০৭:২৬ পি.এম
হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলাকালীন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা রংপুরে কর্মসূচি পালন করেছেন, যার সময়কাল ছিল বুধবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত। বিক্ষোভের পর কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ পরিচালককে স্মারকলিপি তুলে দেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এ কর্মসূচি রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা মিলে আয়োজন করেছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা এতে অংশ নেন। তাঁরা এ সময় অভিযোগ করেন যে, হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন এবং দ্রুত ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: চসিক মেয়র শারদ সম্মাননায় সেরা ৫ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা
আলুচাষি আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৬ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়সহ সেই খরচ দাঁড়ায় ২৫ থেকে ২৬ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়। আমরা চাষ করে লোকসান করছি, আর হিমাগারমালিকেরা বসে থেকেই কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।’
হাজীরহাট এলাকার আলুচাষি শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ছয় টাকা থাকলেও রংপুরে নেওয়া হচ্ছে প্রায় সাত টাকা। আমরা চাই সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে, এবারও একই পরিস্থিতি হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।’
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক জানান, বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় কৃষি বিপনন, জেলাপ্রশাসন, হিমাগার মালিক ও আলু চাষীদের সমন্বয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলেও শুধুমাত্র হিমাগার মালিকদের অনিহায় রংপুরে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আজ থেকে বিপনন অধিদপ্তরকে স্মারকলিপি দেয়া হলো। যদি আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে দাবি মানা না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ গড়ার পরিকল্পনা সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আগেও প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারের প্রতি অনুরোধ, হিমাগারের ভাড়া কমিয়ে আলু রপ্তানি উদ্যোগ নেওয়া এবং লোকসান হওয়া আলুচাষিদের তালিকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক।’
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত হিমাগারভাড়া তাঁদের সংকটকে আরও গভীর করেছে। তাঁরা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন