ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, ৮০০ রোগী সেবা পেলেন


রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, ৮০০ রোগী সেবা পেলেন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা ও বিনা মূল্যের ওষুধ প্রদান করেছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে, যা রাঙামাটি রিজিয়ন ও রাঙামাটি সিএমএইচের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, প্রায় ৮০০ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও ওষুধ লাভ করেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন রাঙামাটি রিজিয়ন ও সিএমএইচের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোগীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে প্রান্তিক জনগণের একটি বড় অংশ নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। এই পিছিয়ে পড়া জনগণের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ৫ নং ঘাট পরিদর্শন

মেডিকেল ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. একরামুল রাহাত। তিনি পরিদর্শনকালে সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি সেখানে নিয়োজিত সেনাকর্তৃক নিযুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সেবার মান সম্পর্কে অবহিত হন।

জোন কমান্ডার মন্তব্য করেন, "পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গমতা ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।"

আয়োজক সূত্রের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনও আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে রাঙামাটির জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. শওকত আকবর খানসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জের নলতা কালীবাড়ি শারদীয় দূর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মিছ কাওছার আজিজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ, তবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত থাকবে: যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ, তবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত থাকবে: যুক্তরাজ্য

ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ইসরাইল জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানালেও, যুক্তরাজ্য সরকার শহরটিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ সেবা’ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, কনস্যুলেট জেনারেলের ভবনটি খোলা থাকবে। তবে, বৃহস্পতিবার থেকে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ রাখা হবে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

তিনি আরও জানান, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম স্বাধীন ও কার্যকর থাকবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে আমাদের কাজ অব্যাহত রাখবে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় লন্ডন নেতৃত্ব দেওয়ার পর retaliatory action হিসেবে ইসরাইল সেপ্টেম্বরে কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশ দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


বান্দরবানে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ

বান্দরবান জেলা বিএনপি সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে, জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন তুষার, সরওয়ান জামাল, চনুমং মারমা এবং জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপিসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা বলেন, "মাদক বিক্রি ও সেবন দুটোই সমান অপরাধ।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিএনপির সরকার তথা সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, "মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে।" নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। জাবেদ রেজা বলেন, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং সমাজ নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, বন্ধু ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। সুতরাং, মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে আলুর দাম কমায় বিএডিসির বীজআলু তুলতে অনীহা ডিলারদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


রংপুরে আলুর দাম কমায় বিএডিসির বীজআলু তুলতে অনীহা ডিলারদের

গত দুই মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আলুর দামে ধস নেমেছে, যা চলতি মৌসুমে প্রভাব ফেলেছে। বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ার ফলে বিএডিসির ‘বীজ আলু’ তুলতে ডিলারদের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে এই ভরা মৌসুমে।

বীজ আলু সংগ্রহের জন্য বিএডিসির কর্মকর্তারা ইনসেনটিভ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ১৫ দিনে, পাঁচ জেলার ৭৪ জন ডিলার মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন।

হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু থাকার কারণে, কৃষকের লোকসান এবং হিমাগারে থাকা আলুর দাম কম হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বিএডিসি জানিয়েছে।

সূত্র জানাচ্ছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় বিএডিসির অনুমোদিত ৮১৩ জন ডিলার রয়েছেন। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বীজ আলু বিক্রি শুরু হয়েছে।

চার হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে, গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ জন ডিলারের কাছে মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ২২৬ মেট্রিক টন, কুড়িগ্রামে ২০ মেট্রিক টন, নীলফামারী জেলায় ৩৮, লালমনিরহাট জেলায় ৪৫ এবং গাইবান্ধা জেলায় ৪০ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮ শতাংশের কিছু বেশি বীজ বিক্রি হয়েছে।

ডিলারদের মধ্যে অনেকেই এখনও বীজ আলু তুলতে পারেননি। যেসব জেলায় বীজ বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় সবচেয়ে কম বিক্রি হয়েছে।

কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষক গত দুই মৌসুমে লোকসানে পড়েছেন। বর্তমানে হিমাগারে থাকা খাবার আলুর দাম কেজিপ্রতি ১২ টাকায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মৌসুমে আলুর চাষ কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত। বাজারে চাহিদা না থাকায়, সরকারি বীজ আলু তুলতে ডিলাররা অনীহা প্রকাশ করছেন।

রংপুর অঞ্চলের ১২টি হিমাগার থেকে বিএডিসির বীজ আলু ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি (গ্রেট-১) ২৭ টাকা। কিন্তু বাজারে খাবার আলুর দাম এর প্রায় অর্ধেক। ফলে ২৭ টাকা কেজি দরে বীজ তুলে বাজারজাত করে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন না ডিলাররা।

লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ কাকিনা বাজার এলাকার ডিলার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গতবছর পাঁচ টন তুলেছি। এবারও পাঁচ টন তুলব। গত বছর লোকসান হয়েছে। এবারও লোকসান হবে। মূলত, লাইসেন্স রক্ষায় লোকসান মেনে বীজ আলু তুলতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নেই। গত মৌসুমে কৃষক লোকসানে পড়েছেন। নতুন করে বীজ কিনে চাষ করতে কৃষকের আগ্রহ কম। তাই চাহিদা না থাকলে বীজ তুলে পুঁজি আটকে রেখে লাভ কী।’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ডিলার সিরাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, যে পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়, তা দেশের চাহিদা পূরণ করে তুলনামূলক গুণগত মান রক্ষা করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে কৃষি, কৃষক ও ডিলার- সবাই উপকৃত হতো। কিন্তু আলু নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। লোকসান হলেও বীজ তুলতে হচ্ছে। কৃষক লাভের আশায় আলু চাষ করলেও শেষে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২০২৪-২৫ মৌসুমে এক লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। ২০২৫–২৬ মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর। চলতি অর্থ বছরে খসড়া হিসাব এক লাখ পাঁচ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন অর্থ মৌসুমে আবাদ কমলেও উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ৫১ লাখ ৭৮ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। অথচ উৎপাদিত আলুর মাত্র প্রায় ২৩ শতাংশ হিমাগারে সংরক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হিমাগারে থাকা আলুর প্রায় ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ বিক্রি হয়নি। ফলে মাঠে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুরের পীরগাছার দেউতি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে তিনি বড় লোকসানে পড়েছেন। ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, সেচ, আলু তোলা ও জমি লিজসহ মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৫১ হাজার ৪০০ টাকা। ফলন হয়েছিল প্রায় এক হাজার ৯৮০ কেজি। কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে আয় হয় ২৯ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ এক বিঘায় লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৭০০ টাকা।

একই চিত্র ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মৌসুমের শুরুতেও দেখা যাচ্ছে। রংপুরের বিভিন্ন বাজারে নতুন আলু ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যেখানে উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ১৪ টাকা। ফলে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে কৃষককে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর আলুর উৎপাদন বাড়লেও বাজার ব্যবস্থাপনায় সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেই। দেশে কত আলুর প্রয়োজন, কত উৎপাদন হবে, কতটা হিমাগারে রাখা যাবে এবং উদ্বৃত্ত আলু কোথায় যাবে- এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা না থাকায় উৎপাদন বেশি হলেই বাজারে ধস নামে।

ডিলারদেরও প্রায় একই দাবি। কুড়িগ্রামের আবুল কালাম আজাদ নামে এক ডিলার বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে আলুর বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মানসম্মত আলু বিদেশে রপ্তানি, প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, লোকসান হলেও আলু বীজ তুলতে হবে। কারণ, লাইসেন্স নাবায়ন হবে না। কিছুদিন পর পরিস্থিতি অনুযায়ী বীজ সংগ্রহ করবো।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি। আলু উদ্বৃত্ত হচ্ছে, মানুষ অনেকেই খাচ্ছে না। সে কারণে দামও কম। এ কারণে কৃষককে লোকসানে পড়তে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি, শুধু আলু নয়- ভুট্রাসহ অন্যান্য ফসলের চাষও করতে। আলুর পাশাপাশি কৃষক লাভজনক হবে- এমন ফসলের দিকে আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করছি তাদের।

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, ‘ডিলাররা মূলত কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সংগ্রহ করেন, আগাম বুকিং নেন, কিন্তু গত দুই বছর পর পর লোকসানের কারণে কৃষক এবার এখনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখনও হিমাগারে প্রচুর আলু রয়েছে। দিনে দিনে দামও কমছে। সেটাই একটি সমস্যা।’

উপপরিচালক আরো বলেন, ‘আমরা ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছি, প্রচারণা চালাচ্ছি। ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। কারণ এখনও সময় আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, গত মৌসুমের আলুর লোকসানের ক্ষত কৃষকদের এখনও শুকায়নি। তার মধ্যেই নতুন মৌসুমের বীজ বাজারে এসেছে। খাবার আলুর দাম যেখানে ১২ টাকার আশপাশে, সেখানে সরকারি বীজের দাম ২৭ টাকা। এই ব্যবধানই কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

কৃষক নেতা বলেন, কৃষক, ডিলার ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে উৎপাদন পরিকল্পনা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে আলুর উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লোকসানের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু কোনো ফল বের হচ্ছে না। ফলে কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা লোকসানে পড়ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নিরপেক্ষ, সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস তৈরির চেষ্টা করছে: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


সরকার নিরপেক্ষ, সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস তৈরির চেষ্টা করছে: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকার একটি নিরপেক্ষ, সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১৪৬, ১৪৭ ও ১৪৮তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

মো. আব্দুল বারী উল্লেখ করেন, "গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা সচেষ্ট।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে দেশের সিভিল সার্ভিস আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘকালীন ফ্যাসিজমের ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে কর্মকর্তারা যে লক্ষ্য নিয়ে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন, সেই লক্ষ্য থেকে তারা সরে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, "সরকারের রাজনৈতিক বিষয় বাস্তবায়ন করা সিভিল সার্ভিসের কাজ নয়।" সিভিল সার্ভিসের মূল কাজ হলো সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। "এই দেশটা গড়ার দায়িত্ব আপনাদের।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "একটা ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" তবুও, সরকার কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যেকে যদি কাজ করি, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।"

আব্দুল বারী আরও বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ জীবন দিয়েছেন, কারণ তারা চেয়েছিলেন যে, এদেশে যেন আর কখনো বৈষম্য ফিরে না আসে। তিনি বলেন, "নিজে কী পেলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজকে কী দিতে পেরেছি।" সকল ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মোহাম্মদ আলতাফ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অনুবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%