১১:০৮ এম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে পিকআপযোগে একটি বিশাল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কালিয়াকৈর থেকে শুরু হয়ে গাজীপুর-১ আসনের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চন্দ্রায় এসে শেষ হয়।
সকাল গড়াতেই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌর এলাকা থেকে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানসহ নেতাকর্মীরা চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসতে থাকেন। ধীরে ধীরে চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে, বাসস্ট্যান্ড চত্বর ও গোলচত্বর এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মহাসড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরাও এই মিছিল উপভোগ করেন। সমবেত হওয়ার পর বের হওয়া বিশাল র্যালিটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় পুরো এলাকা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। সেই চেতনাকে ধারণ করেই বিএনপি রাজনৈতিক ময়দানে এগিয়ে যাচ্ছে। উক্ত কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে অসহায় শ্রমিক আব্দুল জব্বার আলীর পাশে দাঁড়াল নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর-১ আসনের এমপি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে ঐক্য, সংহতি আর দেশকে ভালোবাসা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিয়েছিলেন, আমাদেরকেও সেই আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যের দিন। সেদিন যেমন সিপাহী আর জনতা এক হয়েছিল, আজও শ্রমিক, চালক, মালিক আর সাধারণ মানুষকে এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
র্যালির কারণে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। র্যালি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্ব-স্ব এলাকায় ফিরে যান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি বাড়ছে, ক্ষতিপূরণ চাইবে বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন