০৪:৫০ পি.এম
চট্টগ্রাম, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দক্ষ শ্রমিক তৈরির পাশাপাশি চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা জানার দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রমিকদের বিদেশি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপানি, ইংলিশ, এরাবিক ও কোরিয়ান ভাষার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে প্রবেশের জন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা জরুরি, তবে ভাষার অভাব থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না।
শনিবার দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তাদের এবং চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিজ্ঞ বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদস্থ শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
এর আগে, মন্ত্রী চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ক্লাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, বিদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা রয়েছে। কেয়ার গিভারের জন্যও চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেগুলো নিয়ে কোনো প্রচারণা নেই। এগুলো কিভাবে প্রচার করা যায়, সেই ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি সকলকে অনুরোধ করেন, বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে এমন দেশের ভাষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরও জানান, তিনি চট্টগ্রামে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সম্পদ। তাদের সহযোগিতা করলে দেশ ও জাতির জন্য আরও অবদান রাখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, সরকার ও বিএসআরএম-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চান।
এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়ে যৌথভাবে টিটিসিকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনবল সংকট রয়েছে। সেই জনবল নিয়োগ করতে গেলে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে। এখন আমাদের পেছনে তাকানোর সময় নেই।
আরও পড়ুন: জেলা প্রশাসক মিজ কউসার গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন
মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামের মেয়র অনেক কিছু করেছেন, এবং তিনি চট্টগ্রামের শ্রমিকদের জন্য আরও কিছু করতে এগিয়ে আসছেন।
চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানের দ্রুত আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও একজন প্রকৌশলী দ্বারা দ্রুত পরিদর্শন পূর্বক কনফারেন্স রুম, নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য আলাদা বসার কক্ষ, লিগ্যাল এইড সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রামের ২য় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম ১ম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদার প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন