বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১১ এম
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ত্রিশিতা মওলা এবং একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান, কারণ জিএসএফ হাইতি মিশনে ডিএমপির সোয়াট সদস্য এবং বোম্ব টেকনিশিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে।
তারা ভবিষ্যতে পূর্বের মতো প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিয়ার টিম গঠন করায় ডিএমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং কে-নাইন (ক-৯) টিমের মতো বিশেষায়িত টিম গঠনের জন্য এবং বাংলাদেশে উগ্রবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, সক্ষমতা এবং ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান লোগান কলিন্স, সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট সুলিভান এবং জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাবিব।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
আজ ডিএমপির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদাবর থানা পুলিশ ৩৩ জন, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ২৭ জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ ২২ জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ ১০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ৭ জন এবং শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো- মো. খাদীমুল হাসান নাঈম (১৯), শাহাদাব আলী খান ওরফে অর্ণব (২৮), মো. সুমন (২৫), মো. খোকন মোল্লা (৪২), মো. রবিন (২৩), মো. আব্দুল বাছের (৪২), মো. খোরশেদ আলম কাছিমি (২৬), মো. বাপ্পী মুন্সী (২৯), মো. আলম (৬৫), মানিক হাওলাদার (৪০), মো. রিপন মিয়া (৪৬), মো. সুজন (১৯), মো. জাহাঙ্গীর (৪২), মো. রাব্বি (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন সরদার (২৭), মো. আলী আকবর (২৭), মো. উজ্জ্বল (৩০), মোসা. জোছনা বেগম (৪৫), মো. সজীব ওরফে শাওন (২০), মো. মাসুদ (৪৫), মো. আবু সাইদ (২৮), মো. নাহারুল ইসলাম ওরফে লালন (৪০), মো. মাইদুল (৬৫), মো. ফাহিম হোসেন (২৫), মো. রাব্বী (২৫), মো. সোহাগ (২৬), আল আমিন (২১), শান্ত (১৮), মো. আরমান (২৪), মো. মুখলেছুর রহমান লিটন, মো. সুজন ওরফে সজীব ওরফে কাইল্লা সজীব ওরফে ফর্মা সজীব (৩১), মৃদুল হক সৌরভ (৩০), মো. সম্রাট (৩০), মো. আবুল বাসার (৩৫), মো. জীবন (২৮), সাইফুল ইসলাম (২৭), মো. আসাদুল (৪৪), মো. সাদ্দাম (৩৫), মহসিন সিকদার, মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪), মোসা. পারভীন (৩০), মো. ইকবাল (৪৯), মো. জাহিদ (৩৪), মো. জুয়েল (২২), মো. নাঈম (১৯), মো. মিরাজ (২২), মো. হৃদয় (২৩), মো. শরিফুর রহমান ওরফে লিটন (৫৩), মো. মোজাহিদ হোসেন তন্ময় (৩০), আবরার হোসেন (৩৩), প্রকাশ কুমার দাস (২৬), মো. শরীফ আহমেদ (২৩), মো. সবুজ (৩৫), মো. জলিল (৫০), মো. নূরে আলম (২৮), মো. রাসেল (২০), মো. আতিকুল (২৫), মো. রাসেল পিযাদা (২২), লিয়ন (২১), আবুল কালাম আজাদ (৬৫), লিমন সরকার (২২), মো. ইসমাইল হোসেন (২০), মো. দিপু (২০), মো. লাল চাঁন, সিহাবুল ইসলাম সাব্বির (১৯), ওসমান গণি আছুয়াত (১৯), মো. ইমন (২০), মো. রামিম শেখ (১৯), মো. মুন্না (২০), রাকিব (২৪), আ. মালেক (৪৫), মো. জাকির (৪০), মো. তানসিন মিয়া (১৮), সাহাদত হোসেন (১৯), মো. সৌরভ হোসেন (১৮), সাব্বির হোসেন (২০), দ্বীন ইসলাম মানিক (১৮), মুস্তাকিম (১৮), মো. শাহাদত (২৮), মো. নাঈম হাওলাদার (২২), মো. শাওন (২৪), মো. পঁচা হৃদয় (২২), মো. আবুল কালাম আজাদ (১৮), মো. সফল মিয়া (৩৪), মো. মিলন (২০), মো. আরিফ (২০), মুস্তাকিম (১৯), সাগর (১৯), নিপা (২৫), মো. ইমরান (৩৫), শুক্কুর (২৫), সুজন (৪২), মো. বারিক (৩৮), মো. জাফর (৪০), মো. সোহেল (৩০), আলম মিয়া (৩৮), নজির মিয়া ওরফে নজরুল (৪৫), মোসলেম (৫০), মো. আরিফ (২৮), মো. চান মিয়া (৩১), জুল হোসেন ওরফে জুলহাস (৩২), মো. হারুন অর রশিদ (৩৬), মো. আমিরুল ইসলাম (২১), মো. ইয়াসিন ভূঁইয়া (২০) এবং আইনগত সংঘাতে জড়িত একজন শিশু।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে অতিরিক্ত জেল খাটানোর ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার, এক আইনজীবীর রিটের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক।
ইব্রাহিম শেখ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার একজন নাইটগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ সালে রাতে পাহারা শেষে সকালে ঘরে ফেরার পথে তাকে হত্যা সহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। দায়রা আদালত ইব্রাহিম শেখকে মৃত্যুদ- দেন এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে তাকে খালাস দেয়া হয় এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য মামলায়ও হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়। কিন্তু তদবিরের অভাবে খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে প্রায় ৮ বছর সময় লেগে যায়।
দীর্ঘ ২২ বছর কারাগারে থাকার ফলে ইব্রাহিম শেখের মা মারা যান এবং তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। চরম দারিদ্রতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন না। বিষয়টি একটি দৈনিকে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ইব্রাহিম শেখকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা দেয়ার দাবি জানিয়ে জনস্বার্থে রীট দায়ের করে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান। সরকারপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক জানান, ইব্রাহিম আলী শেখের খালাসের আদেশ ৮ বছর ধরে প্রেরণ ও কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের চরম অবহেলাকে বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনকারী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না-জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বিবাদীদেরকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। দীর্ঘায়িত আটকাদেশের কারণে ইব্রাহিম আলী শেখের স্বাভাবিক জীবন যাপনের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণস্বরূপ অবিলম্বে ৫,০০,০০,০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা অথবা কোনো দৃষ্টান্তমূলক পরিমাণ অর্থ প্রদান করার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া-চানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বুধবার নতুন মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে ব্যাংকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান ভবনের পঞ্চম তলায় জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান ও করণীয় তুলে ধরা হতে পারে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটানোও অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে এবং একই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও নতুন বেতন কাঠামো মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ