বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৯ এম
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বর্তমান সভাপতি হলেন মহসিন নাকভি। তার মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, নাকভির মেয়াদ যদি না বাড়ে, তাহলে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে এসিসির সভাপতির চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল।
২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে এসিসির সভাপতি হিসেবে মহসিন নাকভির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নির্বাহী বোর্ডের সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন। তবে সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাকভির পক্ষে সেই সমীকরণ মেলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এশিয়ার পাঁচ পূর্ণ সদস্যদেশের মধ্যে প্রতি দুই বছর পরপর এসিসির সভাপতির দায়িত্ব ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এবারের পালা বাংলাদেশের। বিসিবির প্রধান তামিম ইকবালও এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী এবং এসিসিকে তার মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
এসিসির নির্বাহী বোর্ডে সদস্য হিসেবে রয়েছে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। নিয়ম অনুযায়ী, মার্চ থেকে মার্চ পর্যন্ত সভাপতির মেয়াদ নির্ধারিত হলেও মহসিনের ক্ষেত্রে তা ২০২৭ সালের ২ এপ্রিল শেষ হবে। তবে এর আগে মেয়াদ বাড়ানোর নজিরও রয়েছে।
গত বছর তৃতীয় দফায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন জয় শাহ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সকল সদস্যের পূর্ণ ঐকমত্য ছিল। শ্রীলংকা ক্রিকেট তাদের পালা এক বছর পেছাতে রাজি হয়েছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে মহসিনের বিরোধের কারণে অন্তত তিনটি পূর্ণ সদস্যদেশ তার মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে।
ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে এসিসির এক সদস্য বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘নানা জল্পনা থাকতে পারে, কিন্তু নাকভির মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হবে। এরপর বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার কথা এবং এসিসির সদস্যদের মধ্যে এমন একটি ধারণা আছে যে তামিম দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। নাকভি হয়তো যুক্তি দিতে পারেন, গত বছর এজিএম হয়েছিল আগস্টে, তখন এসিসির অন্য পদগুলোর নির্বাচন হয়নি; নির্বাচন হয়েছে এ বছর আগস্টে। কিন্তু এসিসি সভাপতির মেয়াদের সঙ্গে এজিএমের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়িতে সংঘটিত মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীকে আসামি করার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় একযুগ পর একটি ঘটনার মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বাঁশখালী) আদালতে ৪০ বছর বয়সী পারভীন আক্তার নামের এক নারী একটি নালিশী দরখাস্ত দাখিল করেন।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে ১৪৩/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৫ /৩০৭/ ৪২৭/ ৩৭৯/ ৩৮০/ ৩৮৫/ ৩৮৭/ ৩৫৪/ ৫০৬(২) দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করা হয়েছে। আসামির তালিকায় ১৩ নম্বরে সুলতান-উল-কবির চৌধুরী (৫৫) পিতা মৃত ফজুল কবির চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে সাবেক এই সংসদ সদস্য ১২ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন আরাফাত চৌধুরী (৪৫) জানান, মামলার যে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তিনি শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, তার জেঠা ১৩ বছর আগে মারা গেছেন, তাকেও আসামি করা হয়েছে, যা হাস্যকর।
মামলার নথির একটি কপিতে দেখা যায়, আসামিদের তালিকায় সুলতান উল কবির চৌধুরীর নাম রয়েছে এবং নথিতে তার বয়সও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পুঁইছড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামিদের তালিকায় প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে। সুলতান-উল-কবির চৌধুরী ২০১৪ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রায় ১২ বছর তিন মাস আগে তিনি মারা যান। ফলে মৃত্যুর একযুগ পর সংঘটিত একটি ঘটনার মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজন প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই মামলার এজাহারে প্রয়াত সাবেক এমপির নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার এজাহার প্রণয়ন ও আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, "আমি শুনেছি তবে মামলার কপি এখনও থানায় আসেনি, আসার পর দেখা যাবে কী করা যায়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজে দক্ষ করে তুলতে সিলেটে কয়েকটি এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম প্রথমে সিলেট থেকে শুরু হবে এবং পরে ধাপে ধাপে বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতে সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং ও আন্তর্জাতিক আইটি খাতে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বিশেষ করে সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে অনেক তরুণ মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার, ৪ হাজার কিংবা ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। কিছু উচ্চ পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারের আয় আরও বেশি।
তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে তারা নিজেদের উপার্জনে সক্ষম হবেন। ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে তারা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারবেন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটি-সংশ্লিষ্ট কাজ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন।
মন্ত্রী দেশের উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। বিশ্বের যেসব দেশ টেকসইভাবে এগিয়েছে, তাদের মৌলিক বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পর্যায়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় যদি এই দুই খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ না করা হয়।
মন্ত্রী বর্তমান সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারের দুটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রত্যেকটিতে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথা। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এ পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ নয় এবং এজন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদ—উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অঞ্চলটির অবস্থান প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকার চিত্র রয়েছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এ পিছিয়ে থাকার কারণ সিলেটের মানুষের মেধা বা সক্ষমতার ঘাটতি নয়।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, রাজনীতি, ব্যবসা ও নানা পেশায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, সিলেটের শিক্ষাগত পিছিয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে হলে অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও অন্যান্য কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকে নজর দিতে হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দেশ গঠনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
মন্ত্রী নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের তিন জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সফলভাবে সম্পন্ন করা কৃতি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইউম চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, দৈনিক ‘আগামীর সময়’-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী ও ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহসভাপতি শাকেরা বখস।
অনুষ্ঠানে সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ত্রিশিতা মওলা এবং একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান, কারণ জিএসএফ হাইতি মিশনে ডিএমপির সোয়াট সদস্য এবং বোম্ব টেকনিশিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে।
তারা ভবিষ্যতে পূর্বের মতো প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিয়ার টিম গঠন করায় ডিএমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং কে-নাইন (ক-৯) টিমের মতো বিশেষায়িত টিম গঠনের জন্য এবং বাংলাদেশে উগ্রবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, সক্ষমতা এবং ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান লোগান কলিন্স, সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট সুলিভান এবং জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাবিব।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
আজ ডিএমপির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদাবর থানা পুলিশ ৩৩ জন, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ২৭ জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ ২২ জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ ১০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ৭ জন এবং শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো- মো. খাদীমুল হাসান নাঈম (১৯), শাহাদাব আলী খান ওরফে অর্ণব (২৮), মো. সুমন (২৫), মো. খোকন মোল্লা (৪২), মো. রবিন (২৩), মো. আব্দুল বাছের (৪২), মো. খোরশেদ আলম কাছিমি (২৬), মো. বাপ্পী মুন্সী (২৯), মো. আলম (৬৫), মানিক হাওলাদার (৪০), মো. রিপন মিয়া (৪৬), মো. সুজন (১৯), মো. জাহাঙ্গীর (৪২), মো. রাব্বি (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন সরদার (২৭), মো. আলী আকবর (২৭), মো. উজ্জ্বল (৩০), মোসা. জোছনা বেগম (৪৫), মো. সজীব ওরফে শাওন (২০), মো. মাসুদ (৪৫), মো. আবু সাইদ (২৮), মো. নাহারুল ইসলাম ওরফে লালন (৪০), মো. মাইদুল (৬৫), মো. ফাহিম হোসেন (২৫), মো. রাব্বী (২৫), মো. সোহাগ (২৬), আল আমিন (২১), শান্ত (১৮), মো. আরমান (২৪), মো. মুখলেছুর রহমান লিটন, মো. সুজন ওরফে সজীব ওরফে কাইল্লা সজীব ওরফে ফর্মা সজীব (৩১), মৃদুল হক সৌরভ (৩০), মো. সম্রাট (৩০), মো. আবুল বাসার (৩৫), মো. জীবন (২৮), সাইফুল ইসলাম (২৭), মো. আসাদুল (৪৪), মো. সাদ্দাম (৩৫), মহসিন সিকদার, মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪), মোসা. পারভীন (৩০), মো. ইকবাল (৪৯), মো. জাহিদ (৩৪), মো. জুয়েল (২২), মো. নাঈম (১৯), মো. মিরাজ (২২), মো. হৃদয় (২৩), মো. শরিফুর রহমান ওরফে লিটন (৫৩), মো. মোজাহিদ হোসেন তন্ময় (৩০), আবরার হোসেন (৩৩), প্রকাশ কুমার দাস (২৬), মো. শরীফ আহমেদ (২৩), মো. সবুজ (৩৫), মো. জলিল (৫০), মো. নূরে আলম (২৮), মো. রাসেল (২০), মো. আতিকুল (২৫), মো. রাসেল পিযাদা (২২), লিয়ন (২১), আবুল কালাম আজাদ (৬৫), লিমন সরকার (২২), মো. ইসমাইল হোসেন (২০), মো. দিপু (২০), মো. লাল চাঁন, সিহাবুল ইসলাম সাব্বির (১৯), ওসমান গণি আছুয়াত (১৯), মো. ইমন (২০), মো. রামিম শেখ (১৯), মো. মুন্না (২০), রাকিব (২৪), আ. মালেক (৪৫), মো. জাকির (৪০), মো. তানসিন মিয়া (১৮), সাহাদত হোসেন (১৯), মো. সৌরভ হোসেন (১৮), সাব্বির হোসেন (২০), দ্বীন ইসলাম মানিক (১৮), মুস্তাকিম (১৮), মো. শাহাদত (২৮), মো. নাঈম হাওলাদার (২২), মো. শাওন (২৪), মো. পঁচা হৃদয় (২২), মো. আবুল কালাম আজাদ (১৮), মো. সফল মিয়া (৩৪), মো. মিলন (২০), মো. আরিফ (২০), মুস্তাকিম (১৯), সাগর (১৯), নিপা (২৫), মো. ইমরান (৩৫), শুক্কুর (২৫), সুজন (৪২), মো. বারিক (৩৮), মো. জাফর (৪০), মো. সোহেল (৩০), আলম মিয়া (৩৮), নজির মিয়া ওরফে নজরুল (৪৫), মোসলেম (৫০), মো. আরিফ (২৮), মো. চান মিয়া (৩১), জুল হোসেন ওরফে জুলহাস (৩২), মো. হারুন অর রশিদ (৩৬), মো. আমিরুল ইসলাম (২১), মো. ইয়াসিন ভূঁইয়া (২০) এবং আইনগত সংঘাতে জড়িত একজন শিশু।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ