ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘গজনি’খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই


‘গজনি’খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই

 

‘গজনি’ ছবির ওই ভয়ংকর ও আইকনিক খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া প্রবীণ অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তানসহ অগণিত গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’-কে অভিনেতার প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রদীপ রাওয়াত ক্যানসার জয় করেছিলেন। তবে সম্প্রতি ব্যাধিটি ফের নতুন করে তার শরীরে আঘাত হানে।”

তিনি আরও জানান, গত এক মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার রক্তের প্লেটলেট সংখ্যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আগামীকাল ৫ আগস্ট তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৮৫ সালে প্রয়াত মুকুল আনন্দ পরিচালিত এবং রাজ বাব্বর ও ডিম্পল কাপাডিয়া অভিনীত ‘এতবার’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে বিআর চোপড়ার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জগতে তিনি সমান গতিতে কাজ করে গেছেন। এই সময়ে নানা দারুন প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে, বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘অগ্নিপথ’ (১৯৯০), জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘চন্দ্রকান্তা’ (১৯৯৪), ‘কয়লা’ (১৯৯৭) এবং ‘সরফরোশ’ (১৯৯৯)।

দুই হাজারের দশকের পর টিভিতে কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিলেও হিন্দি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রে প্রদীপ রাওয়াত নিজের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অল-টাইম ব্লকবাস্টার ‘লাগান’ সিনেমায় ভুবন রূপী আমির খানের দলে থাকা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ‘দেবা সিং সোধি’-র চরিত্রটি তাকে নতুন করে খ্যাতি এনে দেয়। এর ঠিক সাত বছর পর ২০০৮ সালে এ আর মুরুগাদোসের ব্লকবাস্টার রিভেঞ্জ থ্রিলার ‘গজনি’-তে আমির খানের মুখোমুখি নৃশংস ও রক্ত হিম করা খলনায়ক ‘গজনি ধর্মাত্মা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এটি উল্লেখযোগ্য যে, এই হিন্দি রিমেকের আগে ২০০৫ সালে সূর্য অভিনীত মূল তামিল ‘গজনি’ সিনেমাতেও তিনি একই খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেছিলেন।

সর্বশেষ ২০২৫ সালে ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাভা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। চলতি বছর মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু কমেডি ড্রামা ‘গায়াপাড্ডা সিমহাম’ এবং নেপালি চলচ্চিত্র ‘আ বাটা আমা’-তে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল এই অভিনেতাকে। বহু দশক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার বহুমুখী অভিনয় ও অসামান্য অবদান ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

দেশের পুষ্টি সংকট মোকাবিলা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) অর্জনে অগ্রগতি বেগবান করার জন্য বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, পুষ্টিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টি কার্যক্রম একীভূতকরণ’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল আলোচনায় তারা এই সুপারিশ করেছেন। ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় পুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস.এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সাইকা সিরাজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনা পরিচালনা করেন ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের পুষ্টি নীতিমালার প্রচেষ্টার ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সরকারি মালিকানার অভাবে রয়েছে এবং মূলত দাতা-চালিত হয়ে রয়েছে, যা টেকসই পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা অপুষ্টি ও খর্বকায়তা মোকাবিলায় কিছু সফলতা অর্জন করেছি, কিন্তু অগ্রগতি খুব ধীর গতির। আমাদের একটি শক্তিশালী, সরকার-নেতৃত্বাধীন এবং সমন্বিত পদ্ধতি প্রয়োজন।

একটি স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে ড. হায়দার একটি জীবনচক্র পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিকরা জন্ম থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত একটি ব্যাপক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সেবা পাবেন।

তিনি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের পরিকল্পনার বিষয় এর ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যের জন্য পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সুরক্ষায় একটি আন্তঃখাতভিত্তিক পন্থা অপরিহার্য।

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমাজে বিদ্যমান অণুপুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে রোগের সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যধি। উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এই ঘাটতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্রস্থলে পুষ্টিকে রাখার পরিবর্তে এটিকে প্রায়শই প্রান্তিক অবস্থানে রাখার বিষয়ে মন্তব্য করেন।

ইউনুস আলীর বক্তব্যের অনুসারে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উপ-পরিচালক ডা. রওশন জাহান আক্তার পুষ্টির ক্ষেত্রে ‘সোনালী ১,০০০ দিন’ অর্থাৎ গর্ভাবস্থার ২৭০ দিন ও পরবর্তী দুই বছরের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বিশ্বব্যাপী পুষ্টি ও শিশু স্বাস্থ্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ব্যাপক ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি খর্বাকৃতির কারণ হিসেবে দুর্বল পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. ইকবাল কবির পুষ্টির জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে কীভাবে কার্যকর করা যায় সেই অমীমাংসিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক কাওসার আফসানা বলেন, সিস্টেম-থিংকিং এবং সিস্টেমের সংযোগ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, পুষ্টি বর্তমানে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, প্রারম্ভিক শিশু বিকাশ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, এবং এর ফলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আলোচনার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

মূল প্রবন্ধের উপস্থাপনে, সাইকা সিরাজ বলছেন, একটি শক্তিশালী নীতি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও পুষ্টি পরিষেবাগুলো এখনও খণ্ডিত রয়ে গেছে। আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সরকারি প্রোটোকলের বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক ও বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে চলে যাচ্ছে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেছেন, পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার জন্য সরকারি খাত, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজকে একত্রিত করার গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনপিও—খাদ্য ও নিরাপত্তা বিভাগের ফারিয়া শবনম, গেইন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, ইউনিসেফ-এর পুষ্টি বিশেষজ্ঞ তাহমিনা ফেরদৌস, ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ-এর শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক ড. সান্থিয়া আইরিন, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এর প্রোগ্রাম ডিজাইন ও কোয়ালিটি বিভাগের প্রধান কাজল এম এম আহিদুল ইসলাম, বপিঙ্ক-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শিহাব উজ্জামান, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড (সুখী)-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার ও চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ সোলায়মান রাসেল, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস (আইডিই)-এর প্রোগ্রাম বিষয়ক সহযোগী পরিচালক মোহাম্মদ সোয়েব ইফতেখার এবং এসএমসি এর পক্ষে এমএমএস প্রকল্পের টিম লিডার এ এস এম শহিদুল আলমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনার বাংলাকে কারাগারে পরিণত করেছে বিজেপি: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


সোনার বাংলাকে কারাগারে পরিণত করেছে বিজেপি: মমতা

মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিজেপি সেই বাংলাকে ‘কারাগারে’ পরিণত করেছে।

তিনি এ অভিযোগ করেছেন যখন তিনি মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তা প্রদান করেন।

মমতা জানান, ‘এটা খুবই দুঃখের ব্যাপার যে আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা জানে না তাদের কী অপরাধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সবাই এখন কারাগারে। বাংলাটাকে একটা কারাগারে পরিণত করে দিয়েছে। কোথায় গেলো আমার সোনার বাংলা? কোথায় আমাদের মা-মাটি-মানুষের বাংলা? কোথায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগরের বাংলা? কোথায় সম্প্রীতির বাংলা? সংস্কৃতির বাংলা? ক্ষমতায় এসেই তারা সব গৈরিকীকরণ করছে।’

মমতা জনগণনার উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে অথচ কোনো রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করা হয়নি। অন্তত তৃণমূলকে তো করাই হয়নি।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, জনগণনায় কার নাম থাকতে পারে এবং কার নাম বাদ পড়তে পারে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

মমতা বিচার পাওয়ার আশা করেছিলেন কিন্তু বলেন, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ তিনি গণআন্দোলন ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, বলেন ‘সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করার দরকার।’

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা আরও বলেন, ‘বিজেপির কয়েকজন আছে যারা দেশকে চেনে না, বাংলাকে চেনে না, তারা আজ দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করছে।’ তিনি নেতাজির জয় হিন্দ স্লোগান তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আজকের দিনে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে?’

মমতা শিক্ষানবিসদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান এবং প্রশ্ন করেন, ‘বাংলা কি বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে?’ বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি সরকার অনেক কথা বলেছিল কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জোর করে পঞ্চায়েত, পৌরসভা জেলা পরিষদ দখল করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে উদ্ধার গলাকাটা বিড়ালের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


ঢাবিতে উদ্ধার গলাকাটা বিড়ালের মরদেহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিড়ালের মরদেহ, যা গলা কাটা অবস্থায় ছিল। এই ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একইসাথে, ক্যাম্পাসে প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) সকালে মোকাররম ভবনের ফার্মেসি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে একটি কর্মচারী বিড়ালটির মরদেহ দেখতে পান।

এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিড়ালটির মরদেহ ভবনের পেছনের ল্যাবের কাছে সিঁড়িতে পড়ে ছিল। এরপর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেটিকে পলিথিনে মুড়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করার চেষ্টা চললেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা বেশকিছু দিন ধরে অকার্যকর। এছাড়াও, ভবনের কিছু অংশ ক্যামেরার আওতার বাইরে মিশে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মরদেহের আশেপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, বিড়ালটিকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর, ভবনের নিচতলাসহ ওই আশপাশে রক্তের দাগ বা অন্য কোনো আলামত খুঁজা হলেও কিছুই পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব আসিক বলেন, "একটি নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কীভাবে কেউ করতে পারে, তা ভাবতেই কষ্ট হয়। এটি মানসিক বিকারের পরিচয় বহন করে।" তিনি বলেন, ঘটনার স্থলে কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগের বিষয়।

প্রাণীদের চিকিৎসা এবং কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠন ‘কেয়ার ডিইউ’র প্রধান নির্বাহী মো. সাদিক মুনওয়ার বলেন, "এর আগেও আমরা ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষের, প্রাণীর এবং প্রকৃতির সহাবস্থানের একটি নিরাপদ এবং মানবিক ক্যাম্পাস হিসেবে তৈরি হোক।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে জানান, বিড়ালটির প্রতি সহিংসতার ঘটনাটি তার জানা ছিল না।

ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেকোনো দৃষ্টিকটু ও অবিবেচনাপ্রসূত ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়।" তিনি বলেন, "যদি এমন ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকে, তা জানালে কিংবা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।"

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে নকল আইসক্রিম কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


মানিকগঞ্জে নকল আইসক্রিম কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চর সাটুরিয়া এলাকায় একটি নকল আইসক্রিম প্রস্তুতকারী কারখানা ‘মিল্ক মিঠা’-তে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার করছে। এছাড়া তারা ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার ব্যবহার করে নকল আইসক্রিম তৈরি করে, খাদ্য উপাদান উল্লেখ না করে লেবেল ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে চলেছে।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় অভিযানে জব্দ করা আইসক্রিমের মোড়ক, কোণ, কাপসহ অন্যান্য উপকরণ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে সহযোগিতা করেছেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোসা. রৌশনারা বেগম এবং জেলা ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%