ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিরসরাইয়ে মাচায় তরমুজ চাষে ৭০ হাজার খরচে লাভ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা


মিরসরাইয়ে মাচায় তরমুজ চাষে ৭০ হাজার খরচে লাভ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকরা সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কৃষকরা প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসময়ের তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার খৈয়াছরা গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন মিয়া খান এক বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মালচিং পদ্ধতিতে চার জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত ক্ষেতের সব তরমুজ। বাজারদর ভালো থাকলে তিনি আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন।

কৃষক মুসলিম উদ্দিন জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি প্রথমবারের মতো অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও নিজের অর্থায়নে ১৮ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আরও পড়ুন: সোনালি ধানের দিন শেষ, কৃষককে বাঁচিয়ে দিতে পারে কালো ধান

শুধু মুসলিম উদ্দিন নয়, খৈয়াছরা ইউনিয়নের সাতজন কৃষক এবার প্রায় ২০০ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এসব তরমুজের চাহিদা ভালো। বর্তমানে জাতভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকায়। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।

খৈয়াছরা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুরুতে কৃষকদের অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহ কম ছিল। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে এখন অন্যান্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবার চারটি অসময়ের তরমুজ প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ শতক জমিতে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র ৬০-৭০ দিনে ফসল ঘরে তুলে একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠছে অসময়ের তরমুজ আবাদ।

আরও পড়ুন: প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিক, ধানেও বাড়তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাথরুমে পড়ে গিয়ে জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় গ্তার আকস্মিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


বাথরুমে পড়ে গিয়ে জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় গ্তার আকস্মিক মৃত্যু

বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিত প্রখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এই নির্মাতা। বিষয়টি প্রথমে কেউ টের না পেলেও পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে ভারসোভা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অপমৃত্যুর মামলা (অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট) দায়ের করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক সূত্র ছাড়াও তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও নির্মাতা মিলাপ জাভেরি মৃত্যুর এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নির্মাতা অশোক পণ্ডিত সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয় গুপ্ত অনু লেখির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মধ্যে একবার বিচ্ছেদ ঘটলেও পরবর্তীতে তারা আবার পুনর্মিলিত হন। উল্লেখ্য, সঞ্জয় গুপ্ত তার ২৫ বছরের কর্মজীবনকে ‘সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেল’ বলে বর্ণনা করেছেন। পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়াতে পেরে তিনি খুশি।

১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। এরপর ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘কাঁটে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, লাকি আলী এবং মহেশ মাঞ্জরেকারের মতো তারকাখচিত এই সিনেমাটি তাকে গ্যাংস্টার-থ্রিলার ধারার নির্মাতা হিসেবে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

‘কাঁটে’ সিনেমার পর বেশ কিছু সময় দারুণ কাটলেও পরবর্তীতে সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে মনমালিন্যের কারণে প্রায় চার বছর কাজহীন সময় পার করতে হয় তাকে। সঞ্জয় গুপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

সেসময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। মানসিক অবসাদ দূর করতে তিনি খান্দালার একটি হোটেলে সপ্তাহে চার দিন চাকরিও শুরু করেছিলেন, কারণ তার মনে হয়েছিল সিনেমা জগতে তার আর কাজের সুযোগ নেই।

তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার ঘরে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যখন তাকে কোলে নিয়ে ভাবছিলাম—আমি ওর জন্য কী রেখে যাব? আমি তো ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছি এবং ২২ বছর বয়সে প্রথম ছবি বানিয়েছি, তাহলে এখন ৪০ বছর বয়সে এসে আমি কেন হাল ছেড়ে দেব?’

এরপর তিনি প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ দিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন সঞ্জয় গুপ্ত।

এরপর ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ এবং ২০১৭ সালে হৃতিক রোশনকে নিয়ে ‘কাবিল’ সিনেমা উপহার দেন। পরবর্তীতে ‘মুম্বাই সাগা’, ‘বিসফট’ এবং ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’-এর মতো প্রোজেক্টেও কাজ করেছেন তিনি। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি যুবকের আত্মসমর্পণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি যুবকের আত্মসমর্পণ

কুয়েতে এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি এক প্রবাসী আত্মসমর্পণ করেছেন পুলিশের কাছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে তিনি দেশটির শার্ক থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ তাকে আটক করেছে এই ঘটনার জন্য।

কুয়েতের সংবাদমাধ্যম ‘আরব টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া ওই বাংলাদেশি ভোরে শার্ক থানায় উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তার কাছে হত্যার কথা জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময় তাকে ভীত ও উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজন দাবি করেন যে, নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তার শরীরে পানি ছিটিয়েছিলেন। এই ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে আক্রমণ করেন এবং তার গলা কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে কুয়েতের মুতলা শহরের একটি স্থাপনার ভেতর থেকে ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া এক ইয়েমেনি নাগরিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশি সন্দেহভাজনের স্বীকারোক্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন। পরে সেখানে পাবলিক প্রসিকিউশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও ফরেনসিক দলের সদস্যরা পৌঁছে আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আগে থেকেই নিজ আবাসস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে নথিভুক্ত ছিলেন। তাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ ও কথিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পটিফাইয়ের সেরা ৫০ গানে পাকিস্তানের ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


স্পটিফাইয়ের সেরা ৫০ গানে পাকিস্তানের ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে

গান ‘আলফাজ’ পাকিস্তানি সংগীতাঙ্গনের জন্য নতুন এক সাফল্য নিয়ে এসেছে। হামজা মালিক ও জাইন-জোহাইবের গাওয়া গানটি স্পটিফাইয়ের বিশ্বব্যাপী সেরা ৫০ গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি ভারত ও পাকিস্তানের দৈনিক সর্বাধিক শোনা গানের তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করেছে।

গত বুধবার প্রকাশিত স্পটিফাইয়ের বৈশ্বিক সেরা ৫০ গানের তালিকায় ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে ছিল। একই তালিকায় অলিভিয়া রদ্রিগো ৬ নম্বরে, জাস্টিন বিবার ও নিকি মিনাজ ১৫ নম্বরে, হ্যারি স্টাইলস ২৮ নম্বরে এবং মাইকেল জ্যাকসন ৩৪ নম্বরে অবস্থান করছেন। বিশ্বখ্যাত এসব শিল্পীর সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া গানটির জন্য এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষার মিশ্রণে তৈরি গানটি ইতোমধ্যে দুই দেশের শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্পটিফাইয়ের ভারত ও পাকিস্তানের সেরা ৫০ গানের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ‘অফিশিয়াল এশিয়ান মিউজিক চার্ট’-এও এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। সেখানে গানটি এমএক্সআরসিআই ও করণ আউজলার ‘স্ট্রেইট আপ’ গানটিকে পেছনে ফেলেছে।

‘আলফাজ’ সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জিরাফের তৈরি। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার জে খান, যিনি এক্সুলফি নামে পরিচিত। গানটির সাফল্যকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি গান সঠিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছালে তা কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, ‘আলফাজ’ তারই উদাহরণ।

এর আগে গত বছর শেহরিয়ার রেহান ও জোয়া ওয়াসিমের ‘মজবুর’ গানটির মাধ্যমেও সাফল্য পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। গানটি পাকিস্তানের স্পটিফাই তালিকায় শীর্ষে এবং ভারতের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছিল। ‘আলফাজ’-এর সাফল্যে এবার আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পাকিস্তানি শিল্পীদের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার দশক পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’, কার্যক্রমে সহায়তা করবে সামাজিক নিরাপত্তায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


চার দশক পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’, কার্যক্রমে সহায়তা করবে সামাজিক নিরাপত্তায়

চার দশকের বেশি সময় পর গ্রাম সরকার ব্যবস্থা সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য কার্যকর হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে। নাগরিকরা আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া আইনটির বিষয়ে মতামত পাঠাতে পারবেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ই-মেইল ঠিকানায় মতামত পাঠাতে হবে। নাগরিকদের মতামত গ্রহণের পর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

গ্রাম সরকার ব্যবস্থা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, কুটিরশিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

নতুন গ্রাম সরকার ব্যবস্থা স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় সহায়তা করবে। গ্রাম সরকার স্থানীয় পর্যায়ে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা ফেরাতে কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার আইন পরিমার্জন করে ২০০৯ সালে রহিত হওয়া আইনটির নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইনটি পাশ হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরবে।

নতুন খসড়ায় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু নতুন দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণ এবং তথ্য সংগ্রহে সহায়তা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্যক্রমে সহযোগিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহায়তা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের কর্মী সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার মন্তব্য করেন, "নিঃসন্দেহে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ভালো উদ্যোগ। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনগণের অংশগ্রহণের একটি পথ তৈরী হবে এই ব্যবস্থায়। এ জন্য সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে। যদি গ্রাম সরকার ব্যবস্থা আইন মেনে চলে, তবে জনগণের দীর্ঘ দিনের রাজনীতি বিমুখতা দূর হবে।"

গ্রাম সরকার চালুর বিষয়ে নতুন আইনের খসড়া নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়া করা হয়েছে, তবে এটি চূড়ান্ত নয়। আইনে পরিণত হতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সংসদে পাশ হলে সরকার এটি প্রয়োগে যাবে। তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হবে তা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’ প্রস্তাবিত আইনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে থাকবে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা এবং ১৫ জন সদস্য— সব মিলিয়ে মোট ১৭ জন।

গ্রাম সরকারের সদস্য নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের অংশগ্রহণে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। সারাদেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়নের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ লাখ স্থানীয় লোকের নেতৃত্বে গ্রাম সরকার গঠিত হবে।

খসড়া অনুযায়ী গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হবেন। সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

গ্রাম সরকার প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সভা করবে এবং প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ডের ভোটারদের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি থাকতে হবে। প্রতিটি দায়িত্বের জন্য কমিটি এবং প্রয়োজন হলে সাব-কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।

গ্রাম সরকারের জন্য আলাদা তহবিল থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ এবং অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম সরকারের কাজ পরিদর্শন করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক তদন্তের পর প্রয়োজন মনে করলে গ্রাম সরকার বাতিলও করতে পারবেন। তবে তার আগে গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

গ্রাম সরকারের ইতিহাস

দেশে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে হয়েছিল। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তার সময়ে এ সরকার চালু হয়েছিল।

১৯৮০ সালের আইনের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম অংশ হিসেবে গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চালু করা হয়েছিল।

তবে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে এটি বিলুপ্ত করা হয়। পরে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালে ‘স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ) আইন’ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ করা হয়। আইনটি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে প্রণীত হয়।

এরপর ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে গ্রাম সরকার বাতিল করা হয়। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%