ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ সাহানে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ

এছাড়া, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

মাহফিলের সময় পবিত্র কুরআন খতমের পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করা হয়।

এ সময় মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের তানিয়া আক্তার নামে এক নারী। তার অভিযোগ, এসব কনটেন্ট ব্যবহার করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ভৈরব পৌর শহরের দুর্জয় মোড় সংলগ্ন ভৈরব সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তানিয়া আক্তার জানান, তিনি ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের কাজী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং খলিল মিয়ার মেয়ে। তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জননী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২১ সালে ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে টাঙ্গাইলের আগবেথর এলাকার আব্দুল রশিদের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই হাসপাতালে অবস্থানের সুবাদে আব্দুল রশিদের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে সৌজন্যমূলক যোগাযোগ ছিল বলে জানান তিনি।
তানিয়ার অভিযোগ, বর্তমানে প্রবাসে অবস্থানরত আব্দুল রশিদের প্ররোচনায় সোহাগ মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার ও পরিবারের সদস্যদের কিছু ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে তাকে জিম্মি করে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তানিয়ার দাবি, টাকা না দিলে আরও আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে থাকা স্বামী তাকে সংসার ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। এ ছাড়া কিছুদিন আগে বিয়ে হওয়া মেয়েকেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এসব ঘটনায় তিনি বর্তমানে চরম সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।
অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তানিয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে তানিয়া আক্তারের ভাগনি আশামনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ আগস্ট সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিশোধ, ৭ নভেম্বর জনবিপ্লব : জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


১৫ আগস্ট সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিশোধ, ৭ নভেম্বর জনবিপ্লব : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি অবহেলা ও অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ৭ নভেম্বরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ছিল সিপাহিদের নেতৃত্বে সংগঠিত একটি বিপ্লব, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল।

শুক্রবার সকালে ঢাকার আল-ফালাহ মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সভাটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭২ সালের পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, তখনকার সরকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ইসলামি সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করে। এর ফলে জনগণের ম্যান্ডেটও হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, রক্ষীবাহিনীকে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি সৃষ্টি করে। একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা নানা ধরনের দমনপীড়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের অপমান করা হতো। এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী অপহৃত হয়েছিল। বিচার চাওয়ার কারণে ওই কর্মকর্তা চাকরি হারান। এমন নৈরাজ্যের ফলস্বরূপ ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ঘটে। এরপর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়।

শেষে ৭ নভেম্বর সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। তার বর্ণনায়, তখন রাজপথে সাধারণ মানুষ তাকবির ধ্বনি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। এই দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে যোগদান করেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় তিনি সস্ত্রীক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এ শোভাযাত্রা বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হবে, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হেঁটে অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, ‘নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।’

র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কারণে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। শোভাযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধ এবার সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

গত ৪ অক্টোবর, দুই অভিনেত্রীর কাছে পৃথক চিঠির মাধ্যমে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জুলাই তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈকে সদস্য পদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগঠনের কার্যালয়ে ওই নোটিশের লিখিত জবাব জমা দেননি।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিস বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য একটি সালিস কমিটি আছে, যা সার্বভৌম এবং স্বাধীন। আমরা চেয়েছিলাম, তারা নিজেদের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি দূর করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। ঘটনার পর থেকেই আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। উদ্ভূত ঘটনার পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকেই সালিসের জন্য ডাকা হয়। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি হচ্ছে তারা ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। সেটা আমরা প্রকাশ করব কি করব না, এটা একান্তই সংগঠনের নিজস্ব ব্যাপার ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দুটি সিদ্ধান্তের কোনোটাই তারা মানেননি এবং তাদেরকে পরপর দুটি চিঠি দেওয়ার পরও তারা চিঠির কোনো সদুত্তর দেননি এবং চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরবর্তীতে তাদের ফোনও করা হয়, কিন্তু ফোনের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় দীর্ঘ বিরতির পর সালিস কমিটি বাধ্য হয়ে ইসি কমিটিকে তাদের সদস্য পদ বাতিলের জন্য সুপারিশ করে। পরে ইসি কমিটি সভায় এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

রাশেদ মামুন অপু আরো জানান, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দুই পক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল তিশা-অথৈর বিরোধ

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩ মার্চ। মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলেন সামিয়া।

অথৈর অভিযোগ, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে তিশাকে আলতো করে চড় মারতে বলা হয়েছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেন। কিন্তু এরপর তিশা তাকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তার চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। এ ছাড়া আগেও তিশার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সামিয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তার ভাষ্য, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে তিনি সামিয়াকে আঘাত করেননি।

তিশা জানান, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণের অংশ হিসেবে অন্যকে আঘাত করা কিংবা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। ফলে অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই কাজ করেছেন তিনি। নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শক পুরো বিষয়টি বুঝতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পেশাদারির জায়গা থেকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদারও বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, দৃশ্যটিতে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ, হস্তক্ষেপ করে সংগঠন

দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত জটিলতা কিংবা মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা আচরণবিধির পরিপন্থী।

সংগঠনটির মতে, কোনো ঘটনার একতরফা উপস্থাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিনয়শিল্পীদের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

এরপর দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় সালিস ও আলোচনার উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। তবে একাধিকবার বৈঠক ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। সর্বশেষ কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার বিষয়টি সামনে রেখে তাদের সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।

তবে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠিতে শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, সংগঠনটির দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্ত মূলত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিস কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%