ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুর


দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুর

পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একান্ত সচিব জ্যোতিশ্বর পাল।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।

আরও পড়ুন: বাকৃবির বেগম খালেদা জিয়া হলের একটি লিফট চালু

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে শুভেচ্ছা জানান দলের মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিলউজ্জামান, সাকিব হোসাইন, প্রচার সম্পাদক আশরাফুল রায়হান। এ সময় গণঅধিকার পরিষদ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণঅধিকার পরিষদের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ৫ দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের পরিধি সম্প্রসারণ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সিউলে পৃথক দুটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেন প্রতিমন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোরিয়ান প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

আরও পড়ুন: জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার দুই দিনের রিমান্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবি স্টেশনে থামবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


রাবি স্টেশনে থামবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি প্রদান করা হবে রাজশাহীগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেন-৭৩৪ নম্বর তিতুমীর এক্সপ্রেস এবং ৭৬১ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন ও দাবির ফলস্বরূপ এই ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান পরিচালক সুপারিনটেনডেন্টের স্বাক্ষরিত পত্রেও ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, "দীর্ঘ তিন দশকের বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবির পর আমরা এ যাত্রাবিরতি পাচ্ছি। এ দাবির পক্ষে যারা আন্দোলন করেছেন, লেখালেখি করেছেন এবং নীরবে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন।"

তিনি আরও জানান, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ছাড়া রাতের অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটল বাস চালু করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আকাশ, মেঘলা থাকতে পারে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


আজ যেমন থাকবে ঢাকার আকাশ, মেঘলা থাকতে পারে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলে আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি একই সঙ্গে জানিয়েছে যে তাপমাত্রার পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তাতে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এছাড়া আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ৯০ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৩ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ৪ লাখের বেশি মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ৪ লাখের বেশি মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১ হাজার

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারি পরিষেবার ঘাটতির বিরুদ্ধে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভের সময় পুলিশ প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।

আলজাজিরা, এএফপি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ, এবং প্যারিসে অংশ নেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। প্যারিস ছাড়াও লিঁও, মার্সেই, নিস, বোর্দো, তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যদিও অনেক স্থানে মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে কিছু শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শনিবারের বিক্ষোভে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, শনিবারের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গত মাসে প্যারিসের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা ঘটে। পরে শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, সরকারি পরিষেবার মান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট এবং জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। শহরের কেন্দ্রীয় কিছু এলাকায় মিছিল নিষিদ্ধ করে বিক্ষোভের পথ রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের কারণে প্যারিসের বেশ কিছু দোকান বন্ধ রাখা হয়, বিলাসপণ্যের দোকানের কাচ প্রতিরক্ষামূলক প্যানেলে ঢেকে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার কারণে অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। ল্যুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল।

প্যারিসে মিছিলের শেষের দিকে মুখোশ পরা কয়েকটি দলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু এবং আতশবাজি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। মার্সেইসহ কিছু শহরে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়ার এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের মতে, আগের সপ্তাহের তুলনায় এবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কম হয়েছে।

ফ্রান্সের বাইরে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। ইতালির রোম, মিলান ও নেপলস, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস এবং আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব স্থানে কিছু এলাকায় সংঘর্ষ এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ না হলে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। ফ্রান্সের শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আগামী ৫ নভেম্বর নতুন করে ধর্মঘট এবং বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সিএনএনের বিশ্লেষণ

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের নেতৃত্বে জেন-জি, কেন তারা ক্ষুব্ধ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের নেতৃত্বে জেন-জি, কেন তারা ক্ষুব্ধ?

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ঘাটতি, আবাসনের বাড়তি খরচ এবং চাকরির সমস্যার কারণে তরুণদের মধ্যে বিক্ষোভের ঢেউ উঠছে। এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, জেনারেশন জেডের (জেন-জি) মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে।

প্রতিটি দেশে বিক্ষোভের কারণ কিছুটা ভিন্ন। স্পেনে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেনকে আবাসকালের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ফ্রান্সে ধর্মঘট পালনকারী শিক্ষকদের সমর্থনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেয়। আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কয়েক মাস ধরে চলমান, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনে একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল।

এমনকি, যদিও আন্দোলনের সূচনা ভিন্ন, তবে সব আন্দোলন একত্রে তরুণদের অসন্তোষ প্রকাশের একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। তাদের উদ্বেগ, মা-বাবার প্রজন্ম যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তারা তা পাবেন না।

এক দেশের আন্দোলন অন্য দেশের তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে। ইতালি ও গ্রিসের বিক্ষোভকারীরা ফরাসি আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। স্পেনে আবাসন সংকট নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলনের কৌশল ভাগাভাগি করছে।

ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস ডি ব্রিটিটো সিএনএনকে বলেন, “পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি দেখতে পাচ্ছি। আমরা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলছি। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলছি।”

ইতালির ছাত্র সংগঠনের নেতা সাবরিনা ব্রিজোলাও একই ধরনের দাবি করেছেন। গত সপ্তাহান্তে এক সমাবেশে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ভেঙে না পড়ে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বজায় থাকে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়—এসব দাবিতে তাদের সোচ্চার হতে হবে।

ডেইলি নিউজলেটারের ইউরোপিয়ান করেসপন্ডেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিন্টেলম্যানের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে এমন এক হতাশা, যার মূল কথা হলো—ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রত্যাশিত সুযোগ তৈরি করতে পারছে না।

শিক্ষা ও আবাসন সংকটের পাশাপাশি অনিশ্চিত চাকরির বাজার এবং জলবায়ু সংকটও তরুণদের ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তার বিশেষ করে নতুনদের জন্য প্রবেশপর্যায়ের চাকরিতে বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

ফিন্টেলম্যান বলেন, উদার গণতন্ত্রের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি ছিল—পরবর্তী প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে ভালো জীবন পাবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখন আর বাস্তব হচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেক তরুণ।

বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগাল। এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং উচ্চ সরকারি ঋণ নতুন করে সরকারি ব্যয় বাড়ানো কঠিন করে তুলছে। ফ্রান্সে বুধবার সরকারি বন্ডের সুদহার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা দেশটির বাজেটের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

ফ্রান্সে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস ডি ব্রিটিটোর মতে, শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে যখন দেখেন পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে, তখন তারা প্রতিবাদে নামেন। গত নয় বছর ধরে এমন বিক্ষোভ হয়ে আসছে।

তবে এবার আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তরুণদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতা বন্ধের দাবি তুলেছেন।

ডি ব্রিটিটো বলেন, “মানুষ এখন উত্তরের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ক্লান্ত।”

শিক্ষা নিয়ে অসন্তোষ ইউরোপের একাধিক দেশের আন্দোলনে উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মিছিল করেছেন। এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন, “গ্রিস থেকে ফ্রান্স—আমরা সরকারি ও বিনা মূল্যের শিক্ষা চাই।”

ইতালির রোমে ৭ অক্টোবর একটি উচ্চবিদ্যালয় দখলে নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচির পক্ষে দেওয়া বিবৃতির প্রথম লাইনেই লিখেছিলেন, “ফ্রান্সের মতো।”

তবে ইতালির সরকার ফ্রান্সের আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের দেশের পরিস্থিতির মিল থাকার বিষয়টি নাকচ করেছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা চলতি মাসের শুরুতে বলেন, ইতালি ও ফ্রান্সের পরিস্থিতি এক নয়। ফরাসি আন্দোলনের পেছনে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির জটিলতাকে দায়ী করে তিনি ইতালির সঙ্গে পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।

আবাসন সংকটেও ক্ষুব্ধ তরুণেরা

শিক্ষার পাশাপাশি আবাসন সংকটও ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। ইতালির আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা স্পেনের আবাসনবিষয়ক বিক্ষোভ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেপ্টেম্বরে স্পেনে এই আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। পরে এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।

রোমে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা একটি শিবিরে থাকা শিক্ষার্থীরা সিএনএনকে বলেন, সাশ্রয়ী আবাসন ছাড়া ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।

শিক্ষার্থী এলিসা পাস্তোরে জানান, ইতালির রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভাইয়ের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতে হয় তাকে। সেই ভাড়া দিতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে ডিগ্রির প্রথমার্ধে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তাকে রোমের বাইরের একটি এলাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার যাতায়াত করতে হতো।

শুধু তরুণেরাই নন, আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভে অন্য বয়সের মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।

ইতালিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাকচালকদের অবরোধের কারণে মহিষের দুধের তৈরি মোজারেলা পনির এবং কিছু ধরনের পাস্তা উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এই অবরোধ শুরু হয়।

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ব্যস্ত রোসিও স্কয়ারে চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। কেউ কেউ সেখানে তাঁবুও খাটিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার পর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভকারীরা ‘বসবাসের জন্য বাড়ি চাই’—এমন স্লোগানসংবলিত পতাকা নিয়ে মিছিল করেছেন। তাদের দাবি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ওপর সীমা আরোপ করতে হবে এবং উচ্ছেদ সহজ করার নতুন আইন বাতিল করতে হবে।

সরকার পরিবর্তনের দাবিও উঠছে

আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী দাবি। এসব আন্দোলন ক্রমে সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

গত সপ্তাহে আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার পরও প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। বরং তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করার পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলছেন। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেন।

আলবেনিয়ার এক বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, “আমরা পরিবর্তন চাই, তাই এখানে এসেছি। আমরা বিপ্লব চাই, নতুন সরকার চাই। আমরা কোনো আলোচনা বা সমঝোতা চাইছি না। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সরকার প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, সার্বিয়ায় গত দুই বছর ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এখন দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচের বিরুদ্ধে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রোববারের সংসদীয় নির্বাচনে এই আন্দোলনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সেও শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ হয়েছে। প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ, লিল, অর্লেয়াঁ ও বোর্দোসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেন। প্যারিসের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশটির বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি, কৃষক, জলবায়ুকর্মী এবং ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সদস্যরাও অংশ নেন। গত সপ্তাহান্তের মতো সহিংস পরিস্থিতি যেন আবার তৈরি না হয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষ পুরো সপ্তাহজুড়ে প্রস্তুতি নিয়েছে।

ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো যথাক্রমে ৫ ও ১১ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। জার্মানিতে ‘জেন জেড রেগেল্ট’ নামে একটি সংগঠন ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন ও ইতালির ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে আগামী ২০ নভেম্বর যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%