ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুমার নামাজের পর আল-আকসার খতিবকে আটক করল ইসরায়েলি বাহিনী


জুমার নামাজের পর আল-আকসার খতিবকে আটক করল ইসরায়েলি বাহিনী

জুমার নামাজের সময় পবিত্র আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে আটক করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল-আকসা মসজিদে জুমার খুতবা ও নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তাকে আটক করা হয়।

বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানায়, জেরুজালেম গভর্নরেটের গণমাধ্যম শাখার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

তবে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঠিক কী কারণে বা কোন নির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বিভিন্ন কড়াকড়ি, বিধিনিষেধ এবং আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শেখ আবু জুমআকে আটক করার পর ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্ক আবারও আলোচনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


দেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্ক আবারও আলোচনায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্ক আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কে কোন দলের হয়ে রাজনীতি করছেন, কার আনুগত্য কোথায়, কে অনুপ্রবেশকারী এবং কে প্রক্সি - এ ধরনের নানা বিতর্ক রাজনীতিতে বিদ্যমান। এসব নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা পালটাপালটি অভিযোগ তুলছেন।

সম্প্রতি, এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও অভিযোগ করেছেন যে গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিবিসির খবর অনুযায়ী, তিনি গত ১ অক্টোবর ঢাকার বাইরে ফেনীতে এক জনসভায় বলেন, "তাদেরকে কখনো রাজপথে দেখেছেন? তারা রাজপথে ছিল না। এই তারা এবং ওরা, ঐযে যারা পালিয়ে গেছে, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত - তারা আবার একসঙ্গে হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "বরাবরই তো তারা একসঙ্গে ছিল। ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল, তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্য তাদেরকে গুপ্ত বলা হয়।"

তারেক রহমানের জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দেওয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে, যা দুই দিন পরে প্রকাশিত হয়।

ঢাকায় বাইতুল মোকাররমের সামনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, "বিশাল বিশাল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি আসার কথা আসে নাই, জামায়াত-শিবির লড়াই করে জীবন দিয়েছে। আপনি সেই জামায়াত-শিবিরকে আজ গুপ্ত বলেন। আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত।"

তবে গুপ্ত রাজনীতি প্রসঙ্গটি দুই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্যান্য অনেক নেতা এবং বিশেষত দলের কর্মীরাও এই বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন প্রক্সি সংগঠন তৈরি করে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, "এ জুলাইয়ের নামে বিভিন্ন দোকান খোলা, সাইনবোর্ড খোলা - এগুলোর আশি শতাংশই জামায়াত-শিবিরের।" কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এ যে বেনামি রাজনীতি যেটাকে বলা হচ্ছে গুপ্ত, রাজনীতিতে এ শব্দটি আসল কীভাবে?

আর রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার এই প্রবণতা কি দলগুলোর মধ্যে বিভাজন আর অবিশ্বাস-সন্দেহ বাড়াচ্ছে? কেউ যখন পরিচয় গোপন করে তার ভিন্ন আদর্শের বা ভিন্ন চিন্তার কোনো দলে অনুপ্রবেশ করে রাজনীতিতে তৎপর থাকেন, পরে নিজের সুবিধাজনক সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে নিজের পছন্দের আদর্শের দলের জন্য প্রকাশ্যে আসেন- সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কিছু উদাহরণ আলোচনায় এসেছে, বিতর্ক হয়েছে।

আর এ আলোচনায় প্রশ্ন উঠছে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে। ‘গুপ্ত রাজনীতির’ প্রসঙ্গ যেভাবে সামনে এলো? বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রথম জোরালো আলোচনা শুরু হয় মূলত: ২০২৪ সালে। তখন ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে থাকেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা।

আর তখনই একটা অভিযোগ ওঠে যে এইসব নেতাদের কেউ কেউ এর আগে গোপনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তোলা হয় মূলত: বিএনপির ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "তাদেরকে তো চেনাই যাচ্ছে না। তাদের পলিটিক্সে কারা, কী করছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। তাদের কমিটিগুলোও তারা প্রকাশ করে না।"

এছাড়া গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্রশিবির কৌশলে ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য তৈরির চেষ্টা করেছে এমন দাবিও করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, "তারা তো প্রকাশ্যে নেই। তাদের কাউকে তারা ডিবেটিং সোসাইটিতে পাঠায়, কাউকে তারা সাংবাদিক সমিতিতে পাঠায়। এভাবে তারা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে আধিপত্য বা দখল তৈরি করে।"

বাংলাদেশে বিশেষত: আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি ছাত্রদল। একইসময়ে ছাত্রশিবিরও ছিল একরকম নিষিদ্ধ। তবে অভিযোগ হচ্ছে, ছাত্রদলের প্রকাশ্য কমিটি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবির প্রকাশ্যে কমিটি দেয়নি। এমনকি ৫ আগস্ট পরবর্তী উন্মুক্ত রাজনীতিতেও দলটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে আনছে না।

যদিও শিবির অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করছে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, "ছাত্রদল তো তিন-চার বছরে মনে হয় ত্রিশ থেকে চল্লিশটা কমিটি দিতে পেরেছে সারা দেশে। এটাকে তারা মনে করে যে বিশাল ব্যাপার। অথচ আমরা প্রতি বছর জানুয়ারিতে আমরা আমাদের একশত বত্রিশটি শাখায় কমিটি করি। প্রতিটা কমিটি আপনি শিবিরের ওয়েবসাইটে পাবেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও আপনি পাবেন। কিন্তু এরপরও ছাত্রদল বলবে যে গুপ্ত।"

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সবগুলো ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন ঘোষণা হয় না - এমন প্রশ্নে এস এম ফরহাদ বলেন, "সবখানেই কমিটি দেওয়া হয়।"

তিনি আরও বলেন, "এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো হলে রাজনীতি থাকবে কি-না সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে। ফলে এই বিতর্কের সুরাহা আগে হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি প্রশাসনকে মতামত জানায় এর পক্ষে তাহলে আমরা হলগুলোতেও কমিটি দেব। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যা নেই, সেখানে আমরা হল পর্যায়েও কমিটি দিয়েছি।"

এছাড়া ছাত্রশিবির দাবি করছে, তাদের কমিটি ছোট হয়। ঢালাও দুই/তিনশত সদস্য বা তার বেশি লোক নিয়ে তারা কমিটি করেন না। কিন্তু ছাত্রদল বলছে, শিবিরের এই ছোট কমিটির বাইরে যারা থাকেন, তাদের অনেকেই পরিচয় লুকিয়ে গোপন রাজনীতি করেন। এমনকি অতীতে ছাত্রলীগে ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও পরে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "যারা আগে ছাত্রলীগের পতাকাতলে বিতর্কিত ভূমিকায় ছিল, ৫ আগস্টের পরে আমরা দেখেছি ইসলামী ছাত্রশিবিরের পতাকাতলে তারা আশ্রয় নিয়েছে।" তবে শিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ অবশ্য ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, "এগুলোর জবাব অনেক দিয়েছি। ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আমার যে ছবি প্রচার করা হয়, সেগুলো দলীয় কোন প্রোগ্রাম নয়। আমি বহুবার বলেছি, এই ছবিগুলো ডিবেটিং ক্লাবের অনুষ্ঠানের।"

গুপ্ত রাজনীতি কি আগেও ছিল?

বাংলাদেশে কিংবা বিশ্বেই গুপ্ত বা গোপন রাজনীতি নতুন কিছু নয়। গুপ্ত রাজনীতির নানা ধরণ, নানা নামও দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, "অতীতে বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতি যেটা হয়েছে, সেটা মূলত নিষিদ্ধ দলগুলো করেছে। বাংলাদেশে বা উপমহাদেশে এই গুপ্ত রাজনীতির ধরন অনেক আগে থেকেই ছিল। যেমন পাকিস্তান আমলে আন্ডারগ্রাউন্ড দলগুলো বিশেষ করে বিভিন্ন সময় যেসব দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।"

তবে গত বিশ বছরে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির ধরন পরিবর্তিত হয়ে গেছে বলে মনে করেন জোবাইদা নাসরিন। তিনি বলেন, "গত বিশ বছরে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি বা গুপ্ত রাজনীতির সংজ্ঞায় পরিবর্তন হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, দল নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তারা কৌশলে নানা ধরনের হিডেন পলিটিক্স করেছে।"

বাংলাদেশে এই গুপ্ত রাজনীতির জন্য বিভিন্ন সময় মূল অভিযোগটা এসেছে প্রধানত জামায়াতের বিরুদ্ধে। এখন যেসব অভিযোগ বেশি করে সামনে আনছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত তা নাকচ করে পালটা বিএনপির বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলছে।

তবে জোবাইদা নাসরিন বলছেন, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এখন গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে যে পালটা পালটি বক্তব্য তার প্রধান কারণ দলগুলোর মধ্যে অপ্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে একে অপরকে সন্দেহ। এবং এটা এখন সব দলের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে এমনকি দলগুলোর ভেতরেও প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, "বিএনপি মনে করে তাদের ভেতরে গুপ্ত আছে। কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো জামায়াতের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল। আবার আওয়ামী লীগ মনে করে তাদের সময়ে যারা সুবিধা নিয়েছে তাদের অনেকেই এখন বিএনপির সুবিধাভোগী। এদেরকে আওয়ামী লীগ বলছে যে, এরা বিএনপির গুপ্ত।"

এ অবিশ্বাস এখন এমন পর্যায়ে গেছে যেখানে অতীতে কারো ভিন্ন দলে থাকার ইতিহাস কিংবা নিরপেক্ষ কারো হঠাৎ রাজনৈতিক দল বা সরকারে যোগ দেয়ার ঘটনাকেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে গুপ্ত-সুপ্ত রাজনীতি হিসেবে। আবার কখনো কখনো নিজ দলের ভেতরে একে অপরের বিপক্ষে ব্যবহার হচ্ছে এই ট্যাগ।

জোবাইদা নাসরিন বলেন, "একে অন্যকে অবিশ্বাসের ধারা তৈরি হচ্ছে যে, সে তো গুপ্ত। তাকে বিশ্বাস করা যাবে না। অমুকের কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হচ্ছে, সে হয়তো আরেকটি দলের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের তথ্য সেখানে দিচ্ছে।"

‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিয়ে বিএনপি কেন এতো সরব? এটা ঠিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল সবসময় প্রকাশ্যে আনে না। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর গোপন ভূমিকায় সেটা স্পষ্ট।

আবার দলগুলো অনেকসময় রাজনৈতিক কারণে অন্যান্য দলের সঙ্গেও গোপন সংযোগ গড়ে তোলে। কিন্তু এরসঙ্গে যখন কৌশল হিসেবে অন্য দলে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসছে, তখনই এটা রাজনীতিতে তৈরি করছে বড় ধরনের সন্দেহ, অবিশ্বাস।

এমনকি নিজ দলের ভেতরেই ট্যাগ হিসেবে গুপ্ত শব্দের ব্যবহার পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, গুপ্ত রাজনীতি যেখানে নতুন নয়, সেখানে বিএনপি কেন এই ইস্যুকে এতো প্রবল করে তুলে ধরছে?

এখানেই আসছে বিএনপির ভাষায়, সরকার পতনে ‘গুপ্ত ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ। যেখানে অভিযোগের আঙ্গুল জামায়াতের দিকে। বিশেষকরে সংস্কার, জুলাই সনদ ইত্যাদি ইস্যুতে জামায়াতের আন্দোলনের দিকে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, "তারা সংস্কার নিয়ে কথা বলে। আমরা তো সংস্কারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু তারা গুপ্তভাবে কিছুটা ষড়যন্ত্র করছে, এই সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।"

তবে জামায়াত কোনোরকম গোপন ষড়যন্ত্র বা গুপ্ত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নাকচ করছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে তারেক রহমান এবং বিএনপির যে বক্তব্য তার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, "এখন বিএনপিতে যাদের নাম আপনারা শুনেন, কিছু মন্ত্রী আছেন, আমার চল্লিশ বছরের রাজনীতিতে যাদেরকে দেখিনি। তো এখন তাদেরকে গুপ্ত বলবো কিনা। এদের তো নাম-ডাক কিছু নেই।"

তার মতে, বিরোধী দলের আন্দোলন থেকে নজর সরাতেই এসব বিষয় সামনে আনছে সরকার এবং সরকারি দল বিএনপি। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "এখন আমাদের মূল দাবি হচ্ছে এ দেশের জনগণের জুলাই জাতীয় সনদ এবং এর আলোকে যে গণভোট হয়েছে, সেই রায়টা বাস্তবায়ন করা।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করল

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটুটগুলো চীনের প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার জন্য।

হেগসেথের দাবি, মার্কিন কংগ্রেসের বিধিনিষেধের পরেও কনফুসিয়াস ইনস্টিটুটগুলো ভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘স্লিপার অর্গানাইজেশন’ বা সুপ্ত সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নামে এবং ভিন্ন সনদে ৮০টি নতুন প্রচারকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল একই—মেধাস্বত্ব চুরি করা এবং মার্কিন শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব বিস্তার করা।

হেগসেথ আরো বলেন, চীন সরকারের সমর্থনে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করেছে। কংগ্রেসের বিধিনিষেধের পরও সেগুলো নতুন পরিচয়ে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পেন্টাগন পদ্ধতিগতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ভেঙে দিয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে দূতাবাস এ অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে বড় অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে বড় অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে অবশ্যই কোনো বড় ধরনের অপরাধ লুকানো রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড: ডিবি চায় ডিভাইস, জামায়াতের উদ্বেগ নিরাপত্তায়’ শিরোনামের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জামায়াত আমিরের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘যে নেতা নাকি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা বলে নাই, সেই নেতা কেনো এতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে? তাহলে কি কর্মজীবী নারীদের কটূক্তি করার বিষয়টি সত্য?’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নাকি মোবাইল হেফাজতে নিলে আরও বড় ধরনের ক্রাইম বের হয়ে আসবে? নাকি শেখ হাসিনার সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য সঠিক? ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে অবশ্যই বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগের পর আট মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত মামলার তদন্তে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে বাদীপক্ষকে অন্তত তিনবার চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিভাইসগুলো জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। তবে, তদন্ত সংস্থার হাতে ডিভাইসগুলো এখনো দেওয়া হয়নি।

এর আগে, এ বছর ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তাল প্রশান্ত মহাসাগরে ঝাঁপিয়ে ১৬ জনকে বাঁচালেন ২৪ বছর বয়সী উদ্ধারকর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


উত্তাল প্রশান্ত মহাসাগরে ঝাঁপিয়ে ১৬ জনকে বাঁচালেন ২৪ বছর বয়সী উদ্ধারকর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকোর উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল পানিতে ২৭ জনেরও বেশি মানুষ নৌকা ডুবে বিপদে পড়েন। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, ৬ থেকে ৮ ফুট উঁচু ঢেউ এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পানি ছিল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ২৪ বছর বয়সী উদ্ধারকর্মী জশ ল ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এই উদ্ধার অভিযান গত ১৬ অক্টোবর ভোররাতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে টানা দুই দিন তল্লাশি চালানোর পরও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উপকূলরক্ষী বাহিনী অভিযান বন্ধ করে দেয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরায় উপকূলরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে রাত ১টার দিকে ডুবতে থাকা নৌকা থেকে বিপৎসংকেত আসে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীদের একটি দল হেলিকপ্টারে রওনা হয়। হেলিকপ্টারের চালক মিয়াকো মিলার রাতের অন্ধকারে আকাশের তারা ও রাত দেখার বিশেষ চশমার সাহায্যে পথ খুঁজে নেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা পানিতে ভাসমান কিছু ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষীণ আলো দেখতে পান। হেলিকপ্টারটি পানির প্রায় ১২ মিটার ওপরে স্থির রেখে উদ্ধারকর্মী জশ লকে দড়ির সাহায্যে সাগরে নামানো হয়।

প্রচণ্ড ঢেউ ও হেলিকপ্টারের পাখার বাতাসে তৈরি অস্থির পানির মধ্যে জশ লকে একের পর এক বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে সাঁতরে যেতে হয়। কিছু লোক জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরে ছিলেন, আবার কেউ একে অপরকে কিংবা ভাসমান ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন।

জশ ল তাদের শরীর ঘুরিয়ে পিঠের ওপর ভাসিয়ে নিজের হাত দিয়ে ধরে টেনে নিয়ে আসেন। এরপর তাদের একটি বিশেষ ঝুড়িতে তুলে দড়ির সাহায্যে হেলিকপ্টারে তোলা হয়। এভাবে একে একে ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের সময় জশ লয়ের পোশাকের ভেতরেও ধীরে ধীরে পানি ঢুকে হাঁটু পর্যন্ত ভিজে যায়। এতে তার সাঁতার কাটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও বিপদে পড়া মানুষগুলোর কথা ভেবে তিনি উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান।

হেলিকপ্টারে জ্বালানি কমে আসায় উদ্ধার করা ব্যক্তিদের নিয়ে দলটি সান দিয়েগোর উপকূলরক্ষী ঘাঁটিতে ফিরে যায়। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত ছিল। যাত্রাপথে জশ তিনজন আহত ব্যক্তির রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, কয়েকজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষত ছিল।

মেক্সিকোর কনস্যুলেট জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাই মেক্সিকোর নাগরিক। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেককে পরে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল এবং কেন এত দূরে সাগরে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এটি মানব পাচারের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী, মেক্সিকো ও মার্কিন নৌবাহিনী মিলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজতে ৮৯ ঘণ্টা ধরে প্রায় ৬ হাজার ৩২২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালায়। তবে তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%