০৮:৫০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি করেছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এদিন বৈশ্বিক তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের দিনের ৯১ দশমিক ১২ ডলারের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম আগের সেশনের ৮৭ দশমিক ৩ ডলার থেকে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই তেলের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। মূলত পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে চলমান এই সংঘাতটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন এবং পরিবহন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার রাতে জানায়, ইরানের গোরুক এলাকায় অবস্থিত রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপের স্থাপনায় তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, শনিবার এবং রোববার পরিচালিত এসব ‘পরিমিত ও পরিকল্পিত’ হামলা ছিল ইরানের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার ওপর উড্ডয়নরত একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা রয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনা পর মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং দুটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করে। তাদের দাবি, এগুলো আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ ছিল।
সেন্টকম আরও বলেছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের’ জবাবে অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
অন্যান্য দিকে, ইরানের বার্তাসংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভোরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দক্ষিণ হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা করেছে। মেহরের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছিল।
আইআরজিসি জানায়, মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কোনও হামলা হলে তার জবাব ‘মাত্রা ও ধরনে ভিন্ন’ হবে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা লেবাননের পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন। কারণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সোমবার জানায়, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে তাদের এক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, অন্য দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাতের বেলায় হিজবুল্লাহর চালানো ড্রোন হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন