০৯:৩৭ পি.এম
ভারতের আসাম রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।
একটি বিবৃতিতে তিনি ভারত সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, যেকোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে হবে।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি রাজ্য সরকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিন শনিবার রাজ্যের তিনটি জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ফলে, মাত্র দুই দিনের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান যে, এই অভিযানে অন্তত ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪০০ বছরের পুরনো মাঞ্চা মসজিদ এবং গির সোমনাথ জেলায় প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় শুধু ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। যে দেশেই, যে পক্ষের দ্বারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।’
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান—কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন