের অনন্ত রহস্য।’

‘যে কণ্ঠ অর্ধশতাব্দী ধরে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছে, সে আজ নীরব হয়ে গেছে। কিন্তু কে জানে, হয়তো এই নীরবতাই প্রিয় প্রভুর কাছে পৌঁছে যাওয়া। হয়তো যে মানুষটি সারাজীবন মানুষকে ডেকেছেন প্রভুর দিকে, তিনি আজ সেই সিংহাসনের নিচে একটি ফুরফুরে প্রজাপতির মতো, যার পাখায় আঁকা আছে সেই অনন্ত রহস্য, যার কথা তিনি সারাজীবন বলে গেছেন কিন্তু কোনোদিন পুরোটা বলে শেষ করতে পারেননি।’

‘আল্লাহ তাআলা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ এর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচু মাকাম দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%