০৩:৩৭ পি.এম
সোনালি ধানের ক্ষেতের মাঝে এক ভিন্নধর্মী গল্প ফুটে উঠেছে। দূর থেকে দেখা যায় কালচে রঙের ধানের গাছ। কাছে গেলে সৃষ্টি হয় কৌতূহল—এটি কেমন ধান! কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমল্লিক বেগ বোতলার পাড় গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন মনি এক বিঘা জমিতে এমন একটি ব্যতিক্রমী কালো ধান চাষ করেছেন। প্রায় দুই মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই আবাদ এখন শুধুমাত্র তার স্বপ্ন নয়, আশপাশের কৃষকদেরও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন ধান দেখতে জমিতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
প্রচলিত ধানের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ থেকেই কালো ধান চাষে নামেন আজমল। অনলাইনে কালো ধানের ছবি ও চাষের তথ্য দেখে তিনি আগ্রহী হন। এরপর সেখান থেকেই বীজ সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। তবে শুরুটা ছিল সহজ নয়। এলাকার অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চাষ শুরু করেন তিনি। এখন ফলন ও বাজার দরের দিকে তাকিয়ে তার চোখে নতুন স্বপ্নের আলো দেখা যাচ্ছে।
কৃষক আজমল হোসেন মনি বলেন, ‘অনলাইনে কালো ধান দেখে চাষের আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে বলেছিল, এ ধান চাষ করে লাভ হবে না। কিন্তু নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ঝুঁকি নিয়েছি। ফলন ও দাম ভালো পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’
আরও পড়ুন: শ্রেষ্ঠ যুব উদ্যোক্তা আলেম আমিনুল, শিক্ষকতার সঙ্গে হাঁসের খামার চালাচ্ছেন
স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন ধান আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ দেখতে আসছে। ফলন ও দাম ভালো হলে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।’
ফকর উদ্দিন নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘আজমলের এই উদ্যোগ দেখে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফল হলে কালো ধান এ এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।’
কৃষক হারুন মিয়া জানান, ‘ফলন, খরচ আর বাজারদর-সবকিছু ভালো হলে কালো ধান কৃষকদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।’
রাজারহাট উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, একসময় কালো ধান রাজকীয় খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিশ্বে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে পরিচিত। রাজারহাটে কয়েকজন কৃষক স্বল্প পরিসরে এর চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাউজানের কৃষকরা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালো ধানের ফলন বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ হতে পারে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও মণপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে সোনালি ধানের চেনা মাঠে কালো ধানই কৃষকের নতুন স্বপ্নের ফসল হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন