রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৫ পি.এম
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তাদের কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো কোম্পানির মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তাহলে ওই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
আজ জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের (নোয়াখালী-৬) একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আইনগত সত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়— এই দুই বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'অর্থনীতি ও আর্থিক খাত পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নীতি রয়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সত্তা কোনো ব্যক্তির সত্তা থেকে পৃথক।'
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। তবে কোম্পানির কার্যক্রম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে, কারণ একটি কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা।
তিনি বলেন, 'কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু কোম্পানি একটি আইনগত সত্তা।'
আমির খসরু জানান, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে একটি কোম্পানি বন্ধ করে দিলে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, 'এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারী, ঋণদাতা, ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতিতে কোম্পানিটির অবদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'কোম্পানির কর্মচারী আছে, দায়-দেনা আছে। তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হয় এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান রয়েছে।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত আবেগের ভিত্তিতে নয়, আইন ও প্রতিষ্ঠিত আর্থিক নীতির ভিত্তিতে নিতে হবে।
তিনি বলেন, 'আবেগ দিয়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা যায় না; আইন অনুযায়ী তা পরিচালনা করতে হয়।'
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি কোম্পানিকে ঋণসংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে আইন লঙ্ঘন করছে— এমন অভিযোগও নাকচ করেন।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না।'
অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে সুযোগ থাকলেই কোনো কোম্পানি ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পেতে পারে।
তিনি বলেন, 'আইনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে যোগ্য কোম্পানিগুলো তা নিতে পারবে। যারা যোগ্য নয়, তারা এই সুবিধা নিতে পারবে না।'
আমির খসরু জানান, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরকার কোনোভাবেই সুরক্ষা দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, 'দুর্নীতিতে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং মামলাগুলো চলবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কার্যক্রম চালু রাখলেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কোম্পানির বকেয়া দায় পরিশোধের স্বার্থে আইনসম্মতভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানির কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন হতে পারে।
একই সঙ্গে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, সরকার এক্ষেত্রে দু’টি বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করছে—আইনসম্মতভাবে প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল প্রচলিত আইনের আওতায় থেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতে পারে।
তিনি বলেন, 'আইনে যে সুযোগ রয়েছে, যোগ্য কোম্পানিগুলো তা নিতে পারবে। যারা যোগ্য নয়, তারা তা নিতে পারবে না।'
তিনি বলেন, সরকার আর্থিক খাত পরিচালনায় আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুসরণ করবে এবং একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে।
রবিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে আপনাদের প্রতি, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের কাছে যে, কোনো হানাহানি নয়, কোনো সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করি আমরা। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জিনিস যেটা সেটা হচ্ছে টলারেন্স, সহিষ্ণুতা। সেই সহিষ্ণুতা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করতে হবে। এটা যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলে আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। সেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি, পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই মানুষের অভাব কী করে দূর করা যায় তার চেষ্টা করা। আমরা দেখতে চাই কী করে শিক্ষার উন্নয়ন করা। আমরা দেখতে পাই এই যে আমাদের ছেলেমেয়েরা এখানে আছে, তারা যেন লেখাপড়া শেষ করে চাকরি পায়, ব্যবসা পায়। আমরা দেখতে চাই না যে এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হোক। আমরা দেখতে চাই যে, এখানে সবাই একসাথে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে তারা এখানে বেঁচে থাকুক তাদের অধিকার নিয়ে। এই বিষয়গুলো আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ, আমরা বড় পিছিয়ে পড়া মানুষ। আমরা বড় দরিদ্র এলাকার বেশিরভাগ মানুষ। এবং আমরা ঠিক সেইভাবে চাইতেও জানি না। আজকে অনেক আনন্দের কথা যে আজকে আপনাদের নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন, তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন, আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম। তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি, তাই না? বিশ্ববিদ্যালয়। হইছে বিশ্ববিদ্যালয়? জমি হয়ে গেছে। ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন সামনে। কাল ইনশাআল্লাহ আমরা সেটার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম আমরা, মনে আছে আপনাদের? সেই মেডিকেল কলেজও হয়েছে। জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে। এখন শুধু জমিটা ঠিক হবে এবং এখানে আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্র ভর্তি শুরু হবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের ভুল্লী এবং রুহিয়া দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, তাই না? দুইটাই হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ। দুইটা ভাগ হয়েছে, ইউএনও জয়েন করেছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন। আমি অনেক না কেউ রাজি হইছে আপনাদের কথায়। এইজন্যে যে বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ যে খুব একটা উপকৃত হবে তা না কিন্তু। তবে হ্যাঁ, বিমানবন্দর হলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করবেন তাদের জন্য সহজ হবে, তাই না? এবং অন্যভাবে হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে এটাকে রাখতে হয়, টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে কিন্তু আমাদেরকে এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নাই। লোকের কাজ নাই, কাজ পায় না, তাই না? এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আপনাদের অনেকে বলেছে, আমরা চেষ্টা করেছি, আপনারা দেখেছেন যে সরকারে আসার পরেই, এই সরকার আসার পরেই আমরা এখানে অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে এসেছিলাম। তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, কথা বলেছেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। বাণিজ্যমন্ত্রী এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি যে এখানে খুব শিগগিরই আমরা কিছু বিনিয়োগকারী, যারা এখানে বিনিয়োগ করবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য তাদেরকে এখানে আমরা নিয়ে আসতে সক্ষম হব, তারা এখানে কাজ করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, যে আমরা এখানে চীনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার বাচ্চাকে স্কুল ব্যাগ দিয়েছিলেন, মনে আছে আপনাদের? কয়েকদিন আগে ১০ জন বাচ্চা স্কুলের, আর ১০ জন না? ১০ জন। আর ৫ জন শিক্ষক, তাদেরকে চীনে নিয়ে গিয়েছিল তারা। চীনে তারা দেখে, ঘুরিয়ে নিয়ে আসছে। আমরা আশা করছি যে এখানে এই কলকারখানা তৈরি করার জন্য চীন থেকেও তারা আসবে, বিশেষজ্ঞরা আসবে, তারা এখানে কীভাবে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা যায় সেই ব্যবস্থা করবে।’
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়ানো বাদ দিতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা সবাই মিলে এমন সমাজ গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষের মধ্যে মানুষের জন্য ভালোবাসা থাকবে। জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করতে পারি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পূর্বনির্ধারিত সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে তার অবতরণের কথা থাকলেও তিনি পৌঁছান বেলা ১টার দিকে।
এরপর ঠাকুরগাঁও জেলা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাকে। পরে তিনি সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পথে রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে সম্ভাষণের জবাব দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
বিকালে ঐতিহাসিক বড় মাঠে রাষ্ট্রপতির সম্মানে এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা শুরুর আগেই অবশ্য হঠাৎ পুরো শহর অন্ধকার হয়ে মুষলধারে বৃষ্টি নেমে আসে। তবে বৃষ্টি বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগই লাখো মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও আনন্দকে থামাতে পারেনি।
রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়েই বইছে উৎসবের আমেজ। তাকে বরণ করে নিতে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রধান প্রবেশপথগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায়। নাগরিক সংবর্ধনাসহ একগুচ্ছ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি। রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
একসময় যিনি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের অতি আপনজন, আজ সেই ‘ঘরের ছেলে’কে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে গর্বিত পুরো জেলার মানুষ। প্রিয় নেতা তথা দেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কর নির্ধারণ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভয় দূর করতে দেশের কর ব্যবস্থা সহজ ও অধিকতর স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ রোববার সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুল আলীম-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমির খসরু স্বীকার করেন, করদাতাদের মধ্যে সাধারণভাবে এমন একটি ভয় রয়েছে যে, কর রিটার্ন, বিশেষ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করলে নিরীক্ষার আওতায় পড়তে হবে এবং পরবর্তীতে হয়রানির শিকার হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশে করের আওতায় আসা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয় রয়েছে, তা সত্য।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় কর দিতে এগিয়ে আসে, সে লক্ষ্যে সরকার কর ব্যবস্থা সহজ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এই ভয় রয়েছে। এ কারণেই মানুষ করের আওতায় আসতে চায় না। তাই সরকার সামগ্রিক কর প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।’
নিরীক্ষার নামে হয়রানি নিয়ে সংসদ সদস্যের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, করদাতাদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অডিট বা নিরীক্ষা একটি মাত্র বিষয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে কর নীতি প্রণয়ন এবং কর প্রশাসন ও বাস্তবায়নকে পৃথক করার দিকে সরকার এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে কর ব্যবস্থার বিভাজনের দিকে এগোচ্ছি- যারা কর আইন ও নীতি প্রণয়ন করবেন এবং যারা তা বাস্তবায়ন করবেন, তাদের পৃথক করা হবে।’
তিনি এ পৃথকীকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি দুর্নীতির একটি বড় সুযোগের ক্ষেত্র ছিল। পৃথকীকরণের মাধ্যমে এই প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, করদাতারা যাতে ভয় বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ছাড়াই কর পরিশোধ করতে পারেন, সে জন্য কর প্রশাসনে অধিকতর স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে চাই, যাতে প্রত্যেক করদাতা সহজেই কর দিতে এগিয়ে আসতে পারেন।
আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো খুবই কম। অতীতে পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে অব্যাহত না থাকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। অতীতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত না থাকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থা সহজ করা হলে আরও বেশি মানুষ করের আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি ব্যবস্থা সহজ করব, তত বেশি মানুষ এগিয়ে আসবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু অডিট বা নিরীক্ষা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নয়, কর পরিশোধে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে এমন অন্যান্য সমস্যাও সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যা একসঙ্গে সমাধানের মাধ্যমে ব্যবস্থা সহজ করার কাজ করছি। খুব শিগগিরই আপনারা এর ফল দেখতে পাবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, এবং দালাল চক্রের প্রতারণা। সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন।
নোটিশে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা ম্যাডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তাসহ ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী নুর জানান, প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য তাকে গবেষণা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই।" সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী নুর আরও বলেন, "যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা— এই বিষয়টি আমাদের একটি বড় অগ্রাধিকার।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সমাপ্তিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে চলমান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠক করার পর রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার কিয়েভে পৌঁছেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রবিবার তাদের কিয়েভ সফরের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।শনিবার মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেন দুই মার্কিন দূত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইউক্রেনে ‘সমানভাবে ফলপ্রসূ বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন।ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমজানাচ্ছে, তবে ওই পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচকদের জন্য এটি কিয়েভে প্রথম সফর। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টরা নিজেদের রাজধানীতে হামলা তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে পারস্পরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের এই সিদ্ধান্ত শান্তি আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে যুদ্ধের অন্যান্য ফ্রন্টে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূখণ্ড, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ