শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৭ পি.এম
জাপান আশা করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত একটি সরকারি কর্মসফরে জাপান সফর করবেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে একটি বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের এই সফর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ এবং নীতিতে বিশ্বাসী একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। এছাড়া, হালনাগাদকৃত ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ (এফওআইপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিরও আশা করা হচ্ছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রেক্ষিতে ৮টি সমঝোতা স্মারক সই নিয়ে আলোচনা চলছে।
দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা সই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৪-৫টি সমঝোতা সই হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সাতটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে। এই খবরের ফলস্বরূপ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবারও দাম বেড়ে ১১২ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৮ মে-এর পর সর্বোচ্চ স্তর।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানায়, ইরানের নির্ধারিত নৌপথ ও নির্দেশনা অমান্য করা জাহাজগুলোর চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত বিকল্প দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার করে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করার পর সেগুলোতে হামলা করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, কিছু জাহাজ সমুদ্রের মাইনেও আঘাত পেয়েছে।
তবে এসব ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইরান জাহাজে হামলার ঘটনা বানিয়ে বলছে। ইরানের দাবি এবং ট্রাম্পের অভিযোগ উভয়টি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল পরিবহনের পরিমাণ বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন তেল পরিবহনের পরিমাণ ২০ লাখ ব্যারেল থেকে বেড়ে ৭০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে।
তবে বিকল্প পথটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন বন্ধ করার হুমকিও রয়েছে। এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল-কুয়াইনের উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারের এই ঘটনায় উপকূলের কয়েকটি সৈকত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তেল পরিষ্কার ও পরিবেশগত ক্ষতি সীমিত করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীতে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরা। অন্য দুই দাবির মধ্যে রয়েছে—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ সব কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল করা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনসংলগ্ন এলাকায় এক সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই গণবিক্ষোভের ডাক দেন। সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ঢাকাবাসীকে ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গণবিক্ষোভের সফলতার জন্য এনসিপি এদিন থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। সমাবেশ শেষে কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণসহ গণসংযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
নাহিদ ইসলাম সমাবেশে বলেন, “আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি এই যে ব্যর্থতা, সার্বিকভাবে এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বরং সংবিধান কাটাছেঁড়া করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতেও গত সাত মাসে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না, তিনিও এখন কথা বলেন না। এই অবস্থায় তারও মন্ত্রিসভায় থাকার অধিকার নেই।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, মন্ত্রিসভায় অন্যান্যদের ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। আপাতত এই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু যাঁদের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
নাহিদ ইসলাম আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অনেক খবর এসেছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া, মামলা-বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেল করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এখনো আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও সরকার কী করবে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি। শুধু সরকার বা ব্যক্তির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্দোবস্তের পরিবর্তন করতে হবে। তিনি সরকারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশে বলেন, “অনেকে হাল ছেড়ে দিলেও জনগণের অধিকার আদায় এবং সরকারকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এনসিপি আবারও রাজপথে নেমেছে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আগেও যেভাবে মাঠে নেমেছিলাম, এবারও ঠিক সেভাবে নেমেছি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। কিন্তু আমরা বলছি—এই সরকারকে অবশ্যই সবকিছুর জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যাবে।”
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীবাসীসহ সারা দেশের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তার রোধ, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত নজিরবিহীন এই বৈঠকে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে নতুন গঠিত ‘আর৪’ গোষ্ঠীর চার সদস্যদেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বসফরাস প্রণালির তীরবর্তী একটি হোটেলে এই আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা পৃথক বৈঠক করেছেন।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের দপ্তর জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালি এবং সৌদি আরবের পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে। মিলিব্যান্ড হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবেন।
তার দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগুলো কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, তা তুলে ধরবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সৌদি আরবে হামলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি সতর্ক করবেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান-সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। অঞ্চলটিতে চরম অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রথম এ ধরনের কাঠামোয় বৈঠক হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে প্যারিস।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, যেসব সংকট সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা সৃষ্টি করেনি, অথচ সবার ওপর প্রভাব ফেলছে, সেগুলো মোকাবিলায় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।
হুথিদের হামলায় চাপে সৌদি আরব
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এসব হামলার কারণে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রপথে অবরোধের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশটির তেল রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্রদেশগুলোর সমর্থন পেয়েছে। বুধবার আকস্মিক সফরে সৌদি আরবে গিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু তেল টার্মিনাল সুরক্ষায় ফরাসি বাহিনী সহায়তা করবে।
এর আগের দিন যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, হুতিদের হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তারা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকের আগে এক মধ্যস্থতাবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী সমাধান বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’
তুরস্কের কর্মকর্তাদের মতে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে ফিদান তুলে ধরবেন যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগ ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সহযোগিতা কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেয়।
ফিদান আরো জোর দেবেন, বিদ্যমান বিরোধগুলোকে একে অপরের সংকট বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো সংঘাতকে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া উচিত নয় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাও যেন বৃহত্তর অস্থিতিশীলতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান
বৈঠকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন ফিদান। তুরস্ক এসব সহিংসতাকে ‘বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করে।
একই সঙ্গে হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে। ইস্তাম্বুলের বৈঠকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাও গুরুত্ব পাবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যাতে ওই অঞ্চলে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে তুরস্কের প্রচেষ্টা তুলে ধরবেন ফিদান।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ায় আট দেশের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা বা সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ