শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৮ পি.এম
আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ক্ষমতার বদল হবে না, তবে ট্রাম্পের দেশ শাসনের মেয়াদের বাকি দুই বছর কিভাবে চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে ট্রাম্পের জন্য সামনে খারাপ দিন অপেক্ষা করছে।
নির্বাচনের সকল প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে। তবে আবহাওয়া এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের দিনে একটি বৃষ্টিবহুল ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে ধেয়ে আসতে পারে, যা ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী মঙ্গলবার গ্রেট লেকস এবং আপার মিডওয়েস্টের কিছু অংশ থেকে শুরু করে পশ্চিম উপসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে; তবে ঠিক কোন কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিঘ্নসৃষ্টিকারী ভারি বৃষ্টিপাত হবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
আবহাওয়া বদলাতে পারে, তবে আপাতত মনে হচ্ছে আইওয়া, কানসাস, মিশিগান, টেক্সাস এবং এমনকি ওহাইওর কিছু অংশও এই ভেজা আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে পারে।
মিডওয়েস্ট এবং সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। ঝড়ের দক্ষিণ প্রান্তে; টেক্সাস থেকে শুরু করে লোয়ার-মিসিসিপি উপত্যকা পর্যন্ত; তীব্র বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এই আবহাওয়া উক্ত রাজ্যগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলোর ভোটারদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্টর বা নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
ঝড়ের প্রভাবের বাইরে থাকা পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে দক্ষিণ-পূর্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো, যেখানে হালকা বা ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনাকে এখনই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে অতিরিক্ত গরম কাপড় বা জ্যাকেট জড়িয়ে বের হওয়ার প্রয়োজন হবে না। দেশের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বা শীতল থাকতে পারে।
গবেষণা এবং অতীতের নির্বাচনের ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনের দিনে বৃষ্টি, ঝড় বা তীব্র শীতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়া মূলত ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কট্টর দলীয় সমর্থকেরা আবহাওয়া যতই খারাপ হোক না কেন ভোট দিতে আসেন। কিন্তু যারা নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক নন বা শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা খারাপ আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে বের হতে চান না। ফলে মিশিগান বা টেক্সাসের মত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রাজ্যগুলোতে এই ধরনের ভোটারদের অনুপস্থিতি পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়া সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের কিছুটা সুবিধা দেয়। এর কারণ হলো—ডেমোক্র্যাটদের বড় একটি ভোটার গোষ্ঠী হলো তরুণ, কম আয়ের মানুষ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাদের নিজস্ব গাড়ি বা যাতায়াতের সহজ সুবিধা কম থাকে। ফলে বৃষ্টি হলে তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার হার কমে যায়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি বড় অংশ গ্রামীণ ও বয়স্ক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা ও নিজস্ব যাতায়াত ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। তবে নানা জরিপে দেখা গেছে, এবার রিপাবলিকানদের মধ্যে ভোট দেয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। সে তুলনায় কংগ্রেসের দখল নিতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা ভোট দিতে বেশি আগ্রহী।
তবে যেসব রাজ্যে ইতোমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন সেখানে নির্বাচনের দিনের ঝড়ের প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। তবে যারা নির্বাচনের দিন সশরীরে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ভারী বৃষ্টি বা বজ্রঝড়ের কারণে ভোটগ্রহণের গতি ধীর হয়ে যায় এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি অনেক ভোটারকে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেখানে অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে (যেমন- কানসাস, আইওয়া, মেইন) প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য হতে পারে, সেখানে নির্বাচনের দিনের এক পশলা ভারি বৃষ্টিও জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। তিনি একইসাথে দেশের আমদানি বন্দরগুলোতে শক্তিশালী বাজার সিন্ডিকেট গড়ে তোলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ‘পেটে লাথি মারা’ হচ্ছে বলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। আমাদের জরিপ অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম ২০ শতাংশ বেশি।’
তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন আমদানি পয়েন্টে যেসব নিত্যপণ্য প্রবেশ করে, সেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, এই সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের আঁতাত রয়েছে।
এনসিপির এই নেতা আরো বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের ঘরে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষের ফলে বিথী (২৫) নামের এক তরুণী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার মুসুল্লিবাড়ি হিজলতলা মোড়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত বিথী গুলিসাখালী ইউনিয়নের বান্দবপাড়া গ্রামের আবদুল রহিমের কন্যা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে পাথরঘাটাগামী রাজীব পরিবহনের বাসটির সঙ্গে একটি ইজিবাইকের সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় বিথী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. সোহেল আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দুর্ঘটনায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মুসুল্লিবাড়ি হিজলতলা মোড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মোড়ে প্রায় প্রতি মাসে দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়টিতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল জেলার পুলিশের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন মধুপুর সার্কেলের তিন পুলিশ কর্মকর্তা। জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম। একই সঙ্গে জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন মধুপুর থানার এসআই মো. আমিনুল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী এসআই নির্বাচিত হয়েছেন এসআই খন্দকার জিয়াউল হক।
পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁরা এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁদের এ সাফল্যে মধুপুরের পুলিশ বিভাগসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জন মধুপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় পুলিশ সদস্যদের আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলে তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কৃতিত্বপূর্ণ এ অর্জনে মধুপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে জননিরাপত্তা ও জনসেবায় এ ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ জাপান থেকে শুরু করে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলে চীনের ৫০টিরও বেশি সরকারি ও নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচল করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন তাইওয়ানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কার্যক্রম থেকে উদ্ভূত হুমকি স্পষ্ট। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে। এই পরিস্থিতিতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজগুলোর চলাচলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ জোরদার করেছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেছেন, “আমরা তাদের তৎপরতার ওপর সতর্ক নজর রাখছি। তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের জন্য একই সঙ্গে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।”
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ওই মানচিত্রে চীনের ৫৩টি জাহাজের অবস্থান চিত্রিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এই জাহাজগুলোর মধ্যে চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মানচিত্র অনুযায়ী, লিয়াওনিং ও এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ফিলিপাইনের পূর্বে অবস্থান করছিল। এছাড়া, তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কয়েকটি জাহাজের দল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আরো তিনটি দলও ছিল। গত মে মাসে জোসেফ উ এক্সে একই ধরনের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওগ্যাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’-এর প্রশিক্ষণ একটি নিয়মিত বার্ষিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে দূর সমুদ্রে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না। ফিলিপাইন ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
চীনা যুদ্ধজাহাজের চলাচল
বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কাছে সরু ওসুমি প্রণালি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের সময় তারা চীনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছিল, লিয়াওনিং একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থনে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তাইপেতে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তিনি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা আমরা সমর্থন করি না।”
তাইওয়ানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন সাগরে সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পর চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ ও এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো জাপানের দিকে উত্তরমুখী যাত্রা চালিয়ে যায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “যদি জাহাজগুলো উত্তর দিকে এগোতে থাকে, তাহলে তা জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরো চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দেবে।”
প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রেখেছে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করেনি চীন। তবে বেইজিং বলছে, তারা সামরিক পদক্ষেপের বদলে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এই আশঙ্কা মাথায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রস্তুতি নিচ্ছে যে, আগামী বছরের শুরুতেই চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক মঙ্গলবার হাওয়াইয়ের একটি ফোরামে এ কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লার্কের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষা ও হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তাইওয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ