০৬:২৩ এম
সন্তানের কল্যাণই বাবা-মায়ের স্বাভাবিক প্রবণতা। তাই তারা প্রায়ই ভুলের হাত থেকে দূরে রাখতে পরামর্শ দেন, সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন অথবা সন্তানের জীবন সম্পর্কে অতিরিক্ত খোঁজখবর রাখেন। কিন্তু যখন সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে, তখন বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ধরন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হওয়া দরকার। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি একটি সময়ের পর সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ও টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
কাউন্সেলর, ফ্যামিলি থেরাপিস্ট এবং মাইন্ডওয়েল কাউন্সেলের প্রতিষ্ঠাতা অর্চনা সিংহল বলেন, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা-মায়ের উচিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা থেকে সরে এসে, বরং পরামর্শদাতা ও সহায়ক হিসেবে পাশে থাকা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৮ বছর বয়সে একজন সন্তান শৈশব পার করে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশ করে। এই ক্ষেত্রে বাবা-মা যদি তার জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন, তাহলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং মানসিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব সিদ্ধান্ত বাবা-মা নিলে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সিদ্ধান্তহীনতা, উদ্বেগ অথবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয়ের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই এ সময় ভালো অভিভাবকত্বের প্রকৃত অর্থ হলো নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবা-মায়ের যে পাঁচটি অভ্যাস তথাকথিতভাবে বাতিল করা উচিত— ১. সন্তানের সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া বন্ধ করুন। শিক্ষা, ক্যারিয়ার, বিয়ে, বন্ধুত্ব কিংবা ভবিষ্যৎ— সব বিষয়ে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের পক্ষে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। পরামর্শ দিতে হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তার দায়িত্ববোধ এবং আত্মনির্ভরতা তৈরি হয়। ২. প্রতিটি ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরও ভুল করার এবং সেই ভুল থেকে শেখার অধিকার রয়েছে। কোনো সমস্যার সময় সাথে সঙ্গে সমাধান না করে তাকে প্রশ্ন করতে হবে, ‘তুমি কী মনে করো, অন্যভাবে কী করা যেত?’ ভুলের জন্য অপমান বা দোষারোপ না করে, তার কার্যক্রমের ফল বুঝতে সময় এবং সুযোগ দেওয়া উচিত। ৩. সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত নজরদারি বন্ধ করা জরুরি। সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা উচিত। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, কত টাকা খরচ করছে, কার সঙ্গে মেসেজ আদান-প্রদান করছে অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী করছে—এসব নিয়মিত নজরদারি করলে সন্তানের মনে বাবা-মায়ের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে। ৪. অন্যের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের বন্ধুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে তুলনা করা উচিত নয়। এ ধরনের তুলনা আত্মসম্মান কমিয়ে দিতে পারে এবং অন্য কারও সঙ্গে নিজেকে পিছিয়ে মনে করার প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। বরং তার নিজের অগ্রগতি এবং পরিবর্তনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ৫. আবেগের চাপ দিয়ে সিদ্ধান্তে বাধ্য করা উচিত নয়। সন্তানের যেসব সিদ্ধান্তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নেই, সেখান তাকে অপরাধবোধে ভোগানো উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘তুমি ওই চাকরি নিলে আমরা খুব হতাশ হব’—এ ধরনের কথা সন্তানের নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে পারিবারিক সম্পর্কে উত্তেজনা এবং দূরত্বও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবা-মায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হওয়া উচিত তাকে সমর্থন করা — জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজের হাতে নেওয়া নয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন