০৯:২২ এম
যদি কেউ জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিমুখ থাকে, তবে সে কি কখনো সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হবে? যদি তার অন্যমনস্কতা ইচ্ছাকৃত না হয়, তাহলে কখন তার কাছে সেই লক্ষ্য অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে? কখন তা তার চিন্তা ও মনোযোগকে আচ্ছন্ন করবে এবং জীবনের উদ্দেশ্যে পরিণত হবে?
যদি কেউ আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য থেকে উদাসীন থাকে, অথচ তা অনিচ্ছাকৃত হয়, তাহলে কখন আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টি অর্জনে আত্মনিয়োগ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে? কখন তা তার চিন্তা ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে?
যদি কেউ নিজের দ্বিন ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকে, অথচ তা অনিচ্ছাকৃত হয়, তাহলে কখন দ্বিনের খিদমত ও বিধি-বিধান পালনে মনোযোগী হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
আরও পড়ুন: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সৌদি আরবে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা
যদি কেউ নফল ইবাদত থেকে দূরে থাকে, তাহলে কখন নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আখলাক অর্জনে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেগুলো নিজের জীবনে ধারণ করা তার চিন্তা ও সাধনার বিষয় হয়ে উঠবে?
যদি কেউ কোরআন তিলাওয়াত থেকে দূরে থাকে, তাহলে কখন কোরআন পাঠ ও তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ স্ত্রীর প্রতি মনোযোগ দিতে অবহেলা করে, তাহলে কখন জীবনসঙ্গিনীর যত্ন নেওয়া, তাঁর খোঁজখবর রাখা এবং তাঁর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল
যদি কেউ স্বামীর প্রতি মনোযোগ দিতে অবহেলা করে, তাহলে কখন জীবনসঙ্গীর যত্ন নেওয়া, তাঁর খোঁজখবর রাখা এবং তাঁর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ পাপাচার ও গুনাহ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন গুনাহ পরিত্যাগ করা তার চিন্তা ও সাধনার বিষয় হয়ে উঠবে?
যদি কেউ মানুষের অধিকার ও পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন মানুষের হক আদায় করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
আরও পড়ুন: ওমরার নিয়ত করে ইহরাম পরা অবস্থায় ইন্তেকাল, মক্কায় যেতে পারলেন না তুর্কি ইমাম
যদি কেউ আখিরাতের চিন্তা থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ নিজের জীবনের শেষ পরিণতি এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেই পরিণতির কথা চিন্তা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যদি কেউ নিজের দোষত্রুটি ও ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন সেগুলো খুঁজে বের করা, সংশোধন করা এবং আত্মসমালোচনা করা তাকে ভাবিয়ে তুলবে?
যদি কেউ আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার এবং নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ থেকে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন এসব আমলে অভ্যস্ত হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
আরও পড়ুন: যে দোয়া পাঠে জান্নাত অবধারিত হয়
যদি কেউ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক অবস্থা ও কল্যাণের ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তাহলে কখন তাদের সমস্যা, সংকট ও কল্যাণের বিষয়ে চিন্তা করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, সে একসময় নিজেকেই ভুলে যায়।
যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে উদাসীন থাকে, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যকে অবহেলা করে, সে একসময় তার কাঙ্ক্ষিত সবকিছুই হারিয়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে পড়ে, সে প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই আল্লাহর স্মরণ থেকে বঞ্চিত করে।
মহান আল্লাহ জীবনের প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন