আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে অজ্ঞাত একটি প্রাণীর হামলায় নারীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। পরপর হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিয়নের আলগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে
শুক্রবার( ১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় আলগড়ার একটি বাড়ির উঠানে বসেছিলেন ফয়জুন বেগম। হঠাৎ অজ্ঞাত একটি প্রাণী তার ওপর আক্রমণ করে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ফয়জুন বেগমকে উদ্ধারে তার ভাই হাকিম মিয়া এগিয়ে গেলে প্রাণীটি তার ওপরও আক্রমণ করে। এতে তিনিও আহত হন।
এর আগে একই ধরনের একটি প্রাণী বরমচাল ইউনিয়নের মাধবপুর লামাপাড়া এলাকায় আরও এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে আহত করেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই রাতে কাছাকাছি এলাকায় পরপর হামলার ঘটনায় বরমচাল ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর বাড়ির উঠান ও আশপাশে চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বন করছেন স্থানীয়রা।
তবে হামলাকারী প্রাণীটি আসলে কী—শিয়াল, হায়েনা, নাকি স্থানীয়ভাবে পরিচিত কোনো বন্যপ্রাণী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাণীটির পরিচয় শনাক্ত করে স্থানীয়দের নিরাপত্তায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রাণীটির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্কিত না হয়ে রাতে অপ্রয়োজনে একা বাইরে না বের হওয়ার এবং বন্যপ্রাণী দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে অবস্থিত মাঠে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের কন্যা সুমি খাতুন (৭), একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফ)-এর পুত্র খালিদ হোসেন (৮) এবং কন্যা আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে শিশুরা বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে। এ সময় প্রথমে একজন শিশু পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পরবর্তীতে আরো দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটে।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াত গোপনে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে দেশের অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশেদ খান বলেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী জানান, ভারতের একের পর এক অনুরোধ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাননি। তিনি বলেন, পলাতক শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে রাশেদ খান বলেন, এই সংকট সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে লংমার্চ করছে।
লংমার্চ করে সমস্যার সমাধান হবে কিনা, এই প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, জামায়াত ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য ভারতীয় আঁতাতের মাধ্যমে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের ভাষা ও জামায়াতের আমিরের ভাষা একই সূত্রে গাঁথা।
জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান রাশেদ খান।
এ সময় তিনি ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
পরে তিনি স্থানীয় শিশু কিশোরদের সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেন। এসময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমীনুজ্জামান সমীন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা বিদ্যালয়, যা এক শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষার প্রসার, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯১৬ সালে তৎকালীন সারদা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) এর অধ্যক্ষ মেজর চামনি স্থানীয় জনগণের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য সরদহ এমই জুনিয়র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়টি ১৯২৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ১৯২৯ সালে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন লাভের পর, ১৯৩১ সালে বিদ্যালয়টির পাঁচ জন শিক্ষার্থী মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সবাই উত্তীর্ণ হয়। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান আমলে ফোর্ট ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাইলট স্কুল হিসেবে অন্তভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে এই বিদ্যালয়টিও ছিল। তখন থেকেই বিদ্যালয়টির নাম পাইলট অন্তভুক্ত করে সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং রাজশাহী অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা পালন করে আসছে।
১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করেন। এর ফলে পদ্মানদী বেষ্টিত ও অপেক্ষাকৃত অবহেলিত এই অঞ্চলের অসংখ্য ছেলেমেয়েদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। জাতীয়করণের পর বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীর ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শুধু চারঘাট বা রাজশাহী নয়, বরং দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও সমাজনেতা তৈরি করেছে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নেতিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য বিদ্যালয়টির সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছে।
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিনিয়া বলেন, "এত ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পেরে আমি গর্বিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমাদের শুধু পাঠ্যবই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে কাজ করেন।" বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রজব আলী বলেন, "শতবর্ষেও এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি।"
অভিভাবক রেহেনা পারভিন বলেন, "আমার সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে বলে আমি নিশ্চিত থাকি। শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা বিদ্যালয়টিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।" শতবর্ষের এই গৌরবময় যাত্রায় সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। নতুন শতাব্দীতে পদার্পণের প্রাক্কালে বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা এর ঐতিহ্য ও সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক খাতুনে রাহে নাজাত বলেন, "সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস আমাদের জন্য গর্বের। বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে আমরা কাজ করছি।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামী দিনে এই বিদ্যালয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শতবর্ষের এই গৌরবময় পথচলা, শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আইনি নোটিশ প্রদান করেছেন।
আইনি নোটিশে আখতারুল ইসলামকে জানানো হয়েছে যে, গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। নোটিশে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর আখতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। এরপর এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম জানান যে, তিনি তাঁর বক্তব্য ভুলবশত দিয়েছেন। তিনি সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।
আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।
এ অবস্থায় ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য একইভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার জন্য আখতারুল ইসলামকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আখতারুল ইসলামকে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ