সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ পি.এম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তারাবো-ডেমরা সড়কের (আর-২০১) প্রথম কিলোমিটারে ডেমরা সেতুর এক্সপ্যানশন জয়েন্টের জরুরি মেরামত কাজের কারণে যানজটের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, হাইওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ সেতুর এক্সপ্যানশন জয়েন্টের জরুরি মেরামত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপির স্টাফ অফিসার তারিক লতিফ জানিয়েছেন, মেরামত কাজ চলাকালে ডেমরা সেতুর আশেপাশে যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তাই যাত্রীসাধারণকে ভোগান্তি এড়াতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং যাত্রার পূর্বে প্রয়োজনীয় সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, জনসাধারণের মধ্যে দ্রুত এই তথ্য ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্মক্ষেত্রবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান গ্লাসডোর। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিয়ানাভিত্তিক পারিবারিক মালিকানাধীন গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান ক্রু কারওয়াশ। দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান ইন-এন-আউট বার্গার এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। গ্লাসডোরের ১৮তম বার্ষিক ‘বেস্ট প্লেসেস টু ওয়ার্ক’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্মীদের মতামতের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের মোট ১০০টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
গ্লাসডোরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক হাজার কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দেওয়া পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া মতামতগুলি এই তালিকায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছে তাদের সামগ্রিক কর্মসন্তুষ্টির পাশাপাশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা, পেশাগত উন্নতির সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ক কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ক্রু কারওয়াশ ২০২৪ সালের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল। কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপনার সহযোগিতামূলক মনোভাব, পেশাগত উন্নতির সুযোগ এবং দলগত কাজের পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির ভালো অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গ্লাসডোর উল্লেখ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন-এন-আউট বার্গারের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪.৫। একই রেটিং পেয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা এনভিডিয়া, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। তালিকার শীর্ষ তিনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গাড়ি ধোয়া ও খাদ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠান থাকায় কর্মক্ষেত্রের মান যে শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে।
শীর্ষ ১০-এর চতুর্থ স্থানে রয়েছে অর্থ ও করসংক্রান্ত সেবা প্রতিষ্ঠান রায়ান, পঞ্চম স্থানে আবাসন ব্যবসার প্রতিষ্ঠান কেলার উইলিয়ামস এবং ষষ্ঠ স্থানে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মার্স। সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ, অষ্টম স্থানে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, নবম স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিউস্টন মেথডিস্ট এবং দশম স্থানে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইপাম সিস্টেমস। তালিকার প্রথম ছয় প্রতিষ্ঠানের রেটিং ৪.৪ থেকে ৪.৬-এর মধ্যে। সার্ভিসনাউ, বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, হিউস্টন মেথডিস্ট ও ইপাম সিস্টেমসের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪.৪।
প্রতিবেদনে প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেরা ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি রয়েছে ২৪টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬, আর ২০২৪ সালে ছিল ৩১। গ্লাসডোরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাওয়ের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে খাতটির কর্মক্ষেত্রের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। তবে প্রযুক্তি খাতে উচ্চ বেতন ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ এখনো বিদ্যমান।
অন্যদিকে, কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তাকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফিসে ফিরে কাজ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিয়ে কঠোর নীতির কারণে কর্মীদের পছন্দে পরিবর্তন আসছে। এ বছরের তালিকায় খুচরা বিক্রয় খাতের ১০টি এবং উৎপাদন খাতের ৯টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গ্লাসডোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মীদের জন্য সহায়ক নেতৃত্ব, উন্নতির সুযোগ, ভালো কর্মপরিবেশ এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন খাত থেকেই সেরা কর্মক্ষেত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে।
সূত্র: সিএনবিসি ও গ্লাসডোর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উজ্জ্বল। ব্রহ্মপুত্র নদটি পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ হয়ে উঠেছে নীরব। এর মধ্যেই লালনের গান ভেসে আসছিল।
নদপারের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন নিজেদের যানবাহন থামিয়ে উঁকি মেরে দেখছিলেন, কারা গান গাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল ‘পূর্ণিমার রাতে পরমের সাথে’। ময়মনসিংহ বাউল সমিতির উদ্যোগে প্রতি পূর্ণিমার রাতে নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই আসর বসে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ছিল শরৎকালের দ্বিতীয় পূর্ণিমা। এই পূর্ণিমায় ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানটি।
ভাবগম্ভীর পরিবেশে অংশগ্রহণ করেন ময়মনসিংহ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নবীন ও খ্যাতিমান বাউলশিল্পীরা। ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই আয়োজন উপভোগ করেন।
রবিবার রাতের এই আয়োজনটি লালন শাহর তিরোধান উপলক্ষে তার গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল। হেমন্তের স্নিগ্ধ পূর্ণিমার আলোয় ভাসতে ভাসতে দর্শক-শ্রোতারা রাতভর আধ্যাত্মিক সুরের সাগরে ডুব দেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আহাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এ পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। গানের সুর শুনে দেখতে আসি। খুবই সুন্দর আয়োজন। মন চাইছে সারা রাত ধরে গান শুনি।’
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে সাজানো হয়েছিল। প্রথম পর্বে মাগরিবের নামাজের পর বিশ্বশান্তি ও সবার মঙ্গল কামনায় মিলাদ ও দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়। মিলাদ শরিফ পরিচালনা করেন পীর খোরশেদ আলম দয়াল।
এশার নামাজের পর শুরু হয় উৎসবের মূল পর্ব। ভক্তিগীতি, লালনগীতি, সুফি এবং বাউল গানের জমজমাট আসর শুরু হয়। ময়মনসিংহ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাউলশিল্পীরা তাদের কণ্ঠের জাদুতে দর্শক-শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট রাখেন।
গান পরিবেশন করেন মিজান বাউলা, জয়িতা অর্পা, চন্দন শাহ্, বাউল সোহাগী সরকার, শাহনাজ সাথী, বাউল চান মিয়া, বাউল মালেকা খাতুন, বাউল সাবিনা সরকার, বাউল সাজন মালা, বাউল নুর আলম সরকার, বাউল মাফিজুল সরকার, রফিক চিশতি, বাউল রাজ্জাক সরকার, বাউল রুমা সরকার, বাউল এরশাদ ও বাউল আবদুল মজিদ।
সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্ক, জীবনের দর্শন এবং পরমের খোঁজ নিয়ে রচিত কালজয়ী গানগুলো যখন শিল্পীদের একতারা ও দোতারার সুরে বেজে উঠছিল, তখন উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে অপার্থিব ভাবাবেগ সৃষ্টি হচ্ছিল। মুক্ত আকাশের নিচে চাঁদের আলোয় সুরের জাদু তাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছিল। সেই সাথে মনোমুগ্ধকর বাদন সবাইকে উৎফুল্ল করে।
অনুষ্ঠানে হারমোনিয়ামে ছিলেন কাদির; বাঁশিতে আজিজুল; ট্রাম্পেটে হামিদ ভাণ্ডারী; রবাবে হাবিব; করতালে মোশাররফ; খমকে মিজান এবং ঢোলে রাজকুমার দাস, বিশাল ও শরীফ।
ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সহসভাপতি কাজল দেওয়ান জানান, ‘যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’
ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের এই বিপুল ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাকে পাথেয় করে আগামীতেও প্রত্যেক পূর্ণিমা তিথিতে এই আয়োজন চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধের জন্য ব্যয় বেড়ে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রকৃত বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের ১২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইআরডির তথ্য জানাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের মূল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া বিদেশি সহায়তার মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এদিকে, বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীরা ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পাওয়া নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে লার্নিং টয়েস (শিখন উপকরণ) বিতরণ করা হয় এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা যাচাই করা হয়।
বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন জটিল ধারণা ও বিষয় সহজেই আয়ত্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর বা গতানুগতিক পদ্ধতির তুলনায় খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা দ্রুত বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আধুনিক উপকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি বাড়তি আগ্রহ, উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কেবল বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে প্রকৃতপক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন—তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে, তা নিপুণভাবে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি।
পরিদর্শনের অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলো সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কিভাবে আরো বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলেও তিনি জানান।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব আরো গতিশীল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নতুন প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে বলেও তিনি জানান।
বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ