ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর


মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। আদালতের কিছু কর্মী ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে, আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান জানিয়েছেন, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি, বরং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসে আইসিসির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। আদালতটি ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়মিত সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় তিনি এটিকে ‘দুষ্ট আদালত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করবে, নয়তো আমরাই আইসিসির সমাপ্তি ঘটাব।’

নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নাজাত শামিম খান যৌথভাবে কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আদালত তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে সংশ্লিষ্ট তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রসিকিউটরের দাখিল করা আদালতের নির্দেশে আরো কয়েকটি আবেদন গোপন রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

নাজাত শামিম খান বলেন, গত ৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর সেগুলো কার্যকর হতে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও এর মধ্যেই আইসিসির কিছু কর্মী ব্যাংকিং সমস্যায় পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

ফিজির নাগরিক এই ডেপুটি প্রসিকিউটর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নীতিগতভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কর্মীদের সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারছি, তাঁদের কেউ কেউ ব্যাংকিং কার্যক্রমে সমস্যার মুখে পড়ছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় আইসিসি বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে। আদালতটি মাইক্রোসফটের পরিবর্তে ইউরোপীয় বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমা-সংক্রান্ত সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

খান বলেন, ‘বিভিন্ন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সব ধরনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের কাজের সক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তবে, নিষেধাজ্ঞাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব কী হতে পারে, তা আগাম অনুমান করা কঠিন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ এম


সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের খুলনা সফরের দিন নগরী ও জেলায় তিন দফা গুলির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তেরখাদায় গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা। আইজিপি খুলনা ত্যাগ করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন এক ব্যবসায়ী। এর আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বাবুখান রোডে সন্ধানী ক্লিনিকের নিচতলার রিসেপশন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল দুর্বৃত্ত। হামলার সময় ক্লিনিকের কয়েকটি কক্ষে ও ক্যাশ কাউন্টারে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ক্লিনিকের একজন কর্মী সামান্য আহত হন এবং এক কর্মীর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

একই দিনে ধারাবাহিক এসব গুলির ঘটনায় নগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস (৩২) আহত হন। ওই সময় খুলনায় পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন মুদি দোকানদার ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫)। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বাবুখান রোডের সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ক্লিনিকের নিচতলায় প্রবেশ করে। এসময় তারা চিকিৎসক কুতুব উদ্দিন ও চিকিৎসক শেখ মোজাম হোসেনের কক্ষ এবং রিসেপশনের ক্যাশ কাউন্টারে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

হামলায় ক্লিনিকের রিসেপশনে কর্মরত বিশ্বজিৎ (২৫) সামান্য আহত হন। তাঁর বাবার নাম সুরেশ রায়। তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার চুনকুড়ি এলাকায় থাকেন এবং বর্তমানে খুলনা নগরীর গফফারের মোড় এলাকায় বসবাস করছেন।

এছাড়া ক্লিনিকের আরেক কর্মী ইকবাল হোসেনের (৩০) ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামে। তিনি নগরীর টুটপাড়া বালিরমাঠ এলাকার এপি ২ নম্বর ক্রস রোডে অবস্থান করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ক্লিনিকের মালিকপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেএমপির খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

তবে ক্লিনিকের ভেতরে ১০ থেকে ১২ জনের প্রবেশ, ভাঙচুর, একজনের সামান্য আহত হওয়া এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুটি মোটরসাইকেলে ৬ জনের একটি দল এসে ক্লিনিকের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়। তিনি হামলার কারণ জানতে পারেননি।

অন্য একজন চিকিৎসকের সহকারী বলেন, অন্য একটি ক্লিনিক থেকে রোগী দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সন্ধানীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হামলার খবর পেয়ে তারা আর অগ্রসর হননি। পরে উক্ত চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের জন্য আসা রোগীরাও ডাক্তার না দেখিয়ে দ্রুত ক্লিনিক ত্যাগ করেন।

এদিকে, একই দিনে তেরখাদা ও খুলনা নগরীতে তিন দফা গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান, ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারালো ৭ উইকেটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান, ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারালো ৭ উইকেটে

আফগানিস্তান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতে নিয়েছে, তাদের ব্যাটে-বলে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের জন্য। ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে রশিদ খানের দল, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তান ৩৪.৩ ওভারে অতিক্রম করে, হাতে রেখে সাত উইকেট।

জিম্বাবুয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু শুরু থেকেই আফগান বোলারদের চাপে পড়ে। ফজলহক ফারুকি ও বিলাল সামি দুটি করে উইকেট নেন। রশিদ খান তিন উইকেট শিকার করেন এবং মোহাম্মদ নবী দুটি উইকেট নেন। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা লড়াই করেন, তার ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ৪৩.৩ ওভারে জিম্বাবুয়েটি ১৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।

আফগানিস্তান সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজ প্রদর্শন করে। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রান করে দ্রুত রান তোলেন। তবে নিউম্যান নিয়ামহুরি তাকে ও সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে কিছুটা স্বস্তি দেন।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। জাদরান ৯৬ বলে অপরাজিত ৭০ রান করেন এবং রহমত শাহ ৬৩ বলে ৪৩ রান করেন। তাদের ৮২ রানের জুটি জয় নিশ্চিত করে। রহমত আউট হলেও জাদরান ও অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ইব্রাহিম জাদরান। পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজসেরার পুরস্কার পান রশিদ খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর ৯৮২তম গোল নিয়ে বিতর্ক, গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


রোনালদোর ৯৮২তম গোল নিয়ে বিতর্ক, গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মাঠে গোল উদযাপন করেছেন, তবে ম্যাচ শেষে গোলের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি প্রো লিগে আল-ফয়সালির বিরুদ্ধে আল-নাসরের ৩-১ গোলের জয়ে পর্তুগিজ তারকা ভেবেছিলেন, তিনি ক্যারিয়ারের ৯৮২তম গোলটি অর্জন করেছেন। কিন্তু গোলটি জালে প্রবেশ করার আগে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার আন্দ্রেই জিরোত্তোর স্পর্শ পাওয়ার কারণে গোলটি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

গতকাল ম্যাচের ৪৯ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ক্রস থেকে হেড করেন রোনালদো। বলটি জালে ঢুকলেও মাঝপথে জিরোত্তোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। রোনালদো গোল উদযাপনে মেতে উঠলেও পরে গোলটির কৃতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গোল ডটকমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, শেষ পর্যন্ত গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ফলে রোনালদোর আনুষ্ঠানিক গোলসংখ্যা আপাতত ৯৮১-তেই রয়ে গেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কারণও রয়েছে। ইএসপিএনের ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি প্রো লিগের হিসাবে গোলটি প্রথমে রোনালদোর নামেই ছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান সরবরাহকারী অপ্টা সেটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ, গোলের কৃতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে অমিল দেখা দিয়েছে।

ম্যাচে আল-নাসরের হয়ে প্রথম গোলটি করেন আবদুল্লাহ আল-হামদান। পরে রোনালদোর হেডের ঘটনাটি ঘটে। আল-ফয়সালি থিও বংগোন্ডার গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ দিকে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আল-নাসর।

রোনালদোর লক্ষ্য ক্যারিয়ারের ১,০০০ গোলের মাইলফলক। সেই পথে প্রতিটি গোলই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি গোলের স্বীকৃতি নিয়ে এমন বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতা ও স্বীকৃত পরিসংখ্যান সংস্থার আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে আবারও লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, তবে শনিবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সংঘটিত বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবুও, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বড় জমায়েত ঘটে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্যারিসে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পতাকা হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘রাষ্ট্র, পুলিশ ও ফ্যাসিস্টদের পতন হোক’ স্লোগান শোনা যায়।

অন্যদিকে, মার্সেই এবং লিওঁ শহরে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লিওঁতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নিস শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়।

প্যারিস, মন্টপেলিয়ার, রুয়াঁ এবং নিসের মতো শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সমাবেশ এবং মিছিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে রাজধানীর মূল মিছিলটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। শনিবারের পরিস্থিতি গত সপ্তাহের তুলনায় কম সহিংস বলে জানা গেছে। মিছিলের শেষের দিকে কয়েকটি স্থানে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, দেশব্যাপী বিক্ষোভে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল, অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ ছিল। গত ১৭ অক্টোবরের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি পুলিশ এবং জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী এবং অপরাধী চক্রের তৎপরতায় সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

প্যারিসে জনজীবন ব্যাহত

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে শনিবার প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শহরটিতে অনেকটা অবরুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। লুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে এবং প্যারিস অপেরাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

গত সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের শিকার হওয়ায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আগেই দোকান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে, প্যারিসে বিক্ষোভ মিছিলের পথ নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশের নির্দেশে মিছিলের নির্ধারিত পথ শহরের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নেওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে যেসব বাণিজ্যিক এলাকায় ভাঙচুর হয়েছিল, সেসব এলাকা এড়িয়ে চললে নতুন করে সহিংসতার ঝুঁকি কমবে।

তবে বামপন্থি রাজনীতিকদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে মিছিলের পথ পরিবর্তন করে বিক্ষোভকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং তাদের শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্যারিসের মিছিলে অংশ নেন বামপন্থি নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। তিনি বিক্ষোভকারীদের সংযমের প্রশংসা করে বলেন, ফ্রান্সের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে জাতীয় বিক্ষোভ

ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী বছরের ১৮ এপ্রিল এবং ২ মে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত মাসে ফ্রান্সের ক্রেতেই শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, দীর্ঘ স্কুলসময়, শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামেন। পরে তা দ্রুত দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য সংগঠনের বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ একপর্যায়ে ব্যাপক দাঙ্গা, ভাঙচুর এবং লুটপাটে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সে এমন সহিংসতার নজির খুব কম বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলন ঘিরেও বিক্ষোভ হয়। সেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ অংশ নেন।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%