০৮:২১ পি.এম
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপকে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যাপক উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন এখন ন্যাটোর জন্য ‘অসাধারণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি উৎস’ হয়ে উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরাম-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন, ন্যাটোর মধ্যে, অসাধারণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি উৎস।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউরোপের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তার ভাষায়, "ইউরোপের নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।" তিনি যোগ করেন, ইউরোপের যত দ্রুত সম্ভব, বরং এখনই, সাশ্রয়ী ও ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
বক্তব্যের পর জেলেনস্কি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। এ সময় রুটে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ন্যাটোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রুটে বলেন, ‘ন্যাটো সম্মেলনে আপনাকে স্বাগত। গত কয়েক মাসে আপনারা যা করেছেন, তা সত্যিই সাহসিকতার পরিচয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে আপনাদের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকে।’
জেলেনস্কি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রুটে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরাম ইউক্রেন ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কোম্পানির মধ্যে সহযোগিতা আরো গভীর করার সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা তাদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা মিত্রদের সামনে তুলে ধরবেন, যা পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো যত দ্রুত সম্ভব এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করা।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আঙ্কারায় পৌঁছেছেন। বুধবার (৮ জুলাই) তার সঙ্গে জেলেনস্কির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে তিনি মনে করেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটো নেতাদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের ফলাফল মস্কো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত বছরের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠকের অগ্রগতি রাশিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
বুধবার পর্যন্ত চলা ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং জোটের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি আরও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন