ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে ডেকে এনে মহাবিপদে ভারত, দেনায় ডুবছে ফুটবল ফেডারেশন


ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে ডেকে এনে মহাবিপদে ভারত, দেনায় ডুবছে ফুটবল ফেডারেশন

ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি বড় আয়োজন করেছিল। কিন্তু এই উদ্যোগের ফলে ভারত বিপাকে পড়েছে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের জন্য দুটি প্রীতি ম্যাচের পুরো পারিশ্রমিক এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

গত ৩ নভেম্বর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ৬ নভেম্বর সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত। উভয় ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতায়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামার বিপক্ষে একটি ম্যাচও খেলেছিল ভারত। পানামা পুরো পারিশ্রমিক বুঝে পেলেও ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এখন পর্যন্ত পাওনা অর্থের অর্ধেকই পেয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইএফএফের কাছে ব্রাজিলের জন্য প্রায় ১৯ কোটি রুপি এবং উরুগুয়ের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি দেনা রয়েছে। মূলত টিকিট বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় এআইএফএফ আর্থিক সংকটে পড়েছে।

আরও পড়ুন: সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিলেট ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায়

ভারত ম্যাচগুলো থেকে ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি আয়ের আশা করেছিল। কিন্তু টিকিটের চড়া দামের কারণে দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পরে কলকাতার তিন ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের জন্য ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হয়। ব্রাজিলের ম্যাচে একটি কিনলে আরেকটি বিনা মূল্যে পাওয়ার অফারও চালু করা হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া পরিশোধের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০ কোটি রুপির একটি স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু সভায় সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই অর্থ ব্যবহার করা উচিত নয়। ফেডারেশনের সহসভাপতি এনএ হারিসও মনে করিয়ে দেন, নির্বাহী কমিটি স্থায়ী আমানত থেকে অর্থ না তোলার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল।

এই স্থায়ী আমানতটি প্রফুল প্যাটেলের সভাপতিত্বের সময় করা হয়েছিল। ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত প্যাটেলও আমানত ভাঙার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পরে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হারিসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, টিকিট বিক্রির অংশীদারের কাছ থেকে পাওয়া ২৫ কোটি রুপির অগ্রিম অর্থের একটি অংশও ফেরত দিতে হতে পারে ফেডারেশনকে। কারণ, ওই অর্থ ছিল শর্তসাপেক্ষে ফেরতযোগ্য অগ্রিম।

আরও পড়ুন: স্পিনারদের জন্য খুলছে সিলেটের উইকেট

ভারতে প্রথমবার খেলতে এসে তারকাখচিত দল নিয়ে এসেছিল ব্রাজিল। দলে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, পিএসজির অধিনায়ক মারকিনিয়োস ও চেলসির এস্তেভাও।

এত বড় তারকাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক দায় মেটাতে এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। দেনা পরিশোধের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদনও তারা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২২ থেকে ইউক্রেনে ২১২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পশ্চিমারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


২০২২ থেকে ইউক্রেনে ২১২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পশ্চিমারা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউক্রেনকে প্রায় ২১২ বিলিয়ন ডলার সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এই অর্থ বিভিন্ন অনুদান ও ঋণের মাধ্যমে সরাসরি ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য দেওয়া সহায়তা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

রুশ বার্তা সংস্থা তাসের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে, যা ইউক্রেনকে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে ৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা করেছে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে প্রায় ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, জাপানের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, কানাডার কাছ থেকে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্যদেশ থেকেও দ্বিপক্ষীয় আর্থিক সহায়তা ও ঋণ পেয়েছে কিয়েভ। এর মধ্যে জার্মানি প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, নরওয়ে ৭১৭ মিলিয়ন ডলার এবং ফ্রান্স ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

এদিকে, রাশিয়া বারবার দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া আর্থিক ও সামরিক সহায়তা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না। তথ্যসূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজারবাইজানের টানাপোড়েন নিরসনে বাকু সফরে যাচ্ছেন এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


আজারবাইজানের টানাপোড়েন নিরসনে বাকু সফরে যাচ্ছেন এরদোগান

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান রোববার বাকু সফরের পরিকল্পনা করেছেন, যা দুই ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র তুরস্ক ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রকাশ্য কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর লক্ষ্যে। তিনি আজারবাইজানের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করবেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত সেপ্টেম্বর মাসে আজারবাইজান স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তন আনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নতুন বিধিতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাকের অতিরিক্ত উপকরণ নিষিদ্ধ করা হয়, যার ফলে শ্রেণিকক্ষে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

অন্যদিকে, তুরস্কের এরদোগান সরকার দেশটিতে হিজাব পরার ওপর পূর্বে থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ হয় এবং এর সমালোচনা করে এরদোগানের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ থেকে গড়ে ওঠা ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। দলের নেতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওকতায় সারালও ছিলেন, যিনি আজারবাইজানকে ওই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

তবে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের ক্ষমতাসীন দল ইয়েনি আজারবাইজান এসব মন্তব্যকে দেশটির ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বলে নিন্দা জানায়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজারবাইজান সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দেশটি তুরস্কের ৩১ জন নাগরিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তাদের মধ্যে তুরস্কের বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য এবং কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে এরদোগান তার উপদেষ্টা সারালকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। তবে এর পরও গত ৩০ অক্টোবর আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত তুর্কি নেতাদের সম্মেলনে আলিয়েভ যোগ দেননি। এরদোয়ানের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকেন। তার পরিবর্তে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ সম্মেলনে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান বলেন, ‘বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে ৮ নভেম্বর আজারবাইজান সফরের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এ লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে আলিয়েভের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গোয়েন্দাপ্রধানকে বাকুতে পাঠিয়েছেন।

এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক ও আজারবাইজানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পথে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারে না।’

গভীরতর মতপার্থক্য

বিশ্লেষকদের মতে, হিজাব ইস্যুর বাইরেও দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে আজারবাইজানের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান এবং ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই বিরোধের অন্যতম কারণ।

বাকুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস রিসার্চ সেন্টারের প্রধান এলখান শাহিনোগলু এএফপিকে বলেন, ‘আজারবাইজান ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হলো, বাকু এই জোটে নিজেকে ছোট ভাই হিসেবে দেখতে চায় না। বরং দুই দেশের মধ্যে সমমর্যাদার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক গনুল তোল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হিজাব নিয়ে বিরোধ আসলে আরও গভীর মতপার্থক্যেরই বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি বলেন, আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব, বাকুর ওপর আঙ্কারার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, ইসরাইলকে ঘিরে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এবং আর্মেনিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইসরাইলের সঙ্গে আজারবাইজানের শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে আজারবাইজানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ইসরাইল। এতে তুরস্ক অসন্তুষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের প্রতি এরদোগান সরকারের অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়েছে। এরদোগান ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও তুলেছেন।

অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে তুরস্ক। আজারবাইজানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৯৯০-এর দশকে আর্মেনিয়ার সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল আঙ্কারা। বর্তমানে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি যুক্ত করেছে তুরস্ক।

৮ নভেম্বর আজারবাইজানের বিজয় দিবস। ২০২০ সালে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে কারাবাখ অঞ্চলের শুশা শহর দখলের স্মরণে দিনটি পালন করে দেশটি। ওই বিজয়ে তুরস্কের সমর্থন ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তুর্কি ভাষাভাষী এই দুই মিত্র দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করে। সাম্প্রতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও সামরিক ও জ্বালানি খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আজারবাইজানের তেল ও গ্যাস রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে কাজ করছে তুরস্ক।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ আজারবাইজানের অধিকাংশ নাগরিক শিয়া মুসলিম। তবে কয়েক দশকের সোভিয়েত শাসনের প্রভাবে দেশটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানের প্রতি ঢাকার চাপ, আলোচনা হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানের প্রতি ঢাকার চাপ, আলোচনা হতে পারে

বাংলাদেশ ঢাকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে শুল্ক এবং শুল্কবহির্ভূত বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা দূর করার প্রস্তাব দেবে। আগামী ১ ও ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের (জেডব্লিউজিটি) প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষভাবে ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্কায়ন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়গুলোতে ঢাকা গুরুত্ব দেবে। এ তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বাধাগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ওষুধ ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান, কারিগরি বিধিবিধান এবং স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত (এসপিএস) নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব বাধা দূর হলে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার চাওয়া হবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তুলা, বস্ত্রের কাঁচামাল, রাসায়নিক পণ্য, সিমেন্ট ক্লিংকার ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ, চা, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সম্পর্ক আরো ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দেশটি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ঢাকাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীকে আতিথ্য দিতে আগ্রহী।

এ সফরের সময় বাংলাদেশের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হতে পারে। এর আওতায় নিত্যপণ্য আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথ কর্মদল বৈঠকের পাশাপাশি মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সুতা-কাপড় ও প্রস্তুত চামড়া ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মূল্য ছিল ৬ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। বাংলাদেশ মূলত কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, চা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল। অন্যদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৭১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ও দর-কষাকষি হতে হবে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে। অর্থনৈতিক ভিত্তি বিবেচনায় না নিয়ে কোনো চুক্তি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক সুবিধা (কমপারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) বিবেচনায় নিয়ে আমদানি-রপ্তানির কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য তুলনামূলক সহজে ও সাশ্রয়ীভাবে আমদানি করতে পারে, সেসব বিষয়ে দর-কষাকষিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে যেসব পণ্যের রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে, সেগুলোর বাজার সম্প্রসারণেও জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশকেই নিজ নিজ স্বার্থ বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।

অধ্যাপক হেলাল আরো বলেন, বাণিজ্য আলোচনায় সব সময় সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিকে প্রধান বিবেচনায় রাখা ঠিক হবে না। কোনো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভালো থাকলে সেখানে আমদানি বাড়ানোর চিন্তা না করে রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আবার যে দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমদানির বিষয়ে কার্যকর দর-কষাকষি করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে পণ্যভিত্তিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের আলোকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে পারেননি। এর রাজনৈতিক মূল্যও তাকে দিতে হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়াশিংটন বা তেল আবিব নয়, স্পেন পরিচালিত হবে মাদ্রিদ থেকে: সানচেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


ওয়াশিংটন বা তেল আবিব নয়, স্পেন পরিচালিত হবে মাদ্রিদ থেকে: সানচেজ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আগামী ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে যে স্পেন পরিচালিত হয় দেশের অভ্যন্তর থেকেই, ওয়াশিংটন, তেল আবিব, বুয়েনস আয়ার্স কিংবা মস্কো থেকে নয়। তিনি তার সরকারের দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থি শক্তির প্রভাব মোকাবিলায়।

শনিবার তারাগোনায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে সানচেজ তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিরোধিতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘২৯ নভেম্বর আমরা ভোটের মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দেব, স্পেন শাসিত হবে স্পেন থেকেই। ওয়াশিংটন থেকে নয়, তেল আবিব থেকে নয়, বুয়েনস আয়ার্স থেকে নয়, মস্কো থেকেও নয়—স্পেন থেকেই।’

সানচেজ আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থিদের কোনো ঘাঁটি কিংবা পশ্চাৎভূমিতে পরিণত হতে দেব না।’

ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে সানচেজ বলেন, স্পেন এমন একটি ‘আলোকবর্তিকা’ হয়ে থাকবে, যা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করবে।

সূত্র: আনাদোলু

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%