ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে?


শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে?

ভারতে বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা এবং বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনাকে তুলনা করতে হলে দুই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট, তথ্যপ্রমাণ ও পরিণতি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা আবশ্যক। আটক ও প্রাণহানি—এই দুটি বিষয় ভিন্ন। এর কোনোটির সংখ্যা এককভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আটকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা ১১ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান। তাঁদের মুক্তির শর্ত ছিল এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

১০ অক্টোবর গুরগাঁওয়ে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির বিক্ষোভের আটকের ঘটনার সঙ্গে তাঁর আটকের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গলাচিপায় ফোনে মিলছে ইলিশ, প্রশাসনের অভিযান চলছে

এসব ঘটনা বিক্ষোভ এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত, সে প্রশ্ন সামনে এনেছে। শুধুমাত্র আটকের সংখ্যা দিয়ে কি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাত্রা কিংবা একটি আন্দোলনের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বোঝা সম্ভব?

আটক ও প্রাণহানির হিসাব :

ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের তুলনা করতে হলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের সময় সহিংস দমন-পীড়নে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ হারান।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে ওই সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের অনেকে গুরুতর আহত।

আরও পড়ুন: বরিশালে বিএমপির থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ জন

এসব পরিসংখ্যান প্রাণহানির ব্যাপকতা তুলে ধরে। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে স্বজন হারানো একটি পরিবার। এসব ঘটনা জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও সামনে আনে।

ভারতে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটকের ঘটনাকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা, নির্বিচার আটক এবং পুলিশের ক্ষমতার প্রয়োগ—সবকিছুই যাচাই করা প্রয়োজন। আটক ব্যক্তিদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁদের আটক আইনসম্মত বা যৌক্তিক ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তা নির্ধারণে আটকের আইনি ভিত্তি, অনুসৃত প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

তবে শুধুমাত্র আটকের সংখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। মূল্যায়নে বলপ্রয়োগের ধরন, আহত ও নিহত মানুষের সংখ্যা, আটকের মেয়াদ ও পরিস্থিতি, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

দুই আন্দোলন, মূল্যায়নের ভিন্ন মাপকাঠি :

আরও পড়ুন: পোরশায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি

কোনো আন্দোলন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, কতজন আহত বা নিহত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের ও কতটা আনুপাতিক বলপ্রয়োগ করেছে।

আটক ও প্রাণহানি এক ধরনের ঘটনা নয়। আটকের সংখ্যা রাষ্ট্রের পদক্ষেপের একটি দিক তুলে ধরে। কিন্তু প্রাণহানি, গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির তথ্য ছাড়া পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে বিক্ষোভটি হয়েছে ১০ অক্টোবর, আর বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে এবং এর মধ্য দিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। ভারতে এক দিনের আটকের হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহের প্রাণহানির হিসাব তুলনা করা মানে ভিন্ন সময়ের ভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যানকে পাশাপাশি রাখা। স্পষ্ট পদ্ধতি ছাড়া এমন তুলনা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ভূমিকা এবং পরিণতিও এক ছিল না। ন্যায্য তুলনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে একই ধরনের সূচক প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এসব সূচকের মধ্যে থাকতে পারে আটকের সংখ্যা ও মেয়াদ, আইনি কার্যক্রম, আহত ও নিহত মানুষের সংখ্যা এবং বলপ্রয়োগের ধরন।

আরও পড়ুন: নাটোরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

অভিযোগ ও প্রমাণিত ঘটনার মধ্যেও পার্থক্য করা জরুরি। নির্বিচার আটক, নির্যাতন বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। একইভাবে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনাগুলোর হিসাবও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তুলনার ভিত্তি কী?

বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের তুলনা থেকে সরকারের ভূমিকা ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন তুলনা অর্থবহ করতে হলে তথ্যপ্রমাণ, প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়নের মাপকাঠি স্পষ্ট থাকতে হবে।

ভারতের বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনায় আটকের সংখ্যা তুলে ধরে বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানির বিষয়টি উপেক্ষা করলে মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। একই সঙ্গে ভারতে আটক বিক্ষোভকারীদের অভিজ্ঞতাকেও তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। দুই দেশের ক্ষেত্রেই নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

মূল প্রশ্ন কোন আন্দোলন বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, তা নয়। বরং দুই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কী করেছে, তার পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না এবং সেসব পদক্ষেপের পরিণতি কতটা গুরুতর ছিল—সেটিই বিবেচ্য।

ভারতে যেখানে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে, সেখানে বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্যের সঙ্গে তুলনা করতে হলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত? আটকের সংখ্যার পাশাপাশি প্রাণহানি, আহত মানুষের সংখ্যা, বলপ্রয়োগের ধরন এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণকে কীভাবে মূল্যায়ন করলে তুলনাটি ন্যায্য ও অর্থবহ হবে?

আন্দোলনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আন্দোলনের ইতিহাস শুধু কত মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন বা কতজন আটক হয়েছিলেন, তা দিয়ে বোঝা যায় না। এর সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয় রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া, নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং প্রাণহানির বিষয়টিও।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নথিভুক্ত প্রাণহানির তথ্য বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের যেকোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে তুলনা করলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। একইভাবে ভারতের বিক্ষোভের ঘটনাও অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

আন্দোলনের তুলনা করতে হলে শুধু আটকের সংখ্যা গুনলে চলে না। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ, প্রাণহানি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনি আচরণ এবং মৌলিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত ছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম হোসন। এসময় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রাজ্জাক মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হায়দার, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক লালন, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিমন, কোষাধ্যক্ষ রকিবুল হাসান বিদ্রোহী, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস শাহ, সাংবাদিক ইমরান আকন্দ, রিপন রাজ, হারুন উর রশিদ, বাধন মোল্লা, মোস্তফা গাজী, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, রাসেল রানা ও মো. শহিদুল্লাহসহ আরও অনেকেই।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, "প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হলো কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেননি।" বক্তারা সতর্ক করেন যে, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যদি কোনো গাফিলতি করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় যে, দ্রুত এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

পরে প্রতিবাদ সভা শেষে প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ৮১২ মণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ৮১২ মণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নীলফামারীর ৮১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় নীলফামারী শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা দুর্গাপূজা মন্দিরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন রংপুরের এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম।

তিনি উল্লেখ করেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় যথেষ্ট সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের জন্য সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

এছাড়া, প্রতিমা বিসর্জনের দিন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এসআরবি-১৩-এর পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হা-ম-লা-র হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হা-ম-লা-র হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূগর্ভস্থ ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, তেহরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। তবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকারের তথ্য প্রকাশিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়া। তিনি দাবি করেন, ইরানের হাতে এমন অস্ত্র থাকলে দেশটি তা ব্যবহার করবে।

তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লাখ লাখ টন পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে আছে। এখন আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেনের দিকে নজর দিচ্ছি। সেখানে আমাদের যেতে হতে পারে। আমরা ওই স্থাপনাটিতে হামলা চালাব। দ্রুতই সেটিকে ধ্বংস করে দেব।’

পিক্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। এটি অত্যন্ত গভীরে নির্মিত হওয়ায় সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইরান এর আগে স্থাপনাটিকে সেন্ট্রিফিউজ সংযোজনকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না। এর কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন না বলে আবারও জানান। তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সাক্ষাৎকারে আলোচনায় আসে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমার বিষয়টিও। এটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় এ বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, এমওএবি একটি প্রচলিত বোমা, পারমাণবিক অস্ত্র নয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৬ জন উদ্ধার, ১১ জন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৬ জন উদ্ধার, ১১ জন নিখোঁজ

মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তবে, নৌকাটিতে থাকা আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

দুর্ঘটনাটি মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ঘটে। নৌকাটি ডুবে যাচ্ছে জানিয়ে শুক্রবার রাত ১টার দিকে বিপৎসংকেত পাঠানো হয়। খবর পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পৌঁছায়। এরপর উদ্ধারকর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সাগর থেকে ১৬ জনকে উদ্ধার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা সান্তিয়াগো তাম্বুরিনি জানান, উদ্ধার হওয়ার আগে লোকজন একে অপরকে এবং নৌকার ভাঙা অংশ আঁকড়ে ধরে পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিলেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই মেক্সিকোর নাগরিক বলে সান ডিয়েগোতে অবস্থিত মেক্সিকোর কনস্যুলেট জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের হাঙরের কামড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কয়েকজনকে ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের হেলিকপ্টারে করে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সান ডিয়েগোর স্ক্রিপস মার্সি হাসপাতালে তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে হাঙরের কামড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকা ব্যক্তি এবং ঠান্ডায় আক্রান্ত দুজন রয়েছেন। আরও তিনজনকে স্ক্রিপস মেমোরিয়াল হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৭ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরেছিলেন। তবে, নৌকাটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি; শুধুমাত্র ভাঙা অংশ পাওয়া গেছে। এটি কী ধরনের নৌকা ছিল, কোথা থেকে এসেছিল কিংবা কোথায় যাচ্ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুটি হেলিকপ্টার, একটি বিমান, একটি টহলজাহাজ এবং নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সাগরের প্রায় ৩ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনীও এনসেনাদা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা রব টাকার জানান, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ তল্লাশি চালানো হবে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সাগরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল। ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় দেড় মিটার। পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দুর্ঘটনাস্থলটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাচারের জন্য ব্যবহৃত একটি সন্দেহভাজন সমুদ্রপথের কাছে অবস্থিত। তবে, ওই নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে সাগরে গিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই এলাকায় মাছ ধরার নৌকা ও বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত নৌযানও চলাচল করে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা তাম্বুরিনি বলেন, নৌকাটি পথ হারিয়েছিল, ইঞ্জিন বিকল হয়েছিল, স্রোতে ভেসে গিয়েছিল, নাকি পরিকল্পনা করেই এত দূরে গিয়েছিল—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থলসীমান্তের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রপথে যাওয়ার চেষ্টা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছোট নৌকায় করে রাতের আঁধারে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে উত্তরের দিকে যাত্রা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ কেউ। এ পথে নৌকাডুবির একাধিক ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের প্রায় ৫৬ কিলোমিটার উত্তরে একটি ছোট নৌকা উল্টে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালে সান ডিয়েগোর উপকূলে ঘন কুয়াশার মধ্যে দুটি নৌকা তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে একটি উল্টে যায়। ওই ঘটনায় আটজন নিহত হন।

এছাড়া ২০২২ সালে সান ডিয়েগোর এক বাসিন্দাকে ৩২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা চালানোর দায়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রবল ঢেউয়ে নৌকাটি ভেঙে পড়লে তিনজন নিহত এবং দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হন।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%