শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৬ পি.এম
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জানিয়েছেন, ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলতে থাকবে। তিনি সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার পেশোয়ারে কর্পস সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এই তথ্য দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশ করেছে।
আইএসপিআর জানায়, পরিদর্শনকালে আসিম মুনিরকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে মোতায়েন সেনা ইউনিটগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এ সময় তিনি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের উচ্চ মনোবল এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার এবং সর্বোচ্চ মাত্রার প্রস্তুতি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, সেখানেই কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি ভারতের মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, হিন্দুদের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার নিয়ে অনেকেই কথা বলেন না। একইভাবে ভারতে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও অনেকে নীরব থাকেন।
তিনি আরও বলেন, অধিকার ও ন্যায়বিচার কখনো ধর্ম, জাতি কিংবা সীমান্তের পরিচয় দেখে নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকার নিয়ে যেমন সোচ্চার হতে হবে, তেমনি ভারতের মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির-গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখলের বিরুদ্ধে একই অবস্থান থাকতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, কারও সম্পদ দখল কিংবা অধিকার হরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে সর্বজনীন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির ট্রফির অভাব ছিল না। একের পর এক শিরোপা জিতে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন তিনি, জাভি হের্নান্দেস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও কার্লেস পুয়োলদের পাশে। তবে আর্জেন্টিনার মহাতারকা জানালেন, কাতালান ক্লাবটিতে কাটানো সেই সোনালি সময় শুধুমাত্র ট্রফি জয়ের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোও সমপরিমাণ মূল্যবান বলে মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এফেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য সব বড় সাফল্য পেলেও, ক্লাবের চেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে ফুটবল উপভোগের স্মৃতিটাই মেসির কাছে বেশি উজ্জ্বল। ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের। যেভাবে আমরা সেসব অর্জন করেছিলাম, সেটাও ছিল বিশেষ কিছু। আমরা মাঠে নামতে, জিততে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেতে ভালোবাসতাম। তবে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম অনুশীলনের প্রতিদিনের সময়গুলো। সতীর্থদের সঙ্গে আমাদের সময়টা দারুণ কাটত।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলা মেসি দুই মৌসুম ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে কাটিয়েছেন। ঠিকানা বদলালেও বার্সেলোনাকে এখনও নিজের ‘প্রাণের ক্লাব’ মনে করেন তিনি। তিন সন্তানের জন্ম এই শহরে উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। শহর ও ক্লাবের প্রতি আমার খুব গভীর ভালোবাসা রয়েছে।’
ক্লাব ফুটবলে ধরা দেওয়া সাফল্য পেলেও, জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মেসিকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২০২২ সালে কাতারে সেই অধরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তটি তার কাছে ‘স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু’ ছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে করা গোলগুলোকে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ও ক্লাসিকোর গোলগুলোর পাশেই জায়গা পাবে বিশ্বকাপের ফাইনালের গোলগুলো।
সংবাদ সংস্থা এফেকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে গত আগস্টে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির স্মৃতির কথাও উঠে আসে। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার পাওয়ার খবরের কথা জানিয়ে মেসি জানান, এই সম্মাননা নিয়ে তার বাবা ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও ছেলেকে ওবিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কার গ্রহণের উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি। বাবার অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মেসি বলেন, মাঠের অর্জনের বাইরে গিয়ে দেওয়া এ সম্মাননা তার বাবা স্বচক্ষে দেখে যেতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাবার দেওয়া এক বিশেষ উপদেশ আজও মনে রেখেছেন মেসি। ফল যাই হোক, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সেই দর্শনই তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি। বাবার শিক্ষাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কখনও চেষ্টা বন্ধ করবে না—বাবা সব সময় আমাকে বলতেন, বল পায়ে নাও এবং চেষ্টা করো। সফল হও কিংবা ব্যর্থ, সেই মুহূর্তেই আটকে থেকো না। কারণ আবার চেষ্টা করার সুযোগ সব সময়ই আসবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ, তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং রাজপথে বিক্ষোভ—ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ইতালির রাজধানী রোম, স্পেনের মাদ্রিদ এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে এই আন্দোলন চলছে।
তরুণদের অভিযোগ, রাজনীতিকেরা তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং তাদের কথা শুনছেন না।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তরুণদের দাবিগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন হলেও একটি বিষয় তাদের মধ্যে সাধারণ। তারা চান, রাজনীতি ও সমাজে তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। কখনো কখনো তারা কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করছেন তাদের দাবি আদায়ের জন্য।
অন্যদিকে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
রোমের কাভুর হাইস্কুলের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামিয়ানো ফুসা বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছি।’
ইতালির রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল কর্মসূচির মধ্যে কাভুর হাইস্কুলই প্রথম অবরুদ্ধ হয়। ফুসা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর ডানপন্থি জোটের পাশাপাশি আগের মধ্য-বামপন্থি সরকারগুলোরও সমালোচনা করেন।
তার অভিযোগ, এসব সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং তরুণদের প্রয়োজন উপেক্ষা করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। কিছু বিক্ষোভ সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে।
সরকারগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে, আর ইতালিতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাসদস্য। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ১৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী লুইস মার্কেস বলেন, ‘রাজনীতিকেরা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একেবারেই অযৌক্তিক উপায়ে পরিস্থিতির জবাব দিচ্ছেন।’
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে লাগামহীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের পরিবর্তে শিক্ষায় বেশি অর্থ ব্যয় এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে আরও গভীর সংকট রয়েছে। ইউরোপের বহু তরুণ মনে করছেন, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি জিওফ্রে প্লেয়ার্স বলেন, ‘এই তরুণেরা শুধু মনে করেন না যে রাজনীতিতে তাদের কোনো জায়গা নেই; তারা মনে করেন, তাদের কথা একেবারেই শোনা হচ্ছে না।’
রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজারিও ফোরলেনজা এই আন্দোলনকে ‘ইউরোপজুড়ে প্রজন্মগত বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর মূলে রয়েছে এমন এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যার কার্যকর সমাধান দিতে রাজনীতিকেরা ব্যর্থ হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণেরা জনসংখ্যার এমন একটি অংশ, যাদের অনুপাত ক্রমেই কমছে। ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।’
‘অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি’
ফ্রান্স ও ইতালিতে তরুণদের ক্ষোভ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশ দুটিতে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বোর্দো শহরে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী এডি নামে এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ খুব ক্ষুব্ধ, তারা আর সহ্য করতে পারছে না। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কেনাকাটার ঝুড়ি ভরার মতো সামর্থ্য থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ভাঙচুর করলে কি কিছু বদলাবে? আমার মনে হয়, এতে রাজনীতিকদের ঘুম ভাঙতে পারে। নিজেদের কথা শোনানোর জন্য আর কী করতে পারি, তা আমরা জানি না। ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন? এখন আর তাতে আমাদের বিশ্বাস নেই।’
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলন একে অপরের কাছ থেকে ক্রমেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকেও তারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইতালিতে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের একটি স্লোগানে বলা হয়, ‘ফ্রান্সের মতো করো’। এছাড়া জলদস্যুদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘জলি রজার’ পতাকাসহ বিভিন্ন অভিন্ন প্রতীক ইউরোপের তরুণদের সমাবেশে দেখা যাচ্ছে।
মাদ্রিদের ২২ বছর বয়সী পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদ মার্কোস নাভারো বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরা নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
নাভারো বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এসে জানতে চেয়েছেন, ‘তোমরা কীভাবে আন্দোলন করেছ? কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করো?’ আমরা ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে নানা আইডিয়া বিনিময় করেছি।’
আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে নাভারো মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন।
ওই শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা ২৬ বছর বয়সী নৃবিজ্ঞানী আইলা হেরেরো বলেন, ‘আমরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি—এটা জানতে পারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের আন্দোলন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।’
‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়’
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতাও তরুণদের বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থী নিকোস মাভরুদিস বলেন, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে তার স্কুলের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হলে তা বেশি কাজে আসত। স্কুলের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে বলে তিনি জানান।
মাভরুদিস বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভবিষ্যতে রাঁধুনি হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই শিক্ষার্থী ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। তার ভাষায়, তিনি এমন দেশে যেতে চান, ‘যেখানে পরিস্থিতি আরও ভালো’।
রোমের দখল করা মর্গাগনি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা টেবিল দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রেখেছেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামোকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ইতালির সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকেরা কিছু বিক্ষোভকারীর লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এর ফলে এই ব্যবস্থার শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে।’
বিক্ষোভে সহিংসতার বিষয়ে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ২৪ বছর বয়সী সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, তার সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই ‘প্রজন্মের ক্ষোভকে’ সংগঠিত করা এবং গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো একই রকম, যদিও প্রতিবাদের পদ্ধতি একেকজনের একেক রকম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টা করার অভিযোগে কাউসার আহম্মেদ (২৪) নামের এক যুবককে স্থানীয় লোকজন গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ জানায়, তাকে ঋণ না দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে কাউসার ভেতরের স্ট্রং রুমের তালা ভেঙে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করা হয় এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
কাউসার আহম্মেদ সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে।
এই ঘটনায় ব্যাংকটির সোহাগী বাজার শাখার কর্মকর্তা নাজমুল হক বাদী হয়ে কাউসার আহম্মেদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, কাউসারকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি হাতুড়ি, একটি চাকু, একটি বাটাল, দুটি স্ক্রু-ড্রাইভার ও একটি হেক্সো ব্লেড জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম (২২) বলেন, বুধবার রাতে ব্যাংকের সব গেট বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় মূল ফটক ভেঙে কাউসার ভেতরে ঢুকে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে তিনি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে গলায় চাকু ধরে রশি দিয়ে তার হাত-পা বাঁধেন এবং গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর স্ট্রং রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন।
মাজহারুল জানান, একপর্যায়ে তিনি বাঁধন খুলে ব্যাংক থেকে দৌড়ে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় লোকজন এসে কাউসারকে আটক করে পুলিশে দেন।
কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুলের হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করা হয়। কাউসার তাদের কাছে ঋণ নিতে আসার বিষয়টি সঠিক নয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি ব্যাংকে এমন ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, কাউসার পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ না দেওয়ায় তিনি এমন পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় দস্যুতা আইনে কাউসারসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে ওই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমানকে গৌরীপুরের ভবানীপুর এলাকায় পথরোধ করে সোহাগীর বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের অন্য এক যুবক ব্যাংকের ভল্টের চাবি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। ঋণ না দেওয়ার অজুহাতে এ ঘটনা ঘটেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ