মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ পি.এম
নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, অহরহ ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন।
তিনি বলেন, মানুষ যদি নিজের কর্মস্থলে যেতে, ব্যবসা পরিচালনা করতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে তা স্বাভাবিক জনজীবনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক আরিফ আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাবের কারণে যেন আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টায় নগর পাঠাগার মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার বাছাইকৃত অগ্রসর দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তরবিয়তী সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দারসুল কোরআন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, প্র্যাকটিক্যাল ওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
সভায় দারসুল কোরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ সালাহউদ্দীন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর সহ-সভাপতি ডাঃ শামীম ভূঁইয়া।
মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী ও মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, বন্দর থানা পশ্চিম সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামান, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ এবং ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের ডাসারে গৃহবধূ পুতুল সমাদ্দার (৫২) হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী অরুণ সমাদ্দারকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর উপজেলার ধামুসা গ্রামে নিজ বসতবাড়ি থেকে পুতুল সমাদ্দারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক ছিলেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মাদারীপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, পুতুল সমাদ্দারকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী অরুণ সমাদ্দারকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ডাসার থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছোট ভাই রতন নাগ। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনার নেতৃত্বে এবং ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অরুণ সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. করিম সিকদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। অভিযুক্ত করিম সিকদার উপজেলার ৩ নম্বর তেলিখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তেলিখালী এলাকার মৃত মোকলেস উদ্দিন শিকদারের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি তার বাবার সাথে বাড়ির পাশে নদীর ঘাটে নৌকা মেরামতের কাজ দেখতে যায়। সেখানে শিশুটিকে বসিয়ে রেখে তার বাবা নৌকা মেরামতের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে বাড়িতে যান। এই সুযোগে অভিযুক্ত করিম সিকদার শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশে থাকা একটি ধৈঞ্চা বনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীকালে বাবা ফিরে এসে শিশুটিকে না দেখতে পেয়ে সেখানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ধৈঞ্চা বন থেকে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটির শরীরে কামড়ের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির পরিবার ভাণ্ডারিয়া থানায় হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত করিম সিকদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মরহুম সালাউদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কুলখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এটি বিএনপির সদ্য প্রয়াত বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর শ্যামপুরে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শ্যামপুরের লাল মসজিদ ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কুলখানি ও দোয়া মাহফিলে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
এই সময় সালাউদ্দিন আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ করেন।
দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও নাসির উদ্দিন অসীম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত করার জন্য সমর্থন প্রদান করেছে। শুক্রবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসির বিশেষ কংগ্রেসের সভায় এই সমর্থন প্রকাশ করেন সংস্থাটির প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম।
সালমান ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ফিফা সভাপতি হিসেবে তার নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও এএফসির কিছু সদস্য সমর্থন নাও দিতে পারে, তবুও অধিকাংশ সদস্য তার পক্ষে থাকবে।
এএফসির সদস্যসংখ্যা ৪৭। এই ভোটগুলো ইনফান্তিনোর আরেক মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফিফার নির্বাচন আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনোর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। বর্তমানে কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করেনি।
টোকিওতে বক্তব্য দেওয়ার সময় সালমান ইনফান্তিনোকে আলিঙ্গন করে বলেন, “ফিফা সভাপতি হিসেবে নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য আপনি যখন চেষ্টা করছেন, তখন আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমাদের পূর্ণ অঙ্গীকার এবং সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি...। আমি নিশ্চিত, আমার অধিকাংশ সদস্যের অনুভূতিও এমনই। আমি আপনাকে সে কথাই বলেছি।”
এদিকে, সালমান এই সমর্থন জানিয়েছেন যখন উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করছে। উয়েফা নতুন মেয়াদে ইনফান্তিনোকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় না। তারা ফিফা সভাপতির বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বিক্রি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। ওই বিরোধিতায় সালমানের এএফসিও যোগ দিয়েছিল।
সালমান এই বিরোধিতা সম্পর্কে বলেন, “জিয়ান্নি, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। অতীতে আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, যা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু আমি মনে করি না, এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত। গত কয়েক দিনে জুরিখে আমাদের বৈঠকে আপনি স্পষ্ট করেছেন যে আমাদের মধ্যে প্রকৃত বোঝাপড়া রয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ