১১:১১ পি.এম
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে যে এক কেজি ওজনের ইলিশের বিক্রয় মূল্য ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পেলে দাম আরও কমতে পারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাটের কাছে ইলিশের আড়ত পরিদর্শন করে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে জেলেরা পদ্মা-মেঘনা থেকে আহরণ করা ইলিশ এবং বিভিন্ন মাছ সরাসরি এনে বরফ ছাড়াই বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন: পূর্ণিমা রাতে ব্রহ্মপুত্রের তীরে লালনের সুরে মুখরিত ময়মনসিংহ
হরিণা আড়তে গিয়েও দেখা যায়, জেলে ও ব্যবসায়ীরা ইলিশের কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাত্র এক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম থাকায় জেলেরা অনেক সময় খালি হাতে ফিরেছেন এবং আড়তেই ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
হরিণা ঘাটসংলগ্ন বহরিয়া এলাকার জেলে রনি বলেন, 'গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি খরচ না ওঠায় তারা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। তবে গত দুই দিন ধরে নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়তে শুরু করেছে। তাই আবারও মাছ ধরতে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।'
তাজা ইলিশ কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, তিনি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশ ৯ হাজার টাকায় কিনেছেন। এছাড়া মোট ১৮ হাজার টাকার মাছ কিনেছেন, যার মধ্যে বিভিন্ন আকারের ইলিশ রয়েছে। এই ঘাটে আসার মূল কারণ হলো বরফ ছাড়াই পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশ সরাসরি পাওয়া যায়।
ঘাটের একজন পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহ আগে ইলিশের আমদানি ছিল খুবই কম। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়াও ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ছোট আকারের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
আরও পড়ুন: কটিয়াদী ও মনোহরদীতে আড়িয়লখাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ, মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে
একই আড়তের আরেক মাছ বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে নদীতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে এবং ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এ অবস্থায় যদি অব্যাহত থাকে, নদীতে ইলিশের বিচরণ ও আহরণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে এবং নদীতে ইলিশের বিচরণ আরও বাড়বে, ফলে জেলেরা ভালো পরিমাণে ইলিশ পাবেন। তিনি বলেন, 'ইলিশ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মৌসুমের বাকি সময়ে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন