ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সড়ক নিরাপত্তা আইন চান তারা


রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সড়ক নিরাপত্তা আইন চান তারা

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) তরুণ ও যুবকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের অংশগ্রহণ এবং হতাহতের হার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তরুণদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, যার ফলে অতিরিক্ত গতি, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের মতো বিভিন্ন কারণে তারা সড়কে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ কারণে তরুণদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যানবাহন, মানসম্মত হেলমেট, সিটবেল্ট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবাকে সমন্বিত করে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষে তরুণদের আহ্বান’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: মানবতাই আমাদের পরিচয়: সাঈদ আল নোমান এমপি

সভায় নিরাপদ যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ‘রোড সেফটি আইন কেন দরকার ও তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেশনে সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহার সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।

আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণদের ঝুঁকির চিত্র উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী ৫–২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা না পাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ক্ষতি বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং, সড়ক নিরাপত্তায় যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবহারকারীর আচরণ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ‘লংমার্চের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেলে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে লংমার্চ করতেন’

বক্তারা আরও বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়লেন আন সি-ইয়ং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়লেন আন সি-ইয়ং

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব নম্বর-ওয়ান আন সি-ইয়ং ব্যাডমিন্টনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে সরাসরি দুই গেমে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসে মেয়েদের একক ইভেন্টে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জিতেছেন। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি প্রথম নারী শাটলার হিসেবে এশিয়ান গেমসে এককে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

মঙ্গলবার নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে আন ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-৯ ব্যবধানে পরাজিত করেন। ম্যাচটি ছিল একতরফা, যেখানে আন শুরুতে কিছুটা ধীরগতির হলেও দ্রুতই ছন্দে ফিরে আসেন। বর্তমান অলিম্পিক ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তার এই পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।

প্রথম গেমে আন কিছু সময় পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। একটি দুর্দান্ত স্ম্যাশের মাধ্যমে ইয়ামাগুচিকে কোর্টের বাইরে ছিটকে দেওয়ার পর নেটের কাছে ব্যাকহ্যান্ড ফ্লিকে প্রথম গেম নিশ্চিত করেন তিনি।

দ্বিতীয় গেমে প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ দেননি আন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাডমিন্টন খেলতে থাকা আন দ্রুত বড় ব্যবধান তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ইয়ামাগুচির লম্বা সার্ভ রিটার্নে ম্যাচ শেষ হয়। এরপর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হাঁটু গেড়ে বসেন আন।

এই জয়ের মাধ্যমে ২৪ বছর বয়সী শাটলারের জন্য একটি দুর্দান্ত বছর আরও স্মরণীয় হয়ে উঠলো। ২০২৬ সালে এটি তার অষ্টম শিরোপা। এ বছর অল ইংল্যান্ড ওপেনে রানার্সআপ হওয়ার পর তিনি কোনো টুর্নামেন্টেই হার মানেননি; যদিও জাপান ওপেন থেকে চোটের কারণে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। আগস্টে নয়াদিল্লিতে তিনি নিজের দ্বিতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন।

ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে এশিয়ান গেমসে এটি আন সি-ইয়ং এর দ্বিতীয় জয়। এর আগে নারী দলীয় ইভেন্টেও তিনি জাপানের এই তারকাকে পরাজিত করেছিলেন।

তবে এশিয়ান গেমসে আনকে কেবল কোর্টের পারফরম্যান্সেই নয়, আবেগের প্রকাশেও আলোচনায় দেখা গেছে। আগের এক ম্যাচে হতাশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে তিনি পরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এমনকি গ্যালারিতে থাকা বাবাকে মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমি মাঠে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, আর তিনি আরামে বসে শুধু উৎসাহ দিচ্ছেন।’

এদিকে মেয়েদের দ্বৈত ইভেন্টেও দক্ষিণ কোরিয়া সোনা জিতেছে। লি সো-হি ও বেক হা-না চীনের লিউ শেংশু ও তান নিংকে ২৬-২৮, ২১-১৮, ২১-১৮ গেমে পরাজিত করে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

ফাইনালের শেষ গেমে ১৮-১৮ সমতায় থাকা অবস্থায় লিউ চোট পান। গোড়ালির চোট নিয়েও খেলা চালিয়ে গেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার জুটি।

মিশ্র দ্বৈতে চীন সোনা জিতেছে। জিয়াং ঝেনবাং ও ওয়েই ইয়াশিন ইন্দোনেশিয়ার আমরি শ্যানাউই ও নিতা ভিওলিনা মারওয়াহকে ২১-১৯, ২১-৮ ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন।

তবে আন সি-ইয়ং সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন—এশিয়ান গেমসে এককে দ্বিতীয় সোনা জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত আমিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


জামায়াত আমিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ ও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, অ্যাটাচে লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। জামায়াতের নেতারা এ সময় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. মোবারক হোসাইন, ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে আসছে নতুন পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে আসছে নতুন পরিবর্তন

ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রতি তিন মাসের কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকটি কর মেয়াদের জন্য আলাদাভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্নটি জমা দিতে হবে। পূর্বে এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এখন সেটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।

মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়কে আরও কার্যকরী করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধন করা হবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর আওতায়, প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে যদি ১৫তম দিনটি সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিছু প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলি এই সুবিধার আওতায় আসবে। ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলিও এই সুবিধা পাবে। যারা শূন্য রিটার্ন জমা দেন, তারাও এই সুবিধা পাবেন। তারা কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

অধ্যাদেশের খসড়াটি এখনো একটি ধাপ অতিক্রম করতে বাকি রয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এটি ভেটিং করবে। মন্ত্রিসভা সেই ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার

মার্কিন সেনা ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর, এই প্রত্যাহারকে ইরান এবং তার মিত্ররা নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং দেশটিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

মার্কিন বাহিনী বুধবারের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের এই যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ইরাকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরান ও তার মিত্ররা ইরাকে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ইসলামিক স্টেটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিপক্ষরাও আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মন্তব্য করেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ইরাক ছাড়ার ফলে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সেনাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি ইরাকের মধ্যে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছিল। এখন সেই সামরিক উপস্থিতি চলে যাওয়ায় ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

আল-বাহাদলি আরও বলেন, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রচার করবে এবং নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘আমেরিকান প্রকল্পের চরম পরাজয়’।

রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান উদযাপন করব। একই সঙ্গে আমাদের দেশের ওপর বিদেশি শক্তির ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও উদযাপন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরাক প্রমাণ করেছে, বিদেশি শক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায় না। বরং জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব।’

এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি চলে যাওয়াকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাই রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে ইরাক নিজের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ইরাকিই দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায়। এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এখন চলে গেলে দেশে নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এটাই ইরাকিদের সবচেয়ে বড় ভয়।’

ইরাকে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ উপস্থিতি

২০০৩ সালে সুন্নি মুসলিম শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মার্কিন বাহিনী ইরাকে হামলা চালায়। এরপর তারা দেশটি দখল করে এবং শিয়া-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে সহায়তা করে। ২০১১ সালের শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা ইরাকে বিদ্রোহ দমনের অভিযান চালায়। এরপর তারা দেশটি থেকে চলে যায়।

তবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে। ওই যুদ্ধে ইসলামিক স্টেট পরাজিত হয়।

‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হন। আফগানিস্তানে চলা যুদ্ধের তুলনায় ইরাকে প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। আফগানিস্তানের যুদ্ধ ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মাঝখানে ইরাক

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান মাঝে মাঝে ইরাকের ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে বারবার হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ৭ জনই ইরাকে নিহত হন। সর্বশেষ জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%