ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পুলিসিচের সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়াল এসসি মিলান


পুলিসিচের সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়াল এসসি মিলান

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : ইতালিয়ান সিরি-আ ক্লাব এসি মিলান যুক্তরাষ্ট্রের প্লেমেকার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। নতুন চুক্তির আওতায়, ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকবেন।

পূর্ববর্তী চুক্তির মেয়াদ চলতি মৌসুম শেষে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তিনি চার বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

শুক্রবার রাতে এসি মিলানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পেরে এসি মিলান আনন্দিত।”

আরও পড়ুন: ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল

২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি থেকে সান সিরোয় যোগদান করেন পুলিসিচ। এরপর থেকে, তিনি মিলানের হয়ে সব প্রতিযোগিতায় ১৪২ ম্যাচে ৪৪ গোল করেছেন। চলতি মৌসুমে লিগে তার গোল সংখ্যা দুটি।

বর্তমানে সিরি আ-তে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে মিলান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঘাস কাটলেন কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঘাস কাটলেন কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকার ‘সেলফি রোড’-এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার মো. খলিল আহমেদ এবং জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার।

শনিবার জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নিয়ে নিজ হাতে ঘাস কেটে এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার এবং বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা সহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় ‘বিডি ক্লিন’-এর সদস্যরা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যোগদান করেন। তারা সম্মিলিতভাবে এলাকার বড় ঘাস, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার মন্তব্য করেন, একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র একদিনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। নিজের শহর ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মূল দায়িত্ব আমাদের সবার। বিশেষ করে যুবসমাজকে এ ধরনের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। পাশাপাশি, জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়ন করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে, যাতে মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হয়।

শনিবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় ইমপ্যাক্ট (ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী খেলাধুলার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, "খেলাধুলাকে বর্তমান সরকার পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়।" তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন করে খেলাধুলার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটো থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলার একটি আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "প্রতিটি বাড়িতে যেখানে গরুর খামার রয়েছে, সেখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে দেশের জ্বালানি সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।" তিনি আরও জানান, তরুণেরা এই প্ল্যান্ট স্থাপন ও সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিভিন্ন যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে সমানভাবে কাজের সুযোগ পান এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

এর আগে, তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন এবং পাঁচজন উদ্যোক্তার হাতে ঋণের চেক তুলে দেন।

এসময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


লালমনিরহাটে কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

লালমনিরহাট, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেছেন যে, কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট লালমনিরহাটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজ শনিবার বিকালে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে ‘জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় লালমনিরহাটে ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। সরকারের সদিচ্ছা ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে যে প্রতিভার বিকাশ হচ্ছে তা লেখাপড়ার পাশাপাশি ধরে রাখতে হবে।’

মাদক ও জুয়া মুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজের জন্য মাদক ও জুয়া অন্যতম বাধা। তরুণেরা এতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় মনোযোগী করতে পারলে তারা জুয়া ও মাদকের মতো অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে, যা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। তিনি আলোকিত লালমনিরহাট গড়তে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেন, ফুটবলকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। কিশোর বয়সই ফুটবলের জন্য উপযুক্ত সময়। যদি এই বয়সি ফুটবলারদের সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে দেশের ফুটবলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে। প্রতিমন্ত্রী এই ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট অন্যান্য জেলায় আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফাইনালে বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র ১-০ গোলে নবাবের হাট আদর্শ ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের উদাহরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের উদাহরণ

হারুন আল নাসিফ

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ১ নভেম্বর। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

এ উদ্যোগটি পাঁচ দশক আগে খাদ্য ঘাটতি, কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল। খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে উন্নয়নকাজে সরাসরি সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যও ছিল।

স্বাধীনতার পর দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ছিল এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্যোগ। উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প ছিল স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এ কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খননে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাজারো মানুষ বিনা পারিশ্রমিকে কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে খননকাজে যোগ দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, কাজের সময় স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারীদের দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো।

প্রায় ছয় মাসে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে খননকাজ সম্পন্ন হয়। এর ফলে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয় এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়। খালের দুই পাশে সেচের জন্য প্রায় ২০টি পাম্প স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে এলাকায় ইরি-বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে।

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা ‘উলশী মডেল’

খাল খননের ওই কর্মসূচির বিশেষত্ব ছিল উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। কোনো ঠিকাদারি শ্রমিক নির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজটি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ নামে পরিচিতি পায়।

উলশী গ্রামের শতবর্ষী বাসিন্দা আবদুল বারিক মন্ডল ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে গ্রামে এসেছিলেন। তিনি নিজেই কোদাল হাতে মাটি কাটেন এবং মাটি ভর্তি ঝুড়ি বহনেও অংশ নেন।

বারিক মন্ডলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, খননকাজের সময় জিয়াউর রহমান তাঁর ভাই করিম বকস মণ্ডলের মাথায় মাটি ভর্তি ঝুড়ি তুলে দিয়েছিলেন। এ সময় করিমের মাথায় থাকা স্থানীয়ভাবে ‘টোকা’ বা ‘মাথাল’ নামে পরিচিত বাঁশ ও তালপাতার তৈরি ঐতিহ্যবাহী টুপিটিও তিনি নিজের মাথায় পরেন। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা খায়রুজ্জামান মধু বলেন, ‘উলশীর খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন। এই খাল খনন হয়েছিল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, কৃষিকে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

খাল খননের সময় জিয়াউর রহমান স্থানীয় একটি ভবনে রাত যাপন করেন। পরে ভবনটি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে কৃষকদের নিয়ে বৈঠক ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হতো। বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে খাল খননের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষকদের সংগঠিত করার কাজেও স্থানটি ভূমিকা রাখে।

উলশী প্রকল্পের পর দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৬৭৫ দশমিক ১৮ মাইল। এ পরিসংখ্যান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরে।

দীর্ঘ অবহেলার পর পুনঃখননের উদ্যোগ

সময়ের সঙ্গে নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটিতে পলি জমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে খালটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিতে থাকে। খালের পাড়ের স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক ভবনটির অবস্থাও নাজুক হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খালটি পুনরুদ্ধার ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঐতিহাসিক খালটির পুনঃখননের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি প্রস্তাবও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

যশোর-৩ (যশোর সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, উলশী খাল পুনঃখনন এবং যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ছিল জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যশোরের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

পাঁচ দশক পর নতুন অধ্যায়

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি কোদাল হাতে প্রথম মাটি কেটে এ কাজের সূচনা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী টোকা মাথায় ও হাতে কোদাল নিয়ে খালের দুই পাড়ে সমবেত হন। উদ্বোধন উপলক্ষে দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের উদ্বোধন করা খালটির পাশে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী স্মারক স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে খালটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে খালটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগের স্মৃতি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

উলশী-যদুনাথপুরে পাঁচ দশক আগে যে উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিল, তার ৫০ বছর পূর্তিতে পুনঃখনন কর্মসূচি সেই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%