ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখলের ঘটনায় সেবা বিঘ্নিত


রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখলের ঘটনায় সেবা বিঘ্নিত

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫: ৫৩

রাজবাড়ীর পৌর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশনের আগের লোকজনকে হটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরা দখলে নেওয়ায় অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাকাল পৌরবাসী। পূর্বে একদিন পরপর বাসাবাড়ি ও অফিসের বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও, বর্তমানে সপ্তাহে দুদিন সংগ্রহ করায় বাড়িতে জমে থাকা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিদিন পৌরসভায় অভিযোগ দিচ্ছে ভুক্তভোগীরা। প্রতিকার না পাওয়ায় পরিবারগুলোর ব্যবহার্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী। বাড়িতে জমে থাকা সাংসারিক বর্জ্য না সরানোয় পরিবেশ দূষণের শিকার শত শত পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী পৌরসভা বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে (ল্যান্ডফিল্ড) ফেলতে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সঙ্গে পৌরসভা চুক্তি করে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা।

আরও পড়ুন: কৃষিজমির কাজ ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষায় মানববন্ধন

চুক্তির মাধ্যমে এ দুটি সংস্থাকে কাজ দেন সাবেক মেয়র। তাদের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি, ভ্যান ও ভ্যাকুয়াম ট্রাক (মনুষ্যবর্জ্য অপসারণ ট্রাক) শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এ কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড অনুযায়ী লোক নিয়োগসহ বাড়ি বাড়ি থেকে রান্নার বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পৌর ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে। এ কাজে নিয়োগ পাওয়া ওই দুটি এনজিও দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী আগের সংস্থার লোকদের হটিয়ে নিজেরা দখলে নেয় ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা সংস্থার অফিস। ফলস্বরূপ, ভয়ে ও আতঙ্কে আগের সংস্থার লোকদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ডাম্পিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আগের সাইনবোর্ড নেই, কিন্তু নতুন কোনো সাইনবোর্ডও লাগায়নি। নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর এক কর্মচারী জানান, বিএনপির লোকজন দখল নেওয়ার পর ভয়ে আগের লোকজন চলে গেছে। তাছাড়া পৌর নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে নিয়ম মানতে হবে, কিন্তু এরা কোনো নিয়মের ধার ধারে না।

দখল হওয়ার পর গত ১৯ এপ্রিল পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা এনজিওর প্রতিনিধি। তবে পৌরসভা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দায়িত্ব এড়ানোর মতো কথা বলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক। তিনি বলেন, ‘পৌরসভা থেকে কাউকে নতুনভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে কে দখল নিল, না নিল সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটাই বড় কথা।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গাফিলতির কারণে একজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খল অবস্থায় গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ দিচ্ছে পৌরসভায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো সুরাহার উদ্যোগ নিচ্ছে না।

জানা গেছে, বাসাপ্রতি ১০০ টাকা নিলেও বর্জ্য অপসারণের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকুয়াম ট্রাকের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার টাকা। আবার দুই ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও অর্ধেকটা ভরে ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে

এদিকে, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জেলা সমন্বয় সভায় পৌর এলাকায় পয়োবর্জ্য অপসারণের ব্যাপারে ক্ষোভ ঝেড়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর। গত রোববার পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ও উঠানে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পাওয়ায় তিনি রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শহরকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ল্যান্ডস্টেশন অবৈধভাবে দখলে নেওয়া ব্যক্তিরা হলো—রাজবাড়ী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আইয়ুব আলী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল শাহরিয়ার। আইয়ুব আলী জানান, ‘পৌরসভা তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে, বিষয়টি এমপির নলেজে আছে। সামনাসামনি আলাপ করলে বুঝতে পারবেন।’ চঞ্চল জানান, তাদের সঙ্গে পৌরসভার চুক্তি হবে। পৌরসভা তাকে অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তিনি আরো জানান, আগের এনজিও প্রতিনিধিদের কোনো কাগজপত্র নেই এবং তারা পৌরসভায় কোনো টাকা জমা দেয় না। তিনি জানান, তার কোনো এনজিও নেই তবে ব্যবসায়ী লাইসেন্স আছে। তবে তিনি বর্জ্য অপসারণের অনিয়মের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্যটনকেন্দ্র রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


পর্যটনকেন্দ্র রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ

সরিষাবাড়ীর রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীরা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠা রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এজন্য এখানে যমুনার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় ক্যাটালগ দেখিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং এজন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসারে, সানসেট পয়েন্টের কিছু ফাস্টফুডের দোকানে কম্পিউটারে তৈরি আকর্ষণীয় খাবারের ছবি দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হলেও, পরিবেশন করা হয় নিম্নমানের খাবার। অথচ এর জন্য তুলনামূলক বেশি মূল্য দিতে হয়। বিশেষত শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে গেলে খাবারের মান আরো নিম্নমুখী হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলে অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন কিছু দর্শনার্থী।

দর্শনার্থী জাহাঙ্গীর আলম, শাহীন আলম সরকার, লাকী আক্তার এবং স্বপন আকন্দ বলেন, তারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে ক্যাটালগ দেখে যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, তা পরিবেশন করা হয়েছে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, কিন্তু নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি মূল্য।

একজন শিক্ষার্থী সানজিদা ছোলাইমান আওকী এবং সাদিয়া ছোলাইমান রেইকী জানিয়েছেন, ক্যাটালগে আকর্ষণীয় জুসের ছবি দেখানো হয়, কিন্তু যে পানীয় পরিবেশন করা হয়েছে, তাতে লেবুর স্বাদটাই নেই। বরফ এবং বিট লবণের মিশ্রণ করে সাধারণ মানের পানীয় আহারের জন্য বেশি দামের দাবি করা হয়েছে।

ওষুধ ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম শান্ত, আনিছুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন ও আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ফুচকা, চটপটি ও অন্যান্য ফাস্টফুডের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্বাদহীন। অভিযোগ জানাতে গেলে বিক্রেতারা অনেক সময় গুরুত্ব দেন না, বরং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে অনেক সময় দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চুপ থাকেন।

এদিকে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, যমুনা নদীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ভাসমান রেস্টুরেন্ট কার্যক্রম চলছে। তাদের উদ্বেগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকায় সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা পর্যটন সম্ভাবনাময় এ স্থানটির সুনাম রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাবারের মান ও মূল্য তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে টিলা ধস, ঝুঁকিতে ত্রিপুরাপল্লী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ এম


সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে টিলা ধস, ঝুঁকিতে ত্রিপুরাপল্লী

 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের টিলার ওপর অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোত এবং মাটি ধসের কারণে তাদের বসবাসের টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। পল্লীবাসীর ঘরবাড়ি, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো বসতি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

পরিস্থিতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর চারপাশের মাটি ধসে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির এক পাশের মাটি সরে গিয়ে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে স্থানীয়দের বিকল্প দুর্গম পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পল্লীবাসীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম আসলেই তাদের আতঙ্ক বৃদ্ধি পায়। টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টিলার বিভিন্ন অংশ অসহায়ভাবে ধসে পড়ে। পাহাড়ি ছড়ায় পানি বাড়ালে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়াও অনেক সময় সাধারণত অসম্ভব হয়ে যায়।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, “এই পাহাড়ে আমাদের জন্ম, আমাদের জীবন-জীবিকা সবকিছু। জায়গাটি আমাদের কাছে শুধু বসবাসের স্থান নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমরা কখনো টিলা কাটিনি, বরং রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে টিলা ধসে এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “ছোটবেলায় যেসব ছড়া ছোট দেখেছি, এখন সেগুলো বড় হয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। প্রতি বর্ষায় টিলা ধসে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামনের দিনগুলো নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”

সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ২০১৭ সালে প্রথম বড় ধরনের টিলা ধস শুরু হয়। তখন তিনটি পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে আরো দুটি পরিবার স্থানান্তরিত হয়েছে এবং বর্তমানে পুরো টিলাটিই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। এই টিলাগুলো শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। টিলা ধসে গেলে পরিবেশেরও বড় ক্ষতি হবে।”

বাসিন্দা শাহিন দেববর্মা বলেন, “প্রতিবার বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ে। এভাবে ধসে প্রায় অর্ধেক টিলা বিলীন হয়ে গেছে। যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও এখন ঝুঁকিতে। দ্রুত স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া না হলে পুরো পল্লী হারিয়ে যেতে পারে।”

সাতছড়ি তেলমাছড়া বিট অফিসার মেহেদি হাসান বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে ত্রিপুরা পল্লীসহ আশপাশের অন্যান্য টিলাগুলো ধসে পড়ছে। গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং পল্লীর একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫৩ ফুট গভীরে নির্মাণ হচ্ছে রেলপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ এম


১৫৩ ফুট গভীরে নির্মাণ হচ্ছে রেলপথ

রাজধানীবাসীদের পাতালরেলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে বর্তমান সরকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে। অতিমূল্যায়িত প্রকল্প ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে বহুল আলোচিত ‘এমআরটি লাইন-৫’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

ব্যয়-সাশ্রয়ী সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখন অনুমোদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ লাইনের রুটের অ্যালাইনমেন্ট ও সামগ্রিক নকশার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই নির্মিত হবে মাটির নিচে। মাটির ওপরিভাগ থেকে গভীরতা ৫৬ فوت থেকে ১৫৩ ফুট পর্যন্ত হবে এই পাতাল রেলের রুট।

মোট রুটের ১৩.৫০ কিলোমিটার অংশ পাতাল এবং বাকি ৬.৫০ কিলোমিটার অংশ উড়াল পথ হিসেবে থাকবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের প্রাক্কলন করা উচ্চ ব্যয় কাটছাঁট করে সংশোধিত ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় প্রকল্পের ব্যয় ৪৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক বি জে (অব) আবদুল ওহাব বলেছেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রাক্কলিত মূল্য কমে এসেছে। আমরা জবাবদিহিমূলক সরকারি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই।’

চূড়ান্ত ডিপিপি অনুযায়ী, ৪৮ হাজার কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পের সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা কিছু বেশি জোগান দেওয়া হবে। বাকি প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ অথবা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে। শুরুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়নের কথা থাকলেও পরে দক্ষিণ কোরিয়া কো-ফাইন্যান্সার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, মূল উন্নয়ন সহযোগী এডিবি কনসালট্যান্সি ও সিভিল প্যাকেজগুলোতে এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক সিস্টেম প্যাকেজগুলোতে অর্থায়ন করবে। চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় ওই প্রস্তাব পেশ করা হবে অনুমোদনের জন্য।

বৈদেশিক অর্থায়ন জটিলতায় এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্পের অনুমোদন পিছিয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। অনুমোদন পিছিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজে যাতে এর প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ডিএমটিসিএল অগ্রিম ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের এ লাইন নির্মাণে অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং এডিবি।

এমআরটি-৫ প্রকল্পে এ অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রকল্প অনুমোদনের পর অন্তত এক বছর সময় বাঁচবে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরীর প্রথম পূর্ব-পশ্চিম করিডরে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতি একমুখী বিদ্যুৎচালিত মেট্রো ট্রেন ১৪টি স্টেশনে থেমে মাত্র ৩২ মিনিটে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত যাতায়াত সম্পন্ন করবে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে প্রচুর শব্দ ও কম্পন দূষণের মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে থাকবে। উড়াল পথের ভায়াডাক্টের উভয় পাশে আধুনিক শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল অংশের টানেল সংলগ্ন মাটি প্রাকৃতিকভাবেই শব্দ ও কম্পন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলে এটি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করবে। শুরুতে ৮টি কোচবিশিষ্ট ১৮ সেট মেট্রো ট্রেনের মাধ্যমে এ লাইনে যাতায়াত শুরু হবে।

ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২ সেটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। ট্রেনের মাঝের ৬টি কোচে সর্বাধিক ৩৯০ জন এবং দুই প্রান্তের ট্রেইলার কোচে সর্বাধিক ৩৭৪ জন যাত্রী চড়তে পারবেন। একটি মেট্রো ট্রেন একবারে সর্বাধিক ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। এ লাইনে প্রতি ঘণ্টায় দু’পাশে ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। ব্যস্ত সময়ে ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর একটি করে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাবে। অত্যাধুনিক এ ট্রেনগুলো উড়ালপথে ঘণ্টায় সর্বাধিক ১০০ কিলোমিটার এবং মাটির নিচে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কারিগরি সহায়তার আওতায় প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকৌশলগত নকশা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ কাজের দরপত্র সংক্রান্ত নথির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং মোট ১০টি প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-০১ এর আওতায় ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি ৭৭.৫৬ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া, ১৪টি স্টেশন এবং পাতাল অংশের দুই প্রান্তের ট্রানজিশন সেকশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান আছে।

রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে: হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার, গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুনবাজার, ভাটারা, দাশেরকান্দি।

পাতাল স্টেশনসমূহ: গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার।

উড়াল স্টেশনসমূহ: হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার এবং ভাটারা/দাশেরকান্দি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-

জোহর- ১২: ০৬ মিনিট।
আসর- ০৪: ৪৪ মিনিট।
মগরিব- ০৬: ৪৮ মিনিট।
এশা- ০৮: ১২ মিনিট।

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো-

যোগ করতে হবে:
খুলনা: ০৩ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
রংপুর: ০৮ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট

বিয়োগ করতে হবে:
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
সিলেট: ০৬ মিনিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%