শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০৫ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রটি গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা হয়। অপ্রতিমের পরিবার এখন দ্রুত ও ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, "আমাদের কাজ শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়েছি। এখন বাকি কাজ আদালত করবে।"
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ার কারণে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার জন্য সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, পরিকল্পনায় সিয়াম জড়িত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে যে, এর ফলে অপ্রতিমের মৃত্যু ঘটে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তার মুঠোফোন নিয়ে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, "গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আশা করছি, আদালতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। বয়সের ফাঁক যেন আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে না দেয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলের মহোৎসব চলছে। বাজারের দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের যাতায়াত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
কাউখালী বাজারে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, স্বরূপকাঠি ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মূল রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চিরাপাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে শুরু করে দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল সাজিয়ে রাখার কারণে হেঁটে চলারও উপায় নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে গাড়ি চলাচলের পথে চলতে হচ্ছে। এর ফলে গাড়ি চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, মূল সড়কের ওপর চাকাযুক্ত ভ্যানগাড়িতে দোকান সাজিয়ে বসায় এবং ইজিবাইক/অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে বাজারে আসা মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত দখলের বিষয়ে আলোচনা শেষে রেজুলেশনের মাধ্যমে ফুটপাত সর্বদা হকার ও দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। প্রশাসন কর্তৃক মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কিছুদিন ফুটপাত দখলমুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ বাজার থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত পুনরায় অধিকাংশ ফুটপাত ও রাস্তা দখলদারদের দখলে চলে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন:
"বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা হাটের দিনগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যানগাড়ির দোকান ও ফুটপাত মুক্ত করলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।"
প্রশাসনের বক্তব্যে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান:
"বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন:
"আমি নতুন যোগদান করেছি এবং অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপে কাউখালী বাজার দ্রুতই দখলমুক্ত হবে এবং ক্রেতা-সাধারণের স্বস্তি ফিরে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিন দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সমু চৌধুরী দর্শকের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। অভিনয়জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। মায়ের দেখাশোনার কথা চিন্তা করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এই অভিনেতার জীবন এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন সমু চৌধুরী। ছাত্রজীবনে যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশগ্রহণ করেন। পরে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
১৯৯০ সালের ২২ মার্চ আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি ৭০০ টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘বিবর্ণ প্রজাপতি’, ‘কালো জোছনা’, ‘রঙের মানুষ’, ‘নিশিকুটুম্ব’ ও ‘উঠোন’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘গলুই’ ও ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ ও ‘নয়া নোট’-এর মতো কাজেও তাকে দেখা গেছে।
তবে অভিনয়জীবনে সব সময় সমানভাবে সক্রিয় থাকতে পারেননি সমু চৌধুরী। এক সময় প্রায় তিন বছর তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। ঢাকার কর্মব্যস্ততা ছেড়ে যশোরের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবারও অভিনয়ে ফিরেন।
সমু চৌধুরীর ব্যক্তিজীবনে একটি বড় ট্র্যাজেডি ঘটে ১৯৯৩ সালের ২৬ জুলাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায়। ওই দুর্ঘটনায় তিনি বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী ও ছোট বোন রোজিনা চৌধুরী রুবিকে হারান। যশোরের নাভারন থেকে ফেরার পথে ঝিকরগাছা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে ২০১৮ সালে ছোট ভাই সনু চৌধুরীকেও তিনি হারান।
প্রিয়জনদের হারানোর বেদনার পাশাপাশি, পরিবারের দায়িত্বও তার কাঁধে এসে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে সমু চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মায়ের দেখাশোনার কথা বিবেচনা করেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত এই অভিনেতার জীবনে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের জুনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুখী শাহ মিসকিন মাজারে গামছা পরা অবস্থায় সমু চৌধুরীর একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে অভিনেতা জানান, ওরস উপলক্ষে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কাপড় শুকানোর সময় গামছা পরে গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই ঘটনায় তার স্বজন ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তিনি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান।
এরপর ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী। ঘটনাটি তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করে।
এক সময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন এই শিল্পী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও, ব্যক্তিজীবনে তাকে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার জীবনযাপনের বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কটূক্তি করছেন, আবার কেউ তার পরিস্থিতি দেখে প্রকাশ করছেন আক্ষেপ।
তবে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার প্রতি মানবিকতা ও সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ সব মিলিয়ে সমু চৌধুরীর জীবন যেন সাফল্য ও সংগ্রামের এক ভিন্ন গল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে রূপান্তরিত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপ পরে ‘অর্ণব’ নামক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ঘূর্ণিঝড়টি প্রধানত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড় এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস জানায়, থাইল্যান্ড উপকূল থেকে ইতোমধ্যে লঘুচাপটি আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আজ শুক্রবার থেকে আগামীকাল শনিবারের মধ্যে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
আন্দামান সাগর থেকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এই নিম্নচাপ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মডেল জিএফএস অনুযায়ী, এই সিস্টেম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে অক্টোবরের শেষ দিকে। ২৩ অক্টোবর এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। উত্তর-পশ্চিম দিকে আরও শক্তিশালী হয়ে এটি ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এই মডেল অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আগামী ২৭ অক্টোবর রাতে এটি ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি আঘাত হানতে পারে।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিশ্ববিখ্যাত প্ল্যাটফর্ম উইন্ডিডটকমের রিয়েল টাইম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
এদিকে ইউরোপিয়ান মডেল ইসিএমডব্লিউএফ অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হবে। ২৬ অক্টোবর সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৮ অক্টোবর দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া সংলগ্ন এলাকায় এটি স্থলভাগে ঢুকতে পারে।
যেভাবে ঝড়ের নামকরণ
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরান) দেওয়া নামের একটি পূর্বনির্ধারিত ক্রম তালিকা থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের। যখন কোনো নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে সাইক্লোনিক স্টর্মের রূপ নেয়, তখন এই তালিকা থেকে নাম ব্যবহার করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। বাংলাদেশের দেওয়া এই নামের অর্থ ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, বরং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন, বিডি ক্লিন এবং স্কাউটস একত্রিত হয়ে কালাই পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করছে।
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্দেশনায় ‘নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ফেসবুক পেইজে জানানো হয়েছে, কালাই পৌরসভার টিএন্ডটি এলাকায় গতকাল এই কার্যক্রমে বিডি ক্লিন ও স্কাউটসের ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করে, যা পর্যায়ক্রমে পৌরসভার নয়টি স্থানে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করা হয় এবং নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম ও রফিকুল ইসলাম টুকু, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া বিডি ক্লিন, স্কাউটস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ