শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৩ এম
মানুষের জীবনে সবচেয়ে কঠিন নিয়ন্ত্রণটি অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, অন্য কাউকে নয়। বাইরের দৃষ্টিতে যতই শান্ত, ভদ্র ও সংযমী মনে হোক, ভেতরে চলতে থাকে নানা চাওয়া-পাওয়া, রাগ, লোভ, অহংকার, কামনা ও প্রবৃত্তির টানাপড়েন। মন চায় এক কথা, বিবেক বলে আরেক কথা; নফস চায় তৎক্ষণাৎ তৃপ্তি, আর ঈমান শেখায়—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু ইচ্ছাকে থামিয়ে দিতে। ইসলাম নফসকে পরিশুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত করার শিক্ষা দেয়। কারণ লাগামহীন নফস মানুষকে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত করে, আর নিয়ন্ত্রিত নফস মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দায় পরিণত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা : শামস, আয়াত : ৯-১০)
নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা কেন জরুরি
আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দের প্রবণতা রেখেছেন। যখন নফস ঈমান, তাকওয়া ও বিবেকের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন মানুষ নিজের প্রবৃত্তিকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু নফস যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন মানুষ নিজের ইচ্ছাকেই সত্যের মানদণ্ড বানিয়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নফস তো মন্দ কাজের প্রতি প্রবলভাবে নির্দেশ দেয়, তবে আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৩)
নিম্নে নফসকে কন্ট্রোল করার ১০ টি উপায় তুলে ধরা হলো :
১. আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া অর্জন করা : নফস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো অন্তরে আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি গভীর সচেতনতা সৃষ্টি করা। যখন মানুষ মনে রাখে—আমি যা করছি আল্লাহ তা দেখছেন—তখন গোপন পাপ থেকেও নিজেকে বিরত রাখা সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আশ্রয়।’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)
২. ফরজ ইবাদত ঠিক করা : নফসকে নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ ফরজ ইবাদত থেকে শুরু হয়। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আল্লাহর স্মরণের মধ্যে রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)
৩. রোজার মাধ্যমে প্রবৃত্তিকে প্রশিক্ষিত করা : রোজা নফস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর প্রশিক্ষণ। ক্ষুধা লাগলেও মানুষ খায় না, তৃষ্ণা পেলেও পানি পান করে না—কারণ আল্লাহর নির্দেশ তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে... আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা তার জন্য ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৬৬)
৪. নিজের কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে ‘না’ বলতে শেখা : নফসকে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হলো—সব ইচ্ছা পূরণ না করা। মন চাইলেই সবকিছু করা যাবে—এ ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)
৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা : রাগ নফসের অন্যতম প্রবল প্রকাশ। রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন কথা বলে বা কাজ করে বসে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, ‘রাগ করো না।’ লোকটি বারবার উপদেশ চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবারই বললেন, ‘রাগ করো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১৬)
৬. চোখ ও কানের হেফাজত করা : নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তার খাদ্য বন্ধ করতে হবে। হারাম দৃশ্য, অশ্লীলতা, পরনিন্দা, অশালীন কথা ও পাপের পরিবেশ নফসকে দুর্বল করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)
৭. বেশি বেশি জিকির করা : নফস যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকে, তখন প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা প্রবল হতে পারে। তাই আল্লাহর জিকির অন্তরকে জীবিত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
৮. নিজের হিসাব নিজে নেওয়া : প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—আজ আমি কী বলেছি? কী দেখেছি? কার হক নষ্ট করেছি? কোথায় রাগ করেছি? কোন গুনাহ করেছি? কোন নেক আমল করতে পারিনি? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন দেখে, সে আগামী দিনের জন্য কী পাঠিয়েছে।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)
৯. সৎ মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা : মানুষ তার সঙ্গীদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আল্লাহভীরু, সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো সুগন্ধি বিক্রেতা ও কামারের হাপরের মতো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১০১; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬২৮)
১০. দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আখিরাতকে লক্ষ্য বানানো : নফস সাধারণত তাৎক্ষণিক আনন্দ চায়; কিন্তু মুমিন ভবিষ্যৎ—অর্থাৎ আখিরাতের স্থায়ী জীবনের কথা চিন্তা করে। আল্লাহ বলেন, ‘অথচ আখিরাতই উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করুন, প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন, তাকওয়া ও আত্মসংযম দান করুন এবং আমাদের এমন বান্দা বানান, যারা নিজেদের ইচ্ছার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানোর ঘটনা ঘটেছে। রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামক এক যাত্রী এই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে স্টেশন থেকে বিরতির পর যাত্রা শুরু করার সময় ওই নারী ট্রেনে উঠতে যান। এ সময় অসাবধানতার কারণে তার পা পিছলে পড়ে যায়। প্ল্যাটফর্ম থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ফলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া, তার একটি হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে।
আহত রাবেয়া খাতুন রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে যদি অভিনেত্রী কাজল তার স্বামী অজয় দেবগনের সঙ্গে অভিনয় করতেন, তাহলে কী ঘটত? এই প্রশ্নের মজাদার উত্তর দিয়েছেন অজয়। তার মতে, কাজল থাকলে ছবির মূল রহস্য শুরুতেই ফাঁস হয়ে যেত, ফলে সিনেমাটির নির্মাণ সম্ভব হতো না!
নেটফ্লিক্সের ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর নতুন পর্বে উপস্থিত হয়ে অজয় এই মন্তব্যটি করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন ‘দৃশ্যম' ছবির সহ-অভিনেত্রী শ্রেয়া সরণ, এশা দত্ত, জয়দীপ আহলাওয়াত ও মৃণাল যাদব।
অনুষ্ঠানের সময় সঞ্চালক কপিল শর্মা রসিকতা করে পরিচালক অভিষেক পাঠককে প্রশ্ন করেন, ‘অভিষেক স্যার, যদি প্রথম পর্বে কাজল ম্যামকে কাস্ট করতেন, তাহলে কি তিনি আপনাকে দিয়ে শুরুতেই ছবির সব গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিতেন না?’ কপিলের এই প্রশ্নের পর অজয় রসিকতা করে বলেন, ‘তাহলে তো প্রথম সিনেমাটাই তৈরি হতো না!’
কথোপকথনের এক পর্যায়ে কপিল শর্মা অজয় দেবগনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কৌতুক করে বলেন, “‘মি অজয় স্যারকে গত ১৫ বছর ধরে চিনি, কিন্তু এই ১৫ বছরে আমাদের মধ্যে বোধহয় মাত্র ১৪ বার কথা হয়েছে! আমাদের কথা কেবল ‘আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?’ এই কথাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, জনপ্রিয় ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় অধ্যায় ‘দৃশ্যম : দ্য কনক্লুশন’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্যানোরামা স্টুডিওস ও স্টার স্টুডিও১৮-এর প্রযোজনায় নির্মিত অভিষেক পাঠক পরিচালিত এই নতুন ছবিটি আগামী ২ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে। ছবিটি এবার মালায়লাম ছবির কাহিনি অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ মৌলিক একটি গল্প নিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ কমছে না, যদিও জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এলএনজি সরবরাহের সংকটের কারণে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি করায় লোকসান ও ভর্তুকির বোঝা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাড়ে ছয় মাসে লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই চাপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরো পড়ুন
১২ বছর আগের একটি আইডি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে শিবির : হামিম
বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ জানায়, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে লোকসান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয় বেড়েছে। সরবরাহ পেতে বেশি সময় লাগছে। লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হতে পারে।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতেও সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে এলএনজিতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। অথচ পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে আরো ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা হলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে।
আরো পড়ুন
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তাও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের হিসাব ধরা হলেও তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আশঙ্কা করছে।
আরো পড়ুন
অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা লিটার। মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল।
তিনি জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরে শুধু ডিজেলে সরকারের লোকসান প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুদিন ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ জয়ের পথে ফিরে এসেছে। এশিয়ান গেমসের হকিতে টানা দুই হারের পর এবার তারা টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে। আজ ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে আমিরুল ইসলামদের দল।
জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দাপট প্রদর্শন করে। তবে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ষষ্ঠ মিনিটে ফাতুর মোহাম্মদ দলের জন্য লিড এনে দেন।
বাংলাদেশ সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি। বিরতির ৪ মিনিট আগে আমিরুল দলের জন্য সমতার গোলটি করেন। ১১ মিনিটে তিনি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলটি করেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে কোন দলই গোলের দেখা পায়নি।
তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ শুধু আধিপত্যই দেখায়নি, বরং দ্বিগুণ গোলের দেখা পেয়েছে। ৩১ মিনিটে আমিরুল নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। এবারের গোলটি পেনাল্টি কর্নার থেকে আসে। ৬ মিনিট পর অভিজ্ঞ রাসেল মাহমুদ জিমি ব্যবধান ৩-০ করেন।
চতুর্থ কোয়ার্টারে কোন গোল না হলে বাংলাদেশ ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই জয়ের ফলে ৪ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। ৩ ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা পুল ‘এ’-তে শীর্ষে অবস্থান করছে। ম্যাচটি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ