ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানুষের কল্যাণে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে: গণপূর্ত মন্ত্রী


মানুষের কল্যাণে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে: গণপূর্ত মন্ত্রী

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও এলাকার মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (০৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে ‘বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা’-এর নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এই কথা বলেন।

মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান, বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতিকে একটি অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এগিয়ে নিতে দল-মত এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, বরুড়া উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৩০০টি রাস্তা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে ওই এলাকায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় রাস্তা বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যক্তির মৃত্যু

এছাড়া, এলাকার পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ যোগাযোগব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছেন, বরুড়ায় একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সময়ে, ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের ভোট ও দোয়া মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সময় বরুড়ার সার্বিক উন্নয়নে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন, আব্দুল হক, মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার ও নুরুল ইসলাম মিলন সমিতির কার্যক্রম, অগ্রগতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান ও মো. আব্দুস সামাদসহ বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ ও অভিষেক সম্পন্ন হয়। পরে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে গৃহীত নানা উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি ও জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি ও জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের ৮৫ বছর পর আবারও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি ও জাপান। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে, দুই দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অক্ষশক্তিতে যোগ দিয়েছিল জার্মানি ও জাপান। তবে এবার তাদের সামরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় জার্মানির সমর্থন এবং চীন ও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে জাপানের উদ্বেগ তাদের ঘনিষ্ঠ করছে। এ সহযোগিতায় ড্রোন, হেলিকপ্টারসহ সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্র ও দক্ষতা বিনিময় রয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দুই দেশের সহযোগিতা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমর্থনকারী জার্মানি ও জাপানের আরো ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, দুই দেশই সামরিক ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয়। জাপানের সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে যুদ্ধ পরিত্যাগের ঘোষণা রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সরকারি নাম ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস’।

জার্মানিও দীর্ঘদিন প্রতিরক্ষার চেয়ে সামাজিক খাতে বেশি ব্যয় করেছে।

তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও দুই দেশকে দ্রুত পুনঃসামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস সামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও অস্ত্র রপ্তানির ওপর যুদ্ধ-পরবর্তী বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন।

তবে জাপানে এ নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি বাড়ালেও জার্মানি ও জাপানকে নিজেদের জনগণের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে নতুন মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে: জামায়াত আমির

জামায়াত আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার কোনো ক্ষতি নেই, বরং এর ফলে আমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি গালিও আমি দেখতে পাই। তাতে আমার কোন ক্ষতি নেই।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক সমালোচনা করেন। তাদের সমালোচনাকে আমলে নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিতে হবে। তারা আমাদের প্রতি যে ভাষায় কথা বলে, আমরাও যদি তাদের ভাষায় কথা বলি, তাহলে আমাদের মাঝে আর পার্থক্য রইলো কোথায়?

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই জমানায় মাঝে মাঝে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র চলে। এটা হওয়া উচিত নয়। আমরা এধরণের সকল ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত মন দিয়ে নেব। তবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র কারোর ওপর চালাব না। আমরা সবাইকে সম্মান করি। গালি দিলেও সম্মান করবো, দোয়া করলেও সম্মান করবো। কেউ যদি আমাকে অহেতুক গালি দেয় তাহলে আমার কিছু গুনাহ মাফ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্ট মার্টিনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে চাই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


সেন্ট মার্টিনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে চাই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

 

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বীপে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

এই তিন দিনব্যাপী কর্মসূচিতে দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণের কাজ করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সেন্ট মার্টিনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন আমাদের ভালোবাসার জায়গা, অস্তিত্বের জায়গা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আমাদের একটাই সেন্ট মার্টিন। আমরা চাই, এই দ্বীপটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে সেন্ট মার্টিনে আপাতত ২০ হাজার গাছ লাগানো হচ্ছে। উপকূলের যেখানে যে গাছ উপযোগী, সেখানে সেই গাছই লাগানো হবে, যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে সহজে বেড়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ফলদ, ঔষধি ও বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। এসব গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।’

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, এনরুট ফাউন্ডেশন ও বিজিএসের যৌথ সহযোগিতায় ৮ থেকে ১০ আগস্ট এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মসূচির আওতায় আম, পেয়ারা, বহেরা, হরতকি, নিম, কুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সাগরলতা, কেয়া ও নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি দ্বীপের সমুদ্রসৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক, যুবসমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ত্রভাণ্ডার ‘ফাঁকা’, নিরাপত্তা নীতিতে কি পরিবর্তন আনবে যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


অস্ত্রভাণ্ডার ‘ফাঁকা’, নিরাপত্তা নীতিতে কি পরিবর্তন আনবে যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই গোলাবারুদ সঙ্কটে ভুগছে? এই প্রশ্নটি বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রেও এবং সামরিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে নির্দেশ করা হয়েছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার কারণে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডার প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের কোনো পরিমাণেই অভাব নাই, কিন্তু প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টর পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেছে যে, এই অস্ত্রগুলো আমেরিকার নিজস্ব সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পেন্টাগনের কিছু ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, সংকটটি সাধারন অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং এটি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের বাস্তবতা। ইরানের সঙ্গে চলমান এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে। থাড এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এখন মারাত্মকভাবে ফুরিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার কারণে মার্কিন থাড ব্যবস্থার প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত একাধিক এক্স-ব্যান্ড রাডার গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা মার্কিন সুরক্ষাবলয়ের নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

এমনকি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অবস্থাও একই। তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র বাহিনী তাদের পিএসি-২ এবং পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টরের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ব্যবহার করে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে যাওয়ার আগে আমেরিকায় যে পরিমাণ পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ছিল, তার একটি বড় অংশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করার কাজে ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে যে কয়েকটি ইন্টারসেপ্টর রয়েছে, তা দিয়ে কার্যক্ষম ব্যাটারিগুলো চালু রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও পুরোনো প্রযুক্তির পিএসি-২ মিসাইলগুলো মজুদ রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা আধুনিক ও জটিল হুমকির মোকাবিলায় যথেষ্ট সন্দেহজনক।

অস্ত্র উৎপাদনের গতি বর্তমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত ধীর। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রধান উৎপাদক লকহিড মার্টিন এবং এর সহায়ক যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক বোয়িং সংস্থার উৎপাদন লাইনে বেশ কিছু জটিল ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। একটি সম্পূর্ণ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর প্রস্তুত করতে এবং এর প্রয়োজনীয় মান নিশ্চিত করতে যাৎ দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদা এবং উৎপাদনের ব্যবধান এতটাই অনেক যে, পুরনো গতিতে উৎপাদন চালিয়ে গেলে এই ঘাটতি পূরণ করতে বহু বছর সময় লাগবে।

এ বিষয়টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থলযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এটিএসিএমএস মিসাইলের অবস্থাও প্রায় একই রকম। ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ব্যবহারের ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘপাল্লার গাইডেড মিসাইলের ভাণ্ডারও প্রায় শূন্য হতে চলেছে। বিকল্প হিসেবে যে প্রিজম মিসাইল আসার কথা ছিল, সেটি এখনও উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, কিংবা তাইওয়ান ও কোরিয়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এই বিশেষ মিসাইল সরবরাহের পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে বললে চলে।

স্থলবাহিনীর পদাতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি শেলের সাপ্লাই চেইনও কঠিন সংকটে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ফ্রন্টলাইনে কোটি কোটি রাউন্ড শেল ব্যবহার হয়ে গেছে যার কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মজুদে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন সরকার টেক্সাসে একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালালেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার জন্য তা এখনও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। এর ফলে, নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত আর্টিলারি শেলের এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিশেষ অস্ত্র সংকট আগামী দশকে মার্কিন নিরাপত্তা নীতি ও বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে বাধ্য। বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে, যার ফলস্বরূপ ইউক্রেনের পতন কিংবা তাইওয়ান এবং কোরিয়া উপদ্বীপে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বিমান চলাচল এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে এখনও শক্তিশালী, তবে লজিস্টিক এবং যুদ্ধাস্ত্রের এই দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি আমেরিকার বৈশ্বিক প্রভাবকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন তাদের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশল পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থাকে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। মিত্র দেশগুলোকেও তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার সময় এসেছে, কারণ আমেরিকান নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার দিন শেষ হচ্ছে। আগামী দশকটি স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার সময় হতে যাচ্ছে, যেখানে সামান্য ভুলের মাশুল গোটা বিশ্বকে দিতে হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%