১১:২৭ এম
ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচি যাচাই বা পরিদর্শনের সুযোগ না থাকার কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা, যা আন্তর্জাতিকভাবে অস্ত্র বিস্তরণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এএফপি-র হাতে আসা আইএইএ-র একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে উক্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে, সংস্থাটি ইরানকে তাদের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার পরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজমান। বিশেষত, ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ১২ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, শান্তি সুদূরপরাহত
এই সামরিক হামলার পর থেকেই আইএইএ-র পরিদর্শকরা গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে পারছেন না তেহরানের কারণে।
আইএইএ তাদের প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে যে, সামরিক হামলার ফলে সেখানে একটি নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। গত বছরের জুন মাসের আগে আইএইএ-র হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ ছিল।
পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। এর ফলে ইরান বোমা তৈরির দিক থেকে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে, যা ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমার চেয়ে অনেক বেশি। হামলায় বিধ্বস্ত কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশ করতে না পারার কারণে সাম্প্রতিক এক বছরের মধ্যে এই বিশাল ইউরেনিয়াম মজুতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করতে হবে এবং তাদের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’
অন্যদিকে, ইরান সর্বদা পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তেহরানের দাবি, তারা পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এই পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
সূত্র : আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন