সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৩ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এবং নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলা আড়িয়লখাঁ নদে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি অবৈধ জালের বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এসব জালের বাঁধ নদীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আড়াআড়ি ভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব জালে আটকা পড়ছে ছোট ছোট পোনা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। এর পাশাপাশি, নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উক্ত নদে বাঁশ, কাঠ ও বাঁশের বানা দিয়ে উঁচু কাঠামো তৈরি করে কারেন্ট জাল বসানো হয়েছে। জাল ফেলার অংশ ছাড়া নদে মাছের চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নদীর এক পার থেকে অন্য পার পর্যন্ত কারেন্ট জাল টানানো হয়েছে। এসব জালে দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। এর ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জালের কারণে নদে আটকে থাকতে হচ্ছে মালবাহী নৌযানকেও।
এ ব্যাপারে কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কাউসার মিয়া বলেন, "খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" অপরদিকে, মনোহরদী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফি আফরোজ সনি জানান, "নতুন করে বিভিন্ন স্থানে জালের বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, "প্রবাহমান নদে জালের বাঁধ আইনত নিষিদ্ধ। অবৈধ জালের বাঁধ থাকলে অভিযান চালানো হবে।" নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, "বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খুঁজছি, সত্যতা প্রমাণে আইনগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালত স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আবদুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলামকে (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে, পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবির কারণে তাদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য যৌতুক দাবি করা হয়। এই কারণে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকা আক্তারকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার আদেশ দেন। আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ৭৬ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর নতুন কোনো ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার চীন জানিয়েছে, নতুন করে কেউ হতাহত হননি।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হিমবাহের হ্রদ ও হিমবাহের ওপর প্রভাব খুবই সামান্য। ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৪টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৫ বা তার বেশি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার বা ৩১ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে নতুন ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখেছে।
তিব্বতের উত্তরে জনবিরল পাহাড়ি শহর নাগকুতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটি ছিল চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে—এমন ১৫৭টি স্থান পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২২টি স্থান আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আরো ৩৫টি স্থান।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ৮০টি হিমবাহের হ্রদ ও ১৪৫টি হিমবাহ পরীক্ষা করেছেন। এসব পরীক্ষায় ভূমিকম্পের কারণে নতুন কোনো বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাইম আইয়ুব। শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই সিরিজে তিনি অংশগ্রহণ করবেন না।
সাইম তার অফ-ফর্ম নিয়ে কাজ করার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে চান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, এজন্য তাকে ওয়ানডে দলের বাইরে রাখা হয়েছে।
পিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রধান কোচের সঙ্গে আলোচনা করে সাইম ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের ব্যাটিং ফর্ম উন্নত করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পিসিবি আরও জানায়, সাইমের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং দলের ম্যানেজমেন্ট ও জাতীয় নির্বাচক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে সাইমকে দলে পাওয়া যাবে না।
ত্রিদেশীয় সিরিজে সাইম তিন ইনিংসে ২১ রান করেছেন, তবে তিনি কোন উইকেট পাননি।
সাইমের পরিবর্তে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ও ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লিগ পর্বে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। আগামী ২৭ অক্টোবর লাহোরে লিগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পাকিস্তান। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩১ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করবে ইউনিটটি। এই পর্যায়ে কেন্দ্রটির বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ‘স্টেজ-সি’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর মাধ্যমে কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, ‘স্টেজ-সি’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাগুলো স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
তিনি জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা। এই প্রক্রিয়ায় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করা এবং কমিশনিং-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ইউনিটটিকে পরবর্তী ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা পর্যায়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
তবে ‘স্টেজ-সি’ পর্যায়ে প্রবেশ, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন-এই তিনটি পৃথক মাইলফলক।
বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, কমিশনিং কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ