ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মহাকাশে ২২ বছর পর নাসার সুইফট দূরবীক্ষণ যন্ত্রের শেষযাত্রা


মহাকাশে ২২ বছর পর নাসার সুইফট দূরবীক্ষণ যন্ত্রের শেষযাত্রা

মহাকাশে থাকা একটি পুরনো দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ বছরের গ্রীষ্মে একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই অভিযানের জন্য একটি রোবটচালিত মহাকাশযানও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বর্তমানে, নাসার ওই দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎক্ষেপণের প্রায় ২২ বছর পর এমন পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে যন্ত্রটি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিল গেরেলস সুইফট অবজারভেটরি নামের এই মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ওজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড বা ১ হাজার ৪৫২ কেজি। নাসা জানিয়েছে, এটি কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের কোথাও পুড়ে ধ্বংস হবে। তবে, এর কিছু অংশ অক্ষত থাকতে পারে, কিন্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা খুবই কম।

নাসা একটি অনলাইন বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২ হাজার ১০০ ভাগের মধ্যে মাত্র এক ভাগ। নাসার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট) যন্ত্রটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিজয় দাবি করে আবদুল আল-সাইয়েদ বললেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার গুরুত্ব

অন্যদিকে, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা অ্যারোস্পেস করপোরেশন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এই সময়ের দুই ঘণ্টা আগে বা পরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। লন্ডনভিত্তিক জ্যোতির্পদার্থবিদ জোনাথন ম্যাকডাওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার রাতে রয়টার্সকে তিনি বলেন, উপগ্রহটি প্রায় বৃত্তাকার কক্ষপথে রয়েছে এবং এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একেবারে ওপরের অংশের কাছে ঘুরছে। এখন দেখার বিষয়, কখন এটি এত বেশি উত্তপ্ত হবে যে ভেঙে টুকরো টুকরো হতে শুরু করবে।

নাসার প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি সুইফট উপগ্রহটি ছিল এ ধরনের প্রথম মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এতে তিনটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এটি মহাকাশের গামা রশ্মির বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এই উপগ্রহের নিজস্ব কোনো চালনা ব্যবস্থা নেই, ফলে কয়েক মাস ধরে এটি ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে নেমে আসছিল। এটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার মাইল বা ২৭ হাজার ৩৫৯ কিলোমিটার গতিতে ঘুরছিল।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, উপগ্রহটিকে উঁচু কক্ষপথে তুলে এর কাজের মেয়াদ কয়েক বছর বাড়ানো সম্ভব হবে। এজন্য, গত জুলাইয়ে নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট একটি বিশেষ উদ্ধারকারী মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। এর নাম ছিল ‘লিংক’। মহাকাশে সুইফটের কাছে পৌঁছে সেটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং টেনে আরো উঁচু ও দীর্ঘস্থায়ী কক্ষপথে নিয়ে যাওয়াই ছিল লিংকের উদ্দেশ্য। কিন্তু মহাকাশে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই লিংক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে শুরু করে। পরে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে অভিযান পরিচালনাকারীরা উদ্ধার প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেন। ফলে সুইফটকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় থাকেনি।

আরও পড়ুন: মিশিগানে ইতিহাস গড়ার পথে আবদুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এ ধরনের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হলেও এর গুরুত্ব ছিল অনেক। কারণ, এতে নতুন এক ধরনের মহাকাশ প্রযুক্তি পরীক্ষা করার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি মহাকাশযান অন্য একটি মহাকাশযানকে ধরে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এ ধরনের প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। উপগ্রহের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। লিংক অভিযানটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল, কারণ, উপগ্রহের রক্ষণাবেক্ষণে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল এতে।

ক্যাটালিস্ট এই অভিযানকে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নাসার ৩ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় মাত্র ৯ মাসে লিংক মহাকাশযানের নকশা তৈরি, নির্মাণ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। এত কম সময়ে এ ধরনের কাজ আগে হয়নি বলেও দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য দুই দশকেরও বেশি সময় আগে সুইফট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এসব বিস্ফোরণের ফলে প্রচণ্ড শক্তিশালী গামা রশ্মি তৈরি হয়, যা দূরের ছায়াপথগুলোর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে।

শুরুতে সুইফটের কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র দুই বছর। তবে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে এটি কাজ করেছে। এই সময়ে মহাকাশের নানা ধরনের বস্তু ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে উপগ্রহটি। এর মধ্যে রয়েছে অতি ভারী কৃষ্ণগহ্বরের শক্তিতে সক্রিয় থাকা ছায়াপথ, এক্স-রে বিকিরণ ছড়ানো নক্ষত্র, ধূমকেতু এবং সৌরজগতের মধ্য দিয়ে দ্রুত ছুটে চলা গ্রহাণু।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডা পেতে যাচ্ছে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের গুলিতে এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রাণ গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের গুলিতে এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রাণ গেল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা এলাকায় নিজের অস্ত্র দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার (৪৫) নামে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক উপপরিদর্শক (এসআই)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে পুলিশ তার লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন আশুগঞ্জ সার কারখানা এলাকার নিজের কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত আবাসিক কক্ষে অবস্থান করছিলেন। বুধবার ভোরে ওই কক্ষে তিনি নিজের ব্যবহৃত অস্ত্র দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।" তিনি আরও জানান, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া আদম হামাওয়ি নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া আদম হামাওয়ি নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চিকিৎসক ড. আদম হামাওয়ি জয়লাভ করেছেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিউ জার্সি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হামাওয়ি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তার বিজয়ের খবর নিশ্চিত করেছে। হামাওয়ি বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য বনি ওয়াটসন কোলম্যানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর অবসরে যাচ্ছেন।

পেশায় প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন হিসেবে পরিচিত হামাওয়ি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক যুদ্ধকালীন চিকিৎসক। তার ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন।

হামাওয়ি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড নির্বাচনি প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইরাক যুদ্ধে তার ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২০০৪ সালে ঘটে। ওই বছর ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর আহত সেনা এবং বর্তমানে ইলিনয়ের সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন বাঁচাতে হামাওয়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডাকওয়ার্থ সে সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর হামাওয়ির এই সাফল্যকে নিউ জার্সির রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার বিজয়ের ফলে রাজ্যটি থেকে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার দুই তরুণ ফুটবলার লিওনেল ফ্লোরেস ও আগুস্তিন গিয়াইয়ের প্রতি ম্যাক অ্যালিস্টারের বিশেষ আগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


আর্জেন্টিনার দুই তরুণ ফুটবলার লিওনেল ফ্লোরেস ও আগুস্তিন গিয়াইয়ের প্রতি ম্যাক অ্যালিস্টারের বিশেষ আগ্রহ

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ক্যাম্পে লিভারপুলের মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দুই তরুণ ফুটবলারের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছেন। এই দুই ফুটবলার হলেন লিওনেল ফ্লোরেস ও আগুস্তিন গিয়াই।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার বোকা জুনিয়র্সের তরুণ প্রতিভা ফ্লোরেসের প্রশংসা করে বলেছেন, "অনুশীলনে তার পারফরম্যান্স বেশ ভালো লেগেছে। ম্যাচেও যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, তাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।"

ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, "অনুশীলনে সে আমার ওপর দারুণ প্রভাব ফেলেছে। যতগুলো ম্যাচ খেলেছে, সেখানেও ভালো করেছে, যদিও খুব বেশি খেলার সুযোগ পায়নি। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতের জন্য সে বেশ আকর্ষণীয় একটি নাম।"

চলতি মৌসুমে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে আলোচনায় আসা ১৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার কোচ ভাস্কো আরুয়াবারেনার অধীনে দারুণ পারফরম্যান্স করে দ্রুতই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এরপর তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক দেন লিওনেল স্কালোনি, যাতে তিনি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

ইতিমধ্যে ফ্লোরেস বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচে কিছু সময় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচেও তার সঙ্গে একই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে এই তরুণের।

পরবর্তী ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে স্কালোনির পরিকল্পনা ছিল ফ্লোরেসকে দলে নেওয়ার। একই পরিকল্পনায় ছিলেন বোকা জুনিয়র্সের আরেক তরুণ মিল্টন দেলগাদোও। তবে শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে তাদের রাখা হয়নি।

ফলে ১৪ নভেম্বর মেন্দোসায় কোপা আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে বানফিল্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বোকা জুনিয়র্স দুই খেলোয়াড়কেই পাচ্ছে।

অন্যদিকে, ম্যাক অ্যালিস্টার সামগ্রিকভাবে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিভার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, দলটিতে প্রতিযোগিতার মান অনেক উঁচু। বিশেষভাবে তিনি পালমেইরাসের ফুল-ব্যাক আগুস্তিন গিয়াইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন।

লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার বলেন, "সামগ্রিকভাবে এখানে অনেক উঁচু মানের খেলোয়াড় রয়েছে। আগুস্তিন গিয়াইয়ের কথাও বলব। আমার মনে হয়, সে খুব ভালো করেছে এবং অনুশীলনে নিজের সামর্থ্য ও মান দেখিয়েছে।"

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ক্রমেই নিজের অবস্থান শক্ত করছেন কোমোর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নিকো পাজ। তিনি ভবিষ্যতে লিওনেল মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন।

তবে ম্যাক অ্যালিস্টার তাকে নিজের পছন্দের দুই তরুণের তালিকায় রাখেননি। তার মতে, নিকো পাজের প্রতিভা সম্পর্কে দলের সবারই ভালো ধারণা রয়েছে।

তিনি বলেন, "নিকো তো বিশ্বকাপেই আমাদের সঙ্গে ছিল। সে কী দিতে পারে, তা আমরা সবাই জানি। নিঃসন্দেহে সে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। আমরা তাকে মূল্যায়ন করি এবং যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।"

আর্জেন্টিনা দলের বর্তমান প্রতিযোগিতার মান নিয়েও আশাবাদী ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে মেসির অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাক অ্যালিস্টারের ভাষায়, "দলে প্রতিযোগিতার মান অনেক উঁচু। আমরা ভালো মানুষের হাতেই আছি। তবে সব সময় দলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বুঝতে হবে, এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টি আর আমাদের সঙ্গে নেই। তাই দল হিসেবে আমাদের আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেয়েছি: উদ্ভাবক ড. জাভেদ হোসেন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেয়েছি: উদ্ভাবক ড. জাভেদ হোসেন খান

যশোর,  ৪ নভেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশের বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় এবং সারের অপচয় হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাধারণ ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

দীর্ঘ গবেষণা ও পেটেন্ট পেতে বারবার চেষ্টা করার পর অবশেষে তার উদ্ভাবন মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ এবং সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ এ স্বীকৃতি অর্জনের পথ সুগম করেছে।

জাপানে ন্যানো প্রযুক্তি ও কৃষিতে এর প্রয়োগ নিয়ে পড়াশোনার সময় অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের মনে হয়েছিল, এই প্রযুক্তি কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সেই ভাবনা থেকেই দেশে ফিরে ২০১৩ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ন্যানো ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে গবেষণার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে উদ্ভাবন করেন ন্যানো ইউরিয়া।

সম্প্রতি বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর গবেষণা, উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, কৃষিতে এর সম্ভাব্য সুফল এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বাসস : সাধারণ ইউরিয়া সার থাকতে ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেলেন কোথা থেকে?

ড. জাভেদ : সাধারণ ইউরিয়া সারের বড় সমস্যা হলো, প্রয়োগ করা সারের একটি বড় অংশ গাছ গ্রহণ করতে পারে না। এই অংশের কিছু মাটিতে জমে থাকে, কিছু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়, আর কিছু বাতাসে মিশে যায়। ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে সারের কণার আকার এত ছোট করা যায় যে অল্প পরিমাণ প্রয়োগ করেই গাছকে এর প্রায় পুরোটাই গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই ২০১৮ সালে ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ শুরু করি।

বাসস : গবেষণা শুরু থেকে পেটেন্ট পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছরের যাত্রা কেমন ছিল?

ড. জাভেদ : ২০১৮ সালে গবেষণা শুরু করি এবং ২০১৯ সালে পেটেন্টের জন্য প্রথম আবেদন করি। ২০২১ সালের শুরুতে সেই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এরপরও আমি হাল ছাড়িনি। আবার আবেদন করি। এরপর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিন-চার মাস আগে পেটেন্টের জন্য সরকারের কাছে আবার আবেদন করি। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্যার আমাকে ডেকে জানতে চান, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট হচ্ছে না কেন, এটি বাজারে আসছে না কেন এবং কী কী সমস্যা রয়েছে।

তার উৎসাহেই গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নিই। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ করছেন, তা আমি জানি। এটি চমৎকার কাজ করে, খরচ কম হয় এবং কৃষকের সাশ্রয় হবে।’

এরপর তিনি বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্যারকে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই আমি পেটেন্ট পেয়েছি। আমাদের মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

বাসস : প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তির মূল কারিগরি পার্থক্য ও সুবিধাগুলো কী?

ড. জাভেদ : সাধারণ ইউরিয়া দানাদার, আর আমাদের ন্যানো ইউরিয়া তরল; এর কণার আকার অত্যন্ত ছোট। কণা ছোট হওয়ায় অল্প পরিমাণ প্রয়োগে গাছ বেশি কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে। এতে সারের অপচয় কমে। আমাদের ফর্মুলেশনের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর স্থিতিশীলতা। এটি প্রায় দুই বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে। ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদনে আমরা কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করি না।

বাসস : দেশের ফসলি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির যে ক্ষতি হয়, তা রোধে ন্যানো ইউরিয়া কীভাবে ভূমিকা রাখবে?

ড. জাভেদ : অতিরিক্ত ইউরিয়া মাটির অম্লতা বাড়ায়, উপকারী অণুজীবের সংখ্যা কমায় এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে নাইট্রেট ছড়িয়ে দেয়। ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ৫০০ মিলিলিটার সার লাগে। এর বিপরীতে সাধারণ ইউরিয়া লাগে ৫০ কেজি। তাই মাটি ও পানির ওপর রাসায়নিকের চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে মাটির স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে আমরা আরও মাঠপর্যায়ে গবেষণা চালিয়ে যাব।

বাসস : ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে ফসলের গুণগত মান বা পুষ্টিমানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে কি?

ড. জাভেদ : আমাদের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাধারণ দানাদার ইউরিয়ার তুলনায় প্রায় সমান ফলন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ধানের ফলন দুই থেকে আট শতাংশ বেশি পেয়েছি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখেছি, পুষ্টিমান ও ক্লোরোফিলের পরিমাণে কোনো অবনতি হয়নি। অর্থাৎ কম খরচে একই মানের ফসল পাওয়া সম্ভব।

বাসস : আপনার গবেষণায় দেখা গেছে, এই সার ব্যবহারে খরচ প্রায় ৮২ শতাংশ কমবে। সাধারণ কৃষকের জন্য এটি কতটা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবে?

ড. জাভেদ : ধান চাষে এক বিঘা জমিতে কৃষক সাধারণত ৫০ কেজি ইউরিয়া ব্যবহার করেন, যার দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, ন্যানো ইউরিয়া লাগে মাত্র ৫০০ মিলিলিটার, যার দাম ২৩০ টাকা। অর্থাৎ ধান চাষে সারের খরচ ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। তরল সার হওয়ায় এটি পরিবহন ও সংরক্ষণ করাও সহজ। তবে এই হিসাব ধান চাষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য ফসলের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল অনুযায়ী খরচের হিসাব ভিন্ন হতে পারে।

বাসস : সার আমদানিতে সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবন জাতীয় অর্থনীতিতে কীভাবে অবদান রাখতে পারে?

ড. জাভেদ : সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সার আমদানিতে সরকারের প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। দেশে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদন করা হলে এবং এটি দানাদার ইউরিয়ার একটি বড় অংশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে সাশ্রয়ের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে উৎপাদন খরচ ও প্রচলিত ইউরিয়ার কতটা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব, তার ওপর।

বাসস : কৃষকেরা জমিতে এই সার কীভাবে প্রয়োগ করবেন? সাধারণ সারের মতো ছিটিয়ে, নাকি তরল হিসেবে স্প্রে করতে হবে? এ জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কি?

ড. জাভেদ : এটি তরল সার, তাই সাধারণত পাতায় স্প্রে করে প্রয়োগ করতে হয়। কৃষকেরা পরিচিত স্প্রে পদ্ধতিতেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ কোনো জটিল প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগের সময় সম্পর্কে ধারণা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা দেওয়া হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

বাসস : মানবদেহ, ফসল বা মাটির অণুজীবের জন্য ন্যানো পার্টিকলের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?

ড. জাভেদ : আমাদের ফর্মুলেশনে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। আমরা নিজেদের পরীক্ষাগারে নিয়মিত পরীক্ষা করি। বিসিএসআইআরের পরীক্ষাতেও কোনো বিষাক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে ন্যানো পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। তাই ব্যাপক ব্যবহারের আগে ও পরে আমরাও নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যাব।

বাসস : এ বিষয়ে কোনো বিষাক্ততা পরীক্ষা (টক্সিসিটি টেস্ট) বা পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা করা হয়েছে কি?

ড. জাভেদ : হ্যাঁ। আমরা নিয়মিত বিষাক্ততা পরীক্ষা করি। আমাদের কাছে বিসিএসআইআরের বিস্তারিত পরীক্ষার প্রতিবেদন রয়েছে, সেখানে কোনো বিষাক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিজেদের পরীক্ষাগারেও নিয়মিত পরীক্ষা করি এবং কোনো ক্ষতিকর উপাদান পাইনি।

বাসস : মাঠপর্যায়ে এই সার ব্যবহারের পর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি?

ড. জাভেদ : হ্যাঁ, কৃষকেরা সন্তুষ্ট। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনেক কৃষক ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়েছেন। বর্তমানে সারের সংকটের সময়ে কৃষকেরা বিকল্প খুঁজছেন। ন্যানো ইউরিয়া কবে বাজারে আসবে, সে বিষয়েও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে।

বাসস : বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ন্যানো ইউরিয়া কি প্রস্তুত?

ড. জাভেদ : আমাদের একটি ছোট পাইলট প্ল্যান্ট ইতিমধ্যে রয়েছে। বাণিজ্যিক প্ল্যান্টের পূর্ণাঙ্গ নকশাও তৈরি করেছি। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগ্রহী হলে আমরা উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

বাসস : দেশের শিল্প খাত বা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে বড় পরিসরে উৎপাদনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি?

ড. জাভেদ : শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা কয়েকবার আলোচনা করেছি। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, বিসিআইসি তাদের বিদ্যমান কারখানা ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেই ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে। তাদের একটি দল আমাদের ল্যাব পরিদর্শন করেছে এবং প্রস্তাব চেয়েছে। আমরা বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখনো তাদের সাড়ার অপেক্ষায় আছি।

এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

বাসস : ভারতের ইফকো (আইএফএফসিও) ইতিমধ্যে তরল ন্যানো ইউরিয়া বাজারজাত করেছে। আপনার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার সঙ্গে তাদের পণ্যের কোনো প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে কি?

ড. জাভেদ : আমরা ২০১৮ সালে কাজ শুরু করি এবং ২০১৯ সালে পেটেন্টের জন্য প্রথম আবেদন জমা দিই। ভারত ২০২১ সালে তাদের পণ্য বাজারে আনে। আমাদের ফর্মুলেশনে কণার আকার অত্যন্ত ছোট, এর স্থিতিশীলতা প্রায় দুই বছর এবং উৎপাদনে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এসব বৈশিষ্ট্য আমাদের পেটেন্টে বর্ণিত হয়েছে। আমরা স্বাধীনভাবে ও মৌলিক উপায়ে এই কাজ করেছি। ২০১৯ সালের আবেদনই তার দলিল।

বাসস : এই উদ্ভাবনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে—যেমন বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (ডব্লিউআইপিও) বা অন্য কোনো দেশে—পেটেন্ট নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?

ড. জাভেদ : আন্তর্জাতিক পেটেন্টের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যয় ও সময় বড় বিষয়। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আমরা এগিয়ে যাব।

বাসস : দেশের চাহিদা মেটানোর পর ভবিষ্যতে এই ন্যানো ইউরিয়া বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন কি?

ড. জাভেদ : প্রথমে দেশের চাহিদা মেটানোই আমাদের লক্ষ্য। এরপর গুণমান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে কৃষিপ্রধান এশীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোতে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে, নিশ্চিত কোনো পরিকল্পনা নয়।

বাসস : দীর্ঘ গবেষণা ও পেটেন্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এবং সরকারের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?

ড. জাভেদ : যবিপ্রবি আমাকে পরীক্ষাগার ও গবেষণার পরিবেশ দিয়েছে। পেটেন্ট পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর উদ্যোগ ও সহযোগিতা বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

বাসস : যবিপ্রবির ন্যানো টেকনোলজি গবেষণাগার থেকে ন্যানো প্রযুক্তি নিয়ে আর কী কী নতুন উদ্ভাবনের কাজ চলছে?

ড. জাভেদ : আমরা বিশ্বব্যাংক-ইউজিসির প্রকল্পের আওতায় ন্যানো পেস্টিসাইড নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছ থেকেও ন্যানো প্রযুক্তিভিত্তিক সড়ক নির্মাণ নিয়ে কাজের একটি প্রস্তাব পেয়েছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই আমাদের লক্ষ্য।

বাসস : বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা, যাঁরা পরীক্ষাগারের সুযোগ-সুবিধা বা অর্থায়নের অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ড. জাভেদ : আমি তাঁদের ধৈর্য ধরতে বলব। আমার প্রথম আবেদন বাতিল হয়েছিল, তবু আমি থেমে যাইনি। পরীক্ষাগার ও অর্থায়নের অভাবে হতাশ না হয়ে প্রথমে সমস্যাটি চিহ্নিত করতে হবে। ছোট পরিসর থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। গবেষণার তারিখ, উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যত্ন করে সংরক্ষণ করতে হবে। পেটেন্টের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই জরুরি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদার খুঁজে নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%