শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৫ এম
বুধবার রাতে ব্রুনো ফার্নান্ডেজের চেশায়ারের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর বিরুদ্ধে খেলতে ইতালিতে অবস্থান করছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক। তাঁর পরিবারের সদস্যরা তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। চেশায়ার পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে বেশ কিছু জিনিস চুরি হয়েছে এবং এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি বাড়ির পেছনের বাগানে তিন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেখতে পান। সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, তাদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, ফার্নান্দেজের বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ডেভ জারভিস জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে চোরেরা পাঁচ মিনিটেরও কম সময় বাড়ির ভেতরে ছিল। চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফার্নান্দেজের পরিবারের নিরাপদে বাইরে থাকার বিষয়টি বড় স্বস্তির।
ব্রুনোর জন্য রাতটি হতাশার ছিল। কোমোর কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়হীন হয়ে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের পর দলের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান ফার্নান্দেজ। তিনি মনে করেন, দলের আরও সাহসী ও আক্রমণাত্মক হওয়া প্রয়োজন।
ফার্নান্দেজের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন কোচ মাইকেল কারিক। তিনি বলেন, "যে কৌশলই নেওয়া হোক, খেলোয়াড়েরা যদি সামনে-পেছনে দৌড়ানো ও প্রয়োজনীয় পরিশ্রম না করেন, তাহলে কোনো কৌশলই কাজে আসবে না।" মাঠের এই টানাপোড়েনের মধ্যে অধিনায়কের বাড়িতে চুরির ঘটনা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
এটি চেশায়ারে কোনো তারকা ফুটবলারের বাড়িতে চুরির প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির রুবেন দিয়াসের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। জ্যাক গ্রিলিশ, রাহিম স্টার্লিং ও রিয়াদ মাহরেজও একই এলাকায় চুরির শিকার হয়েছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বর্তমানে ইংলিশ লিগে ১৩তম স্থানে রয়েছে। আগামী রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা—চাপের মুখে থাকা কারিক ও তাঁর দলের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের সবচেয়ে বড় তৈরি পোশাক প্রদর্শনী ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এ বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদল এবং স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতাদের নিয়ে একটি জমকালো নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার আয়োজন করা হয় ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ পরিকল্পনা ও বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বার্সেলোনার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতালানিয়া বিএনপির সভাপতি শফিউল আলম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান এবং বিকেএমইএ পরিচালক মো. আব্দুল হান্নান। বাংলাদেশ থেকে আসা সকল এক্সিবিটরস, বার্সেলোনার বাংলাদেশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং আয়োজক প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান এনডিসি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে দূতাবাস ও ইপিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"
বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, স্পেনের এই মেলা ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। তাঁরা ভবিষ্যতে মেলার আকার ও অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন মূল্যবান পরামর্শ দেন এবং ইপিবি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কমিউনিটি নেতারা এবং স্পেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তারা বলেন, স্পেনে বাংলাদেশি টেক্সটাইল পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই এক্সপোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও সুদৃঢ় ও বড় পরিসরে নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সব ধরনের লজিস্টিক ও সামাজিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আগামী দিনগুলোতে মেলায় বাংলাদেশের আরও সফল উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। শেষে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সফল আলোচনার পর নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেন বর্তমানে একটি বিপর্যস্ত দেশের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে আঞ্চলিক প্রভাব, ভূরাজনীতি ও অস্ত্রের হিসাবের আড়ালে রয়েছে। ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধুমাত্র সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাত অথবা সৌদি আরব ও ইরানের ছায়াযুদ্ধ হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইয়েমেনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেঙে পড়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব, অস্ত্রের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা। এই সংঘাতে কিছু পক্ষ সামরিক বা রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে, আবার কেউ দর-কষাকষির ক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে ইয়েমেনের সাধারণ জনগণকে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিরাপত্তা পরিষদকে জানান যে, দেশটিতে একাধিক যুদ্ধফ্রন্টে তীব্র লড়াই আবার শুরু হয়েছে। হুথিদের অগ্রযাত্রা, সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার মধ্যে সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলেও তা রাজনৈতিক সমঝোতার বিকল্প হতে পারে না। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো—যুদ্ধের ফলে কারা কী অর্জন করছে, কারা কী হারাচ্ছে এবং লাভ-ক্ষতির এই হিসাব শেষ পর্যন্ত কাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে?
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের তাৎক্ষণিক সূত্রপাত ঘটে ২০১১ সালের আরব বসন্ত-পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের ব্যর্থতা এবং ২০১৪ সালে হুথিদের রাজধানী সানা দখলের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের পক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মাত্রা পায়। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান এবং বিভিন্ন ইয়েমেনি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্বার্থ একে আরো জটিল করে তোলে।
যুদ্ধটিকে কেবল বাইরের শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা হিসেবে ব্যাখ্যা করাও অসম্পূর্ণ। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কীভাবে বণ্টিত হবে, বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কেমন হবে, সম্পদ ও রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং কোন গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালনা করবে—এসব অভ্যন্তরীণ প্রশ্নও সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে। বিদেশি শক্তির সহায়তা স্থানীয় পক্ষগুলোর সামরিক সামর্থ্য বাড়ালেও ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিভাজন ও নেতৃত্বের সংকটের বিকল্প সমাধান তৈরি করতে পারেনি।
হুথিরা, যারা নিজেদের আনসার আল্লাহ নামে পরিচয় দেয়, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে—বিশেষত রাজধানী সানাসহ জনবহুল এলাকার ওপর—দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই নিয়ন্ত্রণ তাদের প্রশাসন পরিচালনা, স্থানীয় রাজস্ব সংগ্রহ, নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এবং নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখার সুযোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বা সংঘাত—দুই ক্ষেত্রেই এই বাস্তব নিয়ন্ত্রণ তাদের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি সামরিক তৎপরতা হুথিদের প্রভাবকে ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও আলোচনায় এনেছে। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি বা হামলা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে পারে। তবে এর সঙ্গে পাল্টা সামরিক হামলা, নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকিও যুক্ত।
হুথিদের এই অর্জনকে পুরো ইয়েমেনের লাভ হিসেবে দেখা যায় না। একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হওয়া এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক বিষয় নয়। একইভাবে, হুথিদের ওপর ইরানের সমর্থনের মাত্রা ও ধরন নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়ন থাকলেও তাদের স্থানীয় ভিত্তি, নিজস্ব নেতৃত্ব এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে সংঘাতের ব্যাখ্যা করা যায় না।
সৌদি আরবের লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রভাব সীমিত করা, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা দেওয়া এবং নিজের দক্ষিণ সীমান্তকে নিরাপদ রাখা। ২০১৫ সালে সামরিক অভিযান শুরুর পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হুথিরা সানা ও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অর্থাৎ সৌদি আরব সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি।
২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর রিয়াদ সামরিক সম্পৃক্ততা কমিয়ে আলোচনার পথ অনুসন্ধান করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন সংঘাত, সৌদি বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথিদের হামলা এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই পুনরায় তীব্র হওয়ায় সেই কৌশলের সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। সৌদি আরবের সামনে আবার সামরিক অভিযান বাড়ানো অথবা আলোচনার মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সৌদি আরবের জন্য যুদ্ধের সম্ভাব্য লাভ হলো, ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বজায় রাখা এবং সীমান্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করা। কিন্তু এই লাভ নিশ্চিত নয়। সামরিক ব্যয়, সীমান্তের অনিশ্চয়তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য যুদ্ধ কেবল প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত।
ইরান ইয়েমেনের সংঘাতকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাবের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে তাদের অবস্থান উপসাগরীয় নিরাপত্তার হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে হুথিদের অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপকে সরাসরি ইরানের নির্দেশে পরিচালিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ইরানের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু হুথিদের নিজস্ব নেতৃত্ব, স্থানীয় ক্ষমতার ভিত্তি এবং ইয়েমেনকেন্দ্রিক স্বার্থও আছে। ইরানের পক্ষে এই সম্পর্ক আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে; একই সঙ্গে সংঘাতের বিস্তার ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ, পাল্টা পদক্ষেপ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়ায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়াতে পারা আর নিজের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা এক বিষয় নয়। ইয়েমেনে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরবের ওপর নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর পড়তে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। পরে দেশটি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানীয় বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন দেয়। বন্দর, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ও প্রভাব দেশটির কৌশলগত হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের ইয়েমেননীতি সব সময় এক ছিল না; দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের সমর্থিত পক্ষগুলোর লক্ষ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
এই বাস্তবতায় আমিরাতের সম্ভাব্য লাভ হলো, স্থানীয় মিত্রদের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সমুদ্রপথের কাছে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা। কিন্তু স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়লে বা ইয়েমেন আরো বিভক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। সামুদ্রিক বাণিজ্য, বন্দর, সরবরাহব্যবস্থা ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির জন্যও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকলেও যুদ্ধের বিস্তার আমিরাতের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষা করা। সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সহায়তা এই সরকারের টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সরকারের পক্ষে থাকা সব গোষ্ঠীর লক্ষ্য এক নয়। বিভিন্ন স্থানীয় বাহিনীর নিজস্ব রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির বিশ্লেষণে দক্ষিণের রাজনৈতিক ও সামরিক পুনর্বিন্যাস এবং সরকারপন্থী শিবিরের বিভক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিভাজন হুথিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল গড়ে তোলাকে কঠিন করে।
সরকারের জন্য যুদ্ধের সম্ভাব্য লাভ হলো, সামরিক অগ্রগতির মাধ্যমে ভূখণ্ড ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখা। কিন্তু শুধু ভূখণ্ড পুনর্দখল করলেই কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। জনগণের আস্থা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বেতন ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নের সমাধানও জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, নজরদারি প্রযুক্তি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিষেবার চাহিদা বাড়াতে পারে। ফলে অস্ত্র উৎপাদক ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হয়। তবে কোন প্রতিষ্ঠান ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে কতটা লাভ করেছে, তা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট চুক্তি, বিক্রির হিসাব, সরবরাহের সময়কাল ও আর্থিক প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে যুদ্ধ থেকে লাভবান বলে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।
এখানে বাণিজ্যিক লাভ ও রাষ্ট্রের কৌশলগত লাভও আলাদা করে দেখা দরকার। অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়তে পারে, কিন্তু সেই অস্ত্র ক্রয়কারী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে কি না, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না কিংবা সংঘাতের আর্থিক মূল্য কত—এসব আলাদা প্রশ্ন। অস্ত্রের বাজারের চাহিদা বাড়া মানেই কোনো রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি বা জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি পাওয়া নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা শক্তির কাছে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব এবং সুয়েজ খালসংযুক্ত বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব নৌপথে হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা সহায়তা তাদের নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু সামরিক হামলা দিয়ে নৌপথের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান এক জিনিস নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল বলে চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণে উল্লেখ রয়েছে; তবে সেটি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করেনি। ২০২৬ সালে নতুন করে সংঘাত বাড়ার ঘটনাও দেখায়, সীমিত সামরিক বা কূটনৈতিক সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দেয় না।
পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ: একদিকে আন্তর্জাতিক নৌপথ ও মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষা, অন্যদিকে এমন সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করে। সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বাণিজ্যিক দিক থাকলেও তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক ইয়েমেননীতির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা যাবে না; নিরাপত্তা, কূটনীতি, বাণিজ্য এবং মানবিক দায়—সব দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুদ্ধের লাভ-ক্ষতির সবচেয়ে স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের জীবনে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইয়েমেনে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় রয়েছে, ৫২ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী ২২ লাখের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। দেশটির স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত; স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাত্র ৫৯.৩ শতাংশ পুরোপুরি কার্যকর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু খাদ্যসংকটের চিত্র নয়; এটি দীর্ঘ সংঘাতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতিরও প্রমাণ। কর্মসংস্থান ও আয় কমে গেলে পরিবার খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ বহন করতে পারে না। কৃষি ও পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষ জমি, ঘরবাড়ি, কাজ ও সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্ক হারায়। শিশুদের শিক্ষা বিঘ্নিত হয় এবং অপুষ্টি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের বিশেষ দূত নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার সতর্কতা দেন। একই মাসে জাতিসংঘের মানবিক কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগস্টের শুরু থেকে দুই লাখের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা বলা হয়। ওই সময় বেসামরিক হতাহত ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপও বাড়ছিল।
এ ক্ষতির দায় এককভাবে কোনো একটি পক্ষের ওপর চাপিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। হুথিদের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, বিভিন্ন পক্ষের সামরিক অভিযান, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বাধা এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভক্তি—সবই পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সংঘাতে জড়িত সব পক্ষেরই বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনা রক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইয়েমেনের অবস্থান এমন একটি সামুদ্রিক করিডরের কাছে, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজকে দীর্ঘতর বিকল্প পথে চলতে হতে পারে; এতে পরিবহন সময়, জ্বালানি ব্যয়, বীমা প্রিমিয়াম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
তবে প্রতিটি হামলা বা উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে একই মাত্রার প্রভাব পড়ে না। প্রভাব নির্ভর করে হামলার পরিমাণ, জাহাজ চলাচলের প্রকৃত বিঘ্ন, বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ, বীমা ও জ্বালানির মূল্য এবং সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় তার ওপর। তাই ইয়েমেনের যুদ্ধের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক দাবি করতে হলে আলাদা অর্থনৈতিক তথ্য ও সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো বিকল্প পরিবহনসেবা বা নিরাপত্তা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাড়তি চাহিদা পেতে পারে। কিন্তু আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা বেশি ব্যয়ের মুখে পড়তে পারেন। ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
তাহলে কার লাভ, কার ক্ষতি?
ইয়েমেনের যুদ্ধে কোনো পক্ষের লাভ-ক্ষতি একই মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না। হুথিরা ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রেখে দর-কষাকষির ক্ষমতা পেয়েছে; ইরান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চাপ সৃষ্টির সুযোগ পেয়েছে; সৌদি আরব ও আমিরাত ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে নৌপথের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ থেকেছে, আর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের জন্য চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু এই সম্ভাব্য লাভগুলোর কোনোটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বা নিট লাভ নয়। সামরিক সাফল্য পাল্টা হামলা ডেকে আনতে পারে; ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করে না; আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে পারে; আর সামুদ্রিক নিরাপত্তার নামে নেওয়া পদক্ষেপও সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হুথিদের স্থানীয় রাজনৈতিক ভিত্তি, ইরানের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং ইয়েমেনের সরকারের দুর্বলতা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা না করলে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন।
সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ—কারণ তারা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি বা বাস্তুচ্যুতি শিকার হচ্ছেন না; একই সঙ্গে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধের পক্ষগুলো কতটা ভূখণ্ড দখল করল, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করছে তারা কতটা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে এবং জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে তার ওপর।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন জাতিসংঘের নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক আলোচনা, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা, ইয়েমেনের বিভক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সৌদি আরব, ইরান, আমিরাত এবং অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রেরও এমন ভূমিকা প্রয়োজন, যা স্থানীয় পক্ষগুলোকে আলোচনার দিকে নিয়ে যায়—শুধু নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার দিকে নয়।
শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনের যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো: বিভিন্ন পক্ষ এতে সামরিক, রাজনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধা খুঁজছে, অথচ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ইয়েমেনের রাষ্ট্র ও সমাজ তত দুর্বল হচ্ছে। যুদ্ধের প্রকৃত সাফল্য তাই কার হাতে কতটা ভূখণ্ড বা প্রভাব গেল, তা দিয়ে নয়; বরং ইয়েমেনের মানুষ কতটা নিরাপদ, ক্ষুধামুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন ফিরে পেলেন, তা দিয়ে বিচার করা উচিত।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি ও চ্যাথাম হাউস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সাধারণত ভাজা, চর্বিযুক্ত খাবার এবং মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত খাবার হজম করার জন্য শরীরের পরিপাকতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। সাধারণত সুস্থ মানুষের শরীর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হলেও, যাদের হৃদযন্ত্রের ধমনিতে সংকোচন রয়েছে, তাদের জন্য এটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে, একবারের জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়া হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে উঠবে, এমন নয়। সাধারণত হৃদযন্ত্রের পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক ঘটে। করোনারি ধমনিতে রোগের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ফলে এ ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভারী খাবার অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ ও চর্বির প্রভাব
নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ এবং পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমার প্রবণতা বাড়াতে পারে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বদহজম ভেবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না।
ভারী খাবারের পর বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব বা পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। তবে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ বদহজমের মতো মনে হতে পারে। তাই বুক বা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি অনুভব হলে সেটিকে গ্যাসের সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং পরিমাণ এবং খাওয়ার অভ্যাসে সংযম রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়া, ধীরে ধীরে খাওয়া এবং অতিরিক্ত চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন চালিয়ে যেতে হবে। লবণ, পানি এবং খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের ফুকুওকা বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, কারণ বিমানের কার্পেটের নিচে সাপ পাওয়া গেছে। সাপটি প্রথমে বিমানের এক মেকানিকের নজরে আসে।
সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার, তবে এটি বিষধর নয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর একজন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সাপটিকে উদ্ধার করেন।
বিমানটি ইজুমো বিমানবন্দর থেকে ফুকুওকায় পৌঁছানোর পর কাগোশিমা প্রশাসনিক এলাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় সাপটি দেখতে পাওয়ার পর ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, সাপটি বন্য পরিবেশ থেকে বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সাপটি কীভাবে বিমানের ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের জন্য জাপানের বিমান সংস্থা জাপান এয়ার কমিউটার দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কোনো বিমানের যাত্রীদের বসার জায়গায় সাপ পাওয়ার ঘটনা এটি প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
বিমান সংস্থাটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘আমাদের জানামতে, বিমানের যাত্রীকক্ষে সাপ ঢুকে পড়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।’
এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে হাওয়াইগামী একটি ফ্লাইটে ভুল করে সাপ নিয়ে উঠেছিলেন এক ব্যক্তি।
২০২২ সালেও কেবিনের ভেতরে সাপ দেখতে পাওয়ায় এয়ারএশিয়ার একটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল।
সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ