ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মুমিনের জীবনের আত্মজিজ্ঞাসা: আল্লাহর স্মরণ ও মানুষের অধিকার আদায়


মুমিনের জীবনের আত্মজিজ্ঞাসা: আল্লাহর স্মরণ ও মানুষের অধিকার আদায়

যদি কেউ জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিমুখ থাকে, তবে সে কি কখনো সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হবে? যদি তার অন্যমনস্কতা ইচ্ছাকৃত না হয়, তাহলে কখন তার কাছে সেই লক্ষ্য অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে? কখন তা তার চিন্তা ও মনোযোগকে আচ্ছন্ন করবে এবং জীবনের উদ্দেশ্যে পরিণত হবে?

যদি কেউ আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য থেকে উদাসীন থাকে, অথচ তা অনিচ্ছাকৃত হয়, তাহলে কখন আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টি অর্জনে আত্মনিয়োগ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে? কখন তা তার চিন্তা ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে?

যদি কেউ নিজের দ্বিন ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকে, অথচ তা অনিচ্ছাকৃত হয়, তাহলে কখন দ্বিনের খিদমত ও বিধি-বিধান পালনে মনোযোগী হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

আরও পড়ুন: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সৌদি আরবে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা

যদি কেউ নফল ইবাদত থেকে দূরে থাকে, তাহলে কখন নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আখলাক অর্জনে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেগুলো নিজের জীবনে ধারণ করা তার চিন্তা ও সাধনার বিষয় হয়ে উঠবে?

যদি কেউ কোরআন তিলাওয়াত থেকে দূরে থাকে, তাহলে কখন কোরআন পাঠ ও তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ স্ত্রীর প্রতি মনোযোগ দিতে অবহেলা করে, তাহলে কখন জীবনসঙ্গিনীর যত্ন নেওয়া, তাঁর খোঁজখবর রাখা এবং তাঁর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

যদি কেউ স্বামীর প্রতি মনোযোগ দিতে অবহেলা করে, তাহলে কখন জীবনসঙ্গীর যত্ন নেওয়া, তাঁর খোঁজখবর রাখা এবং তাঁর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ পাপাচার ও গুনাহ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন গুনাহ পরিত্যাগ করা তার চিন্তা ও সাধনার বিষয় হয়ে উঠবে?

যদি কেউ মানুষের অধিকার ও পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন মানুষের হক আদায় করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

আরও পড়ুন: ওমরার নিয়ত করে ইহরাম পরা অবস্থায় ইন্তেকাল, মক্কায় যেতে পারলেন না তুর্কি ইমাম

যদি কেউ আখিরাতের চিন্তা থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ নিজের জীবনের শেষ পরিণতি এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেই পরিণতির কথা চিন্তা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যদি কেউ নিজের দোষত্রুটি ও ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেগুলো খুঁজে বের করা, সংশোধন করা এবং আত্মসমালোচনা করা তাকে ভাবিয়ে তুলবে?

যদি কেউ আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার এবং নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন এসব আমলে অভ্যস্ত হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

আরও পড়ুন: যে দোয়া পাঠে জান্নাত অবধারিত হয়

যদি কেউ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক অবস্থা ও কল্যাণের ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন তাদের সমস্যা, সংকট ও কল্যাণের বিষয়ে চিন্তা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?

যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, সে একসময় নিজেকেই ভুলে যায়।

যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে উদাসীন থাকে, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যকে অবহেলা করে, সে একসময় তার কাঙ্ক্ষিত সবকিছুই হারিয়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে পড়ে, সে প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই আল্লাহর স্মরণ থেকে বঞ্চিত করে।

মহান আল্লাহ জীবনের প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আটক

চাঁদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের পুরান বাজার এলাকায় নিজ বাসা থেকে নাছির উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তদের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদকে আটক করা হয়েছে। জেলাজুড়ে অভিযান এখনো চলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে দোয়া পাঠে জান্নাত অবধারিত হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


যে দোয়া পাঠে জান্নাত অবধারিত হয়

মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হওয়া। এই মহাসাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু ছোট ছোট আমল রয়েছে, যার প্রতিদান অত্যন্ত বড়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত অর্থবহ দোয়া শিখিয়েছেন। যদি কেউ আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়া পাঠ করে, তাহলে তার জন্য জান্নাতের বিশেষ সুসংবাদ এসেছে। দোয়াটি হলো,

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا

উচ্চারণ : রদিতু বিল্লাহি রব্বা, ওয়া বিল-ইসলামি দিনা, ওয়া বিমুহাম্মাদির রাসুলা।

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।

হাদিস অনুযায়ী, হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে—আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯)

সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পাঠের ফজিলত

এই দোয়ার আরেকটি বর্ণনায় সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা আল্লাহর জন্য অবধারিত হয়ে যাবে। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৯)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই দোয়ার মর্ম উপলব্ধি করে আমল করার এবং জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনা ও পরিবর্তনগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


৭ নভেম্বর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনা ও পরিবর্তনগুলো

প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি সময়ের সাথে ইতিহাসে রূপ নেয়। ইতিহাস সাক্ষী হয় ভালো-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রথম অর্জন এবং মানবসভ্যতার অভিশাপ ও আশীর্বাদের। ইতিহাস আমাদের নতুন নতুন দিগন্তের দিকে পরিচালিত করে।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর), ২০২৬। বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনার দিক থেকে ইতিহাসে এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আসুন, একনজরে জানি ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনাবলি

৩৩৫ - আথানাসিয়ুস, আলেকজান্দ্রিয়ার ২০তম পোপ, কনস্টান্টিনোপলে শস্যবাহী নৌবহর আটকানোর অভিযোগে ট্রিয়ারে নির্বাসিত হন।

৬৮০ - কনস্টান্টিনোপলে ষষ্ঠ সর্বজনীন পরিষদ শুরু হয়।

৯২১ - ফ্রাঙ্ক রাজা চার্লস দ্য সিম্পল ও হেনরি দ্য ফাউলার রাইন নদীর তীরে সীমান্ত স্বীকৃতি দিয়ে বন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

১৪২৬ - লাম সন বিদ্রোহে বিদ্রোহীরা হ্যানয়ের দোং কোয়ানে টট ডং - চুক ডং-এর যুদ্ধে মিং বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে।

১৪৯২ - প্রাচীনতম তারিখযুক্ত উল্কা এনসিসহাইম উল্কা ফ্রান্সের আলসাসের এনসিসহাইম গ্রামের বাইরে গমক্ষেতে আছড়ে পড়ে।

১৫০৪ - ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার চতুর্থ ও শেষ সমুদ্রযাত্রা থেকে ফিরে আসেন।

১৬১৯ - এলিজাবেথ স্টুয়ার্ট বোহেমিয়ার রানী হিসেবে অভিষিক্ত হন।

১৬৫৯ - ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ঐতিহাসিক পাইরনিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৬৬৫ - ব্রিটেনের সরকারি প্রকাশনা দ্য লন্ডন গেজেট প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৭২৩ - ইয়োহান সেবাস্টিয়ান বাখের সংলাপ ক্যান্টাটা ও এভিগকাইট, ডু ডোনারভোর্ট, বিডব্লিউভি ৬০ লাইপৎসিশে প্রথম পরিবেশিত হয়।

১৭৭৫ - ভার্জিনিয়ার রাজকীয় গভর্নর লর্ড ডানমোর ডানমোরের ঘোষণা জারি করে দাসদের মুক্তির প্রস্তাব দেন।

১৭৮৩ - ইংল্যান্ডে সর্বশেষ প্রকাশ্য ফাঁসি হয়।

১৭৮৬ - যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম সংগীত সংগঠন স্টাউটন মিউজিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮১১ - টেকুমসেহের যুদ্ধে টিপেকানোয়ের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৮২৩ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবাদ ঘোষণা করেন।

১৮৩৭ - ইলিনয়ের অলটনে বিলোপবাদী মুদ্রাকর এলাইজা পি. লাভজয় জনতার হাতে নিহত হন।

১৮৬১ - আমেরিকান গৃহযুদ্ধে বেলমন্টের যুদ্ধ সংঘটিত হয়; ইউলিসিস এস. গ্রান্টের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বাহিনী কনফেডারেট শিবির দখল করে।

১৮৬১ - অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রথম মেলবোর্ন কাপ ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হয়।

১৮৭৪ - থমাস নাস্টের কার্টুনে প্রথমবার রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হিসেবে হাতি ব্যবহৃত হয়।

১৮৭৫ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাঁঠালপাড়ায় বন্দে মাতরম গানটি রচনা করেন।

১৮৮১ - মাপুচে বিদ্রোহে বিদ্রোহীরা চিলির নুয়েভা ইম্পেরিয়াল বসতি ধ্বংস করে।

১৮৮৫ - কানাডার প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় রেলপথের লাস্ট স্পাইক অনুষ্ঠান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রেইগেলাচিতে সম্পন্ন হয়।

১৮৯৩ - যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে নারী ভোটাধিকার দেয়া হয়।

১৮৯৩ - স্পেনের বার্সেলোনার লিসেও অপেরা হাউসে নৈরাজ্যবাদী বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হন।

১৯০০ - দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধে লেলিফন্টেইনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৯০৭ - হেসুস গার্সিয়া বিস্ফোরকভর্তি জ্বলন্ত ট্রেন ৬ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে মেক্সিকোর নাকোসারি দে গার্সিয়া শহরকে রক্ষা করেন।

১৯১০ - রাইট ভ্রাতৃদ্বয় ডেটন থেকে কলম্বাসে প্রথম বিমানযোগে মাল পরিবহন সম্পন্ন করেন।

১৯১২ - বার্লিনের শার্লটেনবুর্গে ডয়চে অপার্নহাউস উদ্বোধন করা হয়।

১৯১৩ - গ্রেট লেকস ঝড় শুরু হয়; এই তুষারঝড়ে ২৫০ জন নিহত হন।

১৯১৪ - জাপানি বাহিনী জার্মান সাম্রাজ্যের উপনিবেশ জিয়াওঝো উপসাগর ও ছিংতাও দখল করে।

১৯১৬ - জ্যানেট র্যানকিন মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯১৬ - উড্রো উইলসন দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯১৬ - বোস্টনে সামার স্ট্রিট ব্রিজ বিপর্যয়ে ট্রাম দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন।

১৯১৭ - লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১৭ - অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা শীতকালীন প্রাসাদ দখল করে।

১৯১৭ - প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গাজার তৃতীয় যুদ্ধ শেষ হয়; ব্রিটিশ বাহিনী অটোমান সাম্রাজ্যের কাছ থেকে গাজা দখল করে।

১৯১৮ - ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি পশ্চিম সামোয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

১৯১৮ - কার্ট আইসনার বাভারিয়া রাজ্যে ভিটেলসবাখ রাজবংশের উৎখাত ঘটান।

১৯১৯ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম পামার রেইড পরিচালিত হয়।

১৯২০ - মস্কোর প্যাট্রিয়ার্ক তিখন রাশিয়ার বাইরে রুশ অর্থোডক্স চার্চ গঠনের ডিক্রি জারি করেন।

১৯২৪ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে উপস্থিত হন।

১৯২৯ - নিউ ইয়র্ক সিটিতে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

১৯৩১ - চীনা সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়।

১৯৩৩ - ফিওরেলো এইচ. লা গার্ডিয়া নিউ ইয়র্ক সিটির ৯৯তম মেয়র নির্বাচিত হন।

১৯৩৬ - স্পেনীয় গৃহযুদ্ধে মাদ্রিদ প্রতিরক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৪০ - ওয়াশিংটনের টাকোমায় টাকোমা ন্যারোস সেতু ধসে পড়ে।

১৯৪১ - পার্ল হারবারে জাপানিদের বোমা আক্রমণ শুরু হয়।

১৯৪১ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত হাসপাতাল জাহাজ আর্মেনিয়া জার্মান বিমান হামলায় ডুবে যায়।

১৯৪৪ - ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৪৪ - সোভিয়েত গুপ্তচর রিচার্ড জোর্গে জাপানি বন্দিদশায় ফাঁসিতে নিহত হন।

১৯৪৯ - আজারবাইজানের অয়েল রকসে বিশ্বের প্রাচীনতম সমুদ্রতীরবর্তী তেল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রথম তেল উত্তোলিত হয়।

১৯৫৬ - জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে সুয়েজ খাল নিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটে।

১৯৫৬ - হাঙ্গেরীয় বিপ্লবে ইয়ানোস কাদার সোভিয়েত সাঁজোয়া বহরে বুদাপেস্টে ফিরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

১৯৫৭ - স্নায়ুযুদ্ধে গাইদার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

১৯৬৭ - কার্ল স্টোকস ক্লিভল্যান্ডের মেয়র নির্বাচিত হন; তিনি কোনো বড় মার্কিন শহরের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মেয়র।

১৯৬৭ - মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন পাবলিক ব্রডকাস্টিং অ্যাক্ট স্বাক্ষর করেন।

১৯৭২ - রিচার্ড নিক্সন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।

১৯৭৩ - মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভেটো অগ্রাহ্য করে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন পাস করে।

১৯৭৫ - বাংলাদেশের তৎকালীন সেনা প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সিপাহী-জনতার মিলিত অভ্যুত্থানে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত হন।

১৯৭৫ - খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সিপাহীদের গুলিতে নিহত হন।

১৯৮২ - আপার ভোল্টায় সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট সায়ে জেরবো ক্ষমতাচ্যুত হন।

১৯৮৩ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।

১৯৮৩ - স্নায়ুযুদ্ধে এবল আর্চার ৮৩ মহড়া শুরু হয়।

১৯৮৭ - তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপতি হাবিব বুরগিবা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং জিন আবেদিন বিন আলী নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮৭ - সিঙ্গাপুরে এমআরটি ব্যবস্থা যাত্রী পরিষেবা শুরু করে।

১৯৮৮ - আর্মেনিয়ায় ভূমিকম্পে লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৮৯ - কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত পূর্ব জার্মান সরকার ইস্তফা দেন।

১৯৮৯ - ডগলাস ওয়াইল্ডার ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন; তিনি প্রথম নির্বাচিত আফ্রিকান-আমেরিকান গভর্নর।

১৯৮৯ - ডেভিড ডিঙ্কিন্স নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মেয়র নির্বাচিত হন।

১৯৯০ - মেরি রবিনসন আইরিশ প্রজাতন্ত্রের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯১ - ম্যাজিক জনসন এইচআইভি পজিটিভ ঘোষণা দিয়ে এনবিএ থেকে অবসর নেন।

১৯৯৪ - নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডব্লিউএক্সওয়াইসি বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট রেডিও সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৯৬ - ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে সাইক্লোনে আড়াই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯৬ - নাসা মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ার উৎক্ষেপণ করে।

১৯৯৬ - নাইজেরিয়ায় এডিসি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ০৮৬ বিধ্বস্ত হয়।

২০০০ - বুশ বনাম গোর মামলায় জর্জ ডব্লিউ. বুশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

২০০০ - কানসাসের ওয়ামেগোতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে দেশের বৃহত্তম এলএসডি ল্যাব আবিষ্কৃত হয়।

২০০৪ - ইরাক যুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার ফালুজায় অভিযানের সময় ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

২০০৭ - ফিনল্যান্ডের ইয়োকেলায় স্কুলে বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত হন।

২০১২ - গুয়াতেমালায় ভূমিকম্পে অন্তত ৫২ জন নিহত হন।

২০১৭ - আফগানিস্তানে শামশাদ টিভিতে বন্দুকধারী ও আত্মঘাতী হামলায় একজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

২০২০ - বিশ্বের প্রথম ৬জি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে চীন।

২০২০ - জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

২০২৩ - পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কোস্তা দুর্নীতি তদন্তের জেরে পদত্যাগ করেন।

জন্ম

৯৯৪ - ইবনে হাজম, প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক।

১৭২৮ - ক্যাপ্টেন জেমস কুক, ব্রিটিশ নৌ-সেনাপতি ও আবিস্কারক।

১৮৫৮ - বিপিন চন্দ্র পাল, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী।

১৮৬৭ - মারি ক্যুরি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।

১৮৭৯ - লিওন ত্রোত্‌স্কি, সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজান্ত্রিক বিপ্লবী।

১৮৮৮ - চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, ভারতীয় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় পদার্থ বিজ্ঞানী।

১৯০৩ - কনরাড লরেঞ্জ, অস্ট্রিয়ান প্রাণিবিদ্যাবিত, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আর্থলজিস্ট ও পক্ষীবিদ।

১৯১৩ - আলবেয়ার কামু, একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আলজেরীয় বংশোদ্ভূত ফরাসী সাহিত্যিক।

১৯২২ - গোলাম আযম, বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী।

১৯২৯ - এরিক ক্যান্ডেল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান স্নায়ুবিজ্ঞানী ও সাইকোলজিস্ট।

১৯৩১ - আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী।

১৯৩৪ - সুনন্দা পট্টনায়ক, গোয়ালিয়ার ঘরানার ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী।

১৯৪৩ - মাইকেল স্পেন্স, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক।

১৯৪৭ - ঊষা উথুপ, জনপ্রিয় ভারতীয় পপ, জ্যাজ এবং নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী।

১৯৫৪ - কমল হাসান, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৭১ - ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী।

১৯৭৮ - রিও ফার্ডিনান্ড, ব্রিটিশ ফুটবলার।

১৯৭৯ - রাইমা সেন, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৮১ - অনুষ্কা শেট্টি, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৯৭ - মাইনুল আহসান নোবেল, বাংলাদেশি গায়ক।

মৃত্যু

১৮৬২ - বাহাদুর শাহ জাফর, মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট।

১৯২৩ - অশ্বিনীকুমার দত্ত, বাঙালি রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং লেখক।

১৯৬৮ - গর্ডন কভেন্ট্রি, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৭৫ - খালেদ মোশাররফ, বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।

১৯৭৫ - এ.টি.এম. হায়দার, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার।

২০১১ - জো ফ্রেজিয়ার, হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা।

২০১২ - এলেন ডগলাস, আমেরিকান লেখক।

২০১৩ - রন ডেল্‌ও, ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।

২০১৯ - নবনীতা দেবসেন, বাঙালি কবি, লেখিকা ও শিক্ষাবিদ।

অন্যান্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, বাংলাদেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন

৭ নভেম্বর নিয়ে দেড় যুগ ধরে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। এমনকি সাধারণ ছুটির সরকারি তালিকা থেকেও ৭ নভেম্বরকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ দিনটি নিয়ে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা না হয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এ দিনটির প্রতি এত বিরাগ? ৭ নভেম্বর কি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা? আসলেই কি এটি সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব? ৭ নভেম্বর কি অনিবার্য ছিল? এই বিপ্লবের নির্মোহ বিশ্লেষণ কতটুকু হয়েছে এতদিন?

একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক। ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। যেকোনো হত্যাকাণ্ডই মর্মান্তিক, এটি বলাই বাহুল্য। কিন্তু দেশের জনগণ, এমনকি তার দলও সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়নি। পরদিনের পত্রিকাগুলোর শিরোনামেও অবিসংবাদিত নেতৃত্বের গুণগান তো দূরের কথা, সাদামাটা শোকগাথাও প্রকাশিত হয়নি। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সরকারনিয়ন্ত্রিত দুটি বাংলা ও দুটি ইংরেজি পত্রিকার সংখ্যা ছিল চারটি। সেদিন ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল ‘খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর শাসন ক্ষমতা গ্রহণ’। পত্রিকাটির প্রথম পাতার প্রথম কলামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ঐতিহাসিক নবযাত্রা’। দৈনিক বাংলার শিরোনাম ছিল ‘খন্দকার মোশতাক নয়া রাষ্ট্রপতি’ এবং সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’। আগের দিন ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ কিংবা খবর নেই; বরং ইতিবাচক পরিবর্তনের গুণগান। সে সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ, যিনি পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

১৫ আগস্ট থেকে কার্যকর করে ২০ আগস্ট ১৯৭৫ খন্দকার মোশতাক সামরিক শাসন জারি করেন। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ তখনো বহাল ছিল। সংবিধান নিয়ে কোনো কথা নেই। সব বাহিনীর প্রধান মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য ও সহযোগিতার প্রত্যয় গণমাধ্যমে ঘোষণা করেন।

আগস্ট ১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে বঙ্গভবনে অবস্থান নেন। বলা যায়, তারা সেনা কমান্ডের বাইরে রাষ্ট্রপতি মোশতাকের একান্ত সান্নিধ্যে ছিলেন। দেশে তখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ১৯৭৩-৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রভাব তখনো পুরোপুরি কাটেনি। রাস্তায় কঙ্কালসার, অনাহারপীড়িত মৃতদেহ পড়ে থাকত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল।

এর মধ্যে ২৫ আগস্ট ১৯৭৫ উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে রাষ্ট্রদূত করা হয়। চতুর খন্দকার মোশতাক জেনারেল জিয়াকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করলেও তার প্রতি অন্ধ আনুগত্যের আস্থা রাখতে পারেননি। ফলে সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব এক উদাহরণ সৃষ্টি করে সেনাবাহিনীতে জেনারেল জিয়ার কমান্ড প্রতিষ্ঠার অন্তরায় সৃষ্টি করতে তার ওপরে বসিয়ে দেওয়া হলো আরো দুজনকে।

জেনারেল খলিলুর রহমানকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হলো। আরো নিশ্ছিদ্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে জেনারেল ওসমানীকে দেওয়া হলো প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ। এ দুজনই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেনারেল জিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে নানা অজুহাতে অসহযোগিতা করতেন। একই সময়ে সিজিএস জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও ৪৬ ব্রিগেডের প্রধান শাফায়াত জামিল সেনাবাহিনীতে কমান্ড ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেনাবাহিনীতে ভিন্ন ধারা প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনার পক্ষে জোরেশোরে মাঠে নামেন।

২ নভেম্বর রাতে ৪৬ ব্রিগেডের সহায়তায় ঢাকা সেনানিবাসে বিদ্রোহের সূচনা হয়। বন্দি হন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদ মোশাররফ দিনভর চেষ্টা চালিয়ে খন্দকার মোশতাকের কাছে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়ে সফল হন ৩ নভেম্বর রাতে।

৪ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রাশেদ মোশাররফ ও তাদের মা খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের সমর্থনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি মিছিল নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। ৩ নভেম্বর রাতে সংঘটিত হয় জেলহত্যা। একই রাতে খালেদ মোশাররফদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে ফারুক, রশিদ, ডালিম, হুদা, নূর, পাশা, মোসলেহ উদ্দিনরা বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ২৭ ফ্রেন্ডশিপ বিমানে সপরিবারে, ব্যক্তিগত মালামালসহ নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংককের উদ্দেশে উড়ে যান। এমনকি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ফকার বিমানটির জ্বালানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় চট্টগ্রামে একবার জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা করা হয় পরিকল্পনামাফিক।

সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর নামে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ সৈনিকরা মোটেও পছন্দ করেননি। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। অন্যদিকে, খালেদ মোশাররফের তথাকথিত অভ্যুত্থান ও এর সমর্থনে উল্লসিত আওয়ামী লীগের মিছিল স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত বাংলাদেশে শান্তির নিঃশ্বাস নেওয়া দেশবাসীকে বাকশালী নির্যাতনের পুনরাবির্ভাবের আশঙ্কায় শঙ্কিত করে তোলে। তারাও এই অপশক্তির হাত থেকে পরিত্রাণের অপেক্ষায় ছিলেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ১২ দফা দাবির প্রচারণা। দেশের মানুষের তখন প্রত্যাশা ছিল, এমন একজন নেতার, যিনি এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে দেশকে পরিত্রাণ দিতে শক্ত হাতে হাল ধরবেন। আর সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা ছিল তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক সেনাপ্রধানের নেতৃত্ব। খালেদ মোশাররফের হাতে জেনারেল জিয়ার বন্দিত্ব তারা সহজে মেনে নেয়নি।

ফলে সিপাহি ও জনতা—উভয়ের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন একজনই, তিনি জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমিক সৈনিকরা ৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করেন তাদের উপযুক্ত প্রধান জেনারেল জিয়াকে। আর স্বতঃস্ফূর্ত জনতা ও দেশবাসী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের মতো আবার আশ্বস্ত হন যে দেশের ক্রান্তিকালে পরীক্ষিত ও অসমসাহসী দেশপ্রেমিক সেদিনের মেজর জিয়া ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠিক সময়ে দেশের হাল ধরেছেন।

জাসদ-সমর্থিত সৈনিকদের একটি দল কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনুদের প্ররোচনায় ১২ দফা দাবির পাশাপাশি অদ্ভুত কিছু স্লোগান দিয়ে ঢাকা সেনানিবাসকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে—‘সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’। এই রক্তহোলিতে নারী চিকিৎসকসহ ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

৭ নভেম্বরের পর বিশৃঙ্খল ও দিশাহীন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন জিয়াউর রহমান। পূর্বঘোষিত সামরিক শাসনামলের প্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সায়েম। জিয়া ও অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা ছিলেন উপপ্রধান। এ ক্ষেত্রে একটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমাদের সামনে এখনো রয়েছে।

৭ নভেম্বর না এলে বাংলাদেশের কী হতো? আমাদের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা সেদিন অবশ্যই ছিল। সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে না আসার আশঙ্কাও ছিল।

একদলীয় বাকশালের নিষ্পেষণে আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও প্রত্যাশা হয়তো আজন্ম অধরাই থেকে যেত। এসব আশঙ্কা সত্যি হয়নি, সেটি হয়তো আমাদের অদেখা স্বস্তি। কিন্তু ৭ নভেম্বর থেকে আমাদের প্রাপ্তির তালিকা অনেক দীর্ঘ।

• ৭ নভেম্বর আমাদের মুক্তি দিয়েছে একদলীয় বাকশালের দুঃশাসন থেকে।

• দিয়েছে চারটি সংবাদপত্রের নিয়ন্ত্রিত প্রকাশনার পরিবর্তে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।

• দিয়েছে অভিন্ন জাতীয়তার পরিচয়—ধর্ম-বর্ণ, গোত্র-গোষ্ঠী, ভাষা-সংস্কৃতি, পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে সম-অধিকারের জাতীয়তা ‘বাংলাদেশি’।

• সমাজতন্ত্রের সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ধারণার বিপরীতে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য ও অবাধ বাজার অর্থনীতির সুযোগ।

• আমাদের বেকার যুবশক্তির জন্য উন্মুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার।

• নারীদের জন্য সৃষ্টি করেছে স্বাধীন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ।

• সাহায্যনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি।

• দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশ হয়েছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

• আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে।

• মুসলিম বিশ্বে পেয়েছে সম্মানের আসন। ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে পেয়েছে দায়িত্বপূর্ণ পদ।

আর সবকিছু ছাপিয়ে নিশ্চিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। যুগে যুগে এভাবেই ইতিহাস বীরত্বগাথা রচনা করে, আর একটি জাতি ক্রান্তিলগ্নে খুঁজে পায় তার যোগ্য সন্তানকে। ৭ নভেম্বর আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের মতোই আরেকটি অমর বীরত্বগাথা। সিপাহি-জনতার ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের এক অনন্য ইতিহাস। ঐক্যের এই স্রোতোধারা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ থাকবে বাংলাদেশ, নিরাপদ থাকবে আমাদের ভূখণ্ড ও সীমান্ত, নিরাপদ থাকবে আমাদের আগামী প্রজন্ম।

লেখক: আহ্বায়ক, বিএনপি মিডিয়া সেল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%