বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫১ পি.এম
বান্দরবান জেলা বিএনপি সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে, জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন তুষার, সরওয়ান জামাল, চনুমং মারমা এবং জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপিসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা বলেন, "মাদক বিক্রি ও সেবন দুটোই সমান অপরাধ।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিএনপির সরকার তথা সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে।" নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। জাবেদ রেজা বলেন, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং সমাজ নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, বন্ধু ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। সুতরাং, মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত দুই মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আলুর দামে ধস নেমেছে, যা চলতি মৌসুমে প্রভাব ফেলেছে। বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ার ফলে বিএডিসির ‘বীজ আলু’ তুলতে ডিলারদের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে এই ভরা মৌসুমে।
বীজ আলু সংগ্রহের জন্য বিএডিসির কর্মকর্তারা ইনসেনটিভ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ১৫ দিনে, পাঁচ জেলার ৭৪ জন ডিলার মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন।
হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু থাকার কারণে, কৃষকের লোকসান এবং হিমাগারে থাকা আলুর দাম কম হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বিএডিসি জানিয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় বিএডিসির অনুমোদিত ৮১৩ জন ডিলার রয়েছেন। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বীজ আলু বিক্রি শুরু হয়েছে।
চার হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে, গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ জন ডিলারের কাছে মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ২২৬ মেট্রিক টন, কুড়িগ্রামে ২০ মেট্রিক টন, নীলফামারী জেলায় ৩৮, লালমনিরহাট জেলায় ৪৫ এবং গাইবান্ধা জেলায় ৪০ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮ শতাংশের কিছু বেশি বীজ বিক্রি হয়েছে।
ডিলারদের মধ্যে অনেকেই এখনও বীজ আলু তুলতে পারেননি। যেসব জেলায় বীজ বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় সবচেয়ে কম বিক্রি হয়েছে।
কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষক গত দুই মৌসুমে লোকসানে পড়েছেন। বর্তমানে হিমাগারে থাকা খাবার আলুর দাম কেজিপ্রতি ১২ টাকায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মৌসুমে আলুর চাষ কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত। বাজারে চাহিদা না থাকায়, সরকারি বীজ আলু তুলতে ডিলাররা অনীহা প্রকাশ করছেন।
রংপুর অঞ্চলের ১২টি হিমাগার থেকে বিএডিসির বীজ আলু ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি (গ্রেট-১) ২৭ টাকা। কিন্তু বাজারে খাবার আলুর দাম এর প্রায় অর্ধেক। ফলে ২৭ টাকা কেজি দরে বীজ তুলে বাজারজাত করে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন না ডিলাররা।
লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ কাকিনা বাজার এলাকার ডিলার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গতবছর পাঁচ টন তুলেছি। এবারও পাঁচ টন তুলব। গত বছর লোকসান হয়েছে। এবারও লোকসান হবে। মূলত, লাইসেন্স রক্ষায় লোকসান মেনে বীজ আলু তুলতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নেই। গত মৌসুমে কৃষক লোকসানে পড়েছেন। নতুন করে বীজ কিনে চাষ করতে কৃষকের আগ্রহ কম। তাই চাহিদা না থাকলে বীজ তুলে পুঁজি আটকে রেখে লাভ কী।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ডিলার সিরাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, যে পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়, তা দেশের চাহিদা পূরণ করে তুলনামূলক গুণগত মান রক্ষা করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে কৃষি, কৃষক ও ডিলার- সবাই উপকৃত হতো। কিন্তু আলু নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। লোকসান হলেও বীজ তুলতে হচ্ছে। কৃষক লাভের আশায় আলু চাষ করলেও শেষে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২০২৪-২৫ মৌসুমে এক লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। ২০২৫–২৬ মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর। চলতি অর্থ বছরে খসড়া হিসাব এক লাখ পাঁচ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে।
কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন অর্থ মৌসুমে আবাদ কমলেও উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ৫১ লাখ ৭৮ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। অথচ উৎপাদিত আলুর মাত্র প্রায় ২৩ শতাংশ হিমাগারে সংরক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হিমাগারে থাকা আলুর প্রায় ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ বিক্রি হয়নি। ফলে মাঠে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুরের পীরগাছার দেউতি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে তিনি বড় লোকসানে পড়েছেন। ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, সেচ, আলু তোলা ও জমি লিজসহ মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৫১ হাজার ৪০০ টাকা। ফলন হয়েছিল প্রায় এক হাজার ৯৮০ কেজি। কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে আয় হয় ২৯ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ এক বিঘায় লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৭০০ টাকা।
একই চিত্র ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মৌসুমের শুরুতেও দেখা যাচ্ছে। রংপুরের বিভিন্ন বাজারে নতুন আলু ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যেখানে উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ১৪ টাকা। ফলে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে কৃষককে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর আলুর উৎপাদন বাড়লেও বাজার ব্যবস্থাপনায় সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেই। দেশে কত আলুর প্রয়োজন, কত উৎপাদন হবে, কতটা হিমাগারে রাখা যাবে এবং উদ্বৃত্ত আলু কোথায় যাবে- এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা না থাকায় উৎপাদন বেশি হলেই বাজারে ধস নামে।
ডিলারদেরও প্রায় একই দাবি। কুড়িগ্রামের আবুল কালাম আজাদ নামে এক ডিলার বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে আলুর বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মানসম্মত আলু বিদেশে রপ্তানি, প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, লোকসান হলেও আলু বীজ তুলতে হবে। কারণ, লাইসেন্স নাবায়ন হবে না। কিছুদিন পর পরিস্থিতি অনুযায়ী বীজ সংগ্রহ করবো।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি। আলু উদ্বৃত্ত হচ্ছে, মানুষ অনেকেই খাচ্ছে না। সে কারণে দামও কম। এ কারণে কৃষককে লোকসানে পড়তে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি, শুধু আলু নয়- ভুট্রাসহ অন্যান্য ফসলের চাষও করতে। আলুর পাশাপাশি কৃষক লাভজনক হবে- এমন ফসলের দিকে আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করছি তাদের।
বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, ‘ডিলাররা মূলত কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সংগ্রহ করেন, আগাম বুকিং নেন, কিন্তু গত দুই বছর পর পর লোকসানের কারণে কৃষক এবার এখনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখনও হিমাগারে প্রচুর আলু রয়েছে। দিনে দিনে দামও কমছে। সেটাই একটি সমস্যা।’
উপপরিচালক আরো বলেন, ‘আমরা ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছি, প্রচারণা চালাচ্ছি। ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। কারণ এখনও সময় আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত।’
কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, গত মৌসুমের আলুর লোকসানের ক্ষত কৃষকদের এখনও শুকায়নি। তার মধ্যেই নতুন মৌসুমের বীজ বাজারে এসেছে। খাবার আলুর দাম যেখানে ১২ টাকার আশপাশে, সেখানে সরকারি বীজের দাম ২৭ টাকা। এই ব্যবধানই কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
কৃষক নেতা বলেন, কৃষক, ডিলার ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে উৎপাদন পরিকল্পনা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে আলুর উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লোকসানের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু কোনো ফল বের হচ্ছে না। ফলে কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা লোকসানে পড়ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকার একটি নিরপেক্ষ, সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১৪৬, ১৪৭ ও ১৪৮তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
মো. আব্দুল বারী উল্লেখ করেন, "গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা সচেষ্ট।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে দেশের সিভিল সার্ভিস আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘকালীন ফ্যাসিজমের ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে কর্মকর্তারা যে লক্ষ্য নিয়ে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন, সেই লক্ষ্য থেকে তারা সরে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, "সরকারের রাজনৈতিক বিষয় বাস্তবায়ন করা সিভিল সার্ভিসের কাজ নয়।" সিভিল সার্ভিসের মূল কাজ হলো সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। "এই দেশটা গড়ার দায়িত্ব আপনাদের।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "একটা ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" তবুও, সরকার কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যেকে যদি কাজ করি, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।"
আব্দুল বারী আরও বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ জীবন দিয়েছেন, কারণ তারা চেয়েছিলেন যে, এদেশে যেন আর কখনো বৈষম্য ফিরে না আসে। তিনি বলেন, "নিজে কী পেলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজকে কী দিতে পেরেছি।" সকল ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মোহাম্মদ আলতাফ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অনুবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। লক্ষ্ণৌ যাওয়ার প্রস্তুতির সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন।
তনুশ্রী ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও বার্তায় জানান, নানার মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। তবে তিনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। আপাতত তিনি নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে চান। এই অভিনেত্রী পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ার নিজ বাড়িতে মারা যান নানা পাটেকার। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছর। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নানাকে ঘিরে তনুশ্রীর অভিযোগ
২০১৮ সালে তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি বিশেষ গানের শুটিংয়ের সময় নানা তাকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
নানা পাটেকার তনুশ্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে তনুশ্রী বিষয়টি নিয়ে সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ করেছিলেন। তবে সেটি ফৌজদারি বিষয় হওয়ায় তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।
২০১৮ সালের অক্টোবরে তনুশ্রীর আইনজীবী নীতিন সাতপুতে নানাসহ কয়েকজনের নারকো অ্যানালাইসিস, ব্রেন ম্যাপিং ও লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা করার আবেদন করেন। ওই আবেদনে অভিনেতা নানা পাটেকার ছাড়াও কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকি ও পরিচালক রাকেশ সারংয়ের নাম ছিল।
পুলিশ যা বলেছিল
২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ নানার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ করে তাকে ক্লিনচিট দেয়। পুলিশের জমা দেওয়া ‘বি-সামারি’ প্রতিবেদনে তনুশ্রীর অভিযোগকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বা প্রতিশোধমূলক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে ওই ঘটনা নিয়ে তনুশ্রীর বক্তব্য এবং নানার অস্বীকার—দুই পক্ষের অবস্থানই তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
শেষ বিদায়
নানার শেষকৃত্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনের কাছে দোনজের একটি ফার্মহাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নানার মৃত্যুর পর তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি এখনই বিস্তারিত মন্তব্য না করে পরে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে রোহান ইসলাম (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার রায়পুর পারের ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহান ইসলাম কালিকাপুর ইউনিয়নের রায়পুর মধ্যপাড়া গ্রামের জামিরুল ইসলামের পুত্র।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আত্রাইয়ের ওই এলাকায় হঠাৎ করে ঝড়ো বাতাস এবং ভারী বর্ষণের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। শিশু রোহান স্থানীয় ভবানীপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে সে রায়পুর পারের ঘাট এলাকায় পৌঁছালে তীব্র বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তার পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, unfortunately, পথিমধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ