ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা, সোনা-রূপা


শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা, সোনা-রূপা

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, মাজারের দানবাক্স থেকে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা, ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা এবং ১৮টি দেশের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ হিসাব ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো গণনা শুরু হয়।

গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে— ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাথ, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি ফিলস, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় নিজ হাতে ড্রেন পরিষ্কার করলেন জেলা প্রশাসক

এছাড়াও, গত ৩৫ দিনের মানত করা গরু ও ছাগলের হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে এবং ৩টি গরু খাদিমরা পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি ছাগল খাদিমরা পেয়েছেন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

ওই সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে এবং এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। তবে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আগের নিয়মে ১ মাস ৮ দিন পর পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হলো।

আরও পড়ুন: নাসিরনগরের পূর্বভাগ পুরাতন বাজারে ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অর্থ ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত আগের নিয়মে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সিভিও জমা পড়েছে। আগামী সপ্তাহে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা সম্ভব হবে।

এর আগে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেকচিও সিলগালা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ৯ দিন পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি ও ১০টিরও বেশি মসজিদ উচ্ছেদে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি ও ১০টিরও বেশি মসজিদ উচ্ছেদে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ

ভারতের আসাম রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

একটি বিবৃতিতে তিনি ভারত সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, যেকোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে হবে।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি রাজ্য সরকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিন শনিবার রাজ্যের তিনটি জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ফলে, মাত্র দুই দিনের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান যে, এই অভিযানে অন্তত ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪০০ বছরের পুরনো মাঞ্চা মসজিদ এবং গির সোমনাথ জেলায় প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেন।

জামায়াতের আমীর বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় শুধু ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। যে দেশেই, যে পক্ষের দ্বারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।’

বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান—কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার গঠন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার গঠন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরিত করা হবে। সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। স্থানীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আজ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ করা হবে, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনা হবে এবং আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের খোঁজ-খবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট দূর করে পুনরায় গতি ফেরানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

পরিদর্শনের সময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি বিমান হামলায় ইয়েমেনের সানায় ১১ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


সৌদি বিমান হামলায় ইয়েমেনের সানায় ১১ জন নিহত

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ছয়জন নারী এবং একটি শিশু। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়। এর কিছুক্ষণ পরেই সানায় সৌদি বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে হুতিদের গণমাধ্যম।

হুতিদের সম্প্রচারমাধ্যম আল-মাসিরাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায় একাধিক বিমান হামলা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলায় একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া, সানা গভর্নরেটের একটি সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের আবাসিক ভবনে পৃথক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশু নিহত এবং আরও তিনজন আহত হওয়ার খবরও দিয়েছে আল-মাসিরাহ।

তবে, এই হতাহতের তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হামলা ও হতাহতের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থানে প্রায় ১,৪০০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় হুতিদের ৬২০ যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।

সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা হতাহত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, ‘নিষ্ক্রিয়’ বলতে নিহত, আহত, নাকি অন্যভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা হারানো বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

তবে, হামলার সংখ্যা ও হতাহতের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: এএফপি ও আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩২ সালের মধ্যে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


২০৩২ সালের মধ্যে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১০১.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের রপ্তানি আমিরাতে ৩৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে, ফলে আমিরাত ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে এবং তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্থান লাভ করেছে। একই সময়ে, ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে ভারত আমিরাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একমত হয়েছে।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশনস অ্যান্ড ইনভেস্টরস সিরিজ’ সম্মেলনে, দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত ভারতীয় কনসাল জেনারেল ড. বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি মন্তব্য করেন যে, ভারত-আমিরাত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, "এখন আমাদের নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করা শুরু করতে হবে, যাতে আগামী কয়েক বছরে এটি দ্বিগুণ হয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।"

ড. রেড্ডি আরও বলেন, "আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পরবর্তী ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে আসবে।" ভারতে বর্তমানে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৩০টিরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাবে পরিণত করেছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টি ফান্ডপ্রাপ্ত কোম্পানি রয়েছে, যারা সম্মিলিতভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি থেকে ৬৮৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।

ভারতে বর্তমানে ৯৩টি ইউনিকর্ন রয়েছে। মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন বিনিয়োগকারী ৫৩ হাজার ৫২১টি ফান্ডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৩১৩৬টি স্টার্টআপ আর্লি-স্টেজের ফান্ডিং এবং ৯১৮টি লেট-স্টেজের ফান্ডিং পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪টি নতুন কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর জন্য ১৩.৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতে স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ৫ হাজার ৩৪৭টি অধিগ্রহণ এবং ৬ হাজার ৫৩১টি আইপিও হয়েছে। অন্যদিকে, ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪টি স্টার্টআপ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। নারীরা ২৩ হাজার ৭১৯টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ভারত স্টার্টআপ নলেজ অ্যাক্সেস রেজিস্ট্রি (ভাস্কর) প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। স্টার্টআপগুলো সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম)-এর মাধ্যমে ৫১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্ডার পেয়েছে।

ড. রেড্ডি জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে, স্টার্ট-আপে বিনিয়োগসহ নতুন অংশীদারি তৈরি করা প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত স্টার্ট-আপ এবং ফিন-টেক সংস্থাগুলোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীরা এই অংশীদারিকে সুদৃঢ় করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের স্তরে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারেন।

সম্মেলনে বলিউড অভিনেতা ও বিনিয়োগকারী বিবেক ওবেরয় মন্তব্য করেন, "সাফল্য উদযাপন করার পাশাপাশি ব্যর্থতা উদযাপন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, "আমরা সাফল্য অনেক উদযাপন করি, কিন্তু আমাদের ব্যর্থতাও উদযাপন করা উচিত, কারণ ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাই আমাদের সাফল্য এনে দেয়।" তিনি আরও বলেন, "আমি ৩৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি, যার মধ্যে কয়েকটি ভালো ফল করেনি। কিন্তু যেগুলো ভালো করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছি।"

তিনি যোগ করেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলোতে বিনিয়োগ করে বিপুল সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে এবং সেগুলোকে বৃহৎ বৈশ্বিক ব্যবসায় পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।"

ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম (আইপিএফ) হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো আমিরাতে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়পরায়ণ ও সমৃদ্ধ ভারতীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলা। এটি ভারতীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের আয়োজন করে।

আইপিএফ-এর জাতীয় সভাপতি জিতেন্দ্র বৈদ্য বলেন, "ভারত-আমিরাত সম্পর্ক এমন একটি কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ উভয় দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য এই বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা এখানে আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে এসেছি, যাতে আমরা উভয় দেশের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সম্পর্কের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।"

২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতজুড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ইক্যুইটি ফান্ডিং রাউন্ডে ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে (অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) ভারতে ২ লাখ ৭২ হাজার রাউন্ডে ১৭.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। সুতরাং, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতের কোম্পানিগুলোতে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ ৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইপিএফ বিজনেস অ্যান্ড প্রফেশনাল কাউন্সিলের সহ-আহ্বায়ক এবং স্টকিফাই-এর প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ ঝুনঝুনওয়ালা বলেন, "ভারতীয় ব্যবসায়ী, ব্যবসায়িক নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্স দ্বারা চালিত সংস্থাগুলোতে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে।" তিনি বলেন, "বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সম্পদই বৃদ্ধি করতে পারবেন না, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।" সেইসঙ্গে স্টার্ট-আপগুলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও বিশ্বব্যাপী ইউনিকর্ন হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র : খালিজ টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%